পুনম কে খুজতে যাচ্ছি। তার সাথে শেষ কথা হয় ২ দিন আগে,রৌদ্দুর সকালে। শুধু একটা কথা জানতে সে আমাকে ফোন করে! কথা টা খুব সাধারন কিন্তু অনেক পবিত্র। কি মনে করে আমি তখন উওর দেই নি এখনো বুঝতে পারি না। যদিও সে শর্ত দিয়েছিল প্রশ্নের কোন উওর না পেলে সে হারিয়ে যাবে। কিন্তু জানি পুনম কখনো হারাবে না। পুনমের পাগলামী টা আমার কাছে মাঝে মাঝে মাত্রা অতিরিক্ত মনে হয়। তাই প্রায়ই আমি বিরক্ত হয়ে যাই এবং তার সাথে ঝগড়া করি। কিন্তু একটু পরই কি করে জানি সে সব ঠিক করে ফেলে। সেল ফোন টাও বন্ধ করে রেখেছে সে এবং একটা ছোট মেসেজ পাঠিয়ে জানিয়ে দিয়েছে সে এবার ঠিকি যাবে! তার মেসেজ টা পড়ে হাসি ত্রলো। কিন্তু কেন জানি পর মুহূর্তে তার জন্য অস্থিরতা কাজ করে। জানি পুনম শহর ছেড়ে নির্জন সমুদ্রে কাছে গিয়েছে, আর কোথায় গিয়েছে তাও জানা আছে খুব ভালো ভাবে। তাই তাকে ফিরিয়ে আনতে সেখানে যাচ্ছি।
একটা কালো আলোতে সাদা ক্যানভাস চোখের সামনে আসল, পুনম সেই ক্যানভাসে ছবি আকছে। পুনম দারুন আকে। পুনম দাঁড়িয়ে ছবি আকছে। কিন্তু কিসের ছবি আকছে দূর থেকে বুঝতে পারছি না। পুনম কে সারপ্রাইজ দিবো তাই একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছি সে কি করছে! একটু পর পুনম পিছনে ফিরলো। আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে লাগলো। আমি ও পুনমের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তাকে আজ অদ্ভূত সুন্দর লাগছে।সব সময় তার চুল গুলো এলোমেলো থাকতো কিন্তু আজ তার চুল গুলো এলোমেলো নয়। সাদা একটা পাঞ্জাবী পড়েছে! আমার দিকে সে তাকিয়ে হাসছে, আমিও তার দিকে তাকিয়ে। এ যেনো অন্য রকম এক দৃষ্টি, তার তাকিয়ে থাকা চোখের ভাষা কি বলতে চাচ্ছে স্পষ্ট নয়!
পুনম এবার আমার দিক থেকে চোখ সরিয়ে সূর্যাস্তের দিকে তাকালো। এবার সে হেটে চলে যেতে লাগল! আমি তাকে ডাক দিলাম না। পুনম হেটে যাচ্ছে, সমুদ্রের পানি গুলো তার পায়ে এসে ধাক্কা খাচ্ছে। আমি পুনম কে দেখছি। কেন যেনো তাকে ডাক দেওয়ার শক্তি পাচ্ছি না। পুনম সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে সমুদ্রের পানির দিকে এগিয়ে যেতে লাগল! আমি হেটে পুনমের ক্যানভাসের কাছে গেলাম। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখি ওখানে কিছু আকা নেই?
ক্যানভাসের দিক থেকে চোখ সরিয়ে পুনমের দিকে তাকালাম। কিন্তু পুনম তো নেই? সাগরের বড় বড় ঢেউ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এই দৃশ্য দেখে কেনো জেনো মাথা টা চক্কর দিল। দৌড় দিয়ে চেস্টা করলাম পুনম কে খুজতে ঢেউ গুলোর মাঝে। কিন্তু কি আশ্চর্য্য দৌড়াতে দৌড়াতে আমি হাপিয়ে যাচ্ছি কিন্তু ঢেউ এর কাছে যেতে পারছি না! চারপাশের দিকে তাকালাম জনমানব শূন্যহীন, অন্ধকার নেমে আসছে সাথে সাথে নিজের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। একটু থামতেই বালুতে পড়ে গেলাম, নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে একটা কথা বলতে চেস্টা করলাম 'সত্যি আমি এসেছি পু-ন-ম, ভালোবাসি ভালোবাসি'!
পরিশিষ্ট
রুম B-35 থেকে প্রতি রাতে তমার কান্না কন্ঠে ভেসে আসে এই কথা গুলো বিড়বিড় করে। তমার প্রথম দিকের কথা গুলো ঠিক আছে, পুনম কে খুজতে সে সমুদ্রের পাড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার তমা সমুদ্রের পাড়ে কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেতে পারেনি। বরং তার গাড়ি এক্সিডেন্ট করে এবং তারপর থেকে সে মানসিক অসুস্থ! অসুস্থ হওয়ার পর তমার সামনে যখন পুনম কে হাজির করানো হলো, তখন তমা পুনম কে চিনতে পারে না। পুনম কম চেস্টা করেনি। তমার পছন্দের সব কিছু পুনম হাজির করেছিল। কিন্তু এভাবে আর কত দিন। পুনমের তো একটা জীবন আছে। গত ৪ বছর ধরে তমার পরিবারের কেউ তমা কে দেখতে আসে না সাথে পুনম ও! আর তমা?
তার বাকি জীবন টা মনে হয় একই রকম থাকবে। তার কেস টা কেউ ধরতে পারচ্ছে না কেউ। তার সব রিপোট বলে সব ঠিক আছে। তাই ডাক্তার রা ধরে নিয়েছে স্বাভাবিক জীবনে অধীক কল্পনা এবং হঠ্যাত দুর্ঘটনায় হয়তো তার আজকের এই অবস্থা। তমা কেনো যেনো কারো ভালোবাসা পেতে চায় না। সবাই মিলে অনেক চেস্টা করা হয়েছে তাকে সুস্থ করার জন্য। কিন্তু কোন কাজ হয়নি বরং সারাদিন হাসপাতালের মাঠে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলনা মোবাইল নিয়ে টিপাটিপি করে আর রাত হলেই তার চোখ দু'টো তাকিয়ে থাকে দেয়ালের তার ছায়ায় দিকে। এরপর রাত হলে বলতে শুরু করে তার কাল্পনিক ঘটনা টা। প্রতিদিন রাতে এক বার করে বলে আর ঘটনা বলা শেষ হলে ঘুমিয়ে পড়ে। হাসপাতালের সবাই তার বিড় বিড় কথা গুলো স্পষ্ট শুনতে না পেলেও শেষ কথা টা ঠিকি শুনতে পারে। প্রতি রাতে তমা তার সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠে 'সত্যি আমি এসেছি পু-ন-ম, ভালোবাসি ভালোবাসি............!'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



