১। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন কি রকম জ্ঞানী ছিলেন, সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, কিন্তু তিনিও যে কি রকম সাধারণ ভুল করতেন, সে কথা অনেকেই জানে না।
নিউটন এক সময় দুটো বেড়াল পুষেছিলেন। বিড়াল দু-টির অদ্ভুত স্বভাব ছিল, ওরা বার বার ঘরে ঢুকবে আর বেরুবে। নিউটনের ও মহাঝামেলা। কারণ ওদের জন্য বারবার দরজা খুলতে আর বন্ধ করতে হয়।
ভেবে ভেবে তিনি স্হির করতে পারেন না, কি করলে সাপও মরে, আবার লাঠিও ভাঙ্গে না। অর্থাৎ বেড়াল ণ্ডলোরও ঢোকা বেরুনোর কোন অসুবিধা হবে না, আবার তিনিও একটু শান্তিতে কাজকর্ম করতে পারবেন।
অনেক ভেবে চিন্তে তিনি একটা সিদ্ধান্তে এলেন। একদিন একজন ছুতোর মিস্ত্রীকে ডেকে বললেন, দেখ মিস্ত্রী আমার দুটো বেড়াল আছে। একটা বড়, আর একটা ছোট। দুটো বেড়াল আমাকে জ্বালিয়ে মারছে। রাত নেই, দিন নেই বারবার দরজা বন্ধ করো আর খেলো। তাই আমি ঠিক করেছি আমার দরজায় একটা ছোট আর একটা বড় গর্ত করে নেবো যাতে বড়টা দিয়ে বড় বিড়ালটা আর ছোটটা দিয়ে ছোট বিড়ালটা অনায়াসে চলাফেরা করতে পারে। আর তাতে আমাকেও বার বার উঠে দরজা খোলা আর বন্ধ করতে হবে না।
সব শুনে মিস্ত্রী খানিকণ চুপ করে রইল, তারপর হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠলো।
মিস্ত্রীর কান্ড দেখে নিউটন আশ্চর্য হয়ে গেলেন। বললেন - কি মিস্ত্রী হাসছো কেন?
মিস্ত্রী বললো, আপনি এতবড় পন্ডিত আর এই সাধারণ বুদ্ধিটুকু আপনার মাথায় এলো না যে একটা বড় ফুটো করলেই তো আপনার দুটো বেড়ালই অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবে।
২। এক বন্ধুকে খাবার নিমন্ত্রণ করেছেন নিউটন, তারপর সে কথা একদম ভুলে গেছেন। যথাসময়ে বন্ধুটি এসে দেখেন, বাড়িতে না নিউটন, না খাবার কোনো ব্যবস্হা। বসে থেকে থেকে অধৈর্য্য হয়ে বন্ধু খাবার ঘরে গিয়ে আবিস্কার করলেন, নিউটনের একার মতো খাবার ঢাকা দেওয়া আছে টেবিলের উপর। প্রচন্ড খিদেতে সেই খাবারই খেয়ে ফেললেন তিনি। তারপর উচ্ছিষ্ট হাড়-কাঁটাণ্ডলো প্লেটে তুলে আবার ঢাকনা দিয়ে রাখলেন।
নিউটন এসে তো বন্ধুকে দেখে অবাক, আরে তুমি যে এই অসময়ে? চলো, আমি খেতে বসি, খেতে খেতেই গল্প করা যাবে। পাশের ঘরে গিয়ে প্লেটের ঢাকনা তুলে অবস্হাটা দেখেই নিউটন ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেলেন। দেখেছ, কি ভুলোমন আমার আগেই খেয়ে গেছি, আমার একদম মনে নেই।
৩। আইনস্টাইনের অন্যমনস্কতার নিয়ে মজার মজার সব গল্প আছে। একবার এক বড় শহরে দিন কয়েকের জন্য বেড়াতে এসেছেন আইনস্টাইন। একদিন এক বন্ধুর বাসা থেকে বেরিয়ে বাসে চেপে হোটেলে ফিরছেন। বাসের কন্ডাক্টর টিকিট চাইতেই পড়লেন মহা ফাঁপরে। বাসে উঠার সময় টিকিট কেটেছেন, কিন্তু এ পকেট ও পকেট হাতড়ে কোথাও আর তা খুঁজে পান না।
কন্ডাক্টর ভদ্রলোক অপ্রস্তুত আইনস্টাইনকে আশ্বাস দেবার ভঙ্গিতে বললেন, -- ঠিক আছে আপনাকে আর ব্যস্ত হতে হবে না। টিকিটটা হয়তো পড়ে টড়ে গেছে কোথাও----।
আইনস্টাইন বিচলিত গলায় বললেন, ----- টিকিটটা না পেলে তো বিপদে পড়তে হবে। ঐ টিকিটটার পেছনেই আমার হোটেলের নামটা লিখে রেখেছিলাম কিনা ------।
৪। রবার্ট ওয়াইনার নামে আমেরিকার আর এক মন্যমনস্ক বিজ্ঞাপনীর গল্প-
ভর দুপুর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক বন্ধুর সঙ্গে ওয়াইনারের দেখা। দুজনে মিলে গল্প করতে করতে হেঁটে চললেন। খানিক বাদে বিদায় নেবার সময় ওয়াইনার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলেন, -- আচ্ছা বলতো- তোমার সঙ্গে আমার যখন দেখা হলো, কোনদিকে আমি যাচ্ছিলাম?
কেন, কলেজের দিকে। - বন্ধু জবাব দিল।
------ওঃ, তাহলে আমার দুপুরের খাওয়াটা হয়ে গেছে। তা না হলে তো বাড়ির দিকেই হাঁটতাম।
৫। অন্যমনস্ক আর এক বিজ্ঞানীর অবস্হা আরও খারাপ। হন্তদন্ত হয়ে ল্যাবরেটরীতে ঢুকে ছাত্রদের বললেন, --- এই দেখ, পুকুর থেকে এই ব্যাঙটা ধরে নিয়ে এসেছি। এসো, এটাকে এবারে কাটাকুটি করি।
বিজ্ঞানী তার রুমালের পোটলাটা খুলতেই তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো কেকের একটা বড় টুকরো। ছাত্রদের হতভম্ব মুখের দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞানী বললেন, শ- আরে, এটা তো দেখছি আমার টিফিন। তবে একটু আগে আমি কি খেলাম?
৬। ট্রেনটা সবে হুইসেল দিয়ে প্লাটফর্ম ছেড়েছে। চারজন লোক ছুটতে ছুটতে ট্রেনের কাছে এসে দাঁড়ালো এবং চারজনের মধ্যে তিনজন পটাপট্ উঠে পড়লো চলন্ত টেনে। প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ট্রেনটার দিকে চেয়ে হোঃ হোঃ করে হেসে উঠলো চতুর্থ লোকটি। তাই দেখে আশেপাশের লোক তো অবাক। একজন বললো, আপনার বন্ধুরা সব ট্রেনে উঠে পড়লো, আপনি রয়ে গেলেন - এদিকে আবার হাসছেন?
লোকটি হাসতে হাসতে বললো- আসলে কি জানেন - ঐ লোকণ্ডলো এসেছিল আমায় ট্রেনে তুলে দিতে।
--------০০০০০-----

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



