somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

B-) বৌ এর সাথে আম্মু আমাকে পরিচয় করায়ে দিলো ... এবং :|

০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ৯:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





আলো ঝলমলে কমিউনিটি সেন্টারে লোক জনের আনাগোনা শুরু হয়েছে অনেক আগেই। ভিতরে লোকজনের ভিড় থেকে দুরে যাওয়ার লক্ষ্যেই একটু বাইরে পা রেখেছিলাম, অমনি আংকেল ডাক দিলো -- অনন্ত, এই দিকে আসো তো ... উনার কাছে যেতেই বললেন -- তুমি এইখানে কি করো ... এখানে যারা গেস্ট আসছে ওদেরকে তোমরাই তো রিসিভ করবে , ভিতরে নিয়ে যাবে , তারা ঠিক মতো খাচ্ছে কি না তদারকি করবে ... আমি বললাম -- আংকেল, ভিতরে তো অনেক মানুষ, এ জন্য একটু বাইরে বাতাস খেতে বের হয়েছিলাম, এক্ষুনি যাচ্ছি ভিতরে ... গেটের দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভাইয়া টা ঘেমে একাকার অবস্হা ...

আসলে বিয়ে টা ছিল আমার আব্বুর বন্ধুর ছেলের , ওদের সাথে তেমন একটা যোগাযোগ না থাকার কারনে বলতে গেলে কাউকেই চিনতাম না ... বৌ ভাতের আগের কোন অনুষ্ঠানেও আমার তাই যাওয়া হয়নি ... এমন কি বৌ কে ও তখনো আমি দেখিনি ... তবে আমাদের "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর" গ্রুপের কথা তাদের জানা থাকায় বৌ ভাতে আমাদের সবাইকে বিশেষ ভাবে দাওয়াত করেছিলেন, অবশ্য তার পিছনে অন্য একটা কারন ও ছিল ... সে না হয় অন্য দিন বলবো ...

যাই হোক, ভাইয়াটার কাছে গিয়ে বললাম -- ভাইয়া আপনার তো চরম খারাপ অবস্হা , এক কাজ করেন ভিতরে গিয়ে একটু রেষ্ট নেন আমরা গেস্ট দেরকে রিসিভ করছি ... তখনো একে একে অনেক গেস্ট আসছে আর আমরা তাদেরকে ওয়েলকাম জানিয়ে ভিতরে পাঠাচ্ছি ... এর মাঝে একজন বেশ রাশভারী লোক তার ফ্যুল ফ্যামিলি নিয়ে এসেছেন, উনাদেরকে রিসিভ করে ভিতরে পাঠাচ্ছি এমন সময় উনার এক মেয়ে আরেকটা কে বলে উঠলো রিসিভ করার কথা টিপু ভাই এর, এইটা আবার কে ? কথাটা শুনে পাশে দাড়ানো আমার এক দোস্ত ফিসফিসায়ে উত্তর দিলো -- টিপু ভাই তো "গন" কেস, এর আগে পিছে কেউ নাই একে হবু বর বলতে পারেন ... তাইতো একে দিয়ে প্র্যাকটিস করানো হচ্ছে ... ফিসফিসায়ে বললেও কথাটা ওদের কানে চলে গেছে -- আংকেলটা ঘুরে গিয়ে চশমার ফাঁক দিয়ে আমার দিকে তাকাতেই এমন একটা নিষ্পাপ হাসি উপহার দিলাম যে উনি আর কিছু না বলেই ভিতরে চলে গেলেন। এভাবেই কেটে গেল আরো কিছুক্ষন সময় ... একসময় দেখি টিপু ভাই বাইরে এসে আমাকে এই চরম ঝামেলার কাজ থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে বললেন -- সবাই খেতে বসেছে তোমরাও খেতে যাও ...

আমরা সব বন্ধু একসাথে খেতে বসবো এমন সময় একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলো -- অনন্ত বৌভাত খেতে এসেছিস, কিন্তু তুই কি বৌ দেখেছিস ? ... আমি ও বলি -- আরে তাই তো, বৌ না দেখেই বৌভাত খাই ক্যামনে ... যেই চিন্তা সেই কাজ ... ৪ - ৫ জনের আমাদের গ্রুপ চলে গেলাম বৌ দেখতে ... স্টেজটা ছিল একটা আলাদা কামরায় ... ওখানে যেতেই সামনে পড়লো আম্মু ...আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন -- তোমরা খেয়েছ ? ... বললাম -- উহু , বৌ না দেখে খাবনা আমরা, এ এখন জন্য বৌ দেখতে এসেছি তো , আগে বৌ এর সাথে পরিচয় হই, এর পরে খাব ... আম্মু বললেন -- স্টেজের দিকে অনেক ভীড়, একটু অপেক্ষা করো ...
আমি বললাম -- টিপু ভাই এর বৌ যতক্ষন না দেখতে পাই ততক্ষন নিজের টা তো দেখি কি বলেন ? B-)
আম্মু বলেন -- কি ? X(
আমার সাথে দোস্ত বলে -- আন্টি , টিপু ভাই এর বৌ তো স্টেজে বসা, আমাদের গুলো কৈ দেখি না যে ... সব তো বুড়ি দেখা যায় :P

এই শুনে আম্মু বলে -- বান্দর গুলোকে এইখানে ঢুকতে দিসে কে ? ভাগ তোরা এখান থেকে ... একটু আগেও নাকি তোমরা বৌ এর বড় মামাদের সাথে বান্দরামী করসো শুনেছি X(
আমরা বলি -- আমরা কখন আবার কি করলাম, কে যে কি শুনাইসে আপনাদের কে জানে :| ...

এমন সময় জড়োয়া গহনা পরে একজন তার সেই মামতো বোনদের নিয়ে আমাদের কাছে এসে আম্মুকে বললো -- আন্টি , এইটাই অনন্ত ?

আম্মু হেসে দিয়ে আমাকে বলে --- দেখে নাও ভালো করে , এইটা তোমাদের টিপু ভাবী .... এর পরে বৌ এর দিকে তাকায়ে বললো --- আর এইটাই হলো আমার সেই বান্দর ....

:(( :(( :((




সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুন, ২০০৯ রাত ৯:১৮
৫৯টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলে গেছো তাতে কি? নতুন একটা পেয়েছি, তোমার চেয়ে করে বেশী চাঁন্দাবাজিইইই....

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৭

আমি কবিতা লিখি না কখনও। চেষ্টাও করি না। আমি মূলত কবিতা অপছন্দ করি। কিন্তু....



আমি যখন ক্লাস ৪/৫ এ পড়ি, তখন স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগীতার সময় নিজের লেখা গল্প-কবিতা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×