
আমার হইছে মাইগ্রেন .... তাও আবার অনেক ছোট বেলা থেকে ... আব্বু আম্মুর আবার এ সমস্যা নেই, কিন্তু আমার আর আমার আপির আছে .... আর মধ্যে আমি ছোট বলেই মনে হয় আমার সমস্যার মাত্রটা অতিরিক্ত পরিমান বেশী ....ব্যাথায় মাথা এক্কেরে আউলা হয়ে যায়, আর মাথা একবার আউলা হয়ে গেলে আকাশ - পাতাল এক হয়ে যায়, আলো সহ্য করতে পারিনা, শব্দ তো না-ই.... প্রতি সেকেন্ডে যেন ভীমের গদা দম দমা দম পড়তে থাকে মাথার উপরে .... তাও যদি এক জায়গাতে হতো তাহলে এক কথা ছিল... কখনো মাথার পিছনে তো কখনো বাম পার্শে , বাম পাশের সুর মিলিয়ে যেতে না যেতেই আবার পিছনে .... এ যেন আনপ্লাগড লাইভ মোবাইল কনসার্ট .... দুপুরে বিনা নোটিসে শুরু হয়ে ব্যাথার রিদম মাঝরাত পর্যন্ত চলতে থাকে, এর পরে পাকস্হলীর খাদ্যসমূহ ঐ সুরের তালে নাচতে নাচতে উদগীরত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাথা আর কমে না। ভোর রাতে সবাই যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তেমনি ব্যাথাও সাময়িকভাবে রেষ্ট করতে যায় আর এ সুযোগে আমিও একটু " পওজ " নিতে পারি।
অনেক দিন আগের কথা, দেশে থাকতে এক ডাক্তারের কাছে গেলে প্রথমেই তিনি আমাকে দিলেন - পেইন কিলার, .... খেলাম কিছুদিন ( এখনো খাচ্ছি, তবে এর মাঝে কমপক্ষে ২৫ - ৩০ রকমের বিভিন্ন কোম্পানীর পেইন কিলারের " কার্যকারীতার " টেষ্ট অনন্ত দীগন্ত নামক গিনিপিগকে দিয়ে করানো হয়েছে), ব্যাথা তো আগের মতোই আছে, এর সাথে এ্যাড হলো মেডিটেশন আর ব্যাথা উঠলে জোরসে হার্ড মেটালিক গান শুনা .... এটাও চললো বছর খানেক .... এতেও কাজ না হওয়াতে দিলো ঘুমের ঔষধ .... তাও খেলাম কয়েক বছর, প্রথমে ভালই চলছিল, চরম ব্যাথার আগেই ঔষধ খেয়ে ফেললে - ঘুম এসে যেত, ব্যাথার কনসার্ট কিছুটা কম অনুভুত হতো .... কিন্তু এক সময় তাও ফেল মারলো .... এর পরে এটিও পরিবর্তন করে কি এক জাতের ঔষধ দিলো, সেটা বেশ কাজ করেছে অনেকদিন .... খেলে কেমুন জানি হালকা লাগে, মাথাটা ফাকা হয়ে যায় .... ব্যাথায় বমি হয়ে গেলেও আগের মতো হলেও অতটা ভয়ংকর অবস্হা হতোনা.... সুতরাং এটা বেশ ভালই কাজ করছিল .... বেশ কয়েক বছর খাওয়ার পরে একদিন এক ফার্মাসিস্ট বন্ধু ঐ অষুধ খেতে দেখে বলে, কিরে পাগল হইছোস নাকি ? এইডা খাস ক্যান ? .... শুইনা তো আকাশ থেকে পড়লাম.... কইলাম - কি সব আজাইরা কথা কস ? .... আমি পাগল হমু ক্যান ? .... এইডা তো মাথা ব্যাথার ঔষধ.... পরে ইনগ্রেডিয়েন্টস এর বিস্তারিত এ্যানালাইসিস কইরা কইলো - দেখছোস আহাম্মক, তুই এতো বছর ধইরা পাগলের ঔষধ খাইতাসোস ( ঔষধটি মানুষের ব্রেন এর কার্যকারীতা কমিয়ে, চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ব্রেইন - হার্ড ডিস্কের সিস্টেম ফাইল করাপ্ট করে ফেলে .... ইত্যাদি .... ইত্যাদি) .... সুতরাং এটাও বাদ দিলাম ....
এর পরে যে ঔষধটি আমার কপালে জুটলো এমন জিনিসের কথা জীবনেও শুনিনি.... ডাক্তারে কইলো - আসো তোমার ব্যাথা এইবার অত্যাধুনিক উপায়ে কমায়া দিবো .... আমি কইলাম .... ও কে , করো .... বি, পি আরো কি কি হাবিজাবি টেষ্ট করায়ে আমারে কইলো, জীবনে এত ঔষধ খাইসো যে নরমাল কিছুতে কাজ হবে না, .... কাইলাম যা দেওয়ার দ্যাও, কইলো তোমার হার্ডবিট ৭৬ / মি: এইটারে কমায়া দিমু .... আমি কইলাম - তাতে সুবিধা কি হবে? .... কইলো এর ফলে তোমার মাথায় রক্তের চাপ কমে যাবে, ব্যাথার কনসার্ট " ব্যানড " হয়ে যাবে .... কইলাম দ্যাও .... ব্যাথা কমানোর জন্য আমি সবকিছু করতে রাজি .... সত্য সত্য ই ৩ সপ্তাহে সে আমার হার্ডবিট ৫০ / মি: এ নামায়া আনলো .... মাথা ব্যাথাও কমলো .... কিন্তু যে পাবলিকই শুনে এ ঔষধের কথা, সেই বলে .... তুমি আস্ত পাগল আর তোমার স্পেশালিষ্ট ডাক্তার আস্ত ছাগল .... নাইলে এমন করে কেউ কারো হার্ডবিট কমায়া দ্যায় ? এর মাস ৩ পরেই শুরু হলো সাইড এ্যাফেক্ট .... সে আমাকে এবার রেফার করলো তার গুরুর কাছে .... গতকাল গেছিলাম তার কাছে .... নয়া ঔষধ দিয়া উনি আমারে কয় .... কালকে তোমার সিটি স্ক্যান করামু .... আমি কইলাম - ক্যান ? .... কইলো এতদিন বাইচা আছো ক্যামনে এইডা দেখুম .... তোমার তো একদিনে ব্রেনের কিছু কিছু যায়গাতে ব্লকড হয়ে যাওয়ার কথা .... আমি কই - লে হালুয়া , আরেক কাহিনী শুরু হবে এইবার
যাই হোক .... ব্লগটি লিখতে লিখতে আমার হাসপাতাল যাওয়ার টাইম হয়ে গেল .... গিনিপিগ অনন্ত দীগন্ত কিছুক্ষনের মধ্যে রওনা হবে নতুন অভিজ্ঞতা আহরনে .... আপনাদের কাছে এই অধম দোয়াপ্রার্থী .... নিজের জন্য বাচার কোন ইচ্ছা, আকুতি বা এজাতীয় কিছুই আমার নাই, শুধু বাঁচতে চাই বাবা মায়ের কনিষ্ট সন্তান এবং একমাত্র ছেলে বলে .... তাদের ছোট - বড় কোন কষ্টই আমি কোনোভাবেই সহ্য করতে পারি না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০০৯ দুপুর ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


