প্রিয় বান্ধবী ফারহানা ,
কেমন আছিস তুই ? ঘোর বর্ষা নিয়ে তোকে লিখছি। জানিসই তো প্রবাসের এমন বৃষ্টি আমার মোটেও ভালো লাগে না ! ভেঁজা যায়না , হাত আকাশের দিকে তুলে গাওয়া যায়না গান । একটা আইপড থাকে , তুই তো জানিস যখন থেকে নিজস্বতার জন্ম হয়েছে সেই তখন থেকেই গান , রবির গান আমায় প্রেমের কথা বলতো , আমায় পথ দেখাতো । ওয়াকম্যানের যুগ এখন আর নেই , ডিজিটাল আইপডে ছেয়ে গেছে আমাদের সংস্কৃতি । তাও ভালো লাগে , কিন্তু যখন দেখি সেই গানের শরীরে আঁচড়ের দাগ , খুব কষ্ট হয় । এখনো মনটা ডিজিটাল হয়ে যায়নি তো , তাই ।
এই দেখ কি সব ওলট-পালট কথা লিখে যাচ্ছি । কতোদিন পরে তোকে লিখছি তাই না ? যখন এই চিঠি পাবি তখন তোর চোখ কেমন নেচে উঠবে সে কথা ভাবতেই কি যে আনন্দ লাগছে ! তোর মনের সাথে কি করে যে এই মনের মিল হলো বুঝে উঠতে পারছি না । তোর একা একা ওই মনটা কি ভালো থাকে রে ? জানিস তোকে যখন লিখছি তখন একটা খবর পেলাম মেঘা যাকে ভালোবাসতো , যার জন্যে অস্থির থাকতো সে নাকি অন্য একজনের মাঝে হারিয়ে গেছে । ভালোবাসা কি একেই বলে ? ভাগ্য ভালো এসবে তুই আমি নেই । কান্না - টান্না করতে গেলে দমবন্ধ হয়ে আসে । মনে রেখেছিস আমি যে কাঁদতে পারি না ! কাঁদলে এখনও অসুস্থ হয়ে পড়ি । মাথা ঘুরে যায় , অজ্ঞান হয়ে পড়ি । এর জন্যে কয়েকবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়েছিলো রে । মাথা ফেঁটে সেলাই । অবাক হই একটুকুও ব্যথা লাগে না ।
এই সেদিন না একা ঘরে বসে বসে গান শুনছিলাম আর লিখছিলাম আবোল - তাবোল লেখা । আমার মনে পড়ে গেলো তোর কথা । ওই যে একদিন আমি এমন করে গান শুনে শুনে লিখছিলাম , তুই চুপ করে পেছনে এসে দেখছিলি । সেদিন ছিলো পহেলা শ্রাবণ । আমার এখনো মনে আছে কি লিখছিলাম , তোর কি মনে আছে ?
আজ প্রথম শ্রাবণ
ভরা বর্ষা
আমায় ছুঁয়ে যাবে মেঘদল ?
আকন্ঠ ডুবিয়ে
তৃষ্ণার জলে সাঁতার কাটি চলো
তবুও যদি বৃষ্টি না নামে অঝোর ধারায়
অস্থির জলে চোখ ভাসাবো
বুক ভেঁজাবো
দরোজার কাছে অ্যাম্বুল্যান্স দেখে
একটি কদম শয্যার পাশে ফুলদানিতে রেখে এসো
যদি ইচ্ছে করে খানিকক্ষণ বসে থেকো
তুই পেছন থেকে একটি কদম ফুল আমার কোলে ফেলে দিলি , কেঁপে উঠলাম আমি ! হেসে উঠে বললি তোর মেঘ দেবে না রে কদম , পুরুষ ভালোবাসতে জানে কেবল ভালোবাসা পেতে চায়।আমার কথাই আমায় কি করে ফিরিয়ে দিলি ফারহানা ! আগে কান্না ছিলো না , কিন্তু তোর ঘাড় ছিলো । এখন কান্না আমায় ভিঁজিয়ে দিতে চায় কিন্তু তোর আশ্রয়টুকু অনেক দূর । সেখানে চিঠি যায় কিন্তু আমি যেতে পারি না ।
এই দেখ তোকে দিলাম তো মন খারাপ করিয়ে ? আমি আসলেই কাউকে আনন্দ দিতে পারিনা রে । মাঝে-মধ্যে ভাবি সবকিছু ছেড়ে-ছুঁড়ে চলে যাই অনেক দূরে । কিন্তু কখনো পালিয়ে যাবার মন-মানসিকতা ছিলো না , হতে দেবোও না । ফারহানা কেবল বারবার ইচ্ছেগুলোর পাখায় চড়ে উড়ে যেতে চায় ওই আকাশনীলে। ভালো থাকিস আমার হৈমন্তী লক্ষত্র । যদি কখনো মনে পড়ে আমায় আজকের এই আমায় ভাবিস না , সেই যে নীলাঞ্জনা উজ্জ্বল-উচ্ছ্বল-আনন্দবতী-প্রাণবন্ত মেয়েটাকে মনে করিস । প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াতো , সবুজ ঘাসে গড়িয়ে পড়তো , নীল আকাশের দিকে হাত উঠিয়ে কালপুরুষের দিকে চুম্বন ছুঁড়ে দিতো , সেই মেয়েটাকে মরে যেতে দিস না । এখনকার 'আমি' কে ভাবা মানে সেই 'আমি'র মৃত্যু হওয়া বন্ধু ।
তোর সেই
নীলাঞ্জনা
ইতারব্যাক , ব্রাশেলস , বেলজিয়াম
১১ অক্টোবর , ২০১০ ইং

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



