somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

*~* অনন্তের ২০০তম পোষ্ট: আমার পাক্কা গিন্নী দেড়ফুটি কোকড়াচুলওয়ালী *~*

০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




রোদে ঝলমল সাত সকালে চোখ খুলতেই বাইরে দেখি তুষারপাত হচ্ছে ... জ্বরের কারনে সারা রাত ঘুম না হওয়ায় ক্লান্তির রেশ থাকলেও দৃশ্যটা দেখতে দেখতে মনটা আনন্দে ভরে যাচ্ছিলো ... তুলতুলে বরফগুলোকে কেন যেন বড় আদর লাগছিলো ... আর মনে হচ্ছিল এমন সময় যদি সুস্হ থাকতাম তবে দেড়ফুটি কোকড়াচুলওয়ালীকে নিয়ে আজকে একটা মস্ত বড় স্নোম্যান বানাতে চলে যেতাম ... কথাগুলো মনে মনে বলতে না বলতেই যেন ... না চাইতেই বৃষ্টি নামলো ... ডিং ডং শব্দে দরজা খুলতেই দেখি পুরা প্যাকেট হয়ে ঘরের সামনে দাড়িয়ে আছে আমার জানের টুকরা কোকড়াচুলওয়ালী আর ওর আম্মু .... আমার হাতে বেশ বড় একটা হটপট বক্স ধরিয়ে দিয়ে বললো - নাও তোমার রাজকন্যার আজকে ছুট্টি তাই সে নাকি তোমার সাথে সারাদিন থাকবে , খেলবে ... তোমাদের জন্য ভুনা খিচুড়ি রান্না করে দিয়ে অফিসে গেলাম... বিকেলে এসে যদি দেখি বক্স শেষ হয়নি তবে কিন্তু তোমাদের দুইটার ই খবর আছে ...

লক্ষী বাচ্চার মত আমরা দুজন ওকে বিদায় দিয়ে দরজা বন্ধ করতেই দু জন একবার দুজনের দিকে আরেকবার হটপটের দিকে তাকাই ... এর পরে হঠাৎ খিক খিক করে হেসে উঠে কোকড়াচুলওয়ালী বলে -- আম্মু মনে হয় আমাদেরকে রাক্কস মনে করসে .... ওর কথা শুনে ... হাসতে হাসতে গড়াগড়ি যাকে বলে আমরা দুজনেই আক্ষরিক অর্থে সেটাই শুরু করে দিলাম ,কিছুক্ষন পর দুজনেই একটু শান্ত হয়ে আলোচনা শুরু করলাম ... প্রথম কথা যতটা খিচুড়ী এখানে আছে আমরা দুজনে সকাল ~ দুপুর ~ বিকাল তো দুরের কথা, দু দিনেও শেষ করতে পারবো না, সুতরাং নতুন কোন বুদ্ধি বের করা লাগবে ... অনেক ভেবে চিন্তে বের করা হলো , বাসায় একটা পার্টি করি আরো এক দু জনকে আসতে বলি এর পরে একসাথে সবাই মিলে খেলে খিচুড়িও শেষ হবে আর একটা ছোটখাট পিকনিক ও হয়ে যাবে ... যে ভাবা সেই কাজ... ফোন করে আরিফ আর মাসুদকে আসতে বলতেই একজন বললো কাজে যাচ্ছে আরেকজন বললো আসছি ...

ঘন্টাখানিকের মধ্যে আরিফ এসে পড়তেই আমাদের রান্না বান্না পর্ব শুরু হলো ... জ্বরের মাঝে রান্না করতে ইচ্ছে করে না আর আরিফ ও রান্নাঘরে কখনো ঢুকেনি, সুতরাং একটা নরমাল ডিম ভুনা করে খিচুড়ীর সাথে খাওয়ার প্ল্যান করে দিলাম চুলায় পানি চড়িয়ে .... একটু পরে ফ্রিজ থেকে গোটা দশেক ডিমের একটা প্যাকেট বের করে ওটা খুলতেই আরিফ বলে -- ডিমের ভুনা কিভাবে করতে হবে ?

আমি বললাম -- আগে এটাকে পানিতে দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে
আরিফ - এর পরে ?
কোকড়াচুলওয়ালী -- এপ্পর নান্না বানাতে হবে ....
আরিফ - কি ?
আমি -- ওটাকে রান্না করতে হবে.... দেখ তুমি জানো না কি করতে হবে আর আমার জানের টুকরাটা জানে ...
এই শুনে আরিফ বিজ্ঞের মত বললো -- যে কোন জিনিসের স্বাদ লবনের উপর নির্ভর করে, ডিম সিদ্ধেরও নিশ্চয়ই এমনটাই হবে কি বলো ? পানির মধ্যে লবন দেই ?
কোকড়াচুলী আমাকে খোঁচা মেরে বলে -- আংকেল পানিতে লবন দেবে...
আমি আরিফকে বলি -- ঠিক বলসো, এই নেও লবন .....

বিষ্ফোরিত চোখে আমি আর কোকড়াচুলওয়ালী দেখলাম আরিফ সত্যি সত্যি বেশ কয়েক চামচ লবন পানিতে দিয়ে ফেললো ... এর পর জিজ্ঞেস করে -- এখন কি করতে হবে ?
আমি পুসকিকে জিজ্ঞেস করি -- তুমি বলো , এখন কি করা লাগবে ?
কোকড়াচুলওয়ালী বলে -- ওকানে ডিম দেও ..
ওর বলা শেষ হতে না হতেই আরিফ বলে উঠলো -- ডিম কি আস্ত দিবো নাকি খোশা ছিলে দিতে হবে ? .....

জলদি জলদি কোকড়াচুলওয়ালী ডিমের প্যাকেট টা থেকে একটা ডিম নিয়ে আরিফের হাতে দিয়ে বলে -- আংকেল, আমরা আগে এইগুলো আস্ত দেই আপনি পরে ভেঙ্গে দিয়েন ......


:P :P :P
৪৫টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×