এতে বলা হয়, "দীপু মনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানালে তিনি তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন, আগামী বছর তিনি বাংলাদেশে আসতে চান।"
তবে এই সফরের কোনো সম্ভাব্য তারিখ তিনি উল্লেখ করেননি।
এর আগে ১৯৯৫ ও ২০০০ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন হিলারি। অবশ্য সেই সফর ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের আমন্ত্রণে।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই সাবেক ফার্স্টলেডি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে দীপু মনির সঙ্গে ৪৫ মিনিটের বৈঠকে বাংলাদেশে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন হিলারি।
জবাবে দীপু মনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুশীল সমাজের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্র"তিবদ্ধ।
বর্তমানে সুশীল সমাজ বাংলাদেশে 'অবাধ স্বাধীনতা' ভোগ করছে বলেও হিলারির কাছে উল্লেখ করেন দীপু মনি।
এ সময় গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী এ প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকারের অবস্থান জানতে চান হিলারি।
চলতি বছররের শুরুতে সরকার নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দিলে তখনও ওয়াশিংটন এ ব্যাপারে উষ্মা প্রকাশ করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের স্থিতিশীলতা, স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে চলে- তা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকেও বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর খুনিদের হস্তান্তর
হিলারির সঙ্গে বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর খুনি এ এম রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের ব্যাপারে যুক্তরষ্ট্রের সহযোগিতা চান দীপু মনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে যে ছয়জন এখনো বিদেশে পালিয়ে আছেন, তাদের মধ্যে রাশেদ একজন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়ে স¤প্রতি ওয়াশিংটনে চিঠিও পাঠিয়েছেন দীপু মনি।
বৈঠকে তিনি বলেন, গত ৩৪ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অপরাধীর সাজা ভোগ না করার যে 'সংস্কৃতি' চলেছে তার অবসান প্রয়োজন।
জবাবে হিলারি বলেন, তার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে।
বাণিজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সময় বাংলাদেশি পণ্য বিশেষত তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারকরা বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ৫০ কোটি ডলারের বেশি শুল্ক দিয়েছেন।
মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কর্পোরেশনের (এমসিসি) আওতায় বাংলাদেশের প্রতি সহায়তা বাড়ানোরও জন্য হিলারির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে হিলারি বলেন, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করবে।
সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে হিলারি বলেন, বাংলাদেশের ভূমিকা একটি মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা অব্যাহত রাখারও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


