somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২য় হানিমুন - ৭

০৯ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নির্দিষ্ট দিনে লাঙ্কাউই পৌছালাম। একটা রিসোর্টে উঠলাম। আমাদের জন্য একটা স্যুট রেডি করা ছিল। রুমে ঢুকতেই ড্রয়িং কাম ডাইনিং। চেয়ার টেবিল খুব সুন্দর করে সাজানো। এরপর বেডরুম, ড্রেসিং রুম আর বেডরুমের চেয়েও বড় ওয়াশরুম। রুম থেকেই সমুদ্র দেখা যায়। এক কথায় চমৎকার। নিচে সুইমিং পুলের কাছে যেয়ে দেখি তা ঠিক সমুদ্রের লেভেলে করা। সুইমিং করার সময় মনে হয় যেনো সাঁতার কেটে বুঝি সমুদ্রে চলে যাওয়া যাবে। পুলের সাথেই একটা বার, আর এর কাঠের মোড়া পুলের পানির ভেতরে। পুলের উপর দিয়ে একটা ছোট ব্রিজ বানানো, এই ব্রিজ দিয়ে ছোটদের আর বড়দের পুল আলাদা করা। আমি সাঁতার জানিনা, তাই প্রথমদিন ছোটদের হাটু পানির পুলে সাঁতার কাটার ব্যর্থ চেষ্টা চালালাম, পরে লজ্জা পেয়ে উঠে গেছি। কারন ওই পুলে ১বছর বয়সের বাচ্চারা সাঁতার দিচ্ছে। পরবর্তিতে বয়াতে চড়ে বড়দের পুলে ভেসে বেড়াতাম।

আমাদের রিসোর্ট থেকে খুব কাছে একটা খাওয়ার জায়গা খুজে পেলাম। একটা একতলা বিল্ডিং, সামনে লম্বা বারান্দা। এখানে অনেক চেয়ার টেবিল পাতা। বারান্দার লাগোয়া কয়েকটা খোলা রুম। এই রুমগুলি কিচেন, আর এর সামনে ছোট ছোট শোকেজে খাওয়া সাজিয়ে রাখা। দেখে মিনি ফুড কোর্ট মনে হল। এদের একটা স্পেশাল চাটনি আছে, তা হল কাচকি মাছের শুটকি দিয়ে অসম্ভব ঝাল চাটনি। খেতে খুবি মজা। এই বিল্ডিং এর বিপরীতে আরেকটা খাওয়ার জায়গা, ওখানে সব গ্রিল। অনেক ধরনের টাটকা সামুদ্রিক মাছ, যেটা খাবে দেখালেই সামনে গ্রিল করে দেয়। আরেকটা মজার খাবার ওখানে খেয়েছি, তা হল ABC। এটা আরো কয়েক দেশে খেয়েছি, কিন্তু লাঙ্কাউই য়েরটা পুরাপুরি আলাদা। বিভিন্ন রকম বাদাম, বিভিন্ন রকম বিনস অনেক পরিমানে থাকে আর উপরে গুড়া করা বরফের উপর বিভিন্ন ফ্লেভারের সিরাপ। গরমে এই জিনিস অসম্ভব ভালো লাগে।

আমাদের রিসোর্ট থেকে কিছুটা দূরে একটা খোলা বাজারে এক ট্যাক্সি ড্রাইভার নিয়ে গেল। সারি সারি ফুটপাথের দোকান একপাশে আরেক পাশে খোলা আকাশের নিচে সব হোটেল। ওই এলাকায় প্রচুর ট্যুরিস্ট, জানতে পারলাম জিপ্সি টাইপ ট্যুরিস্টরা ওই এলাকার মোটেলগুলিতে থাকে, কারন অনেক সস্তা। ওখানকার এক হোটেলে গলদা চিংড়ির গ্রিল খেলাম।

আরেকটা খাওয়ার বাজারে গিয়েছিলাম, ওটা তাবুর নিচে। সারি সারি টেবিলের উপর হরেক রকম খাওয়া, প্রতিটা টেবিলের পাশেই বড় বড় চুলা। ঘুরে বুঝলাম, পৃথিবীর মোটামোটি সব দেশের খাওয়ার দোকান আছে। আমরা দুজন মিলে প্রচুর খাওয়া কিনে সেদিন রিসোর্টে ফিরেছিলাম।

এই দ্বীপে ওনেক কিছু দেখার আছে। ম্যানগ্রোভ ফোরেস্ট, সমুদ্রের পাহাড়ের ভিতরের গুহা, ঈগল ফিডিং এরিয়া, ফিশ ফার্ম, ফিডিং এরিয়া, মাঙ্কি ফিডিং এরিয়া। সবচেয়ে অবাক হয়েছি, ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর একটা রেস্টুরেন্ট দেখে। পুরানো বাড়ির মত করে সাজানো, ভিতরে এসি চলছে, সব ধরনেরি খাওয়া পাওয়া যায়। মজা পেয়েছি বানরদের কান্ড দেখে। একটা জায়গায় প্রচুর বানর বসা, ওদেরকে খাওয়ানোর জন্য পাওরুটি নেয়া হয়েছিল। আমদের স্পিড বোট পাড়ের কাছে আসতেই সব বানর কাছাকাছি জটলা বেধে বসল, সামনে বেশ মোটা আর বড় একটা বানর। রুটি দেবার পর সবাই চুপ করে বসে আছে, একটু পরে হেলতে দুলতে গদা বানরটা এসে রুটি টা নিল, এরপরি দেখি বাকি সবাই খাওয়ার জন্য ঝাপা ঝাপি শুরু করল। বুঝল, প্রথম জন পালের রাজা। তার অনুমতি ছাড়া কেউ নড়েনা।

আমরা আরেকদিন গেলাম কেবল কার চড়তে। এটা আরো ভয়ঙ্কর, ২.২ কি.মি যাত্রা, ৭০৯ মি. সমুদ্রতটের উপর। অনেক সাহস আর দোয়া দরুদ পড়ে কারে উঠলাম (ভয় পেলেও যেতেই হল 'শ' এর কথা ভেবে। আমি না গেলে সেও যাবেনা, আমার জন্য এটা তার মিস হবে)। ২টা স্টেশন আছে। শেষ স্টেশনে যাওয়ার পর একটা টাওয়ার, 'শ' ধরে ধরে আমাকে তুলল টাওয়ারে। আমার পা তখন কাপছে ভয়ে। কিন্তু উপরে যেয়ে দেখলাম কিযে সুন্দর লাগছে নিচের দিক। অনেক সবুজ বন আর সমুদ্র। উপরে মেঘ যেনো মাথা ছুয়ে যাচ্ছে। ১ম স্টেশন থেকে আবার একটা কাঠের তৈরি করা সেতু নেমে গেছে বনের ভিতর, অনেকেই দেখলাম সেতু দিয়ে নেমে কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে।

লাঙ্কাউইতে থাকার দিন কোন দিক থেকে যে শেষ হয়ে গেল টেরি পেলামনা। আরো একদিন বেশি থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরের দিনের প্লেনের টিকেট না পাওয়াতে মন খারাপ করে নির্দিষ্ট দিনে কুয়ালালামপুর ফিরতে হল।

(চলবে)
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×