ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা গৌরী সেনগুপ্তা জীবনের শেষ ঠিকানা এখন বৃদ্ধাশ্রম।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
"মায়ের একধার দুধের দাম, কাটিলে গায়ের চাম-
পাপশ বানাইলে ঋনের শোধ হবে না আমার মা মাগো।"
সেই মায়েরই আর স্থান নেই সন্তানের কাছে। এ কেমন সন্তান?
আল্লাহর পরবর্তী স্থান হলো পিতামাতার এবং মায়ের স্থান আরও নিকটে। এটা পবিত্র কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। এই মাকে সন্তানসহ পরিবারের আপনজনরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে বিতাড়িত করে। তাদের সৃষ্টিকর্তা কখনও ক্ষমা করবে না। মায়ের ওপর নির্যাতন হলে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠে।
গাজীপুর মনিপুর বিশিয়া বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা গৌরী সেনগুপ্তা (৭৫) অঝোরে চোখের পানি ছেড়ে একমাত্র পুত্র সন্তানের বাড়ি থেকে নিজের বিতাড়িত হওয়ার বর্ণনা দেয়ার সময়ও যেন আল্লাহর আরশ কেঁপে কেঁপে উঠছিল! ইত্তেফাকের এই প্রতিনিধি ও গাজীপুর সংবাদদাতা মজিবুর রহমানকে সুশিক্ষিত গৌরী সেনগুপ্তা তার জীবনে ঘটে যাওয়া করুণ কাহিনী শোনান। ওই বৃদ্ধাশ্রমে তার মত আরও ৯৮ জন রয়েছেন। তার মত আপনজন থেকেও সকলেই বঞ্চিত হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই নিয়েছেন। ছেলেবেলায় সন্তানদের একমাত্র আশ্রয়স্থল পিতামাতা অথচ বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতার আশ্রয়স্থল সন্তানরা কেন হয় না? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে গৌরী সেনগুপ্তাসহ অন্য বৃদ্ধারা কেঁদে ফেলেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে শুধু চোখের পানি ছাড়া তাদের আর কিছুই নেই। এটাই নিয়তি বলে গৌরী সেনগুপ্তা কাঁদতে কাঁদতে চেয়ারে হেলে পড়েন।
গৌরী সেনগুপ্তা চট্টগ্রাম শহরে দীর্ঘ জীবন কাটিয়েছেন। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তার স্বামী সড়ক ও জনপথে চাকরি করতেন। বিয়ের ৪ বছর পর স্বামী তাকে ছেড়ে মির্জাপুরে এক নার্সকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন। ঐ সময় গৌরী সেনগুপ্তার একমাত্র শিশু পুত্রের বয়স ৩ বছর। তিনি পুত্রকে নিয়ে জীবন যুদ্ধে নামেন। চাকরির পাশাপাশি পুত্রকে লেখাপড়া করান। ছেলেকে শিক্ষিত হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করেন। একমাত্র পুত্র ব্যবসা শুরু করে। একমাত্র পুত্র মায়ের দুর্দিনের সাথী হবে, মাকে বুকে জড়িয়ে রাখবে- মা এমনটাই কামনা করেছিলেন। কিন্তু গৌরী সেনগুপ্তার কপালে সেই সুখ আসেনি। বৃদ্ধ বয়সে তার ভাগ্যে জুটছে একমাত্র পুত্রের হাতে নিপীড়ন ও নির্যাতন। গৌরী সেনগুপ্তা শান্ত স্বভাবের মানুষ। ১৯৯৫ সালে গৌরী সেন গুপ্তা চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর থেকে পুত্রের স্বভাব ও চরিত্রের পরিবর্তন ঘটে। তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে অবসর ভাতাসহ এক সঙ্গে তিন লাখ টাকা পান। এই টাকার জন্য একমাত্র পুত্র গৌরী সেনগুপ্তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। মাঝে মাঝে বাসা থেকে বের করে দিতো। চাকরি থাকাকালে পুত্রের এ স্বভাব ধরা পড়েনি। বৃদ্ধা বয়সে তিনি পুত্রের বোঝা হয়ে পড়বেন মনে করে পুত্র তাকে বের করে দেয়ার জন্য এই নির্যাতন চালাতো বলে তিনি জানান। ঐ সময় চোখের জলে তার বুক ভেসে যায় এক সময়। শান্ত মা গৌরী সেন একমাত্র পুত্র ও বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এক ভাই ভারতে থাকেন। ১৯৯৮ সালে তিনি ভারতে ভাইয়ের কাছে চলে যান। কিন্তু সেখানে ভাইয়ের সংসারে তার ঠাঁই হয়নি। তিনি আলাদা বাসা ভাড়া করে শেষ সময় আপন ভাইয়ের কাছাকাছি থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই আশাও তার পূরণ হয়নি। ভারত থেকে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে পুনরায় দেশে ফিরে আসেন। বাংলাদেশে এসে তিনি হয়ে যান নিঃসঙ্গ। পরে এক হƒদয়বান ব্যক্তির সহায়তায় গাজীপুরে এই বৃদ্ধাশ্রমে তিনি ঠাঁই পান।
বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা খতীব আব্দুল জাহিদ মুকুল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবা-যত্মে গৌরী সেনগুপ্তা অতীতের সকল নিপীড়ন-নির্যাতন ভুলে গেছেন। জীবনের শেষ ঠিকানা এই বৃদ্ধাশ্রম বলে তিনি জানান।
Click This Link
১৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।