somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

**** ঘাসফড়িং যখন ধরা দেয় স্বপ্নের রাজকন্যা হয়ে ****

২০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক দেশে ছিল এক রাজকমার, সেখানের সবার কাছেই সে ভীষন প্রিয় ছিল, জনপ্রিয়তার দিক থেকে সে রাজ্যে তার সমকক্ষ আর কেউ ছিল না, এমনকি স্বয়ং রাজামশাইও না .... এ জন্য তাকে আপামর জনগন নিজেদের চেয়েও বেশী ভালবাসতো ... রাজপুত্র হলেও সে যেন ছিল মুকুট বিহীন সম্রাট ... তার কথায় সবাই যেমন যে কোন কাজ করতে রাজি হতো, সেও রাজ্যের প্রতিটি মানুষের সব সময়ের সুখ দুঃখের সাথী হয়েই থাকতো ... এ কারনেই হয়ত অনেক সুন্দরীর মনেই তাকে নিজের করে পাবার অদম্য সুপ্ত ইচ্ছাগুলো কখনো কখনো নগ্নভাবে সকলের সম্মুখেই প্রকাশিত হয়ে পড়তো ... অথচ মুচকি হেসে রাজকুমার তাদের সবাইকে শুনাতো সান্তনার বানী, কিন্তু কখনো কাউকে জড়ায়নি নিজের সাথে .... কোন একদিন তার এক বন্ধুর দাওয়াতে রাজকুমার গেল অন্য একটি রাজ্যে, আগন্তুকের বেশে ... সেখানে যেতেই দেখতে পেল সে এক অপূর্ব দৃশ্য ... এ যেন তার নিজের দেশেরই প্রতিচ্ছবি ... এ দেশের জনমানব, সংখ্যার দিক থেকে অনেক কম হলেও এরা কোনভাবেই তাদের থেকে কম বন্ধুবৎসল নয় ... অপরিচিত অতিথিকে কিভাবে বরন করে নিতে হয় তা ওরা সবাই খুবই ভাল জানে ... পথ চলতে চলতে প্রথম দিনেই দেখা হয়ে গেল তিড়িং বিড়িং করে উড়ে চলা এক ঘাস ফড়িং এর সাথে ... মুগ্ধ নয়নে সে বেশ খানিক্ষন তাকিয়ে রইলো তার পানে ... এর পরে কাছে আসতেই সে এমন ভাব করলো যেন রাজকুমার তার কতদিনের পরিচিত ... স্বল্প পথের অল্প আড্ডায় দুজন যেন মিশে গেল একে অপরের ভিতরে , জেনে নিলো বন্ধুত্বের নতুন সংগা, হারিয়ে গেল অন্য এক স্বপ্নের জগতে ...

এর পর সন্ধ্যা এলো, বাড়ী ফেরার সময় ঘনিয়ে আসতেই ঘাসফড়িং তার মন পাগল করা খিলখিল হাসিতে রাজকুমারের মনের গভীরে দাগ ফেলে দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল ফুল বাগানের ভিতর অজানা কোন গন্তব্যে ...অতঃপর, একসময় রাজকুমার ফিরে চলে তার নিজের রাজ্যে অথচ মনটা পড়ে থাকে সেই প্রান খোলা হাসির ঘাস ফড়িং এর কাছে ... অল্প সময়ের ব্যাবধানে রাজকুমার আবার ফিরে আসে সেই রাজ্যে ঘাসফড়িং এর সন্ধানে ... রাত দিন, এদিক সেদিক, ঘুরে ফিরে অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করেও সে পায়না তার ঘাস ফড়িং এর দেখা... পথ চলতে চলতে অনেকের সাথে পরিচয় হয়ে যায়, তবুও অতৃপ্ত মনে পায়না একফোটা শান্তি ... এমনি, পথ চলতে চলতে একদিন সে দেশের রাজামশাই জানতে পারলেন তার আসল পরিচয়, ডেকে নিয়ে গেলেন তার নিজের খাস দরবারে, আপ্যায়িত করলেন সর্বোচ্চ সন্মানের সাথে ... কথা প্রসঙ্গে তিনি জানতে চাইলেন তার রাজ্যের কোন কোন জিনিস রাজকুমারকে আকৃষ্ট করেছে ? একে একে সেগুলোর কথা বলতে বলতে একসময় তার মনে হলো আসল জিনিসটার কথাই তো রাজামশাইকে বলা হয়নি .... এর পরে একরকম আকষ্মিকভাবেই ও বলে বসলো ঘাসফড়িং এর কথা ... ঘাস ফড়িং এর বর্ননা আর চণ্চলতার কথা শুনে মুহুর্তেই রাজামশাই বুঝে গেলেন রাজকুমার কার কথা বলছে ... সব কথা শুনে রাজামশাই ফিস ফিস করে রাজকুমারকে বললেন তার রাজ্যের এক গোপন কথা ... মুহুর্তের মধ্যে রাজকুমারের মন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো তার মুখের প্রতিটি অনু পরমানু ...

এরপর কেটে গেল আরো কিছু দিন, খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ একদিন রাজকুমারের সামনে হাজির হলো স্বপ্নের ঘাসফড়িং, তবে আজ শিল্পীর বেশে ... নিবিড় মনের নরম হাতের কোমল পরশে একে চলেছে নিজের মনের কথাগুলো ... অল্প অল্প করে ... ছবিটা শেষ হতেই রাজকুমার বলে উঠলো - স্বর্গ থেকে পাওয়া তোমার এ প্রতিভা দিয়ে তুমি কি এঁকেছ তা কি তুমি জান ?
অবাক করা বড় বড় চোখে ঘাস ফড়িং জিজ্ঞেস করলো -- কি ?
রাজ কুমার উত্তর দিলো -- আমার স্বপ্ন ... তুমি তো স্বপ্নের জাদুকর... হবে কি আমার স্বপ্নকুমারী ?
মুগ্ধ নয়নে রাজকুমারী তাকিয়ে থাকে ওর দিকে, মনের মাঝে যেন রংধনূর সাত রং খেলা করে চলেছে ...কন্ঠের জাদুকর রাজকুমারের কথার আবেশে যেন অবশ হয়ে আসে ওর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ... হাত বাড়িয়ে আহ্বান জানায় ওকে শক্ত করে ধরে রাখার প্রত্যয়ে ... ওর কোমল হাতে রাজকুমারের স্পর্শে যেন সন্চারিত হলো নতুন প্রানশক্তি ... খিলখিল করে হেসে উঠে রাজকুমারের হাত ধরেই নতুন জীবনের প্রানস্পন্দনে নেচে চললো ওর চারিদিক ... ঘুরে ঘুরে, উড়ে উড়ে ... একাত্ব হয়ে মিশে গেল শুধু ওর শরীরের সাথে নয়, বরং আত্মার সাথে .....

সন্ধ্যা : গল্পটা কেমন যেন পরিচিত পরিচিত মনে হচ্ছে ?
তুহিন : তুমিই বলো, কোথায় শুনেছ এটা ?
সন্ধ্যা : কি জানি , তবে এমন একটা ঘটনা আমার জানা আছে খুব ভাল করে, রূপকথা কি কখনো সত্য হয় নাকি ?
তুহিন : হু হয়, যদি তা হয় বাস্তবে ...
সন্ধ্যা : বাস্তবে ? আচ্ছা ঐ ঘাসফড়িং টা কে ছিল ...
তুহিন : হু, বাস্তবে ... আর ঘাস ফড়িংটা ছিলো ঐ দেশের সবার প্রানপ্রিয় রাজকুমারী
সন্ধ্যা : সত্যি করে বলতো এটা কিসের গল্প
তুহিন : এটা এমন দুজনের সত্যিকারের গল্প যাদেরকে আমরা দুজন সবচেয়ে ভালভাবে চিনি ...
এরপর ....দুষ্টুমি মাখা খিল খিল হাসির বন্যা ছড়িয়ে তুহিনের ঘাসফড়িং ওর হাত ধরে নেচে চললো রংধনুর সাত রং হয়ে .....ঘুরে ঘুরে, উড়ে উড়ে....


সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ২:১৭
৩৪টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×