somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘের কাছে চিঠি………নীলাঞ্জনা নীলা

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেঘ ,
আজ মেঘেদের দল চুপটি করে বসে আছে । আকাশ ধূসর ।ভেবেছিলাম আজ রোদ্দুর খেলবে , নাচবে । আজ যে তোমার জন্মদিন । নাহ যা ভাবি তা কি হয়েছে আজ পর্যন্ত ?

জানো , আজ ঘুম ভাঙ্গলো অনেক ভোরে ! কিন্তু চোখের উপর তোমার মন আমাকে এমন স্বপ্নে জড়ালো কিছুতেই বিছানা ছেড়ে উঠতে পারলাম না । ওই যে রোদ পিয়াসী মন , মেঘলা অনুক্ষণ । তাও উঠে পড়লাম । তারপর আলমারি থেকে তোমার দেয়া নীল শাড়ীটা বের করলাম ।জানোই তো শাড়ী ছাড়া আর সাজগোজ করিনা আমি । এ নিয়ে অনেক বলো । কেন একটু কাজল , লিপস্টিক দেইনা ।

আচ্ছা মনে আছে আমাদের প্রথম দেখা হওয়া ? এক সকালে খুব তড়িঘড়ি করে যাচ্ছিলাম বাস ধরে যেতে হবে অফিসে , তাও সেদিন প্রথম দিন ।পথেই তোমার সাথে ধাক্কা , ওসব তো সিনেমাতেই দেখেছি । কিন্তু আমাদের মধ্যে দুঃখ প্রকাশ বা রাগ কিছুই হয়নি । এমনিতেই দেরী তার উপরে প্রথম দিন ছুট দিলাম ।

যাক এরপর তো ওসব ভুলেই গিয়েছিলাম । একদিন রোদ্দুরের জন্মদিনে স্বপ্নবিলাস রেষ্টুরেন্টে আমরা সব বন্ধুরা ধ্রুব , অমিত , ঝিনুক , মুক্ত , অনন্যা মিলে বসেছি । ওকে বললাম এই কেক কাটবি কখন ? রোদ্দুর বললো ওর একজন বন্ধু আসবে , দেশের বাইরে ছিলো , এখন নাকি দেশে ফিরে এসেছে ।কি অপেক্ষা , মেজাজই বিগড়ে গেলো । এ কেমন মানুষ বাইরে থেকেও সময় জ্ঞান নেই ? ওদিকে অনন্যা তো চেঁচামেচি , “এই তোর কেমন বন্ধুরে ! আটটা বাজতে চললো , এখনও আসছে না ?” হঠাৎ রোদ্দুরের ফোনে গান , এরপর ও হাসতে হাসতে বললো স্বপ্নবিলাসের বদলে ওর বন্ধু নাকি স্বপ্ন নামের কোন রেষ্টুরেন্টে পৌঁছে গিয়ে খুঁজছে আমাদের । আর এখনও নিজে মোবাইল নেয়নি , তাই তুমি নাকি একটা সাইবার ক্যাফে থেকে ফোন করেছো । যাক অবশেষে এলে । আমার একটুকুও মনে নেই তোমার চেহারা । রোদ্দুর চিৎকার করে ডাকলো “মেঘ এদিকে আয় ।” অনন্যা তো ঠোঁট চেপে হেসেই যাচ্ছে , “ধারা এ কেমন নাম রে মেঘ !তবে যা-ই বলিস না কেন আহামরি না হলেও চোখ ফেরানো যায়না , তাই না রে ?” আমি বললাম থামবি তুই ? দেখ তুই-ই চেয়ে , ইচ্ছে হলে প্রেমও করে ফেল ।রোদ্দুর পরিচয় করিয়ে দিলো তোমাকে । অনন্যার তো এমনিতেই ঠোঁট পাতলা বলেই ফেললো , “আচ্ছা মেঘ আপনার সাথে কি বৃষ্টি কে নিয়ে এসেছেন ?” হাল্কা করে হাসলে তুমি , কিছুই বললে না । আড় চোখে অনেকক্ষণ চেয়ে রইলে , অনন্যা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলেই যাচ্ছিলো , “দেখ না তোকেই দেখে যাচ্ছে রে ।” তোমার পরিচয় পেলাম সদ্য ডাক্তার হয়েছো । তারপর যখন আড্ডা ভাঙ্গলো রোদ্দুর , অনন্যা আর আমি একই পাড়াতে থাকি । তো রোদ্দুর বললো তোমাকে ওর বাসায় আজকের রাত কাটাতে । রিক্সা পাওয়া গেলো এরপর আমি আর অনন্যা রিক্সায় উঠতে যাচ্ছি , রোদ্দুর বললো , “এই অনন্যা তুই এদিকে আয় তো , কিছু জরুরী কথা আছে ।” আমি কি আর জানি তুমি আর রোদ্দুর অমন প্ল্যান করেছো ? রিক্সায় উঠে অনেকক্ষণ চুপ , তুমি-ই জিজ্ঞাসা করলে , “একদিন আপনার সাথে দেখা হয়েছিলো , মনে আছে ?” কিছুতেই মনে করতে পারিনি আমি ।

মেঘ অনেক অনেকবার আমাদের দেখা হয়েছে , কথাও । অনুভব করেছি তোমার না-বলা কথা । তবুও আমার ভেতরে সেই অনুভূতি কাজ করেনি ।তবে সবচেয়ে যা ভালো লেগেছে তা হলো আজ অব্দি তোমার ঠোঁট থেকে ভালোবাসি শব্দটি উচ্চারিত হয়নি । কতোটা গভীরতা রইলে পরে এতো কাছে আসা যায় !

আজ কেন এসব বলছি ? তাও চিঠিতে ! দেখা হবেই তো বিকেলে । একদিন আমার কাছে তুমি বলেছিলে ফোন , এস.এম.এস তো অনেকই হয় , একটা চিঠি দেবে আমাকে ? তোমার জন্মদিনে অনেক কিছুই অনেকে দেবে , মনে হলো আমি তোমাকে একটা চিঠিই নয় দিলাম , অনেক অনেক উপহারের ভীড়ে । তোমার জন্যেই আজ চোখে কাজল দিয়েছি , ঠোঁটে লিপষ্টিক । আমি জানি তোমার ভ্রূ কুঁচকে উঠবে , কম কথা বলা ওই ঠোঁট একটুখানি মুচকি হাসবে । নীরবতার ওই উচ্চারণ আমাকে অনেক লজ্জ্বা দেবে , এও জানি ।

মেঘ তোমার জন্মদিনে এই প্রথম একটি কবিতা লেখার চেষ্টা করলাম , পড়ে হেসোনা যেনো আর ভেবোনা কবি হয়ে যাচ্ছি প্রেমে পড়ে ।

“আমার উঠোনে তুমি বৃষ্টি ঝরাবে
তোমার জলে ভিঁজবে আমার মাটি
সোঁদা গন্ধ ছড়াবে চারপাশে
মেঘ , বৃষ্টির এই জলে আসলে আমি তোমাকেই জড়াবো ।”

শুভ জন্মদিন মেঘ । নাইবা উঠলো সূর্য , আলো হয়ে আমি তো আছিই , আমাকে জড়িয়ে নিও , কি নেবে তো ?

তোমার ধারা

এন্টিগোনিশ , কানাডা
৫ আগষ্ট , ২০১১ ইং
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×