তিন বছর আগে শাওন বিএ পাশ করেছে। পরিবারের সদস্যদের অনেক আশা ছিল সে সংসারের হাল ধরবে। প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও সেই সোনার হরিনের সন্ধান সে পায়নি। বাবা কেরানীর চাকরী করত। রিটার্ড করার পর যা পেয়েছিল বড় দুই বোনের বিয়ে দিতে তার সব শেষ। বাবার পেনশন ও শাওনের প্রাইভেট পড়ানোর টাকায় সংসার চলে। অভাব অনাটন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঝুমু পালিয়েছে। কিন্তু শাওন কি করবে? কোথায় যাবে সে?
আজ ইন্টারভিউ ভাল হয়েছিল। মৌখিক পরীক্ষার সবকটা উত্তর সে ঠিক ঠিক দিয়েছে। ভাইবা, বোর্ড থেকে তাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হলো। বোর্ডের সদস্যদের মুখের দিকে তাকিয়ে আশা জেগে উঠেছিল বুকে। রাত আটটায় আবার ডাক পড়ল। ভিতরে ঢুকেই শাওন বুঝল বাতাস ঘুরে গেছে। একজন বল্ল দুঃখিত ইয়াং ম্যান। আমরা নিরুপায়, আমাদের হাত পা বাঁধা। এক সচিবের আত্মীয়কে চাকরী দিতে হবে। কথাটা শুনে শাওনের মন খারাপ লাগছে না। প্রায় একই রকম ঘটনা আগেও ঘটেছে।
ভাইবা বোর্ডের সদস্যরা করুন চোখে তার দিকে তাকাল। তারা একটা কান্নার প্লাবন ঠেকানোর জন্য অপেক্ষা করছে। শাওন হেসে ফেল্ল। তারা বেশ অবাক! শাওন বল্ল ভেড়ার বাচ্চারা। একজন বল্ল কি বললেন? শাওন বল্ল ভুল হয়েছে, কথাটা হবে কুত্তার বাচ্চারা।
বোর্ডের সদস্যদের মুখের ছিরি দেখার ইচ্ছা দমন করে শাওন বেরিয়ে এলো। বিছানায় শুয়ে এসব কথা ভাবতে ভাবতেই সে ঘুমিয়ে পড়ল।
ঘুমের মধ্যে শাওন স্বপ্ন দেখল সে দুইটা বোমা বানিয়েছে। পাওয়ারফুল বোমা। বোমা দুটি নিয়ে সে সচিব ও মন্ত্রিদের ডেরা উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ তাকে তাড়া করছে। সে দৌড়াচ্ছে। তার আপসোস হচ্ছে আর একটা বোমা না আনার জন্য।
মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখে রোদ পড়ছে। তার মানে বেশ বেলা হয়েছে। উঠে পড়ল শাওন। মা কান্না কান্না সুরে বল্ল, তোর বাবা এখন ভাল আছে। শাওন কিছু বল্লনা, শুধু মুখ দিয়ে শব্দ করল- হু।
-কাল তুই একবার গেলিনা, তোর বাবা তোর কথা বলছিল।
- আমি গিয়ে কি করব, আমি কি ডাক্তার?
- কি বলিস, এভাবে কথা বলা ঠিক না।
- কি ভাবে বলা ঠিক?
কি ভাবে বলা ঠিক সে প্রসঙ্গে গেল না তাহমিনা বেগম। বল্ল, অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সব সেফালী দিয়েছে। পরে শোধ করতে হবে। এখন দুইটা ইনজেকশন কেনা দরকার। তিনশ টাকা দাম। টাকাটা যোগাড় করতে পারবি?
- না।
- তাহলে কি হবে?
- জানি না।
ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আর কথা বাড়াল না তাহমিনা বেগম। প্রসঙ্গ পরিবর্তন করল। তুই একটু হাসপাতালে যা।
শাওন কিছু বল্লনা, উঠে দাড়াল। মায়ের এই ন্যাকা ন্যাকা কথা তার ভাল লাগেনা। বিরক্ত লাগে। তাহমিনা বেগম হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। মায়ের কান্নাকে নাটুকে কান্না মনে হয় শাওনের কাছে।
তাহমিনা বেগম বল্ল, ঝুমুরটা পালিয়ে গেল বাবা!
- ভাল করেছে, এরকম একটা বেটার চান্স পেলে আমিও পালাতাম।
- তোর বোন চলে গেল, তোর কষ্ট হচ্ছে না?
- না, আনন্দ হচ্ছে।
- তুই কি?
- আমি একটা জানোয়ার।
চলবে........
মে মাসের স্বদেশ বিদেশ দেখতে এখানে ক্লিক করুন....
http://www.bangla.it/shodesbidesh/default.asp

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

