রুমানা ম্যাডামকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ব্লগে লেখালেখি হচ্ছে। একটি পোস্ট স্টিকিও করা হয়েছে। আমি নিজেও কয়েকটি লেখা পোস্ট করেছি। আজ আবার প্রয়োজনবোধ করছি, রুমানা ম্যাডাম ও প্রাসঙ্গিক বিষয়টি নিয়ে আরো কিছু লেখার।
ঘটনাটা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই গণমাধ্যমে ফলাও করে নিউজটি প্রচার হয়েছে, হচ্ছে। আজকের প্রায় সবকটি পত্রিকায়ও নিউজ এসেছে। কিন্তু কিছু নিউজ পড়ে রীতিমতো দ্বিধা দ্বন্দে পড়তে হয়। হাসান সাইদের কিছু অনুরাগী রয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন মন্তব্যও করেছন। তাদের যুক্তি খন্ডানোর জন্যই এই লেখা।
আজকের মানবজমিন পত্রিকায় শ্রদ্ধেয় সুপন রায় (অপরাধ বিষয়ক সিনিয়র সাংবাদিক) একটি লেখা লিখেছেন। লেখাটির শিরোনাম ‘হাসান সাইদ, আপনিও একা নন’ শিরোনামে। লেখাটি পড়লাম এবং এই লেখার সূত্র ধরেই কিছু কথা এবং যুক্তি খন্ডন না করে থাকতে পারলাম না।
হাসান সাইদের বরাতে মানবজমিন পত্রিকায় লেখা হয়েছে, ‘কম্পিউটার খোলা রেখে হেমা (রুমানা ম্যাডামের ডাকনাম) ওয়াশরুমে যায়। আমি সামনে গিয়ে দেখি, ফেসবুক খোলা। তার এক বন্ধুর সঙ্গে (নাভিদ বিন তাহের, ইরানি নাগরিক) আলাপ চলছিল। হেমা আমাকে কথা দিয়েছিল, নাভিদের কথা ভুলে যাবে। কোন ধরনের যোগাযোগ আর রাখবে না। আমি ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে ওই ছেলেটিকে বাদ দিয়ে দিই।
ওয়াশরুম থেকে ফিরে হেমা দেখে তার ফ্রেন্ডলিস্টে ওই ছেলেটি আর নেই। এটি দেখে সে ক্ষেপে যায়। আমার ওপর হামলে পড়ে। আমাদের মধ্যে অনেকক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। তারই একপর্যায়ে হেমা আমার চশমা টেনে খুলে ফেলে। আমি জানি না, তারপর কিভাবে কি হয়ে গেল?’
আমার প্রশ্ন হলো, হাসান সাইদ চশমা খোলার পর কি হলো তিনি আর বলেননি। কিভাবে কি হয়ে গেল বলে কাটাতে চাইছেন। চশমা ছাড়া যদি উনি দেখতে না পান তাহলে উনি নাক-মুখ কামড়িয়ে চোখে আঙ্গুল ঢোকালেন কিভাবে। তারপর বাসা থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সময় তিনি তো ঠিকই চশমাটা খুজে পেলেন। একই সঙ্গে পাসপোর্টটাও সঙ্গে নিয়ে নিলেন, এটা কীভাবে করলেন। সবকিছুই ঠিকঠাক করলেন কিন্তু স্ত্রীর নাককে আঙ্গুল মনে করে কামড়ালেন আর চোখে আঙ্গুল ঢুকে গেছে অথচ তিনি টের পাননি। বাহ! কি সুন্দার কথা। তার সেই কথায় সায় দিচ্ছেন তার অনুরাগীরা।
হাসান বলেছেন, ‘আপনি দুই চোখ নষ্ট হবার কথা বলছেন তো। আপনি দেখবেন, ২ মাস পর হেমা কানাডায়। চোখে সব দেখতে পাচ্ছে। আপনি আমার কথা আজ শুনলেন। সময় যাক। আপনি মিলিয়ে দেখবেন। ল্যাবএইডে হেমার এক ডাক্তার মামা আছেন। তিনি চাইলে অনেক কিছুই লিখাতে পারেন’।
জনাব হাসান, চেন্নাইয়ের নেত্রালয় হাসপাতালেও কি রুমানার মামা রয়েছে। ডাক্তাররা বলে দিয়েছেন, তাঁর এক চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। আরেক চোখ ঠিক হবে কিনা বলা যাচ্ছে না। নেত্রালয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার আরো উন্নত চিকিৎসার কথা বলেছেন। তাহলে কি আমরা ধরে নিব যে সেখানেও রুমানা ম্যাডামের কোনো মামা রয়েছে।
হাসান বলেছেন, ‘হেমার সঙ্গে এ নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়। ও আমার কাছে তার সবকিছু খুলে বলে। স্বীকার করে। আমরা সিদ্ধান্ত নিই, একসঙ্গে ‘ডরমিকম’ (ঘুমের ওষুধ) খেয়ে আÍহত্যা করবো। পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবো। আমি ১৯২টি ডরমিকম খেয়ে ফেলি। এক পর্যায়ে নিঃস্তেজ হয়ে পড়ি। ওরাই (হেমা ও তার বাবা) আমাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করে। ২৫-২৭শে মে, ২০১১ আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। তারপর ওদের বাসায় চলে যাই। ২রা জুন আমাদের মধ্যে আবার ঝগড়া হয়’।
জনাব হাসান সাইদ ও তার অনুরাগীদের বলছি, হাসান সাইদকে যদি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার উদ্দেশ্যই থাকত, তাহলে আবার কেন তারাই (রুমানা ম্যাডাম ও তার বাবা) হাসপাতালে নিয়ে যাবে। প্রকৃত তথ্য হলো, ঝগড়া হয়েছিল ঠিক, অভিমান করে হাসান সাইদ নিজেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আÍহত্যা করতে চেয়েছিলেন। এছাড়া এই প্রসঙ্গে হাসান সাইদ আগে বলেছেন, তাকে বেলের সরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল আবার বলছেন তিনি নিজেই খেয়েছেন। বোঝা যায় তিনি বাঁচতে নানা কথাই বলছেন।
সকালের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সাঈদ তার নিজের ভুল স্বীকার করেছেন।
বলেছেন, রুমানাকে তিনি ভালোবাসতেন। কিন্তু নিজের দৃষ্টিহীনতার কারণে সবসময় অস্বস্তিতে থাকতেন। ভাবতেন সবাই তাকে ছেড়ে চলে যাবে। বাবা-মা, ভাই-বোনও তার খোঁজ রাখেন না। যে কোনো সময় রুমানাও তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে। এ কারণে শ্বশুরের কাছে নিজেকে ভালো হিসেবে তুলে ধরতে স্ত্রীর ব্যাপারে বিভিন্ন ভুল তথ্য দিতেন। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে তোলা ছবি নিয়ে দেখাতেন।
ডিসি মনিরুল ইসলাম আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাঈদ দাবি করেছেন, রুমানার ওপর নির্যাতনের পর তিনি আমেরিকায় অবস্থানরত মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তারা কেউই সাঈদকে প্রশ্রয় দেননি। এমনকি সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেননি।
সাঈদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস এবং পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। তবে বিয়ের আগে তিনি প্রেমিকা রুমানা এবং তার পরিবারের কাছে বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।
অনুরাগীদের বলছি, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা গোপন রাখাটা কি প্রতারণা নয়?’
এখানে হাসান সাইদ যে অপরাধ করেছেন, সেটি দৃশ্যমান। আর রুমানা ম্যাডামের প্রতি যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অদৃশ্য। ফেসবুকে চ্যাটিং করাটাকে হাসান সাইদ ও তার অনুরাগীরা পরকীয়া হিসেবে দেখছেন। আর কোনো প্রমান কিন্তু নেই। চ্যাটিং করাটা যদি পরকীয়া হয়, তাহলে কোটি কোটি মানুষ কি ফেসবুকে পরকীয়া করেই বেড়াচ্ছেন? আমি জানি, সন্দেহ প্রবণরা (স্বামী-স্ত্রী যেই হোক তারা অনেক বেশি ভয়ংকর হয়)
ধরে নিলাম রুমানা ম্যাডাম অন্য কারো প্রতি আসক্তি হয়েছেন। তার জন্য তো হাসান সাইদ আইনি পদক্ষেপ নিতে পারতেন। ইসলাম ও আইনে সেই ব্যবস্থা রয়েছে।
অনুরাগীদের বলছি, আসলেই সবকিছু বিশ্লেষণ করেই সকল মন্তব্য করা উচিত। হাসান সাইদ একজন ঠান্ডা মাথার ধূর্ত। সে আগে যা বলেছে তার সবই এ্যাডভোকেটদের শেখানো। কিন্তু রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আর শেখানো বুলির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি।
তার নিশ্চিত শাস্তি হোক, তার অনুরাগীদের কল্যাণে।
লেখাটা অনেক বড় হয়ে গেল, যারা পড়ছেন তাদের কাছে আমি দুঃখিত।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৩:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



