লিমনের বিষয়ে প্রথম দিন থেকেই, যেদিন প্রথম আলোয় প্রথম প্রতিবেদনটা প্রকাশিত হলো, মনে হয়েছিল কিছু একটা হবেই। মিডিয়া চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। মিডিয়ার কল্যাণে বিষয়টি সবার দৃষ্টিগোচর হলো। মানবধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান লিমনের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন, লিমনের চোখের জলের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও চোখের জল ফেললেন। তারপর অন্যান্য সব মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলো। ভেবেছিলাম হয়তো কিছু একটা হবে। হয়তো বিনা কারণে লিমনকে অন্ধকার কুঠুরিতে মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট করতে হবে না। হয়তো লিমন এক পা নিয়েই তার মমতাময়ী মায়ের সকল দুঃখ দুর করবে। কিন্তু আমাদের এই আপাত দৃষ্টির সভ্য সমাজ তার সেই সুযোগটুকুও কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে।
লিমনের বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় লিমন যেদিন জামিন পেল, কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলাম, সরকারের পক্ষ থেকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কিছু হয়তো করা হবে, যাতে লিমন একেবারেই মুক্ত জীবনে ফিরে আসে। তা না হলেও অন্তত যেন জামিনে বেড়িয়ে আসতে পারে। তার চারপাশে যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা গরম নিঃশ্বাস ছাড়তে না পারে। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে, আপাতত সেই সম্ভাবনা আর নেই।
অসহায় লিমন কিন্তু আপনার-আমার দিকেই তাকিয়ে আছে...
এই যে, মিডিয়ায় এত ঝড়, আমদের এত প্রতিবাদ, তারপরও তার শেষ রাটা হলো কেন? এই রাষ্ট্র কি তাহলে আমাদের নয়। রাষ্ট্র কি তার নাগরিকের কান্না শুনতে পায় না। রাষ্ট্র কি এতটাই অন্ধ আর কালা হয়ে গিয়েছে। শুধু লাঠিয়াল একটি বাহিনীর সম্মান রাই কি রাষ্ট্রের কাজ। রাষ্ট্রের বিবেচনা কি নির্দয় থেকে নির্দয়তর হয়ে যাচ্ছে? হয়তো তাই, হয়তো রাষ্ট্র আমাদের মতো সাধারণ নাগরিককে গ্রামীণ ভাষায় ‘গোনায়’ ধরে না। কিন্তু একবার তো আমাদের কাছে হাত পাততেই হবে হে রাষ্ট্রের অধিপতিরা। তখন আমাদের তীব্র ঘৃণা আর থুথু ছাড়া আর কিছুই যে দেয়ার থাকবে না।
শ্রেণীর বৈষম্যে যারা মানুষকে বিবেচনা করেন, তাদের মতে লিমন আমাদের খেটে খাওয়া অজপাঁড়াগায়ের নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। ওইসব এলাকায় ভগবানরা থাকেন না। ভগবানরা থাকেন এইসব অট্টলিকায়, মধ্যবিত্তের ঘরে, উচ্চবিত্তের ড্রয়িং রুমে। তা না হলে ভগবান কেন লিমনের জন্য এমন নিষ্ঠুর নিয়তি (নিয়তি বলছি কারণ গরীবের সবকিছুই নিয়তিতে লেখা থাকে) লিখে রেখেছিলেন? কেন দোষী না হয়েও লিমনকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হলো? কেন লিমনকে এখন জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে?
জানি লিমনকে জেলে ঢুকিয়ে আমাদের এলিট বাহিনীর সম্মান রা করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে জোর করে কি সম্মান রা করা যায়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কি কিছু দেখতে পাচ্ছেন না? মাননীয় মধ্যবিত্তরা আপনারা কি এখনো ‘দেখি কি হয়’ বলে চুপটি করে বসে থাকবেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

