** জাতীয় অধ্যাপক জনাব কবির চৌধুরী, কবি শামসুর রহমান কর্তৃক সম্পাদিত দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় পাকিস্তানের সংহতি রক্ষায় ১৭ মে, ১৯৭১ বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের দালাল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টাতেই বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আরো উল্লেখ্য কবির চৌধুরীর পুরো পরিবার মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল। তাঁর বড় ভাই কাইয়্যুম চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্নেল ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা রাখেননি অথবা নীরবও থাকেন নি বরং সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি আজীবন পাকিস্তানে থেকে গেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে কোনদিন আসেন নি। কবির চৌধুরীর অপর ভাই মুনির চৌধুরী যিনি একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী। তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য জনাব কাদের সিদ্দীকির ভাষায় ‘১৪ ডিসেম্বর মরে গেলে তাদের আমরা শহীদি দরজা দিয়েছি। যদি কোনোক্রমে তারা আর দু’দিন বাঁচত তাহলে তাদের দালাল বলতাম’। তিনি আরো বলেছেন, ‘পাকিস্তানের পক্ষে ১৯৭১ সালে ঢাকার ৩১ জন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দিয়েছিল। তাতে একনম্বরে স্বাক্ষর করেছিল মুনির চৌধুরী। মুনির চৌধুরী পুরো যুদ্ধের সময় একদিনের জন্যও নিজের কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ করেনি। এমনকি নভেম্বর মাসের বেতনও তিনি তুলছিলেন’।
জনাব কবির চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করেও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবীদার আওয়ামী সরকার কর্তৃক জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন! এখন তিনি সরকারের উচ্চতম চিন্তাশীল বুদ্ধিজীবী, শিক্ষা উপদেষ্টা এবং সেই তিনিই আবার ঘাতক দাদাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা!
**২. পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার কথা বলে মহান মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় দালাল আখ্যায়িত করে ১৯৭১ সালের ১৭ মে দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় ৫৫জন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দিয়েছিলো সেই ৫৫ জনের ১জন অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। সেই দীর্ঘ বিবৃতির অংশ বিশেষ তুলে ধরা হলোঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্ররা লেখাপড়া বা খেলাধূলায় ব্যস্ত ছিলো না। তা ছিলো বাংলাদেশ মুক্তি ফৌজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তালো মেশিনগান, মর্টার ইত্যাকার সমরাস্ত্রের গোপন ঘাঁটি। ...................আওয়ামী লীগ চরমপন্থীরা এ সহজ সরল আইন সঙ্গত দাবীকে একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার দাবীতে রূপান্তরিত করায় আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমরা কখনও এটা চাইনি ফলে যা ঘটেছে তাতে আমরা হতাশ ও দু:খিত হয়েছি। (দৈনিক পাকিস্তান: ১৭ মে, ১৯৭১)
**কবীর চৌধুরীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হচ্ছে না বলে পরিবার সূত্র জানায়। সাধারণত দেশের বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মরদেহ রাখা হয়।
শহীদ মিনার বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার প্রতিক। কিন্তু কবির চৌধুরী কি কারণে তার মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে মানা করেছেন? তার মানে তিনি আসলে স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন না তা প্রমাণ করলেন? এর মাধ্যমে কি তিনি মরার পরও স্বাধীনতার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করলেন? জীবিত থাকা অবস্থায় যেমন তিনি স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলেন মরেও কি তা করলেন?
আর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কবির চৌধুরীর মৃত্যুর খবর প্রকাশের সাথে ইন্নালিল্লাহ লিখা হচ্ছে। কবির চৌধুরীর মতো নাস্তিকের নামের পাশে এ শব্দ গুচ্ছ কতটুকু মানান সই?
আরেকটি বিষয়. মৃত্যুর পরপর তিনি কি করেছেন কি ছিলেন বর্ণনা সাল সহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। তাতে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি ছিলেন তাও লিখা হচ্ছে। কিন্তু কোন সালে ছিলেন তা দেয়া হচ্ছে না কারণ সেই যুদ্ধাপরাধী কবির চৌধুরী বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে চাকুরি করেছিলেন ১৯৭১ সালে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


