হাসপাতালে বাবাকে দেখতে যাওয়ার পথে সেফালীকে দেখতে পেল শাওন। সেফালী কিক্সায় যাচ্ছে। শাওনের পাশে রিক্সা থামল। শাওন কিক্সায় উঠে পড়ল। রিক্সা চলছে হাসপাতালের দিকে। সেফালীর পাশে বসে অদ্ভুত মাদকতা ছড়িয়ে পড়ল শাওনের মধ্যে। শাওন সেফালীর শরীরের সাথে আঠার মতো লেগে রইল। আড় চোখে সেফালীর প্রতিকৃয়া বোঝার চেষ্টা করল। কিছু বোঝা গেল না। সেফালীও কিছু বল্ল না। একটা ফাঁকা জায়গা দেখে রিক্সা দাড় করাল শাওন। সেফালী কিছু বল্ল না। রিক্সা থেকে নামল। শাওন বল্ল, তুই হাসপাতালে যাচ্ছিলি?
- হ্যাঁ।
- তোর সম্পর্কে ওদের ধারণা কি জানিস?
- কাদের?
- যাদের জন্য তুই এতো সব করছিস।
- জানার দরকার নেই।
- দরকার আছে।
- না, নেই।
- তুই এদের জন্য এতো কিছু করছিস, অথচ জানবিনা তোকে এরা কেমন চোখে দেখে!
সেফালী নিশ্চুপ। সে বিরক্ত হলো। সেফালী বিরক্ত হলে তার ভুরু দুটো কুঁচকে যায়। বাম চোখের নিচে লাফাতে থাকে। নাকের ডগায় ঘাম জমে। শাওনের ইচ্ছা হলো ওর ঘামে ঠোট ছোঁয়াতে। কিন্তু সে তা করল না। নিজের ইচ্ছাটাকে দমন করল। শাওন বল্ল মজার কথাটা শোন, মা একদিন ঝুমুকে বলেছিল তুই খারাপ মেয়ে। তোর সাথে ও যেন না মেশে। অথচ ঝুমুর জন্য আজ বাবা হাসপাতালে। আর তোর জন্য বাবা বেঁচে উঠল। বেশ মজা না!
সেফালী কিছু বল্ল না। শাওন বল্ল, তোর খারাপ লাগছে?
- না, সত্যি কথায় খারাপ লাগা ঠিক না।
এখন শাওনের খারাপ লাগছে। বুঝল কথাটা বলা ঠিক হয়নি। সেফালি বল্ল, গতকাল তোকে একটা মেয়ে খুজতে এসেছিল। তোদের বাড়ীতে গিয়েছিল দু'বার। কোন সমস্যা?
- হ্যাঁ।
- তুই কি মেয়েটার সাথে প্রেম করিস?
- প্রেম! বিষয়টা আমি ঠিক বুঝতে পারি না।
- তোকে খুঁজছে কেন?
- মেয়েটার পেটে বাচ্চা।
- ওর কি বিয়ে হয়েছে?
- না।
- কার বাচ্ছা? তোর?
- হ্যাঁ।
- এখন কি করবি?
- জানিনা।
- মেয়েটাকে বিয়ে করে ফেল।
শাওন সেফালীর দিকে তাকাল। আমি তোকে ভালবাসি। কথাটা শুনে প্রচন্ড জোরে হেসে ফেল্ল সেফালী। হাসতে হাসতে তার শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে। চোখে পানি এসে গেল। সে যেন গোপাল ভাড়ের গল্প শুনেছে। অনেক কষ্টে হাসি থামিয়ে বল্ল, তুই আমার থেকে তিন বছরের ছোট জানিস?
- জানি।
- তাহলে!
- তাহলে কি?
সেফালীর হাত ধরল শাওন। বল্ল, আমি সিরিয়াস।
চলেব.....
মে মাসের স্বদেশ বিদেশ দেখতে এখানে ক্লিক করুন....
http://www.bangla.it/shodesbidesh/default.asp

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

