অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ২

০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১২:০৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

অন্তরের আলোয় দেখেছি যারে - ২

তোমাদের ব্যস্ততম নগরীর তুমুল কোলাহল. তীব্র যানজট আর ভয়াবহ কালো ধোঁয়ার দূষণের থাবা থেকে আমি এখন অনেক দূরে। সম্পূর্ণ মুক্ত আর খোলামেলা এক পরিবেশে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছি। প্রাণ ভরে উপভোগ করছি আমার প্রিয়তম প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য, অপরূপ নৈসর্গিকতা আর মিহি হাওয়ায় দোলানো এক এক চকিত লহমা। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহ শেষে বর্ষার ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে ভিজে ওঠা সবুজ প্রকৃতির অসম্ভব ভাললাগায় মনটা ভরে উঠছে। সেই নিরাভরণ শোভাটুকু দুচোখ মেলে দেখছি- এই সবকিছুর মাঝে যা কিছু সুন্দর তার সবটুকু অবগাহনে সিক্ত হয়ে লিখছি আমার মনের অব্যক্ত কিছু কথা। না লিখলে আমার মনের এলামেলো আবেগ আর অনুভূতিগুলোকে তাচ্ছিল্য করা হবে। নত করা হবে আমার এক জনমের সঞ্চিত সুকুমার চিন্তা আর চেতনার শৈল্পিক সত্ত্বাকে, নান্দনিক সুবাতাসকে।

তোমার প্রতি আমার শুভেচ্ছা বরাবরই আন্তরিকতার, বৈরিতার নয় কখনই। তোমাকে বন্ধু ভাবি সর্বদাই, শত্রু ভাববার অবকাশ পাইনি কখনও। তোমাকে লিখবার ইচ্ছেটা সেই কবে থেকেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। কিন্তু নানা ব্যস্ততার মাঝে সময় বের করে আর লেখা হয়ে ওঠেনি। মনকে প্রস্তুত করতেই এই অহেতুক বিলম্ব।

আমি এখন উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকার ছোট্ট এক গ্রামে। অজ পাড়া গা বলতে পারো। পুরোনো এক অশ্বথ গাছের নীচে। একটা শীতল পাটি বিছিয়ে আধশোয়া অবস্থায় তোমাকে লিখতে বসেছি। বিদ্যুৎ যাবার কোন আশঙ্কা নেই। কানের কাছে নেই সুতীব্র গাড়ীর হর্ণ। যানজট নেই, নেই সেই যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ত কোলাহল। মশার কোন উপদ্রপ নেই, নেই কোন মিটিং মিছিল। নেই চীৎকার, গলাবাজি আর হরতালের দাপাদাপি। একদম শান্ত ধীর-স্থির প্রকৃতি। স্নিগ্ধ সবুজে ভরা চারিদিক। উৎফুল্ল পাখীর কিচির মিচির। বাতাসে দোদুল দোলানো সুপারী গাছ। খাতার পৃষ্ঠায় গাছের পাতা আর সূর্যালোকের আলোছায়া লুকোচুরি। বিকেল গড়িয়ে পড়ে নিজেরই অজান্তে। নিভু নিভু সন্ধ্যা প্রায় আগত। লেখায় আমার মন নিবিষ্ট।

রাতের একলা বিষন্ন তারাগুলোকে আমি দুহাত বাড়িয়ে ছুঁতে চেষ্টা করি। তারাগুলো আমার সমব্যথী হয়ে যায় মুহূর্তে। আমরা একসঙ্গে দুঃখ আর কষ্টগুলো ভাগাভাগি করি সূর্য জেগে ওঠার আগ পর্যন্ত। মাঝে মাঝে এমন হয় তারাগুলো ভীষণ অভিমান করে। মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যায় কিছু না বলেই। আমি তখন আরও একলা হয়ে যাই। নিঃসঙ্গতা অনুভব করি আর নির্জনতম প্রহরের একক জাগ্রত সত্ত্বা হয়ে নীরবে অশ্রু-প্লাবন গুনি। গুনি হারিয়ে যাওয়া বসন্তের বয়স। কতই বা হবে এদের সমষ্টি। আমার বয়সের চেয়ে বেশীতো নয়! অথচ মনে হয় প্রতিটি বসন্ত যেন আমার বয়সের তুলনায় যথেষ্ট প্রবীন, অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ।

আমি কান্ত, অসহায়, পরাজিত এক স্বপ্ন-প্রেমিক। ঐ দূরের বিশাল গৃহিণী আকাশের তারা ঝিলমিল আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে আমার নির্বাসিত মন তোমার অংশীদারিত্ব চায়। দুহাতে ছুঁতে চায় লাল, নীল, বেগুনী নানা রঙের কল্প-ঘুড়ি। কখনও এমন মনে হয় হৃদয়ে যে শব্দের নৌকা জন্ম নেয় তা ভাসিয়ে দিতে ইচ্ছে হয় মানবীয় কোন চলমান নদীর স্রোতে। নোঙ্গর ফেলতে সাধ করে বিশ্বস্ত ভালবাসার কোন এক বন্দরে। তা আর হয়ে ওঠে না। কথার নৌকা পড়ে থাকে হৃদয়ের শুন্য বেলাভূমিতে। বেলা-অবেলায় কেউ ফিরে তাকায় না সেদিকে। আমি তাই কারও হতে পারিনা। কেউ আমার হয়না। কথার পিঠে সূতো বুনে শব্দের যে নকশি কাঁথা বুনেছি তা কারও জন্য পেতে দিতে পারিনা। জীবন সৈকত থেকে ছোট ছোট নুড়ি কুড়িয়ে যদি কারও হাতে দিয়ে বলা যেত, "যতনে রেখ, আমার স্বপ্ন এগুলো"। তবুও মনে হয় কোন একদিন মাঝরাতে স্বপ্ন দেখবো- কেউ এক ঝাঁক হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে হাত বাড়িয়ে ডেকে বলবে, "এই শোন, তুমি আমার বন্ধু হবে"?

 

 

  • ১৩ টি মন্তব্য
  • ৩৩৯ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:১১
comment by: ফজল বলেছেন: বাহঃ হৃদয়ে রঙ ধরিয়ে দেয় আপনার লেখা।

আরো লিখুন।
২. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:৩৬
comment by: নাজিরুল হক বলেছেন: খুব ভাল লিখেছেন অনিক।
৩. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সকাল ৭:৫৫
comment by: অতিথি বলেছেন: আগেরটার চাইতেও ভাল।
শুধু ভাল লাগল বললে সবটুকু বোঝানো যায় না। কিত্তু এই মুহুর্তে কোন শব্দ নেই , ভাবনা চিন্তারা সব থেমে আছে। তাই শুধু ভাল লাগাটুকু ই জানালাম।
৪. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৪:৪৯
comment by: অতিথি বলেছেন: আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং ''জামার্ন ভাষা শিক্ষা আসর'' এর পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি ।

আমরা ব্লগে একটি সুষ্ঠ স্বাভাবিক সংস্কৃত চর্চার উদ্যোগ নিয়েছি ।
এতে আমরা সুমন সাহেব, ফ্রুলিংক্স সাহেব, সুমন চৌধুরী সাহেব, তীরন্দাজ সাহেব এবং আরও যারা জামার্ন ভাষার সাথে অনেক আগে থেকেই যুক্ত তাদের কাছ থেকে একান্ত সাহায্য কামনা করছি ।(কারণ অনেকের নাম আমার অজানা)

আপনারা যদি আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করেন তাহলে আমরা এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞ হব । প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য [link|http://www.somewhereinblog.net/rifat/post/21193| GL
৫. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৩
comment by: অতিথি বলেছেন: ছুঁয়ে যায় প্রাণ..
৬. ০৬ ই নভেম্বর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:১০
comment by: অতিথি বলেছেন: লেখাগুলো বেশ প্রাণবন্ত.....
৭. ২৯ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩২
comment by: আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন: পুরোটা পড়ার পর মনে হলো, যেন এক লাইন পড়লাম। কারণ কোথাও থামতে হয়নি।
অনিক স্যরি, আপনার লেখা আগে চোখে পড়েনি।
৮. ২৯ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৪১
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: শিমুল,
ধন্যবাদ, হে হিতৈষী।
৯. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৭
comment by: ইরাবতী বলেছেন: ভাল লিখেছেন। শেষ প্রশ্নটা নিশ্চয়ই ভাবিকে করেছেন? তাই না? ;)
১০. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৩৯
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: হাহাহাহাহা...... সেটা শুধু আমার সেই বন্ধুই জানে। যাকে প্রশ্নটা করেছিলাম।
১১. ১৭ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:১৯
comment by: নাহরিন জফির বলেছেন: খুব ভাল লাগল...ভাল থাকবেন।
১২. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৯:০১
comment by: সুরভিছায়া বলেছেন: আগেরটা আমার বেশী ভাল লেগেছে ।ধন্যবাদ।
১৩. ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১১:৩৬
comment by: অনিক বলেছেন: কষ্ট করে পড়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকুন। ঈদ মোবারক।

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৯৩৫০