কত বড় সাহস, আমার বড় ভাইয়ের কত বড় স্পর্ধা!! আমাকে কিনা বলে তুই ঠিকভাবে পড়ালেখা করিসনি, তাই তুই খুবই খারাপ ফলাফল করেছিস। তুই প্রথম সেমিষ্টার এ ভালো ফলাফল করলি, প্রথম স্থান অধিকার করলি, আর পরের সেমিষ্টার এ এসে তোর এতো অধঃপতন!! তুই হয়তো খারাপ করতে পারতি, কিন্তু তাই বলে তুই ফেল করবি!! মনে রাখিস, পাহাড়ের চুড়ায় উঠাটা অনেক কঠিন, কিন্তু নামাটা একেবারেই সহজ। তোর এই অধঃপতনের মূলেই রয়েছে তোর অহংবোধ এবং তোর খামখেয়ালীপনা। তুই ইদানিং মানুষের সাথেও খারাপ ব্যাবহার করা শুরু করেছিস। তুই ভালো ছাত্র হতে পারিস, তবে ভালো ছাত্র এবং ভালো মানুষ হওয়া কিন্তু সম্পূর্ন ভিন্ন!
আমার এই অর্ধশিক্ষিত ভাইটা বলে কি!! কেমনটা লাগে এখন!! সে কি এসব কথা বলার যোগ্যতা রাখে? আমি পড়ি মাস্টার্স এ, আর সেতো এইচ এস সি পাস! সে কিভাবে আমাকে জ্ঞান দেয়! ভাইকে তাই মুখ ফুটে বলেই ফেললাম, দেখ ভাই, তুই কতটুকু পড়াশুনা করেছিস তা আমার জানা আছে! আমাকে জ্ঞান দেয়ার আগে একটু ভাবিস যে আমাকে জ্ঞান দেয়ার যোগ্যতা তোর আছে কিনা!!!
এরপর ভাই আমাকে আর কিছুই বলেনি। আমি ভাইকে ঐকথা বলার পর ভাইয়ের মুখটা এখনও কল্পনা করতে পারি। বিষাদময় একটা স্পষ্ট মুখ। মনে হয়েছিলো তার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহুর্তটা সে তখন পার করছে। আমিও এরপর আর কথা বলতে পারিনি!! আমিও নির্বাক হয়েগিয়েছিলাম।
কিছুদিন পর আমি উপলব্ধি করতে পারলাম বড় ভাইকে ওভাবে কথা বলাটা ঠিক হয়নি। আজ থেকে ১৫-২০বছর আগে এতোসব সুযোগ-সুবিধা ছিলো না। আর আজ থেকে ৩০ বছর আগেতো সুযোগ-সুবিধা ছিলো আরও কম। তখন কেউ এইচ এস সি পাস করলে ত্রিশ গ্রামের মানুষ তাকে দেখতে আসতো। তখন সাত গ্রাম খুঁজলেও একটা প্রাইভেট টিউটর পাওয়া যেতো না। আর এখন তো স্কুলে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই বাংলা-ইংরেজী-গণিতের আলাদা করে শিক্ষক পাওয়া যায়।
আমার ভাইকে ওভাবে কথা বলাটা একেবারেই ঠিক হয়নি! সে আমাকে নিয়ে যাই বলুক না কেনো আমি তার যোগ্যতা নিয়ে কিছুই বলার স্পর্ধা রাখি না, কেনোনা তার সময়ের সুযোগ এবং আমার সময়ের সুযোগের মধ্যে যে আকাশ পাতাল ব্যাবধান . . . . .
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


