somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"বৃষ্টির বর্ষণ"

২২ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

{র্পব-২}


পর দিন সকালে বর্ষণ ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে ভার্সিটিতে যায়। বিকেলে যখন ভার্সিটি থেকে ফিরছিলো তখন সে মেয়েটির বাসার দিকে তাকালো।
এভাবে প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলো। বর্ষণ আর সে মেয়েটির দেখা পায় না।

একদিন বর্ষণ বিকেলে যখন ভার্সিটি থেকে ফিরছিলো তখন সে দেখতে পেলো মেয়েটিকে। মেয়েটি নীল একটি জামা পরে তার মায়ের সাথে বাসার গেটে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় তারা কোথাও যাবে।
মেয়েটিকে দেখে বর্ষণ এবার চোখ সরাতে পারছেনা। নীল জামা পরাতে মেয়েটিকে একদম পরীর মত লাগছে।
মনে হচ্ছে কোন পরীর দেশ থেকে একটা নীলপরী এসে দাঁড়িয়ে আছে।

মেয়েটি বর্ষণের দিকে তাকায়। বর্ষণ এবার চোখ সরায় না তাকিয়ে থাকে। কিন্তু মেয়েটি নিজ থেকে চোখ সরিয়ে ফেলে।বর্ষণ তখন বাসার সামনে রিকসা থেকে নামে। ড্রাইভারকে যখন ভাড়া দিচ্ছিল মেয়েটি তখন রিকসার কাছে এসে রিকসার ড্রাইভার কে জিজ্ঞাস করলো শান্তিনগর যাবে কিনা। কিন্তু রিকসার ড্রাইভার বলল যাবেনা।
বর্ষণ তখন রিকসার ড্রাইভার কে বলল;- নিয়ে জান সমস্যা কী। আর মেয়েকে বলল আপনারা এই রিকসা করে চলে যান।
মেয়েটি তখন রিকসাতে উঠে বসলো আর বর্ষণের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো।মেয়েটি আর মেয়েটির মা যখন রিকসাতে উঠে চলে যাচ্ছিল তখন বর্ষণ দাঁড়িয়ে তাদের চলে যাত্তয়া দেখতে থাকে। একটু পর বর্ষণ বুজতে পারে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে।

বর্ষণ বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে ছাদে যায়। ছাদে গিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে যেখানে মেয়েটি দাড়িয়ে ছিল,সব ঘটনাকে সে আবার কল্পনা করতে থাকে।এরপর ছাদের একটা জায়গায় হেলান দিয়ে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে আর মেয়েটির অপূর্ব সৌন্দর্য কে ভাবতে থাকে। মেয়েটি কে সে একটু একটু করে যত দেখছে ততোই বেশি ভালো লাগছে।
সন্ধ্যা হলে বাসায় চলে যায়। বাসায় গিয়ে পড়তে বসে কিন্তু পড়াতে মন বসে না বারবার মনে একটা পরী এসে হাজির হচ্ছে। কী করবে বুজতে পারছে না তাই কম্পিউটারে গান ছাড়ে আর ইন্টারনেটে বসে চেট করে কিন্তু কোন কিছু করতে ভালো লাগে না। রাত ১০টা বাজার আগে বর্ষণ রাতের খাবার খায়,যা দেখে বর্ষণের মা অবাক হয়। কারন যে ছেলে কে ডাকতে ডাকতে খাবারের টেবিলে আনতে রাত ১২টা বাজতো সে ছেলে কী না আজ নিজে নিজে এসে এত আগে খেতে বসেছে।বর্ষণ খেতে বসেছে ঠিকী কিন্তু তার গলা দিয়ে খাবার যাচ্ছে না বরং তার বমি আসছে। খাবার রেখে বর্ষণ দৌড় দিয়ে বাথরুমে চলে গেল আর খাত্তয়া হল না।
বর্ষণের মা তা দেখে বর্ষণ কে বলল-কোন সমস্যা কী না।
বর্ষণ বলল-বুঝতে পারছি না। মনে হয় গ্যাস্ট্রিক বেড়েছে ট্যাবলেট খেলে ঠিক হয়ে যাবে।তুমি চিন্তা করো না।
বর্ষণ ফ্রেশ হয়ে রুমে গেল। তার খুব খারাপ লাগছে তাই বিছানা তে শুয়ে ঘুমানোর চেস্টা করছে কিন্তু ঘুম আসছে না বরং চোখ বন্ধ করলে সেই মেয়ের কাজল কালো দুটি চোখ,মৃদু হাসি,নীল জামা পড়ে দাড়িয়ে থেকে তার দিকে তাকানোর অসম্ভব সুন্দর ভঙ্গি গুলো বারবার ভেসে আসছে।
বর্ষণ ভাবছে- আমার চোখে তো কোন ঘুম নেই বরং সেই মেয়ের প্রতিচ্ছবি।সে তো মেয়ে নয় একটা পরী,নীল পরী যেন বৃষ্টি হয়ে আমার সামনে এসে বারবার হাজির হচ্ছে।
আরত্ত অনেক প্রশ্ন এসে জমা হচ্ছে বর্ষণের মনে- কেন এমন হয়? যত দেখি ততোই ভাল লাগে, কেন এত সুন্দর? এত কাছাকাছি থাকি অথচ তার নামটাত্ত জানি না? কেন এত অস্থিরতা পরীর জন্য?কেন এমন হচ্ছে?
বর্ষণের আর ঘুম আসে না। বিছানার একবার এপিট আরেকবার ত্তপিট করতে থাকে। তারপর একদম শোয়ার থেকে উঠে যায়।বর্ষণ বুঝতে পারছে না এখন কী করবে শুধু অস্থিরতা কাজ করছে। বিছানা থেকে উঠে দেখে তার সমস্ত শরীর ঘেমে গেছে।কিছুক্ষন পর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত ১:০০টা বাজে। এবার উঠে বারান্দায় যায় চুপ করে বসে বাহিরের পরিবেশ দেখতে থাকে।তারপর রুমে এসে আবার শুয়ে পড়ে আর ঘুমানোর চেস্টা করে কারন কাল সকালে জরুরী ক্লাস আছে । যে ভাবেই হোক ঘুমাতে হবে তাই ১-১০০ পর্যন্ত উল্টো করে সংখ্যা গুনতে থাকে আর আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ভার্সিটিতে যায়।বিকেলে ভার্সিটি থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে গিটার নিয়ে ছাদে যায় আর টুং টাং শব্দ করতে থাকে।গিটারে যখন একটা গানের ইস্কিল ঠিক করছিল তখন চেনা একটা মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসলো।বর্ষণ গিটার বাজানো বন্ধ করে সামনের দিকে তাকালো আর দেখলো সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে মেয়ে নয় যেন একটা পরী দাঁড়িয়ে আছে আর সেই দিনের সেই পুতুলটিও সাথে, মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে আর তাকে ডাকছে। বর্ষণ তাকে দেখে একটু নার্ভাস হয়ে পরে, কিন্তু প্রকাশ করেনি।স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে।
বর্ষণ তখন মেয়েকে বলে- আমাকে বলছেন,
মেয়েটি বলল- এই ছাদে আপনি ছাড়া কী কেউ আছে?
বর্ষণ বলল-মানে?
মেয়েটি বলল- এই ছাদে তো আপনিই একা।
বর্ষণ বলল- তাই না কি?হতে পারে।
মেয়েটি বলল- আপনি ছাড়া তো কাউকে দেখছিনা। আচ্ছা আপনি মিঊজিক করেন?গিটার বাজান?আপনাকে ছাদে দেখে খুব ভালো লাগছে। একটা গান শুনান না?
বর্ষণ বলল- আমি কি সব প্রশ্নের ঊত্তর একসাথে দিব?
মেয়েটি বলল- কোন সমস্যা? আপনি কি বিরক্ত বোধ করছেন?আমি কি আপনাকে বিরক্ত করছি?
বর্ষণ বলল- না। আসলে আমি তা বলছি না।
মেয়েটি বলল- ও। আচ্ছা আপনার সাথে তো পরিচয়ই হয় নি। আপনার নাম কি? কিসে পড়াশুনা করছেন?
বর্ষণ মনে মনে ভাবলো কী চন্ঞ্চল একটা মেয়ে। কত সুন্দর করে কথা বলছে। আসলেই মনে হচ্ছে কথার বৃষ্টি ঝরছে।একটা অদ্ভুত সুন্দর পরী সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
মেয়েটি বলল-আচ্ছা আপনি কী ভাবছেন? আপনার নামটা বললেন না যে? যদি আপনার নাম বলতে কোন সমস্যা হয় তা হলে না বললেও চলবে। কী বলবো বলুন আমরা এই বাসায় নতুন এসেছি।
বর্ষণ মেয়েটির চোখে দিকে তাকিয়ে বলল- জি,আমার নাম বর্ষণ।
মেয়েটি বলল- ও বর্ষণ। আগে কোথায়ও এই নাম শুনিনি। খুব সুন্দর।
বর্ষণ বলল- আপনার নাম?
মেয়েটি একপশলা বৃষ্টির মতো হেসে বললো- আপনি বলুন?
বর্ষণ বলল- কী ভাবে? আমি তো আপনার নাম জানি না?
মেয়েটি বলল- আমি আসলে কাউকে আমার নাম বললি না। সবাই কে আমার নামের একটা প্রশ্ন বলি আর সেই প্রশ্নের যে ঊত্তর বের হয় সেটাই আমার নাম। আর মজার বেপার কি ২বছরের একটা ছোট বাবুও আমার নাম বলতে পারে। এত সহজ একটা নাম আমার। কিন্তু আপনি বলতে পারবেন না।
বর্ষণ বলল- কেন?
মেয়েটি বলল- আমি তো আপনাকে প্রশ্ন বলিনি। বলবেন কী করে প্রশ্ন করলে তো!
বর্ষণের ভিতরের নার্ভাসনেস কেটে গেল,আর মেয়েটির কথা গুলো ঊপভোগ করতে লাগলো।
বর্ষণ বলল- প্রশ্ন করুন, দেখি ঊওর বের করতে পারি কি না?
মেয়েটি বলল- পারবেন। আমি যদি 'ক'বলি আপনি 'খ'বলতে পারবেন।কারন আমার নামটা আহামরি কিছু না।
বর্ষণ কথা গুলো শুনে বলে ফেললো- আহামরি কিছু নাও হতে পারে,কিন্তু আমার কাছে অনেক কিছু।
মেয়েটি বলল- ঠিক আছে প্রশ্ন করি,খুবই সহজ।
বর্ষণ বলল- প্রস্তুত।
মেয়েটি বলল- আপনার নাম দিয়ে বলবো, না থাক। আচ্ছা বলুন তো মেঘে মেঘে ঘর্ষন হলে কী হয়?
বর্ষণ মজা করে বলল- কী হয় আবার বিজলীর দেখা দেয়, মানি বিদ্যুৎ চমকায়। আপনার নাম বিজলী?
মেয়েটি হাসতে হাসতে বলল- জানতাম পারবেন না। শেষ একটা প্রশ্ন করবো এটাতেই বলতে পারবেন, তবে শর্ত আছে ছাঁদ থেকে নামার আগে একটা গান শুনাতে হবে।
বর্ষণ হতাশ গলায় বলল- হয়নি। ঠিক আছে শর্তে রাজি, প্রশ্ন করুন।
মেয়েটি বলল- খুব সহজ...বলুন তো বর্ষণের সৃষ্টি হয় কীসের থেকে?
বর্ষণ একথা শুনে অনুভব করলো তার হৃদয়ের স্পন্দন অনেক বেড়ে গেছে,চোখ দুটো কে বন্ধ করে দেখলো সেই পরীর অদ্ভুত দুটো চোখ ভেসে আছে।
মেয়েটি বলল- কী ব্যাপার কি হল পারছেন না? এত সহজ করে দিলাম? কি হয়েছে বর্ষণ ভাইয়া?
বর্ষণ চোখ খুলে বলল-তুমি বৃষ্টি।
মেয়েটি বর্ষণের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল- পারলেন তাহলে,অনেক চেষ্টার পরে।
বর্ষণ অবাক হয়ে বলল- সত্যি বৃষ্টি।
বৃষ্টি বলল- কি পেরেছেন বলে আবাক লাগছে না কী,সত্যিই আমি বৃষ্টি। ও আপনাকে বলা হয়নি এই যে আমার জান সুইটি।
বর্ষণ বলল- এই পুতুল তোমার জান?
বৃষ্টি বলল- ও পুতুল। কিন্তু ও আমার একমাত্র সাথী,মজার ব্যাপার কী জানেন সবাই আমাকে বলে তুমি এত বড় একটা মেয়ে অথচ পুতুলের সাথে খেলা কর। কি করবো বলুন বাসায় আমি,মা আর বাবা ছাড়া তো কেউ থাকে না। কার সাথে গল্প করবো বলুন তো, মার সাথে কতক্ষন কথা বলা যায়,বাবা তো রাতে ঘরে আসে আর সারাদিন টিভি কম্পিউটার ওহ বরিং এসব ভাল লাগেনা তাই সুইটির সাথে গল্প করি একা একা।
বর্ষণ বলল- ও,তোমার কোন বন্ধু বা বান্ধবী নেই?
বৃষ্টি বলল- বান্ধবী আছে। কিন্তু বন্ধু নেই তবে আমার বান্ধবীদের বন্ধু আছে কিন্তু আমার এসব পছন্দ না।
বর্ষণ বলল- কেন?
বৃষ্টি বলল- আমি এত ইস্টাইলিস্ট ছেলে পছন্দ করি না।বর্তমানে ছেলেরা বেশি ইস্টাই করে,আর এমন ভাবনেয় যেন নিজেরা শাহেদ কাপুর,আমির খান!
বর্ষণ হেসে বলল-তাই,তা আমাকে দেখে কি মনে হয়?
বৃষ্টি বলল- কি মনে হবে সিম্পল একটা মানুষ আপনি,আসলে আপনার মত মানুষ আমার পছন্দ।
বর্ষণ বলল- ও, তাই জানতাম না।
বৃষ্টি বলল- কেন আপনি নিজেকে কি ভাবেন বা ভাবতেন?
বর্ষণ বলল- কি ভাববো আসলে সেই ভাবে কখন ভাবিনি।যদি এখন ভেবে বলি তাহলে বলবো অগোছালো একটা মানুষ,একটা ক্ষেত এই আর কি।
বৃষ্টি হাসতে হাসতে বলল- কে বলেছে আপনি ক্ষেত। আমার কাছে আপনাকে জন আব্রহামের মত লাগছে,তবে আপনি একটু চিকন আর কি!!!!!!
বর্ষণ বৃষ্টির কথা শুনে বলল- ও আল্লাহ একলাফে আব্রহামের মত মজা পেলাম, জীবনেও বন্ধু-বান্ধবো এমন কথা বলেনি বরং সবাই বলে দিন দিন আমি রোগা হয়ে যাচ্ছি।
বৃষ্টি বলল- হয় তো আপনাকে সেভাবে কেউ দেখেনি।
বর্ষণ কথা শুনে চুপ হয়ে গেল আর বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইল।
বৃষ্টি বলল- আচ্ছা আপনি কিসে পড়নে মানি কি নিয়ে পড়াশুনা করছেন?
বর্ষণ বলল-ইংরেজিতে অর্নাস করছি। তুমি কিসে পড়ো?
বৃষ্টি বলল-এইতো কলেজে ভর্তি হওলাম।
বর্ষণ বলল-কলেজে!
বৃষ্টি বলল- কেনো কি মনে হয়, আমি ভার্সিটিতে পড়ি?আসলে জানেন যেই আমাকে দেখে সেই মনে করে আমি ভার্সিটিতে পড়ি। আমি অবশ্য এই কথা গুলো শুনলে মজা পাই।নিজেকে বড় বড় মনে হয়।
বর্ষণ বলল- ও আচ্ছা।
বৃষ্টি বলল- আচ্ছা আপনি খুব অল্প কথা বলেন মানি সট-কাট কথা বলেন।
বর্ষণ বলল- তাই নাকি!
বর্ষণ চুপ করে রইল কোন কথা বললো না।
বৃষ্টি বলল- কি হল চুপ কেন? কিছু ভাবছেন? সন্ধা হয়ে আসছে গান শুনানোর কথা ছিল ভুলে গেছেন না কি?
বর্ষণ বলল- না ভুলেনি, তা কি গান শুনবা?
বৃষ্টি বলল- আপনার যেটা ইচ্ছা, একটা হলেই হল।
বর্ষণ বলল- আচ্ছা কুমার বিশ্বজিৎ এর গান শুনবা?
বৃষ্টি বলল- ওকে,শুনান।
বর্ষণ বলল- জানি না কেমন লাগবে।
বৃষ্টি বলল- ভাল হবে গান,খারাপ হলে সমস্যা নেই কারন শিল্পিরা কখনো খারাপ গান গায় না।
বর্ষণ বলল- আচ্ছা শুরু করলাম-
গিটারের মিঊজিক.,.,.,.,.,.,.
''বসন্ত ছুয়েছে আমাকে
ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে
এখন যে প্রয়োজন তোমাকে
নিঃস্বঙ্গ এই হৃদয়ে

বির্মূত সন্ধার গৌধুলিতে
প্রিয় প্রসঙ্গ হয়েছো
জীবন সেখানেই থেমে যায়
যেখানে খুঁজেছি তোমায়
তাই যে প্রয়োজন তোমাকে
নিঃস্বঙ্গ এই হৃদয়ে।।

নিবিড় প্রেমের কাহিনীতে
স্মৃতি গুলো উকি দেয়
চাওয়া পাওয়ার হিসেবে
কিছুই যে থাকে না শেষে
তাই যে প্রয়োজন তোমাকে
নিঃস্বঙ্গ এই হৃদয়ে

বসন্ত ছুয়েছে আমাকে
ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে
এখন যে প্রয়োজন তোমাকে
নিঃস্বঙ্গ এই হৃদয়ে।।''


বর্ষণ বৃষ্টি দিকে তাকালো দেখলো বৃষ্টি এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
বর্ষণ বলল- কি কেমন লাগলো?
বৃষ্টি বলল- এমন সময় গানটা গেলেন সন্ধার সাথে মিলে গেছে।আসলে অনেক ভাল গান করেন, আপনার গানের গলা অনেক ভাল।
বর্ষণ বলল- পাম দিচ্ছো ফুলে যাচ্ছি কিন্তু, এমনিতেই অনেক ফুলে গেছি যখন বলেছো আমাকে দেখতে জন আব্রহামের মত আর এখন বলছো গান ভাল গাই,ফুলতে ফুলতে কিন্তু ফেটে যাব।
বৃষ্টি বলল- আপনার গানের কন্ঠ খুব ভাল আর সফট,মেলোডি মোটামুটি যে কোন গান আপনি ভাল গাইতে পারবেন আর আপনার গলার বেজ অনেক ভাল।
বর্ষণ বৃষ্টি কথা শুনে চুপ করে থাকে।
বৃষ্টি বলল- আচ্ছা কাল আবার দেখা হবে।আপনি কি প্রতিদিন বিকালে ছাদে আসে?আমি কিন্তু এখন থেকে আসবো।
বর্ষণ বলল- হ্যা, মাঝে মাঝে আসি। কেন?
বৃষ্টি বলল- আপনার গান শুনবো তো তাই।
বর্ষণ একটু হেসে বলল- আচ্ছা ঠিক আছে।
বৃষ্টি বলল- আচ্ছা সন্ধা হয়ে গেছে আজ তাহলে আসি।
বর্ষণ বলল- ঠিক আছে,দেখা হবে।
বৃষ্টি মৃদূ হেসে বলল- ভাল থাকবেন কেমন।
বর্ষণ কিছু বললো না শুধু বৃষ্টির চলে যাওয়া দেখতে থাকলো। তারপর বর্ষণ বাসায় চলে যায়।

রাতে বর্ষণ পড়াশুনা শেষ করে ঘুমাতে বিছানাতে শোয় আর বৃষ্টি কে ভাবে ঠিক প্রথম দেখা থেকে শুরু করে আজ বিকেল, বিকেল পর্যন্ত যা ঘটেগেছে সব চিন্তা করতে থাকে। বৃষ্টির প্রতিটি কথা বর্ষণের কাছে এক অন্যরকম অনুভূতি অন্য রকম চাওয়া। চোখ বন্ধ করলে বৃষ্টি চোখ,বৃষ্টি হাসি সামনে এসে হাজির হয় সব কিছু মিলে বৃষ্টি একটা চঞ্চল নিষ্পাপ মেয়ে। অসাধারন সুন্দর একটা পরী,
পরী নয় আসলেই সে বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি!




বি:দ্র: চলবে.........
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ৯:৫০
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×