আমার মেজো মাসীর মেজো ছেলে সত্যজিৎ বিশ্বাস রানা ।আমার স্কুল জীবনের শুরু ময়মনসিংহের মিশনারী স্কুলে ।চোখে ভাসে ডাক্তার মেশোর হাত ধরে আমি আর রানা স্কুলে যেতাম ।স্কুলে গিয়েই কান্না রানা আমাকে আবার বাসায় নিয়ে আসতো ।একবার বাপি আমাদের তিনজন (রিপনদা,রানা আর আমি)কে পাঞ্জাবী কিনে দিলো আমার একটুকুও ভালো লাগেনি ।বাসায় ফিরে বরিশালের দাদু (আমার মামনির বাবা)কে বললাম দাদু এই জামাটা আমার একটুকুও ভালো লাগেনি , তুমি কিন্তু আমায় আরেকটি জামা কিনে দেবে ।দাদু বললো আচ্ছা ।দাদুর সাথে আমার ওই একটাই স্মৃতি ।যাক রানা আর আমি একই রকম দুটো স্কুল ব্যাগ (আগেকার দিনের ছোট্ট স্যুটকেস)নিয়ে যেতাম ।আমার ব্যাগের রঙ গোলাপী ।সেই ব্যাগটা এখনো আছে ,ওটাতে আমার জীবনের সব চিঠি আমাকে যারা যারা লিখেছিলো সেসব রেখেছি ওটাতে ।চিঠির দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন হলো রানা ।কি যে চিঠি ভাবতে গেলেই হেসে উঠি অজান্তে ।
ওদের বাসায় বেতের চেয়ার টেনে টেনে খেলা হতো ।আন্টি খুব রাগ করতো ।রানাই ছিলো সবচেয়ে দুষ্টু ।আমিও কম না তবে রানার চেয়ে একেবারেই কম ।মজা হতো রানার দুষ্টুমীর শাস্তি পেতো রিপনদা বেশী ।আমার কিন্তু খুব ভালোই লাগতো ।ওরা যখন সিলেট আসে , সবচেয়ে খুশী হই আমি রানা কে অনেক কাছে পেয়ে ।রানার সাথে সবচেয়ে মজার দিনগুলো কেটেছে সিলেটে ।ও সিলেটের রসময় স্কুলে পড়তো বাসায় ফেরার সময় আমার জন্যে শাহজালালের দরগাহ থেকে সিন্নী নিয়ে আসতো আমি খুব পছন্দ করতাম এই সিন্নী ।এতোই ভালোবাসতো আমাকে ওর বন্ধুর বাবার দোকানে গিয়ে বন্ধুকে অনেক অণুনয়-বিনয় করে যেটুকু পেতো তা-ই আনতো ।তিন গোয়েন্দা সিরিজ পড়তে খুব ভালোবাসতাম আমি আর রানা ।দুজনে মিলে যে কতো বই পড়েছি ।সন্ধ্যায় রানা কে পড়াতে বাসায় শিক্ষক আসতো , ওই সময়টা আমার জন্যে বিরক্তিকর ।আন্টি বলতো ওদের সাথে গিয়ে বসতে , ভয়ে বসতাম ।কিন্তু মন থাকতো কতোক্ষণে শেষ হবে আর আমি মজা করবো রানার সাথে ।আমি আর রানা একসাথেই ঘুমাতাম ।একদিন ড্রাকুলা বই পড়ার পরে ভয়ে তো আর ঘুম আসছিলো না ।রানা ভয় দেখিয়েছিলো ড্রাকুলা নিয়ে ,জানালার দিকে চেয়ে চেয়ে সেই রাত পার করলাম আর দুষ্টুটা ভালোই ঘুম দিলো ।তখন মোটে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি আমরা দুজনেই ।আরেকবার তো কলোনীতে একজন সিষ্টার আত্মহত্যা করলো এসে আমাকে দেখালো কি করে মরেছে ।খুব ভয় দেখাতো আমাকে ।
যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ি রানা ওরা সবাই দূর্গা পুজোতে আসতো কানিহাটি চা’ বাগানের বাসায় ।কি যে আনন্দ হতো ওই কয়টি দিন । বিকেলে আমরা নাটক করতাম মহিষাসুর বধ ।সেখানে আমি সাজতাম দূর্গা , রিপনদা মহিষাসুর আর রানা কার্তিক ।রিপনদা আমায় খুব মারতো , আন্টি বলতো “ওরে মেয়েটা কে মারিস না , দূর্গা কে মারতে নেই ।” রিপনদা বলতো সেসব সে মানে না , তার শক্তি আছে তাই সে দূর্গা কে মারবে ।পুজোর অসুরের শক্তি ছিলো না তাই সে মরে গেছে ।এখন সেসব ভাবলেই কেমন যে লাগে ।অনেক বকা খেতাম আমি আর রানা ।একদিন এতো বকাই খেলাম রানা বললো চলো মরে যাই ।তা কি করে মরবো ?আমাদের পাশের বাসার মিশু কাকুর মেয়ে মমি যাকে আমি বড়দিমনি বলে ডাকতাম সে বললো করবী ফুলের বীচিতে বিষ সেটা খেলেই মানুষ নাকি মরে যায় ।আমরা দুজনে মিলে সেই বিচি আর মিল্লাত বাম মিশিয়ে খেলাম তারপর জল খেয়ে বাসা থেকে বেড়িয়ে কিছুটা দূরে ভৈরব মন্দিরে বসে রইলাম ।কিন্তু বিকেল হয়ে যাচ্ছে মরিনা কেন? এমন সময় আমাদের বাসার মালি যার নাম ঘোড়া আমাকে মনা দিদি বলে ডাকতো ।বললো মনা দিদি এখানে কি করো বাসায় সবাই খুঁজছে ।তখন তো ভয়ে আমরা জড়োসরো ।অবাক কান্ড সেদিন কেউ আমাদের বকেনি ।
আমি আর রানা প্রায়ই রান্নাবাটি খেলতাম ।ছাগল বানাতাম কলা গাছের মুড়া দিয়ে ।চারটা কাঠি লাগিয়ে দাঁড় করিয়ে কাটতাম পরে রান্না করা ।এমন করে কতোবার যে রানার আঙ্গুল কেটেছি , কাটলে বললে ভুল হবে একেবারে অনেকখানিই বলা চলে ।এখনো ওর আঙ্গুলে দাগ আছে ।প্রায়ই বলবে আঙ্গুলের দাগের কথা ।অনেক জ্বালিয়েছি ওকে ।ওরা চলে গেলে এতোটাই একা যে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতাম অনেকগুলো দিন ধরেই ।তারপর প্রতি সপ্তাহে চিঠি লেখা তো আছেই । আর সেসব চিঠির বেশীরভাগ থাকতো আবাহনীর খেলা নিয়ে ।সেই ছোটবেলা থেকেই আমার প্রিয় ছিলো দুটি রঙ নীল আর সাদা ।আমাদের দুজনের দুটো পতাকা ছিলো নীল রঙের ।আবাহনীর খেলার দিন সেই পতাকা আমি আমার বাসায় টানাতাম , আগেই চিঠি লিখে জানাতো এইদিন খেলা আমি যেনো নীল রঙংর জামা পড়ি আর পতাকা ওড়াই ।কি যে করতাম সেদিন ।নীল জামাটা পড়ে থাকতাম আর প্রার্থনা করতাম যেনো মোহামেডান হেরে যায় ।রিপনদা ছিলো মোহামেডানের ভক্ত ।
আমি প্রাথমিক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাই ।সেই খবর পাই বড়ো মামার বাসা থেকে ফেরার পথে ক্ষীরদের কাছে ।মামা তখন আলীনগর চা’ বাগানে চাকরী করতো ।ক্ষীরদের হাতে একটা বড়ো স্টিলের বক্স দেখে মামা জিজ্ঞাসা করলো বাসায় কে এসেছে ?তখন শমশেরনগরে মিষ্টি প্যাকেটে করে বিক্রী করা হতো না ।বক্স নিয়ে গেলে মিষ্টি দেয়া হতো গুণে গুণে ।সেই বক্স হাতে থাকলেই বোঝা যেতো মিষ্টি আনা হচ্ছে ।আমি , রানা-রিপনদা আর মামা এক রিক্সায় করে আসছি ।ক্ষীরদ বললো আমি নাকি বৃত্তি পেয়েছি ।সেই রিক্সার মধ্যেই আমাকে তিনজন মানুষ জড়িয়ে ধরে এতো আদর করতে লাগলো যে আমি হাসবো নাকি কাঁদবো ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না ।সেই সন্ধ্যাতেই বিশাল বড়ো পার্টি ।হ্যাজাক লাইটে পুরো বাসা আলোময় ।বাপির প্রিয় শখের টেপ রেকর্ডারে সেই প্রথম হিন্দী আর ইংরেজী ড্যান্স মিউজিক বাজানো আর মামা আমাকে নিয়ে কি যে নাচ !স্কুলের সব শিক্ষক , চা’ বাগানের সমস্ত ষ্টাফ থেকে শুরু করে ম্যানেজার পর্যন্ত এসেছিলো ।সেই অনুষ্ঠানে অনেক আনন্দ করেছিলাম ।সেদিনই প্রথম বাপ্পী লাহিড়ীর “আমি বিশ্বাস করি সঙ্গীতে” এই গানটা শুনি আর আমার খুব পছন্দের একটা গান হয়ে যায় ।
যাক রানা ওরা সবাই একবার এলো আমাদের শমশেরনগরের বাসায় তখন হাইস্কুলে পড়ি ।রিপনদা আমাদের অঙ্ক পরীক্ষা নেবে ।কি যে বিরক্তিকর ! প্রশ্ন দিয়ে চলে গেলো বাইরে , সেই অঙ্ক তখনও স্কুলে করানো হয়নি , রানা করলো কি উত্তরপত্র দেখে দেখে করে ফেললো আর আমি করলাম ফেল ।রিপনদা এসে বললো ছোট ভাইয়ের থেকে শেখা উচিৎ আমার ।কি যে কষ্ট পেলাম , সাথে লজ্জ্বাও ফেল করলাম ? পরে আমাদের ফুলের বাগানের সিঁড়িতে বসে গল্প করছিলাম আমি আর রানা ।বেশ ঝড় এলো মিতা আন্টি আর মামনি বারান্দায় এলো ।আমরা নেমে গেলাম বাগানে ।তখনও বৃষ্টি নামেনি ।এর মাঝে গাছের পাতা ওড়াওড়ি করছে বাতাসে ।কে কতোটা পাতা কুড়োতে পারে ।কে জয়ী হয়েছিলো মনে নেই তবে বৃষ্টি শুরু হলো যতোক্ষণ মেঘেদের দল বৃষ্টি দিয়ে গেছে আমরা ভিঁজেছি ততোক্ষণ ।রানা আর আমি কম ভিঁজিনি বৃষ্টিতে ।এরপর এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে এলো রানা আর মুন্না আমাদের বাসায় ।আমার মন ভালো ছিলো না কারণ ফলাফল ভালো ছিলো না ।কিন্তু ওদের আনন্দ আমাকে অনেক খুশী করেছিলো ।
বাপি আমাকে একটা বিশাল ডেকসেট কিনে দিয়েছিলো , তারপর শুরু হলো আমার ক্যাসেট সংগ্রহ করার পালা ।রানা যে কি করেছিলো আমার যে আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতাম , ভারতীয় বাংলা সেই আমি ব্যান্ডের ক্যাসেটে ভরিয়ে ফেলেছিলাম ।কারণ রানা এসে শুনবে ।একবার বাণী এসে বলেই ফেললো “নীলাদি তুই না রবীন্দ্র সঙ্গীত করিস ?ভরা তো ব্যান্ডে ।” বললাম না রানা ভালোবাসে তাই কিনে এনে রাখি ।অবশ্য ছিলো না যে তা নয় ,পরিমাণে কম ।অবশ্য এরপর থেকেই আমি রেকর্ড করানো শুরু করলাম রবীন্দ্র গান ।কেনা ক্যাসেটে নয় , টিডিকে ক্যাসেট কিনে ঢাকার গীতালী থেকে রেকর্ড করিয়ে আনতাম । রানা বলতো “আবার এসব দিয়ে ভরিয়েছিস ?”
আমার জন্যে ১৯৯০ সালটা অনেক অনেক আনন্দের একটা বছর ।পরীক্ষা দিয়েই ইন্ডিয়া বেড়াতে যাই আর ফিরে আসি পুজোর সময় ।এসেই দেখি বাসা ভর্তি মানুষ বড়ো মাসীদের পরিবার ,মেজো মাসী মানে সব মামা আর মাসীদের বিশাল গ্রুপ আমাদের বাসায় ।নেমেই সোজা ছুটে যাওয়া ।রানা কে খুঁজে বের করা ।আমরা ছোটবেলায় তুই করে বলতাম না , বড়ো হয়ে তুই করে বলা শুরু হলো ।রানা আমাকে বললো “তুই কি ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া” সিনেমাটা দেখেছিস ? বললাম ওসব প্যায়ার ট্যায়ার দেখবো না ।তবে অবাক হলাম যে রানা হিন্দী সিনেমা দেখেই না সে কিনা এসব সিনেমার নাম বলছে ?শমশেরনগর বাজারে তখন একটাই ভিডিও ক্যাসেটের দোকান ছিলো মৈত্রী ভিডিও ।মামনি উত্তম-সুচিত্রার সিনেমা এনে দেখতো ।হিন্দী যে চলতো না তা নয় ,তবে বেছে বেছে । সেদিন যখন নাম লিখে পাঠানো হলো বেশ অবাক হলেন রঞ্জু চাচা বর্তমানে উনি প্রথম আলো পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ।ওই দোকানটা মূলত ফোন-ফ্যাক্সের দোকান ,পাশাপাশি ভিডিও ক্যাসেট ।দোকানে বসতেন মুকুল স্যার রঞ্জু চাচার ভাই ।তো মুকুল স্যার বুঝে গেছেন আমাদের বাসায় অনেক অতিথি ।অবশ্য আমাদের বাসায় সবাই যখন আসতো পুরো শমশেরনগরই জেনে যেতো ।স্যার তিনটা ক্যাসেট পাঠিয়ে দিলেন । ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তক , তেজাব আর ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া ।আহা কি কষ্ট আমির খান আর জুহি চাওলার মরণে ।জল পড়ে যাবো যাবো করছিলো ,তবে পড়েনি ।আর ভাগ্যশ্রী কে যখন চলে যেতে হয় আবার কি মিলবে নাকি না , এই চিন্তায় বিভোর ।তবে ভালো লাগেনি বন্ধুত্ত্ব কে প্রেমে রূপ দেয়াটা ।আর তেজাবের যে গান রাস্তা-ঘাটে শুনেছি কি দুঃখ শুরু হবার সাথে সাথেই মিতা আন্টির হুকুম এই গান টেনে নিয়ে যাওয়া হোক ।কি জঘণ্য !ইস সেদিন দেখা হয়নি ।এখন ভাবি চোখের সামনে কতো নিষিদ্ধ কিছু যা আমাদের জন্যে একসময় হারাম ছিলো তা স্বচক্ষে দেখে নিচ্ছি প্রবাসে এসে ।
যাক এরপর আসি ক্রিকেট আর ফুটবল খেলায় ।রানাদের টিমে কেউ কম পড়লে আমাকে ডেকে নেয়া হতো ।ব্যাট নিলে বেশী হলে দুই বল ফেরাতে পারতাম , তৃ্তীয় বলেই শেষ ।আবার বল দিলে কোথায় যে যেতাম ।আমাকে তাই বেশীরভাগ সময় দুধ-ভাত হিসেবে মাঠে রাখা হতো ।কি করে বলে লাথি মারে কে জানে !খুব ব্যথা পেয়েছি আমি ।একদিন কি হলো বাণী আমার বড়ো মাসীর মেয়ে ও খুবই অন্তর্মুখী তবে আমাকে অনেক ভালোবাসতো ।আমার প্রতি ওর অনেক টান আমার থেকেও ।কতো ডাকতাম আমাদের সকলের আড্ডায় না ও চুপ করে বসে থাকতো মিতা আন্টির কাছে ।জানিনা কেন যে সবার রাগ আমার উপরেই ,আন্টি আমাকে ডেকে বললো “নেলী মেয়েটা একা একা বসে থাকে নিয়ে যাসনা কেন তোদের মাঝে ?” বললাম আন্টি কতো ডেকেছি না এলে কি করবো ?রানা কে ডেকে বললাম ও এলো ।রানার সবচেয়ে বড়ো গুণ ও সবাইকে সহজ করে আর কাছে টেনে নিতে পারে ।এরপর দেখা গেলো বাণী কথা বলছে আমাদের আড্ডায় আসছে , মুচকি হাসিও দিচ্ছে ।দারুণ গান করে আমার এই বোনটা ।অনেক গুণ আছে বাণীর মধ্যে । পরে ওর কথায় আসা যাবে ।রানা কে নিয়ে অনেক অনেক ঘটনা ।মোটে তো মাধ্যমিকের বাধা পার হলাম , কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-বিয়ে-সন্তান জীবনের প্রতিটি মূহুর্তে ওর অবস্থান ।
বড়ো মামার বিয়ের সময় আমাদের বাসায় বৌভাত হলো ।বৃষ্টির দিন ছিলো তখন ।আমি , বাণী আর বীণা আমরা তিনজন দাদুর ঘরে নীচে শুয়েছি ।হঠাৎ দেখি আমার গায়ে জল পড়ছে ।আসলে ব্রিটিশ আমলের বাসা , টিন যে কবে ছিদ্র হয়ে গেছে আর চুইয়ে চুইয়ে জল পড়েই যাচ্ছে ।দাদু আমায় বললো বিছানায় উঠে শুতে ।কারণ হলো বীণা বা বাণীর দিকে জল যাচ্ছিলো না ।ওদের ফেলে যাবো দাদুর বিছানায়?তাই বসে রইলাম অনেকক্ষণ ।পরে ওদের ধাক্কাতেই গেলাম শুতে ।ওইটুকু বিছানায় কি শোয়া যায় তিনজন?আমি,রানা আর দাদু তিনজন একসাথে ঘুমালাম ।ভাগ্য ভালো গরম ছিলো না তাহলে শেষ হয়ে যেতাম ।তবে রানা আর পারেনি থাকতে বললো আসছি সেই যে গেলো আর ফেরেনি ।আমার জীবনে সেই শেষ শোয়া দাদুর সাথে ।আমার পিঠে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলো আর বলছিলো ঘুমা রে ।তখন বিরক্তি লাগছিলো কারণ আমি গায়ে হাত দেয়া পছন্দ করিনা ।ঘুমোনোর সময় একটু হাত লাগলেই আমি রেগে যেতাম ।
কলেজ জীবন শুরু হলো ।তবে ছুটি হলেই সিলেট ।দুপুরে খাবার পরে রানা ঘুমাতো সেটা ওর অভ্যেস ।আমি জীবনেও কখনো অসুস্থ না হলে দুপুরে আমাকে বিছানায় দেখা যায়নি ।তাই রানা শুতে গেলেই ধাক্কা ঘুমাস না রে ।একা ভালো লাগে না ।পাজিটা করতো কি বলতো “মামনি দেখো নীলা আমাকে ঘুমাতে দেয়না ।ওর নাকি একা লাগে,নীলার সাথে গল্প করো একটু ।” আন্টি বলতো , রানাকে কেন ঘুমাতে দেইনা ।আর আন্টিকে আমি ভয় পেতাম অনেক ।যদিও আমার সব থেকে প্রিয় মাসী এই মিতা আন্টি ।সব মাসীদের মাঝে বলতেও দ্বিধা করিনি আমি ।রানা ঘুম থেকে উঠেই খেলতে যেতো মাঠে ।কি যে বিচ্ছিরি সময়টা যেতো ।এলেই বলতাম তুই কতো মজা করছিস আর আমি একা একা বাসায় ।সন্ধ্যায় পড়তে বসলেই কতো যে গল্প ।সামনে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা কিন্তু কি একটা অনুষ্ঠানে যেতে হলো সিলেটে ।সব মাসী-মামারাও এসেছিলো রানাদের বাসায় ।বাচ্চু আন্টি আমার সেজো মাসী আমাকে আর রানা কে নিয়ে পড়াতে বসালো ।সবাই কতো মজা করছে আর আমরা কিনা পড়ছি রসায়ন , বোটানি উফ কি যন্ত্রণা !আন্টি কতোগুলো রিএকশন আর বোধ হয় কিছু গোত্র/প্রজাতি এসব পড়তে দিয়েছিলো আর বলেছিলো পড়া নেবে আমাদের ।আমি পড়ছি কিন্তু মন কি আর বসে ?তাও ভাবলাম যতো তাড়াতাড়ি পড়া শেষ করে বলে দিতে পারলেই মুক্তি ।রানা এর মাঝে উঠলো জল খেতে যাচ্ছে ।পড়া শেষ করলাম আন্টি এসে জিজ্ঞাসা করলো একটু তো ভুল হলোই , অন্যদিকে রানা সব বলে দিলো ।এটা ঠিক রানা যথেষ্ট মেধাবী কিন্তু খুব বেশী দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় খাটতো ওর ।তবে কেউ কখনো ওকে খারাপ বলেনি , এতোটাই ভালো মনের উপকারই করে গেছে সবার ক্ষতির কারণ হয়নি কারুর ।যা বলছিলাম পরে রানা বললো এতো পড়ার মানে হয় এমনিতেই পাশ করবো ।এসব আনন্দে কি পড়ায় মন বসে? বললাম মন না বসলেও পেরে গেলি ।হাত খুলে দেখালো হাতের মাঝে লিখেছে যেগুলো তো কিছু খটকা ছিলো ।আন্টি কে যে বলবো এতো বাহবা যাকে দিয়েছো সে কি করেছো দেখেছো , তাও তো সম্ভব না ।
অনার্সে গিয়ে ভর্তি হলাম সিলেট এম.সি কলেজে ।রানা ওরা তখন থাকতো ২৩ মধুশহীদে ।মেজো মাসী চাকরী করতো মেডিক্যাল কলোনীর আদর্শ বিদ্যালয়ে , আন্টি ছিলো এসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেস ।প্রায় সময় রানা ওর বন্ধুদের নিয়ে আসতো বাসায় আর বলতো নীলা চা বানাবি রে ?আমি জানি আন্টি জানলে আমায় আর রাখবে না ।তাও বানিয়ে দিতাম তারপর যেমন করে সব সাজানো থাকতো তেমনি রেখে দিতাম ।একদিন আমায় বললো আন্টি কন্সডেন্ট মিল্কের কৌটা এতো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো ?কি বলবো আমি ?আন্টি জানে আমি চা খাই না ,তার মানে রানা বা রিপনদা বন্ধুদের নিয়ে বাসায় আসে ।এটা ঠিক রিপনদাও তার বন্ধুদের নিয়ে আসতো আর আমাকেই চা বানিয়ে দিতে হতো ।যাক সেদিন বললাম আন্টি তেমন তো আসেনা একদিন এসেছিলো ।মিথ্যে বলতে পারতাম না ।ধরা খেতাম তবুও যাতে রানা কে বকুনীর হাত থেকে বাঁচানো যায় ।ছোটবেলায় রানা ডানোর কৌটা থেকে দুধ চুরী করে চিনি দিয়ে পাউরুটি খেতো , ফ্রীজের মিষ্টি । আজ বলেই ফেলি আমারও খুব ইচ্ছে করতো মিষ্টি খেতে ।এমনিতে খেতাম না কিন্তু রানা নিলেই জিভে জল চলে আসতো ।
বাংলা ১৪০০ সাল পালন , পুরো সিলেট সেজেছে ,আনন্দ র্যালী নিয়ে অলি-গলিতে সবার বিচরণ ।রানা কে বললাম খুব ঘুরতে ইচ্ছে করছে রে ।আমায় নিয়ে যাবি ?রানা আর আমি বেড়িয়ে পড়লাম ।রিক্সায় করে গেলাম প্রথমেই এম.সি কলেজে ।বাদাম কিনলাম তারপর ঘুরে ঘুরে দেখলাম ।ক্লান্ত হয়ে সবুজ টিলার ঘাসে গিয়ে বসলাম আর গপ্পো শুরু হলো এলোমেলো ।সেই সময়েই মাধবী আমার স্কুলের বন্ধু সে পেছন থেকে আমাকে দেখেই চিনে ফেললো ।ডাকার পরে চাইলাম উঠে সামনে গেলাম ওর ,আমায় বললো কি রে তোর বিশেষ কেউ ?হায়রে বললাম না না আমার ভাই রানা মনে নেই তোর?সঙ্গে সঙ্গেই বললো ওহো বুঝিনি রে ।পরে রানা বললো আর না চল বাসায় তুই ।তোকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া তো রিস্কের ব্যাপার !বাসায় দিয়েই রানা বাইরে গেলো ।
ডিগ্রী পরীক্ষার সময় হরতালের জন্যে একটা পরীক্ষা পিছিয়ে যায় ।সেই পরীক্ষা কবে হবে সেটার খবর আসেনি , তাই রানা শমশেরনগর এলো আমাদের বাসায় ।একদিন বসে আড্ডা দিচ্ছি এমন সময় দেখি রিপনদা এলো ।এসেই বললো রানা তুই কি জানিস তোর পরীক্ষা কাল আর খবর না নিয়ে এখানে বসে আড্ডা দিচ্ছিস?হায়রে ভোরে উঠেই রানা দৌড় সিলেটে ।যাক ভালোভাবেই পরীক্ষা দিয়েছিলো রানা ।
জীবনের যুদ্ধ শুরু হলো কিন্তু রানা সেই একই রকম ।অনার্স দেবার পরে ঢাকা গেলাম ঘুরতে ।তখন আমি হাইস্কুলে চাকরীতে মোটে ঢুকেছি ।যাবার পরে যা অবস্থা আমায় দেখতে এক পক্ষ এলো যা হোক আমি রানা কে না জানিয়ে বেশীরভাগ সিদ্ধান্ত নেইনি ।রানা কে জানালাম চিঠি লিখে খুব দরকার ।বললো ময়মনসিংহ যেতে ।কি করে যাবো একা একা?শোভনদার সাথে গেলাম যাবার পরে রানা বললো একা পারি না আসতে বলতে তোর লজ্জ্বা লাগে না?একা চলতে শুরু কর যে কোনো বিপদে সামাল দিতে পারবি ।
বড়োমামার বাসায় একবার রানার প্রচন্ড ব্যাথা ।ভাবলাম এসিডিটি সবাই এন্টাসিড দিলো কমলোনা ।পরের দিনই রানা কে চলে যেতে হয় ।কিন্তু রানা কি নিজে থেকে ডাক্তার দেখায় ?আমি , বাণী আমরা সবাই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গেলাম বেড়াতে ।আবার সেই ব্যাথা ।রানা কে নিয়ে যাওয়া হলো এম্বুলেন্সে করে ।এতো দুষ্টুমী করতে পারে ছেলেটা এম্বুলেন্সে উঠেই বললো নিজেকে কেমন জানি ভি.আই.পি লাগছে রে ।পরে ধরা পড়লো ওর এপেন্ডিসাইটিস হয়েছে ।পরের দিনই অপারেশন ।রানা আর বাণী আমাকে তোরা স্বার্থপর ভাবিস না ।কেন সেদিন হাসপাতালে থাকতে পারিনি সে কথা জীবনেও বলা হবে না ।তবে আমি জানি প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছিলো রানা ।এখনোও কান্না পাচ্ছে আমার যে রানা আমার জন্যে এতো করেছে একটা রাত ওর পাশে থাকতে পারিনি ওর একলা সময়ে ।চলে আসতে হয়েছিলো ।পরে পেট দেখিয়ে বলে আছে তোদের এমন দাগ ?এমনই রানা ।কখনো বলেনি , অভিযোগ করেনি কেন আমি থাকলাম না !
মেশো মারা গেলো ,আমরা গেলাম সামনে আমার মাষ্টার্স পরীক্ষা বেশ কিছুদিন ছিলাম গৌরীপুরে ।রানার চোখের জল সারা জীবনে ওই একবারই দেখেছি প্রার্থনা করি আর যেনো কখনো ওর জল না পড়ে ওই চোখ থেকে ।ওই অবস্থার মধ্যে পরীক্ষা দিলো রানা ।অনেক ভালো করলো ।
একবার কি হলো আমাদের বাসায় কে জানি বেড়াতে এলো ইন্ডিয়া থেকে , আমার কাকুর পরিচিত সেই ভদ্রলোক ।প্রথম বাংলাদেশে এসেছেন যাবেন চট্ট্রগ্রাম ।উনি কিছু ভারী ড্রিঙ্কস নিয়ে এসেছেন উনার কোন আত্মীয় কে দেবেন ।তা ভুলে রেখে গেলেন একটা রাম (RUM)-এর বোতল ।রানা এলো বাসায় বেড়াতে ,সেই বোতল দেখে বললো এটা কি রে ?বললাম এই ধরিসনা ভদ্রলোক ভুলে ফেলে গেছেন ।বললো আরে চল না দেখি কেমন স্বাদ !আর ওর মাথায় যা ঢোকে তা ফেরানো অসম্ভব ।বললো যা দুটো গ্লাস নিয়ে আয় ,আমি বললাম দুটো কেন ?বললো তুইও খাবি ।বলে কি ! মাথা খারাপ হয়েছে ?আনতেই হলো বললাম আগে তুই খা তারপর আমি দেখি ।ইস কি যে বাজে গন্ধ , মানুষ কি করে খায় এসব ?রানা মুখে নিয়েই বমি ।বললো তাও খাবে ।মাথা পাগল বললো শোন যা লেবু , চিনি আর লবণ নিয়ে আয় ।এনে দিলাম ।শরবত বানালো আমি তখনও মুখে দেইনি ।ও দিয়ে বলে বাহ এবার বেশ লাগছে রে ।খেয়ে দেখ ।মুখে তুলতেই বমি আর গিলতে পারিনি ।দুষ্টুটা করলো কি যতোটুকু খালি হয়েছিলো তাতে জল ঢেলে দেয় ।তারপর বোতল যেখানে ছিলো সেখানেই রাখলাম ।
সিগারেটের কথায় আসি ।অনেক সিগারেট খেয়েছি ।আসলে টেনে নিতাম না , তবে পরে ঠিকমতোই টেনেছিলাম ।সবাই বলে সিগারেট খেলে নাকি চিন্তা কমে ।যতোসব মিথ্যে কথা ।আমি আর রানা সিগারেট খেয়েছি মজা করে ।শুধু যে রানার সাথেই তা নয় ।বন্ধুদের সাথেও কম খাইনি ।উত্তমের থেকে তো ছিনিয়ে খেয়েছি ।শুধুই মজা করে কিন্তু ।
যাক আমায় সবাই ক্ষেপাতো ।কিছু বলতে গেলেই হলো কান্ড সেই কথা ধরা চাই-ই চাই ।আর এসবের পেছনে রানা সবার প্রথমে ,শোভনদা ,তারপর রিপনদা ।আমাকে মা-মাসীরাও ক্ষেপাতো ,ঈশ্বর জানেন কেন এতো ক্ষেপানো কেবল আমাকেই ।তবে বাইরে ক্ষোভ দেখালেও ভেতরে ভেতরে মজাই লাগতো ।একদিন এমন হলো কি নিয়ে জানি বাজী ধরলো সবাই আর আমাকে বললো শোভনদা এই এক লিটারের সয়াবীন তেলের বোতল শেষ করতে হবে ।প্রচন্ড জেদী ছিলাম আমি ।জেদের চোটে পুরো এক বোতল খেলাম ।রানা-শোভনদা-রিপনদা ওরা সবাই হা করে চেয়ে দেখছিলো ।কি অদ্ভুত মানুষ !খাবার পরে বাথরুমে ঢুকেই বমি ।কতো যে বোকামী করেছি পাজী ওই জেদের জন্যে ।
তখন আসলেও অনেক সহজ-সরল ছিলাম ,বোঝার ক্ষমতা কমই ছিলো ।২০০০ সালের পর থেকে অনেক পরিবর্তন এলো জীবনে ।রানা ওরা সব খবর জানতো মানে মা-মাসীদের রাগ-ক্ষোভ আমার মাধ্যমেই ।না নিজে থেকে বলতাম না ওরাই বুদ্ধি করে বের করে নিতো ।আসলে আমি মা-মাসীদের মধ্যে বসে গল্প শুনতাম তাদের ছোটবেলার । আমার বিয়ে হলো যেদিন আশীর্বাদ তাও হঠাৎ করেই ।কে সাজিয়ে দেবে রানা আমাকে সেদিন সাজিয়ে দেয় ।তারপর আমার চোখের জলে ভেসে যায় কাজল ,ও ছবি তুলছিলো আর এদিকে আমার কান্না থামানোই যাচ্ছিলো না ।কতো রকমে যে হাসানোর চেষ্টা করলো রানা ।আর সেদিনই তার পরাজয় ঘটলো কারণ সেই সময় কিছুতেই হাসতে পারিনি ।কানের কাছে এসে বললো এরপর যখন ছবি দেখবি আফসোস করবি ।আহারে এতো সুন্দর চেহারাটার ছবি এমন ?তখন কিন্তু আমায় দোষ দিতে পারবি না ।নীলা তুই কাঁদলে তোকে পেত্নীর মতো দেখায় ।তাও হাসতে পারিনি ।গায়ে-হলুদের দিন সন্ধ্যায় সবাই কি যে নাচ-আনন্দ-স্ফুর্তি , যে আমি সবচেয়ে বেশী নাচতে পারি , লাফাতে সে বসে রইলো এক কোণে ।বন্ধু মিন্টু এসে বললো নীলা তোকে এমন শান্ত মানায় না ।আর রানা এসে করলো কি স্টেজ থেকে নামিয়ে নাচতে লাগলো আমায় নিয়ে ।এতো লোকের মাঝে সিনেমাতে মানায় ,বাস্তবে বৌ নাচছে কেমন লাগে ব্যাপারটা?পরে বললো আমি জানি তোর ইচ্ছে আরে চল নাচি কাল তো আর পারবিনা ।বাগানের সবাই আমার ওই উচ্ছ্বল রূপটাই দেখেছে , একটা মানুষও তাই কোনো সমালোচনা করেনি ।রানা আমাকে বোঝে ,কোন সময় কিসের জন্যে ডাকি আমার প্রতিটি স্পন্দন কে সে জানে ।
আমার ছেলের জন্মের পর সে এলো আসার আগে বললো কি দেয়া যায় ভাগ্নে কে ?আসলে ও চেয়েছিলো ভাগ্নী ,কিন্তু তাও মন খারাপ করেনি ।আমি বললাম ভাগ্নেটা যেনো তার মামার মতো হয় ।সেই আশীর্বাদ দিস ।তখনও রানা চাকরী পায়নি আমি জোর করে দিতে দেইনি কিছুই ।কিন্তু আন্টি ফোনে বললো না রে মামার হাত থেকে কিছু দিতে হয় ।বললাম সোনার জিনিস সবাই-ই দেয় ।রানা তুই বুবুল কে ওয়াকার কিনে দিয়ে যা ,তোর হাত ধরে হাঁটা শিখবে আমার ছেলে ।তারপর জাপান এলাম রানা এয়ারপোর্টে এলো আর বললো আমি সবাইকেই তুলে দিয়ে যাই ,কিন্তু আমার ভাগ্যে নেই আমাকে কেউ তুলে দেয় ।রানার স্বপ্ন ছিলো দেশের বাইরে আসার ।যদিও বলেনি আমি বুঝি ।
নিজের স্বার্থ আজ পর্যন্ত দেখেনি ।নিজেকে নিয়ে তো নয়ই এই যে বিয়ে করেছে কখনোই মা কিংবা বৌ কে অনাদর করেনি ।আসলে রানা কে ছাড়া আমার এই চলমান জীবনের কিছুই নেই ।আমাকে পথ দেখিয়েছে , জীবনের ধারা কি হবে তাও ঠিক করে দিয়েছে ।এইতো সেদিন শুধু বললাম রানা রে ,ও বুঝে নিলো কিছু একটা হচ্ছে আমার ভেতরে ।
“সময় চলে গেছে এবং চলছে
চলতি জীবনের গল্প বলছে”(কবীর সুমন)
কিন্তু এখনও পাল্টে যায়নি আমাদের মন-মানসিকতা ।এখনোও দুষ্টুমী করি শুধু জীবনের তাগিদে ব্যস্ততা , সংসারের হাল সবকিছু দেখতে হয় বলেই আগের মতো দেশে গেলেও আড্ডা জমে ওঠেনা ।তবে যখনি সময় বের করে নেই আবার হয়ে যাই সেই দিনের মতো ।রানা তোকে কখনো বলা হয়ে ওঠেনি , আজ বলছি অনেক ভালোবাসি তোকে ।হয়তো ভাবিস ভুলে গেছি বা সরে গেছি দূরে আসলে কখনোই তোকে সরিয়ে পথ চলিনি আমি ।শুধু আজকাল অনেক কিছু গোপন করতে শিখেছি যা কোনোদিনও তোকে বলা হবে না ।তবুও চেষ্টা করবো সব বলার যা না বললে আমিও ভালো থাকবো না ।
নীলাঞ্জনা নীলা
এন্টিগোনিশ , কানাডা
১১ মার্চ , ২০১১ ইং
ক্রমশ------------

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

