somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''সবুজ স্মৃতি'' পর্ব-৬

৩০ শে জুন, ২০১০ দুপুর ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঘাসে উপর বসে আছি, সেই দিন প্রথম আকাশ টা কে দেখেছি মন ভরে! আকাশের মাঝে কত যে রঙ? কিছুক্ষন পর দেখতে পারছি সাদা সাদা কি জানি উড়ে বেড়াচ্ছে। অনেক ক্ষন নীলআকাশে তাকিয়ে থাকলে এমনি লাগে চোখে!
কিছুদিন আগে বরিশালে ঘুরতে গেলাম, জীবনের প্রথম রাতের লঞ্চে গেলাম। রাতে সবাই দেখলাম ঘুমিয়ে গেলো, কিন্তু আমার ঘুম আসছে না। কেবিনে, চোখ বন্ধ করে রেখেছি! একটু পর পর ঘড়ি দেখছি চোখ খুলে,রাত একটা বাজে, দু টো বাজে এভাবে আরো কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে থাকা।আর টিকতে পারছিলাম না রাত ৩ বাজে তখন, উঠে যাই। আস্তে করে গেট খুলে বের হয়ে যাই, মামা আর মামাতো বোন টা ঘুমাচ্ছে! বসি একটা চেয়ারে। চারপাশে অন্ধকার, কিছুই দেখা যাচ্ছে না। প্রচুর বাতাস! সারা লঞ্চ সাড়া শব্দহীন, শান্ত পরিবেশ, পানির কে সরিয়ে লঞ্চ এগিয়ে যাচ্ছে শুধু তারি শব্দ হচ্ছে! খুব বাতাস বইছে, ঘুটঘুটে অন্ধকার একটু পর পর দূরের লঞ্চ গুলো আলো জালাচ্ছে, আমাদের লঞ্চ টাও চারপাশে একটু পর পর আলো মারছে দেখে নিচ্ছে পথ! এবার কি মনে করে জানি হেটে চলে গেলাম লঞ্চের সামনে , উপরে তাকালাম দেখলাম পৃথিবীর তারা গুলো কে! এত সুন্দর করে জ্বলছে তারা গুলো, কোটি কোটি তারা হাসছে। তখন আমার কাছে মনে হলো হাজার বছরের পুরোনো হাসি। সবাই ঘুমাচ্ছে, শুধ আমি একা দাঁড়িয়ে আছি, আশে পাশে কেউ নেই, পানির প্রচুর ঢেউ!! একবার মনে হলো আমার মতো করে কেউ কি এই তারার হাসি উপভোগ করছে? পৃথিবী টা কত
সুন্দর, কত সুখী আজ রাত, আজকের তারা! নিজের মাঝেও সুখী ভালো লাগা অনুভব হলো? কিন্তু একটু পর হাত অনেক ঠান্ডা হয়ে গেলো প্রচুর বাতাস গায়ে লাগছিল তাই চলে আসলাম, বসলাম চেয়ারে। বসার পর মনে হলো আবার তারা গুলো কে দেখি কিন্তু তাকিয়ে দেখি আকাশে কোন তারা নেই! চারপাশে যেমন অন্ধকার আকাশেও। চারপাশের অন্ধকার আর আকাশের কালো রাত টা এক সাথে মিশে আছে! এমন কেনো হলো তখন বুঝতে পারিনি,এখনো না? একটু পর দেখলাম আকাশের রঙ বদল হচ্ছে ঘড়ির দিকে তাকালাম তখন ৩ টা ৩০ বাজে। বসে আছি, লঞ্চের ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়া,পানির স্রোতের শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। মাঝে মাঝে আলো দেখা যাচ্ছে! পানির মাঝেও আলো? একটু পর খুব ভালো
করে লক্ষ্য করি, দেখলাম অন্ধকারে মাছ ধরছে জেলেরা অনেক দূরে! মিটমিট করে তাদের নৌকায় আলো জলছে। তাকিয়ে আছি পানির দিকে, অন্ধকারের দিকে, আকাশের দিকে! কিন্তু কোন কিছুই ভাবছিলাম না মনে? আকাশের দিকে আবার তাকালাম দেখলাম আকাশ টা কে আবার ভালো মতো, একটু লাল রায়হান ভোরের রঙ একপাশে আর চারপাশ অন্ধকার? আস্তে আস্তে যে ভোর হচ্ছে বুজা যাচ্ছে। সত্যিকার অর্থে আকাশের রং কত পরিবর্তন হচ্ছিল, নিজের চোখে না দেখলে বনর্না করা যাবে না। একবার এক এক জিনিষ মনে হচ্ছিল! আকাশে রঙ ছুটাছুটি করছিল একটু একটু করে। এবার ঘড়ির দিকে তাকালাম সময় তখন প্রায় ৪ টা ৪০ এর কাছাকাছি, দূরে অনেক আলো দেখা যাচ্ছে। বুঝতে পারলাম কিছু সামনেই লঞ্চ ঘাট,ভোর ৫ টার দিকে পৌছে গেলাম। চলে গেলাম ভিতরে মামা কে উঠাতে,সব ঠিক ঠাক করে বের হওলাম। রিক্সা নিলাম বরিশাল শহর তখন পুরা শান্ত, আকাশের দিকে তাকালাম দেখলাম ভোরের আলো, ঐ তো সকাল হচ্ছে!


বরিশালে সে দিন ১ দিনের জন্য ঘুরতে গেলাম খালার বাসায়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস এ তার আগের দিন জানতে চেয়েছিলাম দেখার মতো কি আছে বরিশাল শহরে, তখন ব্লগের সন্যাসী ভাইয়া বলল 'দুর্গাসাগর' আর 'বায়তুল আমান জামে মসজিদ' আছে। খালার বাসায় ডুকে ফ্রেশ হয়ে, সকালের নাস্তা করেই, কাজিন কে নিয়ে বেড়িয়ে গেলাম ঘুরতে। খুব তাড়া ছিল কারন সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা দিতে হবে! ক্যামেরা নিয়ে বেড়িয়ে গেলাম ২ জন। বাসে উঠলাম, আকাশের দিকে তাকালাম সাদা মেঘ ভাসছে নীল আকাশে। চোখের মধ্যে ভেসে উঠলো রাতের আকাশের দৃশ্য! একটা জিনিষ ভাবলাম তখন, কাল রাতে আমি একা জেগে ছিলাম না। আমার সাথে আকাশ টা ও জেগেছিল! আসলে আকাশ টা প্রতিদিন ওভাবে জেগে থাকে! আকাশ কাল রাতে আমার সাথে খেলা করেছিল, তাই তো মনে মনে কোন ভাবনা কাজ করেনি, নিজের সাথে নিজের কথোপকথন হয়নি। শুধু আকাশের খেলা দেখেছিলাম। তাই তো তাকে বার বার খুজে ফিরেছি,তার রং বার বার দেখতে চেয়েছি! ভোর রাতের আকাশ টা আমাকে ব্যস্ত রেখেছিল! তার এক একটি রুপ আমার সামনে হাজির করাচ্ছিল। আমিও মন ভরে তাকে দেখছিলাম, নিজেকে ক্লান্ত মনে হয় নি তখন!
বাসে মানুষের হইচই কানে আসছে খুব। নীল আকাশ থেকে চোখ টা কে সরিয়ে নিলাম, একটু বন্ধ করলাম চোখ।রাতের আকাশের বুকে সেই তারার হাসি টা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। সব কিছু একটু অন্য রকম মনে হল, চোখ খুলে একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস!


চলবে............
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১০ দুপুর ২:৫৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×