রিপনদা’র সাথে দেখা হলো কিন্তু কথা হলো না.......
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
রিপন দা’র সাথে আমার অল্প কিছু সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। ঠিক কবে তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয় তারিখ বা সময়টা এখন আর মনে করতে পারছিনা। রিপন দা’ও যেমন একটু কম কথা বলতেন আমিও তেমনি একটু অর্ন্তমূখী। পরিচয়টা হয়েছিল বিনোদন সাংবাদিকতার সূত্র ধরেই। তারপর প্রায়ই দেখা হতো শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট-এ। মাঝে আমিও কয়েকদিন মারজুক দা’র আড্ডা খানা গাউসিয়ার সামনে গিয়েছি। রিপন দা’ সেখানেও আড্ডা দিতেন। এই সব সূত্র ধরেই রিপন দা’র সাথে আমার অল্প একটু হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল। অল্প বলছি এই কারণেই যে আমি অত বেশি আড্ডা দেই নাই রিপন দা’র সাথে যতটা দিলে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠতা হয়। তবে প্রথম পরিচয়েই রিপন দা’কে আমার পছন্দ হয়েছিল। রিপনদা’র সাথে যখন যেখানেই দেখা হতো রিপনদা’ সবসময়ই বলতেন চা হয়ে যাক এক কাপ। চায়ের সাথে আড্ডা ভালো ভাবেই জমতো। তারপর অনেক দিন রিপনদা’র সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও শাহবাগে আড্ডা দেবার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছি। তখন মাঝে মাঝে দেখা হতো ভাই বেরাদারদের কোনো শুটিং-এ। আমার মনে আছে সর্বশেষ রিপনদা’ কে দেখেছিলাম স্টার সিনেপ্লেক্স-এ কোনো এক অনুষ্ঠানে। আমি দেখেই চমকে উঠেছিলাম তার চেহেরা দেখে। কী সুঠাম দেহের অধিকারী রিপনদা’র এই হাল কেন? প্রশ্নটা করেছিলাম বন্ধুবর কাজী গোলাম রাব্বানীকে। রিপনদা’ তার স্বভাব সুলভ হাাসি দিয়ে আমাদের সাথে কথা বললেন। আমি কৌতুহল চাপিয়ে না রাখতে পেরে বলে ফেলেছিলাম আপনার স্বাস্থ্যোর এই হাল কেন? রিপন দা’ কী উত্তর দিয়েছিলেন এখন সেটাও মনে করতে পারছি না। তবে আমার মতো আমি একটা ভুল ধারণা পোষণ করেছিলাম রিপন দা সম্পর্কে। আমার ধারণাটা ছিল রিপনদা হয়তো মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। কারণ তখনো আমি জানি না রিপনদা লিভারে বড় একটা অসুখ নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। পরে যখন জানতে পেরেছি তখন আমি নিজে নিজেই লজ্জিত হয়েছি। সেই রিপনদার সাথে আর দেখা হয় নি আমার সাথে। এর মাঝে আমিও বিনোদন সাংবাদিকতা ছেড়ে মূল সাংবাদিকতায় হাতা পাকানোয় ব্যস্ত। যারফলে এখন আর কোনো শুটিং কিংবা কালচারাল অনুষ্ঠানে যাওয়া খুবই কম হয়। বলা যায় নাগরিক ব্যস্ততার কারণে রিপনদা’র অসুখ হওয়ার খবরটিও প্রায় ভুলে যেতে বসেছিলাম। তারপর এই তো দুই/তিন দিন আগে রাব্বানী রাতে ফোন দিয়ে জানাল রিপনদা’ আর আমাদের মাঝে নেই। মাথাটা একটা চক্কর দিয়ে উঠল আমার খবরটা শুনে। রিপন দা’ নেই এটা কী করে সম্ভব? রিপনদা’র মুখটা মুহুর্তেই চোখের সামনে ভেসে উঠল। একটা হাসি মুখ। হাসছে রিপন ভাই আর বলছেন কী আপনি চা খাবেন তো? সেই রিপনদা’র সাথে অনেক দিন পর আবার আজ দেখা হলো। কিন্তু কোনো কথা হলো না। রিপন দা’ বললেন না চলেন এক কাপ চা খাই। আর কোনো দিন বলবেনও না। রিপন দা’ আপনি যেখানেই থাকুন আপনার সেই চিরচেনা হাসিমুখ যেন থাকে। আপনি ভালো থাকুন এই গতানুগতিক কামনাই করি।
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।