বাড়ী ঢোকার মুখে সেফালীকে দেখতে পেল শাওন। সেফালীর পরনে একটা নীল শাড়ী। রোজকার মতো সে সাজগোজ করেনি। এমনকি পাটের তৈরী ব্যাগটাও কাঁধে নেই। গত এক বছর এই সময় তাকে সাজগোজ ছাড়া দেখা যায় না।
সেফালী চাকরী করে। তার ডিউটি রাতে। পাড়ায় এনিয়ে কানা-ঘুষা চলে। কিন্তু ওই পর্যন্ত। প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলে না।
সেফালী দেখতে সুন্দর। আজ তাকে বেশী সুন্দর লাগছে। নাইকাদের মতো সুন্দর। সেফালী শাওনের থেকে তিন বছরের বড়। শাওনদের বাড়ী থেকে তিন বাড়ী পরে ওদের বাড়ী। শেফালীর বাবা আবদুর রশীদ। হাঁপানির রুগী। সে কোন কাজ করতে পারে না। মেয়ে আয় করে সে বসে বসে খায়। মেয়ে কি ভাবে সংসার চালায় সে বিষয়ে তার কোন মাথা ব্যাথা নেই। হাঁপানি নিয়ে সে সারা বছর পেরেশান থাকে। আবদুর রশীদ গাছ'গাছড়ায় বিশ্বাসী। সে নিজে ওষধ তৈরী করে খায়। শাওনের সাথে তার যখনি দেখা হয় তখনি সালাম দেয়। একদিন আবদুর রশীদ তাকে সাতবার সালাম দিয়েছিল। শাওনের বেশ মজা লাগে।
ইদানিং আবদুর রশীদ শাওনকে সালাম দেয় না। দেখলে মাথা নিচু করে পাশ কেটে চলে যায়।
একদিন ঝোপের আড়ালে লোকটাকে উকিঝুঁকি মারতে দেখে কৌতুহল মেটাতে এগিয়ে যায় শাওন। দেখে, পুকুরে একটি মেয়ে গোসল করছে। আবদুর রশীদ মেয়েটাকে চোখ দিয়ে লেহন করছে। নগ্ন লালসা তার চোখে। শাওন এগিয়ে গিয়ে রশীদের মুখোমুখী হয়। ভীষন চমকে যায় লোকটা।
শাওন বল্ল, দারুন ফিগার না! আবদুর রশীদ মাথা নিচু করে গাছ-গাছড়া খোজায় মন দিল। শাওন বল্ল, খচ্চর। রশীদ কোন শব্দ করল না। শাওন আবার বল্ল, বুড়ো খচ্চর। লোকটা কিছুই বল্ল না। যেন শুনতেই পায়নি। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল। সেই থেকে আবদুর রশীদ তাকে আর সালাম দেয় না। মাথা নিচু করে পাশ কেটে চলে যায়।
চলবে......
মে মাসের স্বদেশ বিদেশ দেখতে এখানে ক্লিক করুন....
http://www.bangla.it/shodesbidesh/default.asp

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

