somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খোলা যায়গায় মলত্যাগ

১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খোলা যায়গায় মলত্যাগ, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের একটি বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা। এটা নিয়ে ভারতকে দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই বিব্রতকর অবস্থায় থাকতে হয়। আমাদের বাংলাদেশের সমাজে এই সমস্যা অনেক আগে থেকেই অনুপস্থিত! অর্থাৎ সমাজ এই সমস্যা থেকে বের হয়ে এসেছে, কিন্তু রাষ্ট্র কি বের হতে পেরেছে? উত্তর; না, পারেনি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে প্রত্যান্ত অঞ্চলের একেবারেই নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোও এখন মলত্যাগের ক্ষেত্রে শৌচাগার ব্যবহার করে। অথচ রাষ্ট্র নিসংকোচে এখনো সারাদেশব্যাপী দিন-রাত চব্বিশ ঘন্টা খোলা যায়গায় মলত্যাগ করে যাচ্ছে!

ভাবছেন কিভাবে?
আমি এখন ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখী সিল্কসিটি ট্রেনে আছি, যে ট্রেনটি দেশসেরা ট্রেনগুলোর একটি। ট্রেনের যাত্রী হিসেবে সবচেয়ে দরিদ্র সমাজের প্রতিনিধিও যেমন আছে তেমনি আছে সবচেয়ে ধনী পরিবারের সদস্যও। সামাজিক ব্যবস্থায় এদের প্রত্যেকেই সংরক্ষিত শৌচাগার ব্যবহার করলেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ট্রেনের খোলা শৌচাগার ব্যবহার করে/করছে। আমাদের ট্রেনের গঠন অনুযায়ী মলত্যাগের সাথে সাথেই তা পড়ছে রেললাইনে, যা কখনো মেঠোপথে কখনো আবার ক্রসিংয়ের কারণে রাজপথে। ফলে নোংরা হচ্ছে পরিবেশ।

দুই ধারে গাছ কিংবা ফসলের মাঠ থাকায় আমাদের রেললাইনগুলোকে অনেক সুন্দর দেখায়, ফলে রেলপথ ধরে হাঁটতেও ইচ্ছে হয়! কিন্তু শুধুমাত্র এই একটি কারণেই সেই পথ ধরতে আপনার রুচিতে বাধবে।

শুধু পরিবেশ-ই নয়, পাশাপাশি এর ফলে জং ধরে নষ্ট হচ্ছে রেলের স্লিপারগুলোও। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলেই চলন্ত ট্রেনে ত্যাগ করা মলগুলো সংরক্ষণ করে যাত্রা শেষে ট্রেনের ওয়ার্কশপের সময় তা খালি করার ব্যবস্থা করতে পারে!

রেলক্রসিংয়ের ধারে চা এর দোকানে বসে চা খেতে খেতে এক বড় ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল এই বিষয়টা নিয়ে। তিনি বললেন; তাদের একটা প্রশিক্ষণ কর্মশালাতে রেলের উর্ধ্বতন এক কর্তাকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন যে, আমাদের ট্রেনগুলোতে এখনো এই নোংরা পদ্ধতি চালু আছে কেন?
সেই কর্তার উত্তর ছিল; আমাদের ট্রেনগুলো ভারত থেকে আনা হয়, আর ভারতের ট্রেনের ধরণ এমনই। তাই পরে আর কিছু করা হয়ে উঠেনা!

শুনে আমি হাফ ছেড়ে বললাম, ভাগ্যিস আমরা বিমানগুলো ভারত থেকে কিনি না!
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাবতে পারি না

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৪


আমি ভাবতে পারি না মধ্য রাতের চাঁদ
আমি ভাবতে পারি না স্নিগ্ধ ভোরের স্নান
মধ্য দুপুরের সূর্য তাপ, সন্ধ্যার ক্লান্তি মুখ!
আমাকে ডেকে নিয়ে যায় ঘাসফড়িং কিংবা
জোনাকির ঘরপোড়া দল- শান্তির সংগ্রামে
দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পতাকার যুদ্ধ অথবা গামছা ও কালিমা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

একটি দেশের পতাকা শুধু কাপড় নয়। এটা একটি চুক্তি—আমরা কে, এই প্রশ্নের সম্মিলিত উত্তর। বাংলাদেশের পতাকার রং লাল-সবুজ। লাল মানে রক্ত, সবুজ মানে মাটি। এই দুটি রঙের পেছনে একটি নির্দিষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের আন্দোলনরত HSC শিক্ষার্থীদের ধিক জানাই

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:২০



দেশের কমপক্ষে ৬ টি জেলায় উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও স্থগিতের জন্যে আন্দোলনে নেমেছে। এরা হল লীগ সরকরারের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেড়ে ওঠা তরুন তরুনী, যারা পড়ালেখা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×