এখন থেকে ৪০ বছর আগে পৃথিবীতে আঘাত হানা একটি উল্কার ভেতরে ভিন্ন ভিন্ন কার্বনের বেশ কয়েক লাখ অণুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা এগুলোকে অর্গানিক অণু বলে বর্ণনা করেছেন। কার্বনযুক্ত ওই অণু যে কেবল জীবনেরই ইঙ্গিত বহন করে তাই নয়, ওইসব অর্গানিক উপাদান আসলে জীবনের বিল্ডিং ব্লক। একই সঙ্গে আদি সৌরজগত্ কেমন ছিল ওই উল্কা তারও ইঙ্গিত বহন করে। কেউ কেউ মনে করেন, মারচিসন নামে পরিচিত ওই উল্কা পৃথিবীর চেয়েও বেশি বয়সী। উল্কা বিশ্লেষণের এই ফল প্রকাশিত হয়েছে প্রসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্সেস জার্নালে।
গবেষণা দলের প্রধান জার্মানির নিউহারবার্গের ইনস্টিটিউট ফর ইকোলজিক্যাল ক্যামিস্ট্রির ফিলিপ স্কমিট কোপলিন বলেছেন, উল্কাটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা সত্যি উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম। জেগে উঠেছিল চাঞ্চল্য। আমি যখন প্রথম এটি পরীক্ষা করতে গিয়ে এর জটিলতা দেখতে পাই, তখন অবাক হয়ে যাই। ওই উল্কায় লুকিয়ে আছে বহু অজানা প্রশ্নের জবাব। বিশেষ করে আমাদের সৌরজগতের জন্মের সময় আসলে কি ঘটেছিল তা হয়তো এই পরীক্ষার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসবে। যেহেতু মনে করা হচ্ছে উল্কাটির বয়স আমাদের সূর্যের চেয়েও বেশি তাই এর ভেতরে অনেক তথ্য-উপাত্তই লুকিয়ে থাকা সম্ভব।
ড. কোপলিন বলেন, উল্কাটির কেন্দ্রের কয়েক মিলিগ্রাম আমাদের গুঁড়ো করে দেখতে হবে। উল্কা আসলে এক ধরনের ফসিল। আপনি যখন একে বোঝার চেষ্টা করবেন তখন আপনাকে সময়ের পেছন দিকে তাকাতে হবে।
গবেষকরা বলেন, উল্কার ভেতরে ইতোমধ্যেই সন্ধান পাওয়া বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু এটাই নিশ্চিত করে যে, সৌরজগতের প্রাথমিক পর্যায়ে অণুর বৈচিত্রায়ন ছিল অনেক বেশি। ১৯৬৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার মারচিসন শহরে ওই উল্কাটি পড়ায় তার নাম রাখা হয় মারচিসন উল্কা। এর আগে বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট কোনো উপাদান খুঁজে বের করার জন্য উল্কাটির পরীক্ষা চালিয়েছেন। কিন্তু এবার তেমন কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। সার্বিক বিশ্লেষণই ছিল তাদের লক্ষ্য। আর এটি করতে গিয়েই ধরা পড়ে কার্বন ভিত্তিক নানা বিচিত্র উপাদান।
চলতি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা উল্কাটির স্পেকট্রোস্কোপি ও অন্যান্য উচ্চ রেজ্যুলেশনের বিশ্লেষণ উপকরণ ব্যবহার করে ১৪ হাজার ভিন্ন ধরনের উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।
বিজ্ঞানীরা মারচিসন উল্কার বয়স নির্ধারণ করেছেন ৪৬৫ কোটি বছর। অর্থাত্ আমাদের সূর্যের চেয়েও অন্তত ১৫ কোটি বছর বেশি ওই উল্কার। আমাদের সূর্য তৈরি হওয়ার আগেই জন্ম ওই উল্কার। সৌরজগত্ গঠনের সময় যে মেঘের উত্পত্তি হয় ওই উল্কাটি সম্ভবত সেই এলাকা দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। আর তখনই হয়তো তার সঙ্গে যুক্ত হয় অর্গানিক উপাদান।
ড. কোপলিন বলেন, পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব কীভাবে ঘটল তা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে দীর্ঘদিন ধরে, ওই উল্কা সেই বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারে। জানা যেতে পারে, আসলেই পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব কীভাবে ঘটেছিল।
গবেষকরা ওই উল্কাটি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি উল্কা নিয়ে গবেষণা করছেন। কিন্তু তাদের কাছে সবচেয়ে জটিল গঠনশৈলীর মনে হচ্ছে ওই মারচিসন উল্কাকে। গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। এরই পথ ধরে এক সময় জানা যাবে উল্কাটির লাখ লাখ অণুর সব কটির আচরণ।
তথ্যসূত্র : সেলিনা আক্তার
দৈনিক আমার দেশ
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




