somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ::: আমার অভিজ্ঞতা > দ্বিতীয় পত্র

০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ::: আমার অভিজ্ঞতা > প্রথম পত্র


স্টেডিয়ামে গণস্বাক্ষর নেয়ার সময় এক যুবক আমাদের প্রতি একটি ব্যাঙ্গাক্তক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল। তার মতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিৎ নয়!! তার মতে একাত্তরে সব রাজাকারদের “সাধারণ ক্ষমা” করার পর কীসের আবার বিচার..সব ফালতু কাজ। আমি হাতের কাজটা শেষ করতেই তাকে উল্টো প্রশ্ন করি, “আপনি সাধারণ ক্ষমার সম্পর্কে কি জানেন?” সাথে আমার বন্ধু মাহমুদ তাকে আরো প্রশ্ন করতে থাকে, যুক্তির বিচারে। সে কোন প্রশ্ন উত্তর দিতে পারলো না। তার বন্ধুরাও লজ্জায় পড়ে স্বাক্ষর করলো, কিন্তু সে করলো না। উঠে অন্য জায়গায় বসলো।

সেদিন অনেক মাদ্রাসার ছাত্ররা এসেছিল খেলা দেখতে, তারাও স্বাক্ষর করলো একাধারে। অনেকেই রাজাকারদের গালাগাল দিতে থাকে। সাথে চলছে বাংলাদেশের বেটিং। সেকী উত্তেজনা সবার মাঝে।



[ স্বাক্ষর করছে একজন মাদ্রাসার সিনিয়র ছাত্র ]

সবাই স্বাক্ষর করছে। তবে সবচেয়ে খারাপ লেগেছে, যখন বাংলাদেশ অপ্রত্যাশিত ভাবে শ্রীলংকার কাছে হেরে গেল!! খেলা শেষে নিচে নামতেই অমিত একটি ছোট্ট মেয়েকে দেখিয়ে দিল আমাকে। দেখলাম, বাংলাদেশ হারাতে যেন সব মন খারাপ আজ তার উপর ভর করেছে। আমি তার একটি ছবি তুললাম। অমিত মেয়েটিরকে অনেক চেষ্টা করে হাসালো। আমি বললাম, আজ আমরা হেরেছি, কাল আবার জিতবো।



[ মন খারাপ করা মেয়েটি]

পরের খেলায় আবার আমি মার্শাল ও অমিত গেলাম খেলা দেখতে। মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পরলো হঠাৎ। তাই আসতে পারলো না। আবার শুরু হলো গণস্বাক্ষর। এবার আগের দিনের চেয়ে আরো বেশি উদ্দীপনা সবার মাঝে। বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের খেলা। প্রচুর লোক সমাগোম হলো।

এবার শেষের দিন গেলাম আবার খেলা দেখতে। আমি সাকি, মার্শাল ও অমিত। তবে, দুঃখ জনক কথা হলো এবার অহেতুক কারণে নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের গ্যালারিতে ঢুকতে দিতে চাইলো না। বললো, উপরের হুকুম আছে। তবুও আমি আমার প্রেস আইডি কার্ড দেখালাম কিন্তু তারা আমাকে, মার্শাল ও সাকিকে ঢুকতে দিলেও অমিতকে ঢুকতে দিচ্ছিল না কোনমতেই। আমি পরে নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে তর্কাতর্কি করে তাকে ভেতরে ঢুকালাম। কিন্তু সেদিন আমরা তেমন কোন স্বাক্ষর গ্রহণ করতে পারলাম না।

এরপর আমি ও মার্শাল ২০ জানুয়ারি “বৃত্ত” নামক একটি সামাজিক সংগঠন এর সাথে গেলাম বাণিজ্য মেলায়। সেখানে দুস্থদের জন্য অর্থ সাহায্য গ্রহণ ও গণস্বাক্ষর নেয়ার কাজ করা শুরু হলো। তবে, স্বাক্ষর নেয়াটা বেশ কঠিন ছিল, কারণ সবাই ব্যস্ত ভেতরে ঢোকা নিয়ে। তাছাড়া কোন টেবিল ছিলনা। হাতের উপর রেখে স্বাক্ষর দিচ্ছিল সবাই। তেব অনেক ছাত্র-ছাত্রী পেলাম সেদিন।



[ হাতে রেখে স্বাক্ষর দান ]



[ বৃত্ত ]

দুঃখজনক কথা হলো, এক সংবাদকর্মী স্বাক্ষর দিতে অপরাগ জানালো এবং এই গণস্বাক্ষর-কে হেয় করে কথা বললো। কিন্তু আমি নিজেও যেহেতু “প্রেস” এর সাথে জড়িত তাই তিনি তা জানা মাত্রই সটকে পরেন। এছাড়া মার্শালকে এক বৃদ্ধলোক “অশ্লীন” ভাষায় গালি দেন, কেন আমরা বিচার চাচ্ছি। তবে, সবার মধ্যে দু-একটি “কীট” থাকে তা আমরা জানি।

এছাড়া, আমি আমার অফিসে (সিমফনি ম্যাগাজিন) একটি প্যাড রাখি, অফিসে যেই আসে, সে একটি করে স্বাক্ষর করে যায়। আর ক’দিন পরেই ছিল “অমর একুশে বই মেলা”। আমি আইরিন আপুর একটি স্টিকি করা পোষ্টে মন্তব্য করি যে, “বই মেলায় একটি জায়গা করে দিলে আমার গণস্বাক্ষর নিতে পারি।“ এরপর ব্লগার কৌশিক দা তাঁর পরিচিত একজনকে বলিয়ে “সংহতি প্রকাশন” এর সামনে আমাদের বসার ব্যবস্থা করে দিলেন। আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করি ৬ ফেব্রুয়ারি বিকালে আমি আর মাহমুদ মিলে।







[ সংহতি প্রকাশন ]



[ আজ এই পর্যন্ত। তৃতীয় পত্র আগামীতে প্রকাশ করা হবে ]
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ২:১৬
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×