somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুত্তা

২৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বাড়িওয়ালার খুব সুন্দর একটা টিনএজ মেয়ে আছে! মাঝে মাঝে চোখে চোখ পড়লে এত সুন্দর করে হাসে, মনটা গলে যায়! সেদিন দেখি মেয়েটা বাড়ির আঙ্গিনায় তার অতি আদরের কুত্তাটাকে কোলে নিয়ে কটন বাট দিয়ে কুত্তাটার কান পরিস্কার করে দিচ্ছে! একেই বলে কপাল! এই এক আজব দেশ! কুত্তারে নিয়া এত গদগদানি দেখলে কার না শরীর জ্বলে!

প্রতিদিন বিকেলেই দেখি ছেলে বুড়ো অনেকেই একটা কুত্তা নিয়ে হাটতে বেড়িয়েছে! হাতে থাকে একটা ছোট পলিথিন ব্যগ আর কিছু টিস্যু! হাটতে বেড়োলেই প্রাকৃতিক পরিবেশে কুকুরগুলির বাথরুমের সময় হয়, আর অমনি কুকুরের পশ্চাৎদেশে ব্যগটি ধরে বসে পড়ে কুত্তাওয়ালিরা , তারপর অতি যত্নে টিস্যু দিয়ে মুছেও দেয়:P। বিকালে হাটতে বেড়োলে এই দৃশ্য আপনার চোখে পড়বেই!


এবার কুত্তা বিষয়ক কিছু বিড়ম্বনার কথা বলি! এক বড়ভাইয়ের বউ দেশ থেকে সবে জাপান এসেছে। তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরান কাপড়ের বাজার বসেছিল, জাপানিজরা তাদের পুরান কাপড়চোপড় ইত্যাদি অতি সস্তায় এই বাজারে বিক্রি করে দেয়। নতুন ভাবি একা একাই সেই পুরান বাজার ঘুরে অতি সস্তা পেয়ে একটা খুব সুন্দর টপস কিনে ফেলল! ভাবি একবিন্দুও জাপানীজ জানে না আর সাধারন জাপানীজরা ইংলিশ জানবে সেটাও দিবাস্বপ্ন। যাই হোক আমাদের স্লীম ভাবি স্লীম টপস কিনে নিয়ে রাতে ভাইকে খুব আগ্রহ নিয়ে দেখাল। সবই ভাল ছিল কিন্তু পড়তে গিয়ে টপস আর শরীরে সেট হয় না! পরে ভাইজান টপস নিয়ে বিশ্লেষন করে যা পেল তা হল আসলে ঐটা কুকুরের পাথর বসানো মখমলের জামা;)!

এইটা কিন্তু কুকুরের জামা, চিনে রাখুন;)!
আরেক বড়ভাইতো একবার ৭০% সেল পাইয়া এক দোকান থেকে অনেকগুলো ক্যন ফুড কিনে নিয়ে আসছিল। বলা বাহুল্য যে ওদের লোকাল ফুডে একবিন্দু ইংলিশ অক্ষর থাকে না। খুশিতে সেই বড়ভাই আবার ফোন কইরা সেল এর খবর অন্যদেরও জানাইছে! তখন আরেকজন ঐ দোকানে গিয়ে যা দেখল তাতেতো তার চক্ষু চড়কগাছB-)! ঐগুলো ছিল সব কুকুরের খাবার। যাই হোক ঐ ভাই ক্যন ফুড ফিরত দিয়ে তার টাকা ফেরত পাইছিল!!

এবার আমার জাপানীজ দৌড় বলি! সেদিন রাস্তায় বাড়িওয়ালার টিন এজ মেয়েটার সাথে দেখা হলো। ভাংগা জাপানীজে দুই চারটা কথা হলো। সে নাকি হসপিটাল যাচ্ছে। জানতে চাইলাম কি সমস্যা! মেয়েটার কথা শুনে আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেল! মেয়েটি নাকি প্রেগনেন্ট। নিয়মিত চেকআপের জন্য হসপিটালে যাচ্ছে! আহারে অবিবাহিত মেয়ে ১৬-১৭ বছর বয়স-কে করল আকামটা? জাপানীজরা শুনছি খুবি কনজারভেটিভ আর ওরাতো ৩৫-৪০ এর আগে আজকাল বিয়েই করে না।
৩/৪ মাস পর সেদিন আবার মেয়েটার সাথে রাস্তায় দেখা! চোখে মুখে মাতৃত্বের কোন ছাপ নেই, সেই আগের মত উচ্ছল উজ্ঝল! হাই হেলো করতেই হঠাৎ চোখ চলে গেল মেয়েটির কুকুরটির দিকে! পেটটা ফুলে ঢোল:-*
মুহুর্তেই সন্দেহ হলো, তারপর কথা বলে জানলাম আসলে মেয়েটা না তার কুকুরটাই প্রেগনেন্ট আর সে কুকুরটাকে নিয়মিত চেকআপ করাতে হসপিটালে নিয়ে যায়;)
হায়রে জাপানীজ ভাষা, হায়রে কুত্তাসকল/:)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৭
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×