somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

*||*~**বড় বিলাই আপির বিবাহবার্ষিকী *//*~*||*

২২ শে জুলাই, ২০০৯ দুপুর ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




গাছের ছায়ায় বুনোফুলের মালা পরে বড় বিলাই বসিয়া বসিয়া ভাবিতেছে ... বড়ই অদ্ভুত এই ফুলের ছোট্ট মালাটি ... যেন অদৃশ্য কোন শক্তির আধার এই ছোট্ট জিনিসটা, যার বদৌলতে আজ সে টারজানের কাছে বন্দী ... দৃশ্যত চলমান এবং স্বাধীন দেখালেও এই একটুকরো জিনিসের কল্যানে আজ সে অন্যরকম ভালবাসার অটুট বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে ...

টারজান আর তার বড়ই পছন্দের খেলা ছিল জংলী লতায় বানানো ফাঁস দিয়ে খরগোশ ধরা ... গাছের লতা-পাতা দিয়ে টারজান অনেক সুন্দর করে সে সব বানিয়ে ফেলে রেখে দিত জায়গামত... চটুল চপল খরগোসের দলের কেউ এর পাশে আসলেই মুহুর্তের ভিতর ধরা পড়ে যেত ... শুরুতে টারজানের এই করিৎকর্মা কাজ দেখেই বড় বিলাই তার কাছে গিয়ে আসকাইয়াছিলো -- ওহে মানব সন্তান, ইহা কি বানাইয়াছ তুমি, বড়ই মচৎকার ভাবে খরগোস ক্যাচৎকার করিতেছ দেখিতেছি ... আমাকে ও কি একটু শিখিয়ে দিবে, কিভাবে ওটা বানিয়ে খরগোশ শিকার করতে হয় ?

প্রথম দেখাতেই বড় বিলাই এর রুপে মুগ্ধ টারজান প্রথম দিনেই তাকে বুনো লতার ফাঁস বানানো শিখিয়েছিল, তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়াতে সেদিন আর ওটার প্রয়োগ সম্ভব হয়নি ... তার বাধ্য হয়ে বড় বিলাই পরের দিন আবার গেল টারজানের কাছে খরগোশ শিকার করা শিখতে , ওদিকে দ্বিতীয় দিনে বড় বিলাইকে আসিতে দেখিয়া আবারো টারজানের মন আকু পাকু করিতে লাগিলো ... অনেক চিন্তা করিয়াও বুঝিতে পারিতেছিল না ইহা কি হইতেছে তাহার সাথে ... তাইতো সেদিন তার বানানো ফাঁসের ভিতর নিজের গলা ঢুকিয়ে যখন দেখাতে গিয়েছিল কিভাবে খরগোস এর ভিতরে বাধা পড়ে, তখন সে ফাস তার গলায় আটকে গেলে বড় বিলাই তাকে সে যাত্রায় উদ্ধার করে ... তাহার এহেন উপকারে কৃতজ্ঞ টারজান নিজেও বুঝিতে পারে নাই বড় বিলাই তাহাকে ঐ লতা পাতার ফাঁস থেকে উদ্ধার করেছে ঠিকই তবে বাধিয়া ফেলিয়াছে অন্য এক মায়ার বাধনে ... ওদিকে তাকে শিকার শিখানোর প্রয়াসে নিজের জীবনকে বিপদে ফেলিবার মত পরোপকারী মনোভাবের কারনে বড় বিলাই ও যে কোন সময় টারজানের মায়ার জালে বাধা পড়েছে, সে নিজেও জানে না ... অতঃপর দিনের পর দিন চলিতে লাগিলো তাহাদের যুগপৎ শিকার অভিযান ...

একদিন হঠাৎ টারজান লতাপাতার বদলে বুনোফুলের ছোট্ট ফাঁস বানিয়ে আনিয়াছিল ... বড় বিলাই তাহা দেখিয়ে যারপরনাই উৎসাহের সহিত উহাকে দেখিতে চাহিলে টারজান বলিয়াছিল, ইহা তোমাকে পরানোর জন্যই বানাইয়াছি, মূহুর্তের মধ্যে চমকে উঠে বড় বিলাই দু-কদম পিছে চলিয়া গিয়াছিল ... মনে মনে ভাবিতেছিল, টারজানের মাথা খারাপ হইয়া যায় নাই তো ? ... এতদিন জংলীলতার ফাঁস দিয়া খরগোশ শিকার করিতে করিতে আজ সে বুনোফুলের ফাঁস দিয়া আমাকে শিকার করিবে ... ইহা কি করিয়া সম্ভব ? কিন্চিৎ অনুনয় বিনয় করিয়া সেদিনের মত নিষ্কৃতি পাওয়ার চেষ্টা করিলেও টারজানের মায়াভরা চোখের দৃষ্টি যেন কিউপিডের তীর হইয়া তাহার বুকে বিধিলো ... অদ্ভুত এক ভাললাগার আচ্ছন বড় বিলাই সেদিন নিজের জীবনের পরোয়া না করিয়া টারজানের হাতে নিজের গলায় সেই বুনোফুলের ফাঁস পরিয়া নিয়েছিল, অতঃপর টারজান তাহাকে বুঝাইতে লাগিলো, ইহা কোন সাধারন ফাঁস নয়, ইহাকে লোকসমাজে বলা হয় মালা ... এর পরে টারজানের কাছ থেকে এই মালার মাহাত্য বুঝিতে বুঝিতে কখন যে হলদে বর্নের বড় বিলাই লজ্জার আবীরে নিজেকে রাঙ্গীয়ে গোলাপী রং ধারন করিয়াছিল তাহা আজও অজানাই রয়ে গিয়েছে ....


ঝিরিঝিরি বাতাস যেন একটু কাপিয়ে দিয়ে বড় বিলাই কে টারজানের আগমনের সুসংবাদ দিয়ে গেল .... সেই সাথে সে লক্ষ্য করলো, পাঁচ বছর আগের ঘটনাগুলো চিন্তা করতে করতে আজও সে ঐরকম গোলাপী রং ধারনে করিয়াছে .... একটু পরেই সে শুনিতে পাইলো টারজানের সেই মন হরনকারী ডাক ---- আআআআআআ....



(এরপরে কি আজকের এই দিনে ঘটিয়াছিল তাহা বড় বিলাই আপি নিজেই বলিবে)





অনেক অনেক শুভকামনা বড় বিলাই আপি, আর টারজান ভাইয়ার জন্য .... অনেক অনেক ভাল থেক তোমরা .... সবসময় !!!


অনুপ্রেরনায়: বড় বিলাই আপির লেখা - পাঁচ বছর আগে এই দিনে


৪৭টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×