রুমানা ম্যাডামকে নিয়ে দুটি খবর আছে আমার হাতে। এর মধ্যে একটি ভালো অন্যটি খারাপ। খবর দুটি নির্ভরযোগী সূত্র থেকে পাওয়া এবং মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য।
খারাপ খবর দিয়েই শুরু করি। রুমানা ম্যাডামের একটি চোখ পুরো অন্ধ হয়ে গেছে। আর আরেকটি চোখ এখনো শঙ্কামুক্ত নয়। কিন্তু চেন্নাইয়ের যে হাসপাতালে রুমানা ম্যাডামকে ভর্তি করা হয়েছে সেই হাসপাতাল থেকে রবি-সোমবার তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। ডাক্তারেরা তাকে আরো উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। যেই চিকিৎসা তাদেও ওখানে নাই।
আমরা প্রার্থনা করছি, কোনো চিকিৎসা থাক আর না থাক, অলৌকিক কোনোভাবে হলেও যেন রুমানা ম্যাডামের চোখ দুটি ভালো হয়। তিনি যেন আবার চোখে দেখতে পান। এই সুন্দর পৃথিবী দেখা থেকে কেউ বঞ্চিত হবে আমি যেন ভাবতেই পারি না।
এবার ভালো খবরটাতে আসি। অনেকে এটাকে ভালো খবর হিসেবে না নিলেও আমার ধারণা, এটি আপাত দৃষ্টিতে একটি ভালো খবর। রুমানা ম্যাডামের নির্যাতনকারী নরপিশাচ স্বামী হাসান সাইদের বোধোদয় ফিরে আসতে শুরু করেছে। আজ পত্রিকায় দেখলাম তিনি ক্রসফায়ারে মরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি রুমানা ম্যাডামের বিরুদ্ধে তার চরিত্র নিয়ে যে ঘৃণ্য ও কুৎসিত অভিযোগ করেছিলেন তা থেকে সরে এসেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিহিংসা-অপরাধের দায় থেকে বাঁচতে তিনি রুমানার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।
অপরাধির অপরাধবোধ ফিরে পাওয়া অবশ্যই একটা ভালো খবর। এটাকে আমি পজেটিভ হিসেবেই নিতে চাই। তবে তার কৃতকর্মের জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিটা তাকে পেতেই হবে। এর থেকে কোনো নিস্তার যেন সে না পায়।
এইবার আমার তাদের চেহেরাগুলো মনে পড়ছে, যারা রুমানা ম্যাডামের পরকীয়ার খবর শুনে উল্লাসিত হয়েছিলেন। যারা রুমানা ম্যাডামের চরিত্রে একটি কলঙ্কের দাগ বসাতে চেয়েছিলেন। তারা এখন মুখ কোথায় লুকাবেন জানি না। আশা করি হাসান সাইদের পাশাপাশি তাদেরও বোধ কিছুটা ফিরে আসবে।
তবে এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার জন্য আন্দোলনটা আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে, যে যেভাবে পারি। আমাদের সবার ভোতা হয়ে যাওয়া অনুভূতিটাকে একটু সূচালো করতে হবে। যাতে অন্যায় দেখলে আমাদের বিবেকটা একটু হলেও নাড়া দেয়। আমরা যেন সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারি
একটা প্রসঙ্গ ভুলে গিয়েছিলাম, যতদূর জানতে পেরেছি, হাসান সাইদ গ্রেফতার হওয়ার পর যা বলেছিলেন, তার বেশিরভাগই ছিল আইনজীবীদের শেখানো বুলি। তার ঘনিষ্ট এক আত্মীয় চট্টগ্রাম জজ আদালতের সরকারী কৌঁসুলী। তার কথামতো এবং অন্য আইনজীবীদের শেখানো কথা বলে তিনি অপরাধের দায়ভার থেকে কিছুটা রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

