somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গ সজল খালেদ এবং ইনাম আল হকঃ পর্বতারোহীরা ওপরে উঠছে আর মনটা নিচে নামছে!

০৩ রা অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোথায় শুনেছিলাম মনে নেই, অন্য কোনো দেশের একাধিক পর্বতারোহী যদি একসঙ্গে এভারেস্টে উঠতে যায়, তাহলে একজন আরেক জনকে ঠেলে উঠিয়ে দিবে। আর আমাদের দেশের একাধিক পর্বতারোহী যদি একসঙ্গে এভারেস্ট জয় করতে যায়, তাহলে কে আগে উঠবে তা নিয়ে ঝগড়া এবং একজন উঠতে চাইলে আরেকজন পা ধরে টেনে নিচে নামাবে।

কথাটা যে অক্ষরে অক্ষরে সত্য তার প্রমান পেলাম আবারো। অনেক দিন পর আজ প্রথম আলো ব্লগে একট ঢুঁ মারলাম। সেখানে ব্লগার দেবব্রত মুখোপাধ্যায় একটি পোস্ট করেছেন, শিরোনাম- ‘একটা অন্যায়ের ভয়’। লেখাটা পড়ে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হলো আমাকে। এমন মানসিকতা নিয়ে কেউ পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করার স্বপ্ন দেখে কীভাবে?

পোস্টটির সারমর্ম হলো পর্বতারোহী সজল খালেদ ও ইনাম আল হক একটা ক্যাম্পেইন শুরু করতে চাচ্ছেন। ক্যাম্পেইনটা হলো এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাংলাদেশী মুসা ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। ক্যাম্পেইন করে তারা প্রমান করতে চান মুসা এভারেস্ট জয় করেন নাই। যেটা তারা মুসার এভারেস্ট জয়ের পরপরই করেছিলেন।


দেবব্রত লিখেছেন,
`দুপুর ১টা ২২ মিনিটে সজল খালেদের ফোন এলো। তিনি প্রথমেই আমাকে বললেন, আগামী শুক্রবার আমি শাহবাগের দিকে আসতে পারবো কি না? সময় আটটা, সাড়ে আটটা।
সে সময় আমি অফিসে থাকি; শুক্রবার ছুটি নেই। তাই একটু ‘তো তো’ করতেই সজল খালেদ বললেন, আসাটা জরুরী এই জন্য যে, যে বিষয় নিয়ে আমাকে লিখতে হবে; সেটি সরাসরি আমাকে ব্রিফ করবেন ইনাম আল হক।
নামটা শুনে চমকে উঠলাম। পক্ষীবিশারদ, বিশিষ্ট প্রকৃতিপ্রেমী, অভিযানপ্রীয়; সবমিলিয়ে রোমাঞ্চকর সেই মানুষ ইনাম আল হক! আমার মতো নগন্য মানুষের সঙ্গে তিনি কি কথা বলবেন?
শুধু কথা নয়, সজল খালেদ জানালেন, ইনাম আল হক আমার লেখা তৈরি করার স্বার্থে কিছু ডকুমেন্টসও আমাকে দিয়ে দেবেন। এরপর বললেন, বিষয়টা নিয়ে তারাও লেখালিখি করতে পারতেন; কিন্তু নৈতিকতায় বাধে বলে তারা নিজেরা এসব করবেন না। এ জন্য একজন সাংবাদিক খোঁজ করছিলেন। আর এসব কথার মাঝে মাঝে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে বলে দিলেন, আমাকে সম্মানীটা মন্দ দেওয়া হবে না।
কিন্তু একটু কেমন ভয় ভয় লাগল। ব্রিফ, ডকুমেন্টস, এথিকস; এগুলো শব্দ শুনলে কেমন যেন সিক্রেট-অপারেশন জাতীয় কিছু মনে হয়। তাই সজল ভাইকে প্রশ্ন করলাম, আসলে কি নিয়ে লিখতে হবে? একটু যদি ধারণা দিতেন....
উনি একটু ইতস্তত করে বললেন, আসলে আমরা ওই ক্যাম্পেইনটা আবার শুরু করতে চাই।”
:কোন ক্যাম্পেইনটা!
:ওই যে হিমু যেটা করেছিল।
প্রথমটা মনে করতে পারলাম না। ইন্টারনেটে আমার বিচরণ বেশি নয় তো, তাই। পরে হঠাৎ মনে পড়ে গেল, সচলায়তন ব্লগে হিমু নামে একজন ব্লগার মুসা ইব্রাহিমকে নিয়ে টানা লেখালেখি করেছিলেন। লেখার প্রতিপাদ্য ছিল, মূসা এভারেস্টে ওঠেনি!
সেই লেখালিখির প্রতিবাদও হয়েছিল। প্রতিবাদটা বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা। এসব প্রতিবাদের মুখে হিমু একসময় স্বীকার করে নেন, মূসার এভারেস্টে ওঠার সত্যতা তিনি পেয়েছেন। সে ব্যাপার তো ওখানেই শেষ। তাহলে এখন আবার কী?
তার চেয়েও বড় প্রশ্ন মূসার এভারেস্টে ওঠা, না ওঠা বিষয়ক ক্যাম্পেইনের সঙ্গে সজল খালেদ বা ইনাম আল হকের সম্পর্ক কি? মূসাও পর্বত ওঠে, সজল খালেদও ওঠেন। মূসা, সজল খালেদ, মুহিত; সবার গুরুস্থানীয় ইনাম আল হক। তিনি কেন এদের কারো বিরুদ্ধে প্রচারনা করতে যাবেন?
আমি আর কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারি না। থতোমতো খেয়ে বলি,
: সজল ভাই, আমাকে ক্ষমা করে দিন। মূসাকে কাছ থেকে চিনি। ইনাম ভাইকে দূর থেকে শ্রদ্ধা করি। আমি কোনো নোংরামির মধ্যে যেতে চাই না।
সজল ভাই বুদ্ধিমান মানুষ। এক মুহুর্ত ভেবে বললেন,
: না, না। মূসার বিরুদ্ধে কিছু নয়...ঠিক আছে, আপনি রাজী না হলে তো কিছু করার নেই। তবে এই যা কথাবার্তা হল, সেটা ভুলে যান প্লিজ।’



প্রসঙ্গ (১) নৈতিকতা
সজল বলেছেন,
`বিষয়টা নিয়ে তারাও লেখালিখি করতে পারতেন; কিন্তু নৈতিকতায় বাধে বলে তারা নিজেরা এসব করবেন না। এ জন্য একজন সাংবাদিক খোঁজ করছিলেন। আর এসব কথার মাঝে মাঝে প্রত্যক্ষ, পরোক্ষভাবে বলে দিলেন, আমাকে সম্মানীটা মন্দ দেওয়া হবে না।'

হায়রে সজলের নৈতিকতা। তিনি একজন এভারেস্ট বিজয়ীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাবেন। সেটা নিজে না লিখে একজন সাংবাদিক খোঁজ করছেন। যেই সাংবাদিক তাদের হয়ে অপপ্রচারটা চালাবেন। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের মাইনে দেওয়া হবে। সজলের নৈতিকতা (!) দেখে কোনো কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেললাম।

প্রসঙ্গ (২) ঈর্ষাপরায়ণতা
ঈর্ষা মানুষের থাকতে পারে। স্বাভাবিক। একজনের সাফল্য দেখে আরেকজন ঈর্ষা করতে পারে এবং নিজেও সেই সাফল্যে পৌছানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু একজনের সাফল্যকে খাটো করে মিথ্যা প্রমাণ করার নিরন্তর চেষ্টাকে কী বলা যাবে?

সবচাইতে অবাক হওয়ার মতো ব্যাপার হলো এর সঙ্গে ইনাম আল হকের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। তিনি পাখি নিয়ে গবেষণা করেন, অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ। অনেক আগে তার বনানীর বাসায় আমি একবার গিয়েছিলাম, সেটাও মুসা ভাইয়ের সঙ্গে। ভ্রমন বিষয়ক কোনো একটি সাক্ষাৎকারের জন্য। তার কথাবার্তায় আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম, মুগ্ধ হয়েছি তার অ্যান্টার্টিকার ভ্রমণের রোমাঞ্চকর কাহিনী পড়ে। আমাদের এক ঘণিষ্ঠ বন্ধু তার সঙ্গে এখনো পাখি দেখতে ও গণণা করতে বিভিন্ন স্থানে যান। আজ এই মুহুর্ত থেকে তার প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ আমার ছিল, তা শেষ হয়ে গেল। তিনি এমনটা করতে পারেন আমি যেন ভাবতেই পারছি না।

সজলের সঙ্গেও আমার এক-আধটু পরিচয় রয়েছে। আমাকে চিনতেও পারেন আবার নাও পারেন। দু-একবার দেখা এবং আড্ডাও হয়েছে। তার স্ত্রী শৈলীও আমাদের পূর্ব পরিচিত, বন্ধু সুলভ সম্পর্ক। মুসার এভারেস্ট জয়ের পর সজলের অপপ্রচার, বিভিন্ন পত্রিকায় মেইল করে এভারেস্ট বিজয়টাকে মিথ্যা প্রমাণ করার প্রাণান্ত চেষ্টা আমাকে সেসময় ব্যথিত করেছিল। এখন মনে হচ্ছে সজল আসলেই এমন একজন মানুষ যার মানসিকতা খুবই নীচের দিকে...। পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ান ঠিকই, কিন্তু মানসিকতাটা পাহাড়ের মতো হয়নি, হয়েছে নোংরা ডাস্টবিনের মতো। ধিক... তাকে লক্ষকোটি বার...।


সজলকে বলছি, যতই চেষ্টা আপনি করুন, মুসা ইব্রাহিম যে সাফল্যের চূড়ায় উঠেছে, তাকে আপনার মতো নোংরা মানসিকতার মানুষ সাফল্যের চূড়া থেকে নামাতে পারবেন না। এতে আখেরে ক্ষতিটা আপনাদেরই হবে, আড্ডায়-পথেঘাটে আপনার পরিচিত জনরাই আপনার গায়ে থু থু ছিটাবে।

একটা অন্যায়ের ভয়... প্রথম আলো ব্লগ
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১১ রাত ১২:৪৫
১১টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×