জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে বিচারক ছাড়াও অন্য পেশার প্রতিনিধি থেকে নিয়োগের বিধান রেখে বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল- ২০০৯ সংসদে পাস হয়েছে।
সংসদের বাজেট অধিবেশের সমাপনী দিনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী শফিক আহমেদ বিলটি উত্থাপন করেন।
গত ৭ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০০৯-এর বিষয়ে কমিটির সুপারিশ সংসদে পেশ করেন।
বিলটি পাসের আগে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সংসদে বলেন, ''অধ্যাদেশ জারির পর মানবাধিকার কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এটা পাস না হলে তা বেআইনি হয়ে যাবে। এজন্য বিলটি পাস করতে হবে।"
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করেন। ওই অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ কেবলমাত্র বিচারকদের দিয়ে পূরণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তা সংশোধন করে অন্য পেশার প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে।
বিলে বলা হয়েছে, অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষমতা ও পদ্ধতি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে কমিশনের ক্ষমতাকে সুসংহত ও সমৃদ্ধ করা হয়েছে।
একজন চেয়ারম্যান ও ৬ জন সদস্যের সমন্বয়ে মানবাধিকার কমিশন গঠিত হবে। তবে চেয়ারম্যান ও একজন সদস্য সার্বক্ষণিক এবং অন্য সদস্যরা অবৈতনিক হবেন।
বিলে বলা হয়, সংসদের স্পিকারকে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটির প্রধান মনোনীত করা হয়েছে । ৭ সদস্যের বাছাই কমিটি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের সুপারিশ করবে।
এতে আরো বলা হয়, "শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন নিজ উদ্যোগে বা কোনো দরখাস্তের ভিত্তিতে সরকারের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। প্রতিবেদন চাওয়ার পর সরকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশনের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। একই সঙ্গে কমিশনের কাছ থেকে কোনো সুপারিশ প্রাপ্ত হলে ৬ মাসের মধ্যে সরকার তার গৃহীত কার্যক্রম সর্ম্পকে লিখিতভাবে কমিশনকে অবহিত করবে।"
এছাড়া উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের পারিতোষিক সুবিধা বৃদ্ধি করে ' দ্য সুপ্রিম কোর্ট জাজেজ (রেম্যুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) বিল -২০০৯ সংসদে পাস হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।
এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বীমা ব্যবসার তত্ত্বাবধান, বীমা পলিসির গ্রাহক ও পলিসির অধীনে উপকারভোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার জন্য 'বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিল-২০০৯' এবং ' বীমা বিল- ২০০৯' সংসদে উত্থাপন করেন।
পরে তা কন্ঠভোটে তা পাস হয়।
বিস্তারিতঃ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল- ২০০৯ সংসদে পাস

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


