অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ১
০৫ ই নভেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:০৯
অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ১
আমার চারিপাশে এখনও কোন বাসন্তী হাওয়ার মেলা বসেনি। একলা আকাশ চমত্কার কোন আহ্বানে সাড়া দিতে শরীরে জড়ায়নি ঘন নীলের আবরণ। রৌদ্দুর তার প্রিয়তমা জোসনার সাথে মিলিত হবে বলে আলগা করেনি এখনও উত্তাপের রেশ। সবকিছু ঠিক তেমনি আছে, যা ছিল আগে। অথচ হৃদপিন্ডের দেয়াল বেয়ে টুপটাপ ঝরে পড়ছে আনন্দ ধারা। মনের সোপান ধরে হেঁটে আসছে সেই সুর, "স্বপন পাড়ের ডাক শুনেছি..."।
আমি কখনও স্বপ্নলোকের চাবি হাতে নিয়ে দেখিনি কেমন তার আকৃতি। আমি কখনও মেঘের তনু ছুঁয়ে অনুভব করিনি কতটা ভেজা তার শরীর। সমুদ্রের অতলে ডুব দিয়ে বুঝিনি কতটা শুন্যতা ধরে রাখে সে। এই এখন, এই মুহূর্ত্তে কারও সাড়া পাবার পরেই মনে হলো, একাকীত্ব বলে কোন কথা নেই। প্রতিটি মানুষ নিজের ভিতরে ধারণ করে কোন প্রিয় মুখ। সেই মুখ যদি বিস্তর ব্যবধানেও থাকে, সেই মুখ যদি সায়াহ্নের প্রদীপ জ্বলা আলোয় দুচোখ তুলে কখনও না'ও তাকায়, যদি কোন মোহনীয় রাত্রির লজ্জা সরিয়ে না বলে, "আমি তো আছি তোমার জন্মান্তরের আত্মীয় হয়ে.."- তবুও কোন দুঃখ নেই। কেননা আমার অস্তিত্বে তার নিরন্তর চলাচল, উচ্চারণ সেখানে নিষ্প্রয়োজন।
আমার বিষন্ন পথ চলায় হুট করে নেমে আসুক ঝমঝমে বৃষ্টি- তা আমার কাম্য নয়। আমি চাইনা কোন কোমল হাতের ছোঁয়ায় উর্বর হোক আমার মানব জমিন। কখনও চাইনা অনেক পথ হেঁটে এসে কান্ত হোক আমার একান্ত আপনজন। আমি শুধু চাই তার হাজারো ব্যস্ততা থেকে একটু সময় আমাকে দিক, আমার ক্ষণিক নিঃসঙ্গতাকে সে ভরিয়ে তুলুক। প্রিয়তমা রাত্রির কোমল পরশ ঠেলে ঘুমের মাঝেও আমার দিকে ভাসিয়ে দিক তার স্বপ্নের সাম্পান। আমি চাই তার কোলাহল মুখর জীবন থেকে কিছুটা সময় বাঁচিয়ে অন্তত একটা মুহূর্ত্ত সে আমার জন্য চুপচাপ বসে থাকুক। আমি চাই তার ঝলমলে আলোর মিছিলে আমার জন্য সাজিয়ে রাখুক একটুকরো অন্ধকার। আমি সেই অন্ধকারেই বুঝে নেব- আলো না থাকলে অন্তরের আলোতেই দেখে নিতে হয়।
চলবে-
অতিথি বলেছেন:
বাঙলা তো ভালোই লাগছে, আরো আবোল-তাবোল লিখুন দেখি!
শাহানা বলেছেন:
দারুন!!
অতিথি বলেছেন:
খুব ভাল লিখেছেন অনিক...
অনিক বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাইকে। লেখাটা সার্থক হয়েছে। শ্যাজা,
এই লেখার পেছনে আপনার নীরব ভূমিকার কথা অস্বীকার করলে সত্যের অপলাপ হবে। আপনার লেখায় অনুপ্রাণিত হয়েই পোষ্ট করলাম।
অতিথি বলেছেন:
অনিক,তাহলে এভাবেই লিখুন আরও।
অনেক লিখুন।
আপনার লেখার হাত খুব ভালো। এত সুন্দর করে মনের ভাব প্রকাশ করতে সবাই পারে না।
আন্তরিক শুভকামনা রইল।
অতিথি বলেছেন:
আরেকটা গোপন কথা বলি, সুমেরু সহজে কারও লেখার প্রসংশা করেন না। আপনাকে আরও লিখতে বলেছেন দেখলাম। লিখুন।
রাগ ইমন বলেছেন:
কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্ন লোকের চাবি.........আপনি মনে হয় পেয়েছেন!!!কোমল গান্ধারে ছুঁয়ে গেল প্রান !
অতিথি বলেছেন:
এ অকালে কালপুরুষীয় গদ্য পড়লাম।
অতিথি বলেছেন:
ব্লগের সবার লেখা সবসময় পড়া হয়ে ওঠে না। আর মন্তব্য লেখাতো আরও পরের কথা। নিজের বিশ্লেষণে বুঝি, আমি নিজে আমার লেখার মাধ্যমে এ ব্লগের সবার হৃদয়ের যতোটা কাছাকাছি পৌছাতে পেরেছি, ঠিক ততোটাই দূরে সরে গেছি -কারো লেখাতেই কোন মন্তব্য লিখতে না পারার কারণে ।....পুরো ব্যাপারটাই ঘটছে আমার পর্যাপ্ত সময়ের অভাবে.......ভীষণ ইচ্ছা থাকা সত্তেও ব্লগের সব বিষয়ে শত ভাগ অংশগ্রহণ সম্ভব হয়ে উঠে না কিছুতেই.....।
তো মন্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আমার এই দূরাবস্থার মধ্যেও হঠাৎ হঠাৎ এমন দুএকটি লেখা চোখে পড়ে যে , ইচ্ছে হয় নিজের কোন জরুরী কাজ বাদ দিয়ে হলেও সেখানে একটি মন্তব্য লিখতে পারলে ভালো লাগতো।
অনিকের এই লেখাটি তেমনই একটি লেখা। লেখাটি চোখে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন কাজের ফাকেও বারবার মনে হয়েছে...লেখাটিতে একটি মন্তব্য দিতে না পারলে ভীষণ একটা অতৃপ্তি আমাকে তাড়া করে ফিরবে।...
তাই গতকাল অফিসে সারাক্ষণই ভেবেছি- তারপর অফিস শেষে রাত নয়টা পর্যন্ত যখন আগারগাওয়ের কম্পিউটার কাউন্সিল ভবনে আইসিটি-র উপর পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্ল্লোমার ক্লাশে-সি প্রোগ্রামিং-এ ব্যস্ত ছিলাম, তখনো সেখানকার কম্পিউটারের মনিটরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে ভাবছিলাম- নাহ , শেষপর্যন্ত বোধহয় অনিকের লেখাটায় আর মন্তব্য করা হলোনা।.... আমার খুব মনে পড়ে, এভাবেই একবার অমি রহমান পিয়াল এবং আরেকবার অন্যমনস্ক শরৎ-এর খুব ভালো দুটি লেখায় মন্তব্য লিখবো লিখবো করেও আর লেখা হয়ে ওঠেনি।.....
অবশ্য এটাও ঠিক, ভালো লেখা আরো অনেকেই লিখছেন, সেগুলো হয়তো পড়ার সুযোগই হয়না। সেগুলো পড়তে পারলে হয়তো আরো অনেক অনেক লেখায় মন্তব্য লিখতে না পারার অতৃপ্তি আমাকে এভাবেই তাড়া করে ফিরতো রাতদিন।....
অনিকের মন্তব্যের এ পাতায় বলা কথাগুলো আসলে আমার সার্বিক অসমর্থতার একটা খন্ড চিত্র মাত্র। আমি এ মন্তব্যের মাধ্যমে মাফ চেয়ে নিচ্ছি সেইসব দুর্দান্ত লেখকদের কাছ থেকে-যাদের লেখায় মন্তব্য লিখতে না পারলেও সেইসব লেখা নিয়ে আমার পরিতৃপ্তি ও অহঙ্কারের শেষ নেই- কেননা সেইসব লেখার জন্যই পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী ব্ল্লগাররা আজ একত্রিত হয়েছেন- সামহয়্যার-ইন-ব্লগের এক বিস্ময়কর মায়ার বন্ধনে।...
কেউ মন্তব্য লিখুক অথবা না লিখুক, ভালো লেখাকে ভালভাবে আত্মস্থ করার মতো মেধা এ ব্ল্লগের অনেকেরই যে আছে, সে বিষয়ে আমি পূর্ণ নিশ্চিত।
অনিক বলেছেন:
ধন্যবাদ সুনীল সমুদ্র। অনেক বড় মাপের মন্তব্য করে ছেন যার যোগ্য আমি নই। আপনার লেখা অত্যন্ত চমৎকার ও পরিশীলিত। আপনার লেখার নিয়মিত পাঠক আমি।আরও অনেক প্রতিভাবান লেখক এখানে আছেন যাদের লেখা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। নাম উল্লেখ করে অন্যের লেখা আর লেখককের আগ্রহকে কোণঠাসা করতে চাইনা। ভাল থাকুন।আবারও ধন্যবাদ সুবিশাল মন্তব্যের জন্য।
অতিথি বলেছেন:
সময় পাচ্ছি না বড় সাইজ এর লেখা গুলো পড়ার....অসাধারণ
লেখা পড়ে খুব ভালো লাগলো... আর সঙ্গে আপনার লেখার ভক্ত হয়ে গেলাম।
সব গুলো আস্তে আস্তে পড়ছি.. সরি
অতিথি বলেছেন:
[রং=#330099]বন্ধুত্ব মানে-মাটি আর আকাশে সুদূরপ্রান্তে সংঘবদ্ধ দাবি,
বন্ধুত্ব মানে-
সাগর-ঝর্ণা মাঝে মিলনের তলে বয়ে চলা কোন নদী।[/রং]
[লিংক=যঃঃঢ়://িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/সৎববহসড়ুনষড়ম/ঢ়ড়ংঃ/24176]বন্ধুত্ব[/লিংক]
সুরভিছায়া বলেছেন:
খুব মনে হল ( না হলে ভাল ) আমার জন্য যদি লেখা হত! প্রিয়তে থাকল ।
অনিক বলেছেন:
ধরে নিন আপনার জন্যই কেউ লিখেছে। অনুভবের কথা যখন এক সুরে বাজে তখন পরিচয়ের প্রয়োজন পড়েনা। বন্ধু হয়ে যেন কেউ ধারে কাছেই রয়েছে।

















