somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সদ্য সংবাদ আরেকটি দুর্নীতি মামলায় এরশাদ খালাস

১৫ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইলেকট্রনিক নিউজ গ্যাদারিং (ইএনজি) যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার খালাস পেয়েছেন সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

এর আগে তিনটি দুর্নীতি মামলায় এরশাদকে খালাস দেয় আদালত। তবে তার বিরুদ্ধে এখনও কমপক্ষে তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আরও দুটি মামলা রয়েছে তদন্তের পর্যায়ে।

এরশাদ আশা প্রকাশ করেছেন, বাকি মামলাগুলোতেও তিনি খালাস পাবেন।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার ইএনজি মামলার রায় দেন। বিচারক মামলা দুর্বল তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন। বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো এরশাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে ।

বিচারক রায়ে বলেন, "রাষ্ট্রপতি হিসেবে এরশাদ ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অসদাচরণ করেছেন- মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র এবং সাক্ষ্য প্রমাণের কোনটিতেই তা প্রমাণিত হয়নি। তাই তাকে এ মামলার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হল।"

এ মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তিনি ও তার স্ত্রী রওশন এরশাদের বিভিন্ন কর্মতৎপরতা দ্রুত ধারণ ও প্রচারের জন্য জাতীয় স¤প্রচার কর্তৃপক্ষকে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই ইউনিটের ইএনজি সেট কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ১৯৮৯ সনের ৮ আগস্ট মতিঝিলের 'মেসার্স এডিডিএ' এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জাতীয় স¤প্রচার কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, চুক্তি অনুযায়ী সংযোজিত ব্যয় ও শুল্ক বাবদ ওই পরিমাণ টাকায় দুটি ইএনজি ইউনিট সংগ্রহ করে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের ১২৬ নম্বর কক্ষে স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। এরশাদ নিজের সরকারি মর্যাদার অপব্যবহার করে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ অপচয় করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।

বিচারকের রায়ে বলা হয়, "ইএনজি সেট স্থাপনের একদিন পরই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে এরশাদ পদত্যাগ করেন। তিনি মামলায় উল্লেখিত ইএনজি সেট স্থাপনের পর ব্যবহারের সুযোগ পাননি।"

রায়ে আরও বলা হয়, "এ মামলায় বিটিভির মহাপরিচালক, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ২১ সাক্ষীর কেউই ইএনজি যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপনে সরকার বা রাষ্ট্রের কী ক্ষতি হয়েছে এবং অভিযুক্ত কত টাকা আত্মসাৎ করেছেন তা বিস্তারিতভাবে বলেননি।"

তবে বিচারক একই সঙ্গে বলেন, "এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করতে গিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। তিনি শুধু চাকরের দায়িত্ব পালন করেছেন।"

বিচারক আরও বলেন, "এরশাদ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার হওয়ার কারণে তার ক্ষমতা অনুযায়ী ইএনজি যন্ত্রপাতি কেনার অনুমোদন দিয়েছিলেন। এককভাবে তিনি এ অনুমোদন দেননি। এর সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত ছিল। তাই তাকে একা আসামি করে তদন্ত কর্মকর্তা মারাত্মক ভুল করেছেন।"

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আদালতে উপস্থিত জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমি সঠিক বিচার পেয়েছি।"

তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অপর মামলাগুলো থেকেও খালাস পাবেন বলেও এরশাদ আশা প্রকাশ করেন।

ঘিয়ে রংয়ের ছাপা হাফ শার্ট পরা এরশাদ বেলা ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন। এসময় তার সঙ্গী ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, আবু হোসেন বাবলা, এএইচএম গোলাম রেজা, তরুণ কুমার বসুসহ প্রায় ৩০ জন নেতা-কর্মী।

এরশাদের আইনজীবী কলিমুল্লাহ মজুমদার এবং পরিমল কুমার বিশ্বাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এরশাদের বিরুদ্ধে বিটুমিন ইমালশন ক্রয় এবং লন্ডনে অর্থ পাচার সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া রাডার ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা, ৮৯টি উপজেলায় ডিজিটাল টেলিফোন স্থাপন সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা, মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন।

আইনজীবীরা জানান, ইতোপূর্বে শিল্প ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত মামলা, স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত মামলা এবং জাপানি বোর্ট ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় এরশাদকে খালাস দেয় আদালত।

১৯৯২ সালের ২৯ ফেব্র"য়ারি মামলাটি দায়ের করেন বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজা। ওই বছরের ২৭ অক্টোবর মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। দুই বছর পর ১৯৯৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/এফএফ/এমআই/১২৫৬ ঘ.

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:৩২
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×