১
তামিনডং ও তাকাডং দুইটি পাহাড় পাশাপাশি এর পাশেই কিছুটা দূরে গ্রামটি অবস্হিত। আর আট দশটা গ্রামের মতই অবস্হান। শহরের একেবারে শেষ সীমানায় পার্বত্য চট্রগ্রামের হিমছড়ি এলাকায় অবস্হিত। অধিকাংশ লোকই বনে কাঠ কেটে, পাতা কুড়িয়ে, মধু আরোহন করে, মাছ ধরে পার্শ্ববর্তী বাজারে বিক্রি করে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করত। এছাড়া জুমচাষ করেও অনেকে জীবিকা নির্বাহ করত।
পাহাড় দুইটির নামে অনেক কিংবদন্তী ছিল। গ্রামের লোকজন কিছুটা কু-সংস্কারগ্রস্ত ছিল। তাই তারা এসব কথা বি্শ্বাস করত। কেউ বলে মাঝে মাঝে নাকি রাত্রের বেলায় পাহাড়ে বিশেষ বিশেষ স্হান আলোকিত হয়ে যায়। আবার কেউ বলে- সে একদল ইংরেজ দেখেছে শিকারীর বেশে, ভয়ে পালিয়ে এসেছে। তাই পাহাড়ে গেলেও বেশী ভিতরে তারা যেত না। সব সময় দল বেঁধেই চলাফেরা করত। তাদের সাহসও বেশী ছিল না।
পাকিস্তান আমল। দেশ বিভক্ত তখনো হয়নি। বাংলাদেশের আয়ের এক বিরাট অংশ চলে যেত তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে। এদেশের প্রতি করা হতো বিমাতা সূলভ আচরণ। এদেশে ২টি উন্নয়নমূলক কাজ হলে (যদিও সহজে হতো না) ঐদেশে তার কয়েকণ্ডণ বেশী হতো। তাই এদেশ তখন সব দিক দিয়ে মার খেতো। গ্রামগঞ্জের মানুষের অবস্হাতো আরও খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক।
এগ্রামেই বাস করত নিরীহ সহজ সরল আমাদের গল্পের নায়ক টনি ডায়েস। পৈত্রিক জায়গা জমি সে যাহা কিছু পেয়েছিল তার কর্মবিমূখতা, শিকার ও মদ গাঁজার নেশার কারণে প্রায় সম্পত্তিই বিক্রি করে ফেলল। শুধুমাত্র বসত ভিটা আর এক খন্ড জমি ছিল। তাই দিয়ে কোনমতে তার বৌ ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার চালাতো। কিন্তু টনি ডায়েসের অলসতার কারণে যে একখন্ড জমি অবশিষ্ট ছিল তাও ঠিকমত চাষাবাদ না করার ফলে প্রায় আগাছায় পূর্ণ থাকত।
এছাড়া সে শিশুদের ও ছোট ছেলেমেয়েদের খুবই ভালবাসতো। তাদের নিয়ে প্রায় খেলাধুলায় লিপ্ত থাকতো কাজকর্ম বাদ দিয়ে। এ নিয়ে তার বৌ তাকে প্রায় সময় বকা দিতো এবং তার সংগে খুবই দুর্ব্যবহার ও ঝগড়া করত। দুঃখে টনি ডায়েস সারাদিন দূরবর্তী তামিনডং ও তাকাডং পাহাড়ের জংগলে ঢুকে শিকার করত নানারকম প্রাণী। তার একটু সাহস বেশী ছিল, তাই বনের ভিতরও ঢুকে পড়ত অনেকদূর। তার সব সময়ের সাথী ছিল প্রিয় বানর সাম্পাই। যা সে পাহাড় থেকে ধরে পোষ মানিয়েছিল।
চলবে....................................
(বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


