somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাসতে নেই মানা

১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :








১। বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন কি রকম জ্ঞানী ছিলেন, সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না, কিন্তু তিনিও যে কি রকম সাধারণ ভুল করতেন, সে কথা অনেকেই জানে না।

নিউটন এক সময় দুটো বেড়াল পুষেছিলেন। বিড়াল দু-টির অদ্ভুত স্বভাব ছিল, ওরা বার বার ঘরে ঢুকবে আর বেরুবে। নিউটনের ও মহাঝামেলা। কারণ ওদের জন্য বারবার দরজা খুলতে আর বন্ধ করতে হয়।

ভেবে ভেবে তিনি স্হির করতে পারেন না, কি করলে সাপও মরে, আবার লাঠিও ভাঙ্গে না। অর্থাৎ বেড়াল ণ্ডলোরও ঢোকা বেরুনোর কোন অসুবিধা হবে না, আবার তিনিও একটু শান্তিতে কাজকর্ম করতে পারবেন।

অনেক ভেবে চিন্তে তিনি একটা সিদ্ধান্তে এলেন। একদিন একজন ছুতোর মিস্ত্রীকে ডেকে বললেন, দেখ মিস্ত্রী আমার দুটো বেড়াল আছে। একটা বড়, আর একটা ছোট। দুটো বেড়াল আমাকে জ্বালিয়ে মারছে। রাত নেই, দিন নেই বারবার দরজা বন্ধ করো আর খেলো। তাই আমি ঠিক করেছি আমার দরজায় একটা ছোট আর একটা বড় গর্ত করে নেবো যাতে বড়টা দিয়ে বড় বিড়ালটা আর ছোটটা দিয়ে ছোট বিড়ালটা অনায়াসে চলাফেরা করতে পারে। আর তাতে আমাকেও বার বার উঠে দরজা খোলা আর বন্ধ করতে হবে না।

সব শুনে মিস্ত্রী খানিকণ চুপ করে রইল, তারপর হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠলো।

মিস্ত্রীর কান্ড দেখে নিউটন আশ্চর্য হয়ে গেলেন। বললেন - কি মিস্ত্রী হাসছো কেন?
মিস্ত্রী বললো, আপনি এতবড় পন্ডিত আর এই সাধারণ বুদ্ধিটুকু আপনার মাথায় এলো না যে একটা বড় ফুটো করলেই তো আপনার দুটো বেড়ালই অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবে।

২। এক বন্ধুকে খাবার নিমন্ত্রণ করেছেন নিউটন, তারপর সে কথা একদম ভুলে গেছেন। যথাসময়ে বন্ধুটি এসে দেখেন, বাড়িতে না নিউটন, না খাবার কোনো ব্যবস্হা। বসে থেকে থেকে অধৈর্য্য হয়ে বন্ধু খাবার ঘরে গিয়ে আবিস্কার করলেন, নিউটনের একার মতো খাবার ঢাকা দেওয়া আছে টেবিলের উপর। প্রচন্ড খিদেতে সেই খাবারই খেয়ে ফেললেন তিনি। তারপর উচ্ছিষ্ট হাড়-কাঁটাণ্ডলো প্লেটে তুলে আবার ঢাকনা দিয়ে রাখলেন।

নিউটন এসে তো বন্ধুকে দেখে অবাক, আরে তুমি যে এই অসময়ে? চলো, আমি খেতে বসি, খেতে খেতেই গল্প করা যাবে। পাশের ঘরে গিয়ে প্লেটের ঢাকনা তুলে অবস্হাটা দেখেই নিউটন ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেলেন। দেখেছ, কি ভুলোমন আমার আগেই খেয়ে গেছি, আমার একদম মনে নেই।


৩। আইনস্টাইনের অন্যমনস্কতার নিয়ে মজার মজার সব গল্প আছে। একবার এক বড় শহরে দিন কয়েকের জন্য বেড়াতে এসেছেন আইনস্টাইন। একদিন এক বন্ধুর বাসা থেকে বেরিয়ে বাসে চেপে হোটেলে ফিরছেন। বাসের কন্ডাক্টর টিকিট চাইতেই পড়লেন মহা ফাঁপরে। বাসে উঠার সময় টিকিট কেটেছেন, কিন্তু এ পকেট ও পকেট হাতড়ে কোথাও আর তা খুঁজে পান না।
কন্ডাক্টর ভদ্রলোক অপ্রস্তুত আইনস্টাইনকে আশ্বাস দেবার ভঙ্গিতে বললেন, -- ঠিক আছে আপনাকে আর ব্যস্ত হতে হবে না। টিকিটটা হয়তো পড়ে টড়ে গেছে কোথাও----।
আইনস্টাইন বিচলিত গলায় বললেন, ----- টিকিটটা না পেলে তো বিপদে পড়তে হবে। ঐ টিকিটটার পেছনেই আমার হোটেলের নামটা লিখে রেখেছিলাম কিনা ------।

৪। রবার্ট ওয়াইনার নামে আমেরিকার আর এক মন্যমনস্ক বিজ্ঞাপনীর গল্প-
ভর দুপুর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক বন্ধুর সঙ্গে ওয়াইনারের দেখা। দুজনে মিলে গল্প করতে করতে হেঁটে চললেন। খানিক বাদে বিদায় নেবার সময় ওয়াইনার বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলেন, -- আচ্ছা বলতো- তোমার সঙ্গে আমার যখন দেখা হলো, কোনদিকে আমি যাচ্ছিলাম?
কেন, কলেজের দিকে। - বন্ধু জবাব দিল।
------ওঃ, তাহলে আমার দুপুরের খাওয়াটা হয়ে গেছে। তা না হলে তো বাড়ির দিকেই হাঁটতাম।

৫। অন্যমনস্ক আর এক বিজ্ঞানীর অবস্হা আরও খারাপ। হন্তদন্ত হয়ে ল্যাবরেটরীতে ঢুকে ছাত্রদের বললেন, --- এই দেখ, পুকুর থেকে এই ব্যাঙটা ধরে নিয়ে এসেছি। এসো, এটাকে এবারে কাটাকুটি করি।
বিজ্ঞানী তার রুমালের পোটলাটা খুলতেই তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো কেকের একটা বড় টুকরো। ছাত্রদের হতভম্ব মুখের দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞানী বললেন, শ- আরে, এটা তো দেখছি আমার টিফিন। তবে একটু আগে আমি কি খেলাম?

৬। ট্রেনটা সবে হুইসেল দিয়ে প্লাটফর্ম ছেড়েছে। চারজন লোক ছুটতে ছুটতে ট্রেনের কাছে এসে দাঁড়ালো এবং চারজনের মধ্যে তিনজন পটাপট্ উঠে পড়লো চলন্ত টেনে। প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া ট্রেনটার দিকে চেয়ে হোঃ হোঃ করে হেসে উঠলো চতুর্থ লোকটি। তাই দেখে আশেপাশের লোক তো অবাক। একজন বললো, আপনার বন্ধুরা সব ট্রেনে উঠে পড়লো, আপনি রয়ে গেলেন - এদিকে আবার হাসছেন?
লোকটি হাসতে হাসতে বললো- আসলে কি জানেন - ঐ লোকণ্ডলো এসেছিল আমায় ট্রেনে তুলে দিতে।

--------০০০০০-----



১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×