somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

:Pঅতঃপর প্রমানিত হইলো - ইহার নাম কুত্তা দৌড়ানীB-)

১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ছোট বেলার বেশীরভাগ আনন্দের স্মৃতিই আমার নানা বাড়ির, কারন শীতকালে কয়েক দিনের জন্য সব মামারা, খালামনি আর আমরা নানাবাড়ী বেড়াতে যেতাম... শহুরে শৃংখলাবদ্ধ জীবন থেকে ২ - ৩ দিনের মুক্তি সেই সাথে যা খুশী, যখন খুশী কর এর একটা অলিখিত লাইসেন্স পাওয়া যেত ... তাই সারা বছরের আনন্দ যেন সেই সময়গুলোতেই পেতাম ... তেমনই এক শীতের সকালে .......

আমি আর আমার খালাত ভাই দুজনে ভোর বেলা উঠে খেজুরের রস খাবো বলে বড় মামির আশে পাশে ঘুর ঘুর করছি কিন্তু তখনো পেড়ে আনা হয়নি বলে খেতে পারছিলাম না ... নানা বাড়ীর এক কাজের লোক কেবল বাইরে থেকে এসেছে সে জানালো ... গ্রামে আজকাল মাছ চুরি হচ্ছিলো তাই উনারা কাউকে কিছু না জানিয়ে কয়েকজন মিলে রাতে পাহারা দিতো, কাল রাতে এক পুকুরে মাছ ধরার শব্দ পেয়ে ছুটে গিয়ে চোরদের নাকি কুত্তা দৌড়ানী দিয়ে এসেছে ... আমরা দুই খালাত ভাই এই কথা শুনে একজন আরেকজনের দিকে তাকাই ... এর পরে নিজেদের কে জিজ্ঞেস করি -- কুত্তা দৌড়ানী জিনিস টা কেমন ? ... কিন্তু কোন সহজ উত্তর না পেয়ে বড় মামীকে জিজ্ঞেস করলাম ... মামী ও যে কি উত্তর দিলেন, তার আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না , এর পরে অমল দা (ঐ কাজের লোক) কে জিজ্ঞেস করার পরে উনি যে কি বুঝালো তা বুঝতে না পেরে খালি এট্টুক বুঝলাম --- কুকুর যেমন দৌড়ায় তার নাম কুত্তা দৌড়ানী, তবে এমনি এমনি দৌড়ালে হবে না ঝেড়ে দৌড় না দিলে তাকে সঠিক কুত্তা দৌড়ানী বলা চলে না ..... এইবার আমরা তো পড়ে গেলাম মহা চিন্তায়, কুকুরের ঝেড়ে দৌড় দেয়া না দেখতে পেলে আমাদের তো কোনোদিন জানা হবে না এইটা কেমন দৌড় ... সুতরাং একটা উপায় তো বের করা ই লাগে ....

সারাদিন চিন্তার পরে সন্ধ্যাবেলা স্কুলের মাঠের পাশে দোকানে বসে চকলেট খাচ্ছিলাম আর ফুটবল খেলা দেখছিলাম, আর পাশে নানাবাড়ীর ভুলু ঘুর ঘুর করছিলো... ওকেও ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিস্কুট খেতে দিচ্ছিলাম ... হঠাৎ আমার কাজিন বলে , অন্তু ভুলুর লেজ কখনো সোজা হবে না তাই না ? ... আমি বললাম -- মনে হয় না ... এর পরে দুজনে কিছুক্ষন ভুলুর লেজ ধরে টেনে টুনে সোজা করার চেষ্টা করলাম, কাজ হলো না ... তবে ওটা করতে করতে দুজনের মাথায় আরেকটা প্ল্যান চলে আসলো ... এর পরে নতুন কিছু আবিষ্কারের অদম্য ইচ্ছায় হাস্যজ্জল মুখে ভুলুকে নিয়ে নানাবাড়ী ফিরলাম দুজন ... রান্নাঘরে গিয়ে দেখি বড় মামী রান্না করছে, আমরা জিজ্ঞেস করলাম ভাতের ফ্যান আছে নাকি মামী, ভুলুর ক্ষিদে পেয়েছে মনে হয় ... মামী বললেন - কেবল নামিয়েছি, এখনো অনেক গরম ... এর পরে ভুলুর খাবারের পাত্রে ওটা আর ভুলুকে নিয়ে আমরা দুভাই চলে এলাম বাগানের দিকে ... কিছুক্ষন পরে সেখানে গিয়ে আমি ভুলুর পিঠে চড়ে ওর ঘাড় ধরে ভাতের ফ্যানের মধ্যে ওর মুখ দেওয়াচ্ছি আর পিছনে আমার কাজিন সুতা দিয়ে ওর লেজে কেবল কিনে আনা দুটো তারাবাজি বাধছে ... আর বেচারা ভুলু মনে আনন্দে ভাতের ফ্যান খেয়ে চলেছে ... একটু পরে, কাজিনের কাজ শেষ হলে পরে আমকে বললো -- কাজ শেষ, এইবার ? ...
আমি বললাম -- শুরু হয়ে যাক তাইলে এক্সপেরিমেন্ট ?
ও বললো -- কাউন্ট করো ...
এর পরে দুজনে একসাথে ওয়ান, টু, থ্রী ... তারাবাজিতে আগুন লাগানোর সাথে সাথে চমকে উঠে ভুলু একবার খালি পিছন ফিরে দেখে উর্ধ্বশ্বাসে তীর বেগে নাক বরাবর দৌড় দিল ... অতঃপর আমরা দু কাজিন একসাথে বিজয়ী হাসি দিয়ে কাধ ঝাকিয়ে বললাম -- এর নাম তাইলে কুত্তা দৌড়ানী B-)



সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:০৫
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×