আমার প্রিয় পোস্ট
- কাঁদল ছাত্র,কাঁদল শিক্ষক। কুয়েট(পর্ব-১) - তাবাসসুম জাহান
- ঢাকা শহর এবং এর আশেপাশে সুবিধাজনক ডেটিংপ্লেস* সমূহ - পয়গম্বর
- প্রেম ভালবাসা আর উবুন্টু লিনাক্স ... ... - মো. তারিক মাহমুদ
-
ই-বুক মেলা..... আপনার পছন্দেরটি বেছে নিন। একদম ফ্রী
- অন্ধকারের রাজপুএ
- বাংলা বই এর সাইট - মাহবুব জামান আশরাফী
- ডিজিটাল ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফি বিষয়ক পোস্টগুলোর সংকলন - টি. জাহান চৌধুরী
- লিওনার্দো দা ভিঞ্চি - নাহিদ মাহমুদ
- এন্টিবায়োটিক-ডাক্তার-রোগী-আমাদের অন্ধকার ভবিষ্যত - দুখী মানব
- জামায়াতি ব্লগারদের কাছে ৩টি প্রশ্ন। - হা...হা...হা...
- জাফর ইকবাল স্যারের যত বই, প্রায় ৬৪টি বই ডাউনলোড করুন এদম ফ্রী - বখতিয়ার হোসেন
- ডাউনলোড করুনঃ ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার-৫.১৯ (build 3) - মুকুট
- রক উইথ রবিন্দ্রনাথ আপনার মতামত জানতে চাই।
- নিঃসঙ্গ
- বড়দের পোস্ট:
সেরা গরম ছবির তালিকা
- শওকত হোসেন মাসুম
- হ্যাক ইয়োরসেলফ – জীবনে সুখী হোন! - বিলাশ বিডি
- আসেন নতুন বছরে প্রিয় ব্লগারদের নতুন নতুন খেতাব দেই [ফানপুস্ট] - নৈশচারী
- আসুন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সেরা খাবারের তালিকা করি। - মুকুট
- শেয়ার ব্যবসা - ৫: শেয়ার কেনার আগে যা যা দেখবেন - ওরাকল
- কিছু শকিং মুভি। - হাসান মাহবুব
- এইচ থেকে হেইচ – ভাষার বিবর্তন - নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী
- এক ব্লগার আপুর বিয়ে এবং সামুর সকল লুলদের পক্ষ থেকে একটি আক্ষেপমূলক পোষ্ট...

আর লুলদের মেলায় আপনাকে স্বাগতম 
- সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার
- আদ্যোপান্ত নচিকেতাঃ একটি তথ্যমূলক পোষ্ট। - জয় সরকার
- ইঞ্জিনিয়ার ভাই ও বোনেরা , একটা সমাধান দেন তো দয়া করে। - রাগ ইমন
- এপ্রিল’স ফুল-এর ইসলামি সংস্করণ - ব কলম
- এপ্রিল ফুল - তুষার মজুমদার
- ইংরেজি শেখার ওযেব সাইট - নিলআকাশেরদুঃখ
- আজমেরী- তোমার কি বেঁচে ওঠা হবেনা বোন? আপডেট ১৩ - স্বপ্নকথক
- পাপীর প্রথম নাটক 'প্রতিকৃতি - পাপতাড়ুয়া
- হুমায়ুন আজাদ এর একটি অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- ব্লগার বন্ধুদের জন্মদিনঃ ডাটা ব্যাংক - মিলটন
- হুমায়ুন আহমেদের ১৪৮ টি বইয়ের বিশাল সমগ্র [রিপোস্ট] লিংকসহ ঠিক করে দিলাম - বখতিয়ার হোসেন
- প্রস্তাবনা: প্রসংগ ছাগু ও ছাগু বান্ধব পোস্ট (একটি প্রস্টাবিত টেমপ্লেট সহ) - জীবনানন্দদাশের ছায়া
- মুভি ব্লগ: শূন্য দশকের সেরা ১০ ছবি - শওকত হোসেন মাসুম
- কাছ থেকে দেখা ডিজিটাল ক্যামেরা - জোবাইর
- বৃষ্টি বিলাসঃ বৃষ্টি দিনের গানের অনলাইন সংগ্রহ। (প্রথম কিস্তিঃ৬০ টি গানের ডাউনলোড লিংক) - এ. এস. এম. রাহাত খান
- অবশেষে... আপনার মূল্যবান ব্লগের ব্যাকাপ রাখুন নিরাপদেই!
- রোবোটিক্স
- বাংলা সাবটাইটেল - মুহাম্মদ
- যেকোন মুভির জন্য 字幕 --> Subtitle কিভাবে ব্যবহার করবেন? - বিডি আইডল
- সাবটাইটেল সহকারে বিদেশী মুভি উপভোগ করুন - আলোকিত পৃথিবী
- নিকট ভবিষ্যতে সামহোয়ারইন......
(ফান পুস্ট,
মডুরা বেরসিকের মত ডিলিট মাইরেন না) - রোবোটিক্স
- বব ডিলান, তার একটি গান “ব্লোয়িং ইন দ্যা উইন্ড” এর অনুবাদ আর কিছু প্রাসঙ্গিক কথা - ফাহাদ চৌধুরী
- ব্লগ পড়ার আগে একটা অ্যালার্ট প্রয়োজন - সিউল রায়হান
- Google AdSense ... ওয়েব থেকে আয়-উপার্জন (১) - ত্রিভুজ
- যারা অনুবাদকৃত কোরআন এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ভালো WebSite Link চান, তাদের জন্য

- কঠিন চিজ
- পাহাড়ের কান্না যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন শেখ মুজিব, তাতে ঘি ঢেলেছেন জিয়া, ফু দিচ্ছেন খালেদা, ষড়যন্ত্রে পাকা খেলোয়ার আছে একটি বাহিনী, আছে বাঙালি নামে একদল পরগাছা সেটেলার শিখন্ডি। শেখ হাসিনা কি তা নিভাতে পারবেন? আমার দুটো প্রস্তাব - মধুখোর
- নারকীয় কিংবা নাটকীয় হ্যাকারদের দুর্দিন : সুসংবাদ না দুঃসংবাদ? - ফিউশন ফাইভ
- ব্লগার সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার-এর বিড়াল মারা প্রসঙ্গে আমার নিজস্ব কিছু কথা - স্পেলবাইন্ডার
- বিভিন্ন ধরনের গুগল বট এবং এগুলো যেভাবে কাজ করে - ইমতিয়াজ মাহমুদ সজিব
- এখানে রুবিক্স কিউব মিলান শেখান হয় - ১

- সানুনয়
- আমি এখন শহুরে আদলে গড়া অন্য মানুষ। - রাজসোহান
- ২৪ বছর ধরে আমি যা ভুল জানতাম..শেখ কামাল কি কারনে মেজর ডালিমের বউকে হাইজ্যাক করেছিল !!!???? - সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার
- মন্তব্য করতে আমাকে ব্যবহার করুন একা একা ভালো লাগছে না তাই শেয়ার করলাম - মাসুদ চৌধুরী
- আমার ফটোগ্রাফী শেখা -৩ - ওরাকল
- ফটোগ্রাফির অষ্টম পাঠ - ফয়সাল আকরাম
- জহির রায়হান অন্তর্ধান নাকি হত্যাকান্ড? -১ - ইবনে সালাম
- এক ক্লিকে কম্পিউটারের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করুন! (Ultimate XP Tweak) - সাইফ সামির
- আপনি কি বাংলাদেশের সবগুলা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জানেন...?? বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ওয়েবসাইট লিংক ও ক্যাম্পাসের ছবি সহ..। - সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার
- বউয়ের যত্ন নিন, নিলে কতটুকু নিচ্ছেন জানুন - সালমান খান
- নাস্তিক হয়েও যেসব কারণে মুহম্মদ সা: কে খুব শ্রদ্ধা করি ...... (৩য় পর্ব) - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ডিজিটাল ক্যামেরা কিনবেন? বেছে নিন নতুন প্রযুক্তি! - বিডি আইডল
- সামহোয়ারইনের যত্তসব অপশনের ব্যাবচ্ছেদ - কাঙাল মামা
- আজ থেকে শুরু হল ফিনল্যান্ডে Autumn 2010 এর জন্য আবেদন করার সময় - বিডিআর
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ লিংকস যা আপনার কাজে লাগবে সবসময় - 'লেনিন'
- বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি/স্কলারশীপ এবং (প্রস্তুতি পর্ব) - রাগ ইমন
- সাইফ সামির নির্বাচিত ২০০৯ সালের সেরা ১০টি মুভি+১৫টি রানার্স-আপ মুভি এবং সবচেয়ে হতাশাজনক মুভির তালিকা - সাইফ সামির
- ছবি,ইউটিউব ভিডিও, ইমোকটিন,লিঙ্ক যোগ করবেন কিভাবে?? ভিডিও টিউটেরিয়াল সহ একটি টেকি পোস্ট - মাসুদ চৌধুরী
- উইন্ডোজ ৭ এর 'গডমোড' - অািম বাবু
- সামু ব্লগে ভাইরাস নিয়ে যত পোষ্ট (একটি গো +এষণা মূলক পুষ্ট) - নিরব হাসি
- আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা: একটি বিশ্লেষণ - ২ - এস. এম. রায়হান
- আপনার কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে


কি করবেন...... !!!??? (পর্ব ১) - সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার
- বদলে ফেলুন আপনার Facebook এর চেহারা !!!!!!!
- হাসান জোবায়ের
- মজার লেখাগুলো... - আহাসান
- প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানতে ভেরিয়েশন আনুন(.--. .-. .. --- .--- --- -. -.- .- ... ..- ...- .- ... -.-. .... .- .--- .- -. .- - .- ...- .- .-. .. .- - .. --- -. .- -. ..- -. )..!! উইশ করুন মোর্স কোড এ ..
- সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার
- ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভান্ডার থেকে আপনার কাঙ্খিত তথ্যটি খুঁজে পাওয়ার কয়েকটি সহজ এবং ইউসফুল ট্রিক্স। - হোরাস্
- বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ঠিকানা - একরামুল হক শামীম
- ২০০৯ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-৪) - নিরব হাসি
- পেনড্রাইভ থেকে পিসিতে ভাইরাস ঢোকবার পথটাই বন্ধ করে দিন - মোঃ রফিকুল আলম (পাভেল)
- সকল ব্লগারের নামের লিস্ট ও লিংক এক জায়গায় জড়ো করা হচ্ছে, আপনারা সহযোগীতা করুন - বহুরূপী মহাজন
- নাস্তিকদের নৈতিক রূপ কি এসব করা??? - কঠিন চিজ
- ক্যামেরা কিনবেন কে কে ? - নক্ষত্রের কান্না
- মাত্র ৫ মিনিটে তৈরি করুন ম্যাট্রিক্স ওয়ালপেপার...... - তারেকবিডি
- ইত্যাদির বাংলিশ কালেকশনগুলান একসাথে দেখি আর ব্যাপক মজাক লুইটা নেই
- সীমানা ছাড়িয়ে
- Software ছাড়াই ইমেজ এডিট করা ২০ টি সাইট - ফাহিম রেজা
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- ১০০০০০ ই-বইয়ের ভুবনে স্বাগতম
- ইন্ঞ্জিনিয়ার
- আসুন জেনে রাখি-২: কিভাবে পাসপোর্ট তৈরি করবেন - নিরব হাসি
- একটি মামাবাড়ির আবদার ~ তথা ~ দাতা হাতেম তাই ~ তথা ~ হাজী মুহম্মদ মুহসীন টাইপ পোস্ট (লিংকদাতা পোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- যেকোন Webpage থেকে বিজ্ঞাপন অপসারন করুন, বিজ্ঞাপনহীন ওয়েবের জগতে আপনাকে স্বাগতম! (রিপোস্ট)
- নাফিস ইফতেখার
- বড়দের সেরা ২০ ছবি - শওকত হোসেন মাসুম
- মোবাইলে ইন্টারনেটের চাহিদা পূরণ (সফটওয়্যারের ফিচার ও লিংকসহ)
- নাফিস ইফতেখার
- ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের জগতে আপনাকে স্বাগতম (অনেকগুলো সফটওয়্যারের বর্ননাসহ ডাউনলোড লিংক) - নাফিস ইফতেখার
- রোমান্টিকতায় মেতে ওঠার ৬০ টিপস - তামিম
- কিভাবে অনলাইনে টাকা উপার্জন শুরু করবেন (পর্ব এক) - হাসান
- মজার একটা সাইট শেয়ার না করে পারলাম না
- নিঃসঙ্গ
- ফ্রীতে নিজের একটা সাইট করুন ডমেইন সহ সবেই ফ্রী... - নিঃসঙ্গ
- সহজেই ব্যবহার করুন আমেরিকা, ইল্যান্ড এর IP adress আর লুকান বর্তমান Ip Adress - সজীব রহমান
- যারা আইবিএ-তে ভর্তি পরীক্ষা দিবেন তাদের জন্য উপদেশনামা!! - নরাধম
- একটি Converter দিয়ে Convert করুন সব কিছু। - কাজু
- আমার প্রিয় কিছু মোবাইল সফটওয়্যার - মাহমুদ সিএসই
- কিছু প্রয়োজনীয় Google Seacrh টিপস n' টার্মস
- নাফিস ইফতেখার
- ভিডিও ডাউনলোড করার ৫টি জনপ্রিয় ওয়েবটুলস, সম্পূর্ন ফ্রী… - তারেকবিডি
- ব্লক করা যে কোন সাইটঃ ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি ব্রাউজ করুন সহজে - বিডি আইডল
- ডোমেইন নেম ও ওয়েব হোস্টিংয়ের বিস্তারিত- ১ - মোঃ শরিফুল ইসলাম সবুজ
- ফটোগ্রাফির কিছু কথা - বিবর্তনবাদী
- কীবোর্ডের সমস্যা হলেও পাসওয়ার্ড লিখে কম্পিউটার ওপেন করার উপায় - মোঃ শরিফুল ইসলাম সবুজ
- "Resume Maker Pro v.11" চাকুরী প্রার্থীদের জন্য একটি আদর্শ সফটওয়ার। - লুলুপাগলা
- যৌবনবতী ক্ষেতের যৌন কেচ্ছা এবং কবি ও বালিকাদ্বয়... - পান্থ বিহোস
- একটি চরম বাটপাড়িমূলক পোষ্ট!!! - জেনুইন করুন আপনার প্রায় সকল প্রকার উইন্ডোজ(উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ভিসতা এবং উইন্ডোজ সেভেন)। - নির্ভয় নির্ঝর
- পুরনো পাসওয়ার্ড না জেনেই নিমেষের মধ্যে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলুন!! - প্রতিচ্ছবি
- যদি ফেসবুক সহ আরো সাইট ব্যান হয়, তাহলে কী করবেন? - ত্রিভুজ
- আগামীবার যখন উইন্ডোজ নতুন করে সেটআপ দেবেন....... - নাফিস ইফতেখার
- কয়েকটা মুভির নাম কি দিতে পারেন?
(১৮+) - লুলুপাগলা
- ১৮+ কৌতুক প্লিজ ব্যান করবেন না, অথবা করার ইচ্ছা থাকলে ,একটা কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠাবেন।এক্সট্রিমলি ম্যাচিউরডদের জন্য। - বিলাল
- বাংলাদেশের প্রায় সকল পর্যটন স্হানের ছবি ব্লগের সংকলন (শত তম পোষ্ট ) - শ।মসীর
- Rapidshare থেকে FREE Download করার সেরা উপায় ? - স্স্পরসের বাহিরে
- ফ্রীতে নিজের একটা ওয়েবসাইট তৈরি করুন !!

- ইসানুর
- আয় করুন Google Adsense এর মাধ্যমে - গাজী মো: সাইফুল ইসলাম
- ~*~*~IP দিয়ে খুজে বেড় করুন যাকে খুজছেন তার অবস্থান!!~*~*~ - এ. এস. এম. রাহাত খান
২৪ বছর ধরে আমি যা ভুল জানতাম..শেখ কামাল কি কারনে মেজর ডালিমের বউকে হাইজ্যাক করেছিল !!!????
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০২
ছোট বেলা থেকেই মেজর ডালিমের প্রতি আমার একটু সহানুভুতি কাজ করতো, মাঝে মাঝে মনে হতো মেজর ডালিম ঠিক কাজটিই করেছে।
![]()
(মেজর ডালিম)
দুইটা ব্যাপার তার প্রতি আমার সহানুভুতি তৈরিতে কাজ করেছে
প্রথমত : আমি কাউকে দোষারোপ করার আগে আমি চিন্তা করি তার জায়গায় আমি হলে কি করতাম, আমি মনে করি আমার অল্প কয়েকটা ভালো গুনের মধ্যে এটা অন্যতম।
দ্বিতীয়ত : এটাই মুলত প্রধান কারন সেটা হলো আমি জানতাম বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামাল মেজর ডালিমের বউকে হাইজ্যাক করেছে। আমি কল্পনা করতাম প্রবল ক্ষমতাধর শেখ কামালের কাছে মেজর ডালিমের অসহায়ত্ব। সেই সাথে আমি নিজেও কিছুটা অসহায় ফিল করতাম।
এই তথ্যটা যে ভয়াবহ রকমের অপপ্রচার তা আমি বুঝতে পেরেছি কয়েকদিন আগে "আমার ব্লগ" এর একটি ব্লগ পড়ে। তারপর আমার নিজের প্রতি নিজেরই রাগ হয়েছিলো। তারপর আমার মনে হয়েছিলো সবাই মনে হয় এই তথ্যটা এখন জানে। কিন্তু আমার ভুল ভেঙ্গেছে গতকাল। অফিসের গাড়িতে করে আমি আর আমার এক কলিগ বাসায় ফিরছি। মাঝখানে আলোচনা উঠলো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাসি নিয়ে। ড্রাইভারও আমাদের সাথে অংশগ্রহন করলো। ড্রাইভারের ভাষ্যমতে : বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ফলে সেই সময়ের লোকজনেরা নাকি খুশি হয়েছিলো কারন হিসেবে সে দেখাচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর ছেলেদের এবং তার তৈরি রক্ষী বাহিনীর দ্বারা সাধারন মানুষের উপর অত্যাচার এবং বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামাল কতৃক মেজর ডালিমের বউকে হাইজ্যাকের প্রসঙ্গও উঠে এসেছিলো। আমি যতই প্রতিবাদ করি তার উত্তর সেই সময়ে সে ছিলো আর আমার জন্মই তার ১৩-১৪ বছর পরে ![]()
। সুতরাং সে আসল সত্যটি জানে। ড্রাইভার বলে আমি তেমন গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু আজকে অফিসে এসে কয়েকজন কলিগকেও এই ব্যাপারে ব্লেইম করতে দেখি তখন আমি সত্যি অবাক হলাম যে এত বড় একটা মিথ্যা অপপ্রচার মানুষের মাঝে এইভাবে ছড়াইছে কিভাবে???
![]()
(শেখ কামাল)
যাই হোক এবার মূল প্রসঙ্গে আসি, সেই ব্লগে লেখক শুধু প্রশ্ন করেছিলো, মূল তথ্য পাওয়া গেছে মন্তব্যে।আমি মন্তব্যগুলোর মূল অংশ এখানে দিলাম, মূল লেখার লিংক সবশেষে দেয়া হল:
" মেজর ডালিম (পরে লে. কর্নেল) এর লিখিত গ্রন্থ "যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি"( লিংক http://www.majordalimbangla.net/71.html বা http://www.majordalim.com/ ) এর সুত্র মতে, ঘটনার সাথে শেখ কামাল জড়িত নন । এখানে তার বই থেকে ঘটনা তুলে দেয়া হলো :
রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা নিম্মী এবং আমাকে বন্দুকের মুখে লেডিস ক্লাব থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ঘটে এক বর্বরোচিত অকল্পনীয় ঘটনা। দুস্কৃতিকারী দমন অভিযানে সেনাবাহিনী তখনও সারাদেশে নিয়োজিত। আমার খালাতো বোন তাহ্মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই। বিয়ের দু’দিন আগে ঢাকায় এলাম কুমিল্লা থেকে। ঢাকা লেডিস ক্লাবে বিয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই বিয়েতে অনেক গন্যমান্য সামরিক এবং বেসামরিক লোকজন বিশেষ করে হোমরা-চোমরারা এসেছিলেন অতিথি হিসেবে। পুরো অনুষ্ঠানটাই তদারক করতে হচ্ছিল নিম্মী এবং আমাকেই। আমার শ্যালক বাপ্পি ছুটিতে এসেছে ক্যানাডা থেকে। বিয়েতে সেও উপস্থিত। বিয়ের কাজ সুষ্ঠভাবেই এগিয়ে চলেছে। রেডক্রস চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফার পরিবারও উপস্থিত রয়েছেন অভ্যাগতদের মধ্যে। বাইরের হলে পুরুষদের বসার জায়গায় বাপ্পি বসেছিল। তার ঠিক পেছনের সারিতে বসেছিল গাজীর ছেলেরা। বয়সে ওরা সবাই কমবয়সী ছেলে-ছোকরা। বাপ্পি প্রায় আমার সমবয়সী। হঠাৎ করে গাজীর ছেলেরা পেছন থেকে কৌতুকচ্ছলে বাপ্পির মাথার চুল টানে, বাপ্পি পেছনে তাকালে ওরা নির্বাক বসে থাকে। এভাবে দু’/তিনবার চুলে টান পড়ার পর বাপ্পি রাগান্বিত হয়ে ওদের জিজ্ঞেস করে,
-চুল টানছে কে?
-আমরা পরখ করে দেখছিলাম আপনার চুল আসল না পরচুলা। জবাব দিল একজন। পুচঁকে ছেলেদের রসিকতায় বাপ্পি যুক্তিসঙ্গত কারণেই ভীষণ ক্ষেপে যায়; কিন্তু কিছুই বলে না। মাথা ঘুরিয়ে নিতেই আবার চুলে টান পরে। এবার বাপ্পি যে ছেলেটি চুলে টান দিয়েছিল তাকে ধরে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলে,
-বেয়াদপ ছেলে মশকারী করার জায়গা পাওনি? খবরদার তুমি আর ঐ জায়গায় বসতে পারবে না। এ কথার পর বাপ্পি আবার তার জায়গায় ফিরে আসে। এ ঘটনার কিছুই আমি জানতাম না। কারণ তখন আমি বিয়ের তদারকি এবং অতিথিদের নিয়ে ভীষণভাবে ব্যস্ত। বিয়ের আনুষ্ঠিকতার প্রায় সবকিছুই সুষ্ঠভাবেই হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়ার পর্বও শেষ। অতিথিরা সব ফিরে যাচ্ছেন। সেদিন আবার টেলিভিশনে সত্যজিৎ রায়ের পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি ‘মহানগর’ ছবিটি দেখানোর কথা; তাই অনেকেই তাড়াতাড়ি ফিরে যাচ্ছেন ছবিটি দেখার জন্য। অল্প সময়ের মধ্যেই লেডিস ক্লাব প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল। মাহবুবের আসার কথা। মানে এসপি মাহবুব। আমাদের বিশেষ ঘনিষ্ট বন্ধুদের একজন। আমরা সব একইসাথে যুদ্ধ করেছি স্বাধীনতা সংগ্রামে। কি এক কাজে মানিকগঞ্জ যেতে হয়েছিল তাকে। ওখান থেকে খবর পাঠিয়েছে তার ফিরতে একটু দেরী হবে। ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনরা সবেমাত্র তখন খেতে বসেছি। হঠাৎ দু’টো মাইক্রোবাস এবং একটা কার এসে ঢুকল লেডিস ক্লাবে। কার থেকে নামলেন স্বয়ং গাজী গোলাম মোস্তফা আর মাইক্রোবাস দু’টো থেকে নামল প্রায় ১০-১২ জন অস্ত্রধারী বেসামরিক ব্যক্তি। গাড়ি থেকেই প্রায় চিৎকার করতে করতে বেরুলেন গাজী গোলাম মোস্তফা।
-কোথায় মেজর ডালিম? বেশি বার বেড়েছে। তাকে আজ আমি শায়েস্তা করব। কোথায় সে? আমি তখন ভেতরে সবার সাথে খাচ্ছিলাম। কে যেন এসে বলল গাজী এসেছে। আমাকে তিনি খুঁজছেন। হঠাৎ করে গাজী এসেছেন কি ব্যাপার? ভাবলাম বোধ হয় তার পরিবারকে নিয়ে যেতে এসেছেন তিনি। আমি তাকে অর্ভ্যথনা করার জন্য বাইরে এলাম। বারান্দায় আসতেই ৬-৭জন স্টেনগানধারী আমার বুকে-পিঠে-মাথায় তাদের অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘিরে দাড়াল। ঘটনার আকস্মিকতায় আমিতো হতবাক! কিছুটা অপ্রস্তুতও বটে। সামনে এসে দাড়ালেন স্বয়ং গাজী। আমি অত্যন্ত ভদ্রভাবে তাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-ব্যাপার কি? এ সমস্ত কিছুর মানেই বা কি?
তিনি তখন ভীষণভাবে ক্ষীপ্ত। একনাগাড়ে শুধু বলে চলেছেন,
-গাজীরে চেন না। আমি বঙ্গবন্ধু না। চল্ শালারে লইয়া চল্। আইজ আমি তোরে মজা দেখামু। তুই নিজেরে কি মনে করছস?
অশালীনভাবে কথা বলছিলেন তিনি। আমি প্রশ্ন করলাম,
-কোথায় কেন নিয়ে যাবেন আমাকে?
আমার প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে তিনি নির্দেশ দিলেন তার অস্ত্রধারী অনুচরদের। তার ইশারায় অস্ত্রধারীরা সবাই তখন আমাকে টানা-হেচড়া করে মাইক্রোবাসের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। বিয়ের উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বন্দোবস্ত করা হয়েছে; গাড়িতে আমার এস্কট সিপাইরাও রয়েছে। ঠিক বুঝতে পারছিলাম না কি করা উচিত। একটা বিয়ের অনুষ্ঠান। কন্যা দান তখনও করা হয়নি। কি কারণে যে এমন অদ্ভুত একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হল সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ দেখলাম বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আলম এবং চুল্লুকে মারতে মারতে একটা মাইক্রোবাসে উঠালো ৩-৪ জন অস্ত্রধারী। ইতিমধ্যে বাইরে হৈ চৈ শুনে নিম্মী এবং খালাম্মা মানে তাহমিনার আম্মা বেরিয়ে এসেছেন অন্দরমহল থেকে।
খালাম্মা ছুটে এসে গাজীকে বললেন,
-ভাই সাহেব একি করছেন আপনি? ওকে কেন অপদস্ত করছেন?
কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে? কি দোষ করেছে ও?
গাজী তার কোন কথারই জবাব দিলেন না। তার হুকুমের তামিল হল। আমাকে জোর করে ঠেলে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বাসে উঠে দেখি আলম ও চুল্লু দু’জনেই গুরুতরভাবে আহত। ওদের মাথা এবং মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। আমাকে গাড়িতে তুলতেই খালাম্মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,
-ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।
-ঠিক আছে; তবে তাই হবে। বললেন গাজী।
গাজীর ইশারায় ওদেরকেও ধাক্কা দিয়ে উঠান হল মাইক্রোবাসে। বেচারী খালাম্মা! বয়স্কা মহিলা, আচমকা ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়লেন মাইক্রোবাসের ভিতরে। আমার দিকে অস্ত্রতাক করে দাড়িয়ে থাকলো পাঁচজন অস্ত্রধারী; গাজীর সন্ত্রাস বাহিনীর মাস্তান। গাজী গিয়ে উঠল তার কারে। বাকি মাস্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটা কোথায় যেন চলে গেল। মাইক্রোবাস দুইটি ছিল সাদা রং এর এবং তাদের গায়ে ছিল রেডক্রসের চিহ্ন আঁকা। গাজীর গাড়ি চললো আগে আগে আর আমাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি চললো তার পেছনে। এসমস্ত ঘটনা যখন ঘটছিল তখন আমার ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হক স্বপন বীর বিক্রম ও বাপ্পি লেডিস ক্লাবে উপস্থিত ছিল না। তারা গিয়েছিল কোন এক অতিথিকে ড্রপ করতে। আমাদের কাফেলা লেডিস কা্লব থেকে বেরিয়ে যাবার পর ওরা ফিরে এসে সমস্ত ঘটনা জানতে পারে লিটুর মুখে। সবকিছু জানার পরমুহুর্তেই ওরা যোগাযোগ করল রেসকোর্সে আর্মি কন্ট্রোল রুমে তারপর ক্যান্টনমেন্টের এমপি ইউনিটে। ঢাকা ব্রিগেড মেসেও খবরটা পৌঁছে দিল স্বপন। তারপর সে বেরিয়ে গেল ঢাকা শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের খুঁজে বের করার জন্য। আবুল খায়ের লিটু আমার ছোট বোন মহুয়ার স্বামী এবং আমার বন্ধু। ও ছুটে গেল এসপি মাহবুবের বাসায় বেইলী রোডে। উদ্দেশ্য মাহবুবের সাহায্যে গাজীকে খুঁজে বের করা।
এদিকে আমাদের কাফেলা গিয়ে থামল রমনা থানায়। গাজী তার গাড়ি থেকে নেমে চলে গেল থানার ভিতরে। অল্প কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসলেন গাজী। কাফেলা আবার চলতে শুরু করল। কাফেলা এবার চলছে সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে। ইতিমধ্যে নিম্মী তার শাড়ী ছিড়ে চুল্লু ও আলমের রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ব্যান্ডেজ বেধে দিয়েছে। সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে দেখে আমি চিন্তিত হয়ে পড়লাম। গাজীর মনে কোন দুরভিসন্ধি নেইতো? রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে নাতো? ওর পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। কিছু একটা করা উচিত। হঠাৎ আমি বলে উঠলাম,
-গাড়ি থামাও!
আমার বলার ধরণে ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল। আমাদের গাড়িটা থেমে পড়ায় সামনের গাজীর গাড়িটাও থেমে পড়ল। আমি তখন অস্ত্রধারী একজনকে লক্ষ্য করে বললাম গাজী সাহেবকে ডেকে আনতে। সে আমার কথার পর গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে গাজীকে গিয়ে কিছু বলল। দেখলাম গাজী নেমে আসছে। কাছে এলে আমি তাকে বললাম,
-গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।
আমার কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে তিনি আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ৩২নং ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম। কলাবাগান দিয়ে ৩২নং রোডে ঢুকে আমাদের মাইক্রোবাসটা শেখ সাহেবের বাসার গেট থেকে একটু দূরে এলকটা গাছের ছায়ায় থামতে ইশারা করে জনাব গাজী তার গাড়ি নিয়ে সোজা গেট দিয়ে ঢুকে গেলেন ৩২নং এর ভিতরে। সেকেন্ড ফিল্ড রেজিমেন্ট তখন শেখ সাহেবের বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। একবার ভাবলাম ওদের ডাকি, আবার ভাবলাম এর ফলে যদি গোলাগুলি শুরু হয়ে যায় তবে ক্রস-ফায়ারে বিপদের ঝুঁকি বেশি। এ সমস্তই চিন্তা করছিলাম হঠাৎ দেখি লিটুর ঢাকা ক-৩১৫ সাদা টয়োটা কারটা পাশ দিয়ে হুস্ করে এগিয়ে গিয়ে শেখ সাহেবের বাসার গেটে গিয়ে থামল। লিটুই চালাচ্ছিল গাড়ি। গাড়ি থেকে নামল এসপি মাহবুব। নেমেই প্রায় দৌড়ে ভিতরে চলে গেল সে। লিটু একটু এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষায় রইলো সম্ভবত মাহ্বুবের ফিরে আসার প্রতীক্ষায়। লিটু এবং মাহ্বুবকে দেখে আমরা সবাই আস্বস্ত হলাম। র্নিঘাত বিপদের হাত থেকে পরম করুণাময় আল্লাহ্’তায়ালা আমাদের বাচিঁয়ে দিলেন।
লিটু যখন মাহ্বুবের বাসায় গিয়ে পৌঁছে মাহবুব তখন মানিকগঞ্জ থেকে সবেমাত্র ফিরে বিয়েতে আসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। হঠাৎ লিটুকে হন্তদন্ত হয়ে উপরে আসতে দেখে তার দিকে চাইতেই লিটু বলে উঠল,
-মাহ্বুব ভাই সর্বনাশ হয়ে গেছে। বিয়ে বাড়ি থেকে গাজী বিনা কারণে ডালিম-নিম্মীকে জবরদস্তি গান পয়েন্টে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।
একথা শুনে মাহবুব স্তম্ভিত হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীকেই খবরটা সবচেয়ে আগে দেওয়া দরকার কোন অঘটন ঘটে যাবার আগে। গাজীর কোন বিশ্বাস নাই; ওর দ্বারা সবকিছুই সম্ভব। মাহবুব টেলিফোনের দিকে এগিয়ে যায়। হঠাৎ টেলিফোনটাই বেজে উঠে। রেড টেলিফোন। মাহবুব ত্রস্তে উঠিয়ে নেয় রিসিভার। প্রধানমন্ত্রী অপর প্রান্তে,
-মাহবুব তুই জলদি চলে আয় আমার বাসায়। গাজী এক মেজর আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ধইরা আনছে এক বিয়ার অনুষ্ঠান থ্যাইকা। ঐ মেজর গাজীর বউ-এর সাথে ইয়ার্কি মারার চেষ্টা করছিল। উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। বেশি বাড় বাড়ছে সেনাবাহিনীর অফিসারগুলির।
সব শুনে মাহবুব জানতে চাইলো,
-স্যার গাজী সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন মেজর ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের কোথায় রেখেছেন তিনি?
-ওদের সাথে কইরা লইয়া আইছে গাজী। গেইটের বাইরেই গাড়িতে রাখা হইছে বদমাইশগুলারে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী।
-স্যার গাজী সাহেব ডালিম আর নিম্মীকেই তুলে এনেছে লেডিস ক্লাব থেকে। ওখানে ডালিমের খালাতো বোনের বিয়ে হচ্ছিল আজ। জানাল মাহবুব।
-কছ কি তুই! প্রধানমন্ত্রী অবাক হলেন।
-আমি সত্যিই বলছি স্যার। আপনি ওদের খবর নেন আমি এক্ষুণি আসছি।
এই কথোপকথনের পরই মাহবুব লিটুকে সঙ্গে করে চলে আসে ৩২নং ধানমন্ডিতে। মাহ্বুবের ভিতরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই রেহানা, কামাল ছুটে বাইরে এসে আমাদের ভিতরে নিয়ে যায়। আলম ও চুল্লুর রক্তক্ষরণ দেখে শেখ সাহেব ও অন্যান্য সবাই শংকিত হয়ে উঠেন।
-হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। খালাম্মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। কামাল, রেহানা ওরা সবাই ধরাধরি করে ওদের উপরে নিয়ে গেল। শেখ সাহেবের কামরায় তখন আমি, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শেখ সাহেব ওকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। অদূরে গাজী ভেজা বেড়ালের মত কুকড়ে দাড়িয়ে কাঁপছিল। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। রেড ফোন। শেখ সাহেব নিজেই তুলে নিলেন রিসিভার। গাজীর বাসা থেকে ফোন এসেছে। বাসা থেকে খবর দিল আর্মি গাজীর বাসা রেইড করে সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয় সমস্ত শহরে আর্মি চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি চেক করছে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে কিডন্যাপিং এর খবর পাওয়ার পরপরই ইয়ং-অফিসাররা যে যেখনেই ছিল সবাই বেরিয়ে পড়েছে এবং খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিম্মীকে। সমস্ত শহরে হৈচৈ পড়ে গেছে। গাজীরও কোন খবর নেই। গাজীকে এবং তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরও খুঁজছে আর্মি তন্নতন্ন করে সম্ভাব্য সব জায়গায়। টেলিফোন পাওয়ার পর শেখ সাহেবের মুখটা কালো হয়ে গেল। ফোন পেয়েই তিনি আমাদের সামনেই আর্মি চীফ শফিউল্লাহকে হটলাইনে বললেন,
-ডালিম, নিম্মী, গাজী সবাই আমার এখানে আছে, তুমি জলদি চলে আসো আমার এখানে।
ফোন রেখে শেখ সাহেব গাজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
-মাফ চা নিম্মীর কাছে।
গাজী শেখ সাহেবের হুকুমে নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠল নিম্মী,
-খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।
এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,
-কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা জাতির কর্ণধার হয়ে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুন্ঠিত করে তাদের গায়ে হাত দেয়ার মত সাহস কম্বলচোর গাজী পায় কি করে? এর উপযুক্ত জবাব আমি আজ চাই আপনার কাছ থেকে। আজ পর্যন্ত আপনি বলতে পারবেন না ব্যক্তিগতভাবে কোন কিছু চেয়েছি আপনার কাছে কিন্তু আজ দাবি করছি ন্যায্য বিচার। আপনি যদি এর বিচার না করেন তবে আমি আল্লাহ্র কাছে এই অন্যায়ের বিচার দিয়ে রাখলাম। তিনি নিশ্চয়ই এর বিচার করবেন।
আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন নিম্মীকে শান্ত করতে পারিনি। ঠান্ডা মেজাজের কোমল প্রকৃতির নিম্মীর মধ্যেও যে এধরণের আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে সেটা আমার কাছেও আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। শেখ সাহেব নিম্মীর কথা শুনে ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,
-মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা-রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ। বলেই রেহানাকে ডেকে তিনি নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।
রেহানা এসে নিম্মীকে উপরে নিয়ে গেল। ইতিমধ্যে জেনারেল শফিউল্লাহ এবং ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার সাফায়াত জামিল এসে পৌঁছেছে। শেখ সাহেব তাদের সবকিছু খুলে বলে জেনারেল শফিউল্লাকে অনুরোধ করলেন গাজীর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করতে। জেনারেল শফিউল্লাহ রেসকোর্স কন্ট্রোল রুমে অপারেশন কমান্ডার মেজর মোমেনের সাথে কথা বলার জন্য টেলিফোন তুলে নিলেন,
-হ্যালো মোমেন, আমি শফিউল্লাহ বলছি প্রাইম মিনিষ্টারের বাসা থেকে। ডালিম, নিম্মী, গাজী ওরা সবাই এখানেই আছে। প্রাইম মিনিষ্টারও এখানেই উপস্থিত আছেন। Everything is going to be all right. Order your troops to stand down এবং গাজী সাহেবের পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দাও। অপরপ্রান্ত থেকে মেজর মোমেন জেনারেল শফিউল্লাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন কিডন্যাপ করে নিয়ে যাওয়া অফিসার এবং তার স্ত্রীকে না দেখা পর্যন্ত এবং গাজী ও তার ১৭জন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তার হাতে সমর্পন না করা পর্যন্ত তার পক্ষে গাজীর পরিবারের কাউকেই ছাড়া সম্ভব নয়। শফিউল্লাহ তাকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলেন কিন্তু মেজর মোমেন তার অবস্থানে অটল থাকলেন শফিউল্লাহর সব যুক্তিকে অসাড় প্রমাণিত করে। অবশেষে শফিউল্লাহ ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অপারেশন কমান্ডার এর শর্তগুলো জানালেন। শেখ সাহেবের মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন মেজর মোমেনের সাথে কথা বলতে। আমি অগত্যা টেলিফোন হাতে তুলে নিলাম,
-হ্যালো স্যার। মেজর ডালিম বলছি। Things are under control প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন তিনি ন্যায় বিচার করবেন।
- Well Dalim it’s nice to hear from you. But as the Operation Commander I must have my demands met. I got to be loyal to my duty as long as the army is deployed for anti-miscreant’s drive. The identified armed miscreants cannot be allowed to go escort free. As far as I am concerned the law is equal for everyone so there can’t be any exception. Chief has got to understand this.বললেন মেজর মোমেন।
- Please Sir, why don’t you comeover and judge the situation yourself. অনুরোধ জানিয়েছিলাম আমি।
- There is no need for me to come. However, I am sending Capt. Feroz. বলে ফোন ছেড়ে দিলেন মেজর মোমেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই ক্যাপ্টেন ফিরোজ এসে পড়ল। ফিরোজ আমার বাল্যবন্ধু। এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরল।
-তুই গাজীরে মাফ কইরা দে। আর গাজী তুই নিজে খোদ উপস্থিত থাকবি কন্যা সম্প্রদানের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত। অনেকটা মোড়লী কায়দায় একটা আপোষরফা করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
-আমার বোনের সম্প্রদানের জন্য গাজীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। ওকে মাফ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেটা হবে আমার জন্য নীতি বিরোধিতা। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি রক্তের বিনিময়ে। আমাদের গা থেকে রক্ত ঝরাটা কোন বড় ব্যাপার নয়। ইউনিফর্মের চাকুরি করি টাকা-পয়সার লোভেও নয়। একজন সৈনিক হিসাবে আমার আত্মমর্যাদা এবং গৌরবকে অপমান করেছেন গাজী নেহায়েত অন্যায়ভাবে। আপনিই আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। অবৈধ অস্ত্রধারীদের খুঁজে বের করে আইনানুযায়ী তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে। সেখানে আজ আমাদেরই ইজ্জত হারাতে হল অবৈধ অস্ত্রধারীদের হাতে! আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কথা দিয়েছেন এর উচিত বিচার করবেন। আমরা আপনি কি বিচার করেন সেই অপেক্ষায় থাকব।
ক্যাপ্টেন ফিরোজকে উদ্দেশ্য করে সবার সামনেই বলেছিলাম, দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বিচারের ওয়াদা করেছেন সেক্ষেত্রে গাজীর পরিবারের সদস্যদের আর আটকে রাখার প্রয়োজন কি? কর্নেল মোমেনকে বুঝিয়ে তাদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করিস।
সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসছিলাম ঠিক সেই সময় শেখ সাহেব বললেন,
-আমার গাড়ি তোদের পৌঁছে দেবে।
-তার প্রয়োজন হবে না চাচা। বাইরে লিটু-স্বপনরা রয়েছে তাদের সাথেই চলে যেতে পারব।
বাইরে বেরিয়ে দেখি ৩২নং এর সামনের রাস্তায় গাড়ির ভীড়ে তিল ধারণের ঠাই নেই। পুলিশ অবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বন্ধু-বান্ধবরা যারাই জানতে পেরেছে আমাদের কিডন্যাপিং এর ব্যাপারটা; তাদের অনেকেই এসে জমা হয়েছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে। আমাদের দেখে সবাই ঘিরে ধরল। সবাই জানতে চায় কি প্রতিকার করবেন প্রধানমন্ত্রী এই জঘণ্য অপরাধের। সংক্ষেপে যতটুকু বলার ততটুকু বলে ফিরে এলাম লেডিস ক্লাবে। মাহবুবও এল সাথে। মাহবুবের উছিলায় সেদিন রক্ষা পেয়েছিলাম চরম এক বিপদের হাত থেকে আল্লাহ্পাকের অসীম করুণায়। বিয়ের আসরে আমরা ফিরে আসায় পরিবেশ আবার আনন্দ-উচ্ছাসে ভরে উঠল। সবাই আবার হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে বিয়ের বাকি আনুষ্ঠিকতা সম্পন্ন করে কন্যা সম্প্রদান করা হল। তাহমিনার বিয়ের রাতটা আওয়ামী দুঃশাসনের একটা ঐতিহাসিক সাক্ষী হয়ে থাকলো। জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকলো আওয়ামী নেতাদের এবং তাদের ব্যক্তিগত বাহিনীর ন্যাক্কারজনক স্বেচ্ছাচার ও নিপীড়নের। কী করে এমন একটা জঘণ্য ঘটনার সাথে গাজী সরাসরি নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পেরেছিল তার কোন যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক পরে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছিলাম আমাদের কুমিল্লা অপারেশনের পর পার্টির তরফ থেকে শেখ মুজিবের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল আমাদের বিশেষ করে আমার ঔদ্ধত্বের উপযুক্ত শিক্ষা দেবার জন্য। কিন্তু শেখ মুজিব ঐ চাপের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন, “আর্মি কোন কাঁচা কাজ করে নাই। তারা আইন অনুযায়ী সবকিছু করছে, প্রত্যেককে ধরেছে হাতেনাতে প্রমাণসহ সে ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?” তার ঐ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আওয়ামী নেতাদের একাংশ। আইনের মাধ্যমে যদি কোন কিছু করা না যায় তবে অন্য কোনভাবে হলেও শিক্ষা তাদের দিতেই হবে এবং সেই দায়িত্বটাই গ্রহণ করেছিলেন সেই সময়ের Top terror and most powerful leader বলে পরিচিত গাজী গোলাম মোস্তফা। তখন থেকেই নাকি সুযোগ খুঁজছিলেন তিনি জিঘাংসা মিটাতে। বিয়ে বাড়িতে বাপ্পি এবং তার ছেলেদের মাঝে যে সামান্য ঘটনা ঘটে সেটাকেই সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে গাজী চেয়েছিল আমাকে উচিত শিক্ষা দিতে। এ বিষয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি তার বই ‘বাংলাদেশ! সামরিক শাসন এবং গণতন্ত্রের সংকট’ এ লিখেছেন, “গাজী সমর্থক লোকদের সম্ভবতঃ মেজর ডালিম ও তার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল।”
যে কথাটা প্রচারিত হয়েছে তার দুইটা পয়েন্ট হলো -
১) শেখ কামাল অপহরন করেছে।
২) ডালিমের বৌকে অপহরন করা হয়েছে।
এই দুইটাই তৈরী করা মিথ্যা। শেখ কামালৱের এখানে কোন ভুমিকা ছিলো না । আর ডালিমের বৌকে অপহরন করা হয়নি। তবে সত্যিটা হলো গাজী গোলাম মোস্তফার সাথে মেজর ডালিমের কিছু একটা গন্ডগোল ছিলো - যা শেখ মুজিব পর্যন্ত গড়িয়েছে।
মেজর ডালিমের সবগুলো লেখা/ওয়েবসাইট আতিপাতি করে খুজলেও কোথাও এর বিন্দুমাত্র সত্যতা মেলেনি। অথচ বছরের পর বছর এই মিথ্যাটা জাতির মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছ। ফলে আমার মত অনেকে যারা ভুল তথ্য জেনে মেজর ডালিমের মত কুখ্যাত খুনির প্রতি সহানুভূতি দেখায় !!!! ![]()
![]()
![]()
মূল পোষ্টে আরও অনেক অপপ্রচারের জবাব দেয়া আছে। মূল পোষ্টটি
এইখানে http://hrrh69.amarblog.com/posts/71771
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): অপপ, অপপ্রচার, শেখ কামাল, কুখ্যাত খুনি মেজর ডালিম ;
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মাসুদ রানা* বলেছেন:
আসল সত্যটা জানা জরুরী।
লেখক বলেছেন: কিন্তু এখনও যখন কেউ এই ব্যাপারে মিথ্যা ব্লেইম করে চ্যালেন্জ করে তখন খারাপ লাগে।
ধন্যবাদ
রাজিয়েল বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ। নতুন অনেক তথ্য জানলাম। মেজর ডালিমের এই বইটি পাওয়া যায়?
লেখক বলেছেন: বইটা নীলক্ষেতে পাওয়া যেতে পারে, আমি শিওর না। আপাতত মেজর ডালিমের এই সাইটটা দ্যাখেন
http://www.majordalimbangla.net/71.html
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন:
লিংক ঠিক করে দেয়া হলো। অনেক ধন্যবাদ "দি ফিউরিয়াস ওয়ান" ।
হুমায়ুন_কবির_হাকিম বলেছেন:
ঘটনা সত্যি হলেই ভাল।
নাজমুল আহমেদ বলেছেন:
ফাউল অপপ্রচার ছিল
লেখক বলেছেন: ফাউল অপপ্রচার ছিল, কিন্তু এই অপপ্রচারটাই সকলে সত্য বলে জানে।
ও.জামান বলেছেন:
যার কারণে এত ঘটনা, সেই গাজীর কি বিচার হয়েছিল?
লেখক বলেছেন: ঐ সময়টাতে শেখ মুজিবের অনেক লিমিটেশন ছিলো, উনি ছিলেন সম্ভবত আওয়ামীলীগের অনেক নেতাদের কাছে জিম্মি তথা অতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। তার জন্যই সম্ভবত তাকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছিলো। আর তাছাড়া সেনাবাহিনীর সাথেও তার একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো। সিনিয়র ব্লগারেরা ব্যাপারটা আরও ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবেন। তাদের অংশগ্রন কাম্য। ধন্যবাদ।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
ধন্যবাদ এরকম একটা পোস্টের জন্যে।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
বিডি আইডল বলেছেন:
..........অথচ বছরের পর বছর এই মিথ্যাটা জাতির মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছ। ............কোন মিডিয়া এই আকামটা করলো? কোন বই-পত্রিকা-টিভিতে এই প্রচারটা হয়েছে?
লেখক বলেছেন: এইটা সম্ভবত মানুষের মুখে মুখেই বেশী প্রচারিত হয়েছে।
লেখক বলেছেন: মূল পোষ্টের এই মন্তব্যটা দেখুন :
১) সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে শেখ কামাল বিয়ে করছিলো।
২) শেখ কামাল কিডন্যাপ করে সুলতানাকে বিয়ে করে ছিলো।
এই রকমের আরো অনেক গল্প মানুষকে বিশ্বাস করানো হয়েছে। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র পরিকণ্পিতভাবে এই কাজটা করেছে।
একটা বিষয় লক্ষ্য করছেন নিশ্চয় - আজ আমরা ব্লগের কল্যানে কথাগুলো বলতে পারছি। ১০ বছর আগেও শুধু বিটিভি আর রেডিও বাংলাদেশ একমাত্র প্রচার মাধ্যম ছিলো। সেইগুলো নিয়ন্ত্রন করতো সেনাশাসকরা। আর একদল মানুষ নিজের মতার্দশকে অন্ধের মতো অনুসরন করতে গিয়ে এই ধরনের গল্পকে পুঁজি হিসাবে ব্যবহার করেছে। এর ম্যধে জাসদ নামের বিপথগামী একটা দল, চীনপন্থী বামগন সাথে রাজাকার আলবদর মিলে একটা সিন্ডিকেট করে দেশের তরুনদের ভুল রাস্তায় নিয়ে গেছে। এই প্রসংগে বলা যায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ একটা অন্ধকার সময় অতিক্রম করেছে। মুক্তিযুদ্ধা রাজাকার মিলে মিশে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের নীচে একাকার হয়ে গিয়েছিলো। সেই সময়ে বেড়ে উঠা তরুনদের একটা অংশ ভুল আর শুদ্ধকে আলাদা করতে পারতো না। বলতে পারেন একটা কনফিউজড জেনারেশন তৈরী করা হয়েছে।
আমাদের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের একটা অংশের সাথে নিয়মিত বিতর্ক হতো - শেখ মুজিব রাজাকারদের মাফ করে দিয়েছেন - সুতরাং যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্ভব নয়। দিনের পর দিন তর্ক করেছি। কিন্তু কে বুঝায় কাকে।
টুটুল বরকত বলেছেন:
এখনো আওয়ামীলীগে প্রচুর “গাজী গোলাম মোস্তফা “ আছে ।শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকরা কেন জানি চুপ ।লেখক বলেছেন: সমস্যা হচ্ছে গাজী গোলাম মোস্তফার মত লোকরা অনেক শক্তিশালী হয়। তাদেরকে তাড়িয়ে দিলে দলই দুইভাগ হয়ে যাবে, এই জন্য জন্যে জেনেও হ্য়তো তারা চুপ থাকেন। উদাহরনসরুপ বি এন পি এর সাকা চৌধুরীর কথা বলা যায়। বি এন পি কি পারবে তাকে ফেলে দিতে???
লেখক বলেছেন: আমার বর্তমান রাজনীতি সম্পর্কে নলেজ খুবই কম, তাই সাকা চৌধুরীর উদাহরন দিলাম।
নীলপদ্দ বলেছেন:
ধন্যবাদ লেখাটার জন্য। আমারও এই রকমই ধারণা ছিল। আমিও কয়েক মাস আগে মেজর ডালিম এর ওয়েব এর লিঙ্ক পেয়ে সব ঘটনা পড়েছিলাম। এই ঘটনাটা হয়ত কোন বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছিল যা পড়ে বাঙ্গালীর স্বভাবমত অন্যভাবে প্রচার করা হয়েছে। যেহেতু সয়ং মেজর ডালিম লেখা কোন বই এবং তার ওয়েব সাইটেও শেখ কামালকে জড়ায়নি, তাহলে কারা করেছিল এই কাজ ?আর বঙ্গবন্ধু, গাজীর বিচার করেনি, হয়ত তাকে মারা পিছনে এটাও একটা কারন হতে পারে কিন্তু এটা একমাত্র কারন নয়, তাকে মারার পেছনে হয়ত আর বড় এবং আরও অনেক কারন থাকতে পারে। কথা হচ্ছে কি সেই কারনগুলো ?
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: বঙ্গবন্ধুর খুনিদের চেয়ে এইসব গাজী মহারাজাদের অপরাধ কোন অংশেই কম নয়। এদেরকেও শাস্তি দেয়া উচিত।
রাজিয়েল বলেছেন:
এই গাজীদের বিচার করা হলে সম্ভবত বঙ্গবন্ধুকে এভাবে মৃত্যুবরন করতে হতো না। খুবই দুঃখজনক। লেখক আপনার ঐ কমেন্টের সাথে আমিও একমত পোষন করছি: "ঐ সময়টাতে শেখ মুজিবের অনেক লিমিটেশন ছিলো, উনি ছিলেন সম্ভবত আওয়ামীলীগের অনেক নেতাদের কাছে জিম্মি তথা অতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। তার জন্যই সম্ভবত তাকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছিলো। আর তাছাড়া সেনাবাহিনীর সাথেও তার একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো।"
লেখক বলেছেন: মূল পোষ্টের একটা মন্তব্য দেখুন :
কিন্তু মেজর ডালিমের লেখায় পাই শেখ পরিবারের সাথে তাদের একটা পারিবারিক সম্পর্ক আছে। সম্পর্কটা ভালো বলেই শেখ মুজিব ডালিমকে চাকুরীচ্যুত করার পরও বাসায় ডেকে নিয়ে রাষ্ট্রদুত বা অন্যকোন ব্যবসার পরামর্শ দেয়। নিজের ভাই শেখ নাসেরের সাথে ব্যবসার কথাও বলে। ডালিম নিজেই স্বীকার করেছে তার লেখায়। শেখ মুজিবের বদান্যতার কথা ডালিমের শেখ বিরোধী লেখায়ও চলে এসেছে। (হায়, এই ডালিম শেখ মুজিব হত্যায় জড়িত হলো, একমাত্র বাঙালীই পারে অকৃজ্ঞতার এই চরম নজীর দেখাতে)
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন:
@ বিডিআইডল: আমার কেসে, আমি প্রথম শুনছি আমার মায়ের মুখ থেকে, আমি শিওর বেশীরভাগ লোকই এরকম পরিচিতজনদের কাছেই শুনেছে।কাহিনী অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক, সন্দেহ নাই (দেশের প্রধানের ছেলে, সে লুটপাট করে, রেপ করে, তারপর ঐ বীর সেনা তার প্রতিশোধ নেয়) তাই মনে হয় এটা লোকমুখে খুব প্রচার পেয়েছে।
হুলো-বেড়াল বলেছেন:
টুটুল বরকত বলেছেন: এখনো আওয়ামীলীগে প্রচুর “গাজী গোলাম মোস্তফা “ আছে ।শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকরা কেন জানি চুপ ।
লেখক বলেছেন: শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের উচিত গাজী গোলাম মোস্তফাদের মত লোকদের ছুড়ে ফেলে দেশের মত দলকেও কলঙ্কমুক্ত করা। ধন্যবাদ।
অমাবশ্যার চামচিকা বলেছেন:
এতোদিন আমিও ভুল তথ্যটা জানতাম।
লেখক বলেছেন: আমিও মাত্র কয়েকমাস আগে সত্যটা জেনেছি। ধন্যবাদ
কানা-বাবা বলেছেন:
আন্তরিক ধন্যবাদ সত্য উৎঘাটনের জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
ধীবর বলেছেন:
শেখ কামাল যে হাইজ্যাক করে নিয়ে করেছিল, সেটা আমি সেই দুর্ভাগ্যবতির ক্লাস মেটেরকাছ থেকেই শুনেছি। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া যে কেউ এই ঘটনার সাক্ষি দেবে। কালামের ঘনিশট সহযোগি আওরঙ্গ এখন জীবিত। খাতির করে আরো অনেক অজানা তথ্য পেতে পারেন। আর গাজি গোলাম মোস্তফার মত জারজ বাংলাদেশে আর একটাও জন্মেছে কিনা সন্দেহ। মরেছেও তার বাপের দেশে, দার্জিলিং এ একটা গাড়ি দুর্ঘটনায়।
লেখক বলেছেন: আপনি কি ডালিমের স্ত্রী নিম্মীর ক্লাসমেটের কাছ থেকে শুনছেন !!!??
গাজি গোলাম মোস্তফার মত জারজ বাংলাদেশে আর একটাও জন্মেছে কিনা সন্দেহ। মরেছেও তার বাপের দেশে, দার্জিলিং এ একটা গাড়ি দুর্ঘটনায়।
তথ্যের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনি নিম্মীর ক্লাসমেটের কাছথেকে শুনেছেন। নিম্মীর যদি ফার্ষ্ট পার্সন হয় তাহলে আপনি থার্ড পার্সন। একজন থার্ড পার্সনের কথার চেয়ে ফার্ষ্ট পার্সন ডালিমের কথা অনেক বিশ্বাসযোগ্য নয় কি??
http://www.majordalimbangla.net/71.html
লেখক বলেছেন: হুম দেশের ইতিহাসের এইসব অজানা তথ্য জানা আমদের দায়িত্ব কারন দেশের জন্য সবার অবদানের প্রকৃত মর্যাদা আমাদেরকেই দিতে হবে।
সোহেল সি এস ই বলেছেন:
হুমায়ুন আজাদের মতে,"ইতিহাস হচ্ছে বিজয়ীর হাতে লেখা, বিজিতের নামে একরাশ কুৎসা"।এটা আজ প্রমানিত হল। সেদিন জাতির জনক ন্যায় বিচার করতে পারেন নি বলে এ ধরনের কলংকজনক ঘটনার জন্ম।তিনি ও স্বজনপ্রিতীর ঊর্ধে উঠতে পারেন নি। আমি ডালিমের কৃতকর্মের সাফাই গাইছি না।তবে ডালিমের জায়গায় আমি হলেও এ ধরনের অপমান মেনে নিতাম না।বংগবন্ধুর খুনিদের মধ্যে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা।মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের দেশপ্রেম সকল প্রশ্নের ঊর্ধে।কিন্তু কি এমন পরিস্থিতি হল যে এই দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা তাকে হত্যা করল যার ডাকে জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল? প্রকৃত ইতিহাস জানা দরকার।
লেখক বলেছেন: আমাদের মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুও আমাদের মত রক্তমাংশে গড়া একজন আবেগী মানুষ।তিনি এতটাই আবেগী ছিলেন যে নিজের নিরাত্তার জন্য কোন নিরাপত্তাকর্মীও রাখেননি । তিনি ভুল ত্রুটিরও উর্ধে ছিলেন না। সেইসব ভুল ত্রুটি আলোচনার মাধ্যমে বা অন্য কোন উপায়ে সমাধান হতে পারত। এটার সমাধান কোনক্রমেই সপরিবারে হত্যা হতে পারে না।
লেখক বলেছেন: মূল পোষ্টের এই কমেন্টটাও দেখুন
শেখ মুজিবকে ব্যর্থ বলেও এই বাস্তবতাও দেখতে হবে যে সময়টা ছিল প্রচন্ড অস্থিরতার, অনিশ্চয়তার, অবিশ্বাসের। দেশ তখনো ধ্বংসস্তুপের প্রান্তে দাড়িয়ে। শেখ মুজিবের কাছ থেকে খুব তাড়াতাড়ি সমাধান আশা করছিল বিবাদে জড়িত দলগুলো, সেনাবাহিনীর খন্ডিত অংশগুলো। মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব নিয়ে চলছিল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কাড়াকাড়ি। আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে সেই দ্বন্দ্বে গিয়ে সৃষ্ট হলো জাসদের মতো দল। আওয়ামীলীগের এক শ্রেনীর টাউট নেতৃত্ব (গাজী গোলাম মোস্তফা যাদের একজন) সেই অবস্থায় দেশের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে শেখ মুজিবকে সঠিক তথ্য দেয়নি। ফলে সুযোগ সন্ধানীরা টেক্কাটা ঝেড়েছে সময়মতো। কিন্তু সমস্যা হলো মিথ্যাচারগুলো বছরের পর বছর জিইয়ে রেখে এক ধরনের বায়বীয় ইতিহাস রচনা করা হয়েছিল । ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যেটা নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলেছে। দেশের বিরাট একটা অংশকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে মিথ্যা প্রচারনাগুলো।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
টেকি মামুন বলেছেন:
ভাই অনেক ধন্যবাদ আপনাকে অনেক নতুন তথ্য জানলাম।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
মোরশেদুল আজাদ পলাশ বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ ভাই অত্যন্ত সুন্দর এবং মূল্যবান পোষ্টের জন্য।প্রিয়তে সহ+++++
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
ধূসর মানচিত্র বলেছেন:
আমি নিজে আপনার মত পরিস্থিতির সন্মুখীন হয়েছি। আমার অফিস কলিগরা বলল-" কামাল ডালিমের বউকে অপদস্থ করেছে" । আমি লিংকটা তখনি দিলাম। এরপর অভিযোগ তুলল-ব্যাংক ডাকাতি এবং সুলতানা ব্যাপার ও আরো বলল-কামাল নিজে চাদাবাজি করতে আসত।আমি উত্তরে বললাম-ডালিমের বউয়ের ঘটনা মুখে মুখে সত্য হয়ে গিয়েছে। এগুলো হয়তবা রচনা অথবা সত্য।
লেখক বলেছেন: কোন মিডিয়ায় প্রচার ছাড়া এই ভুল তথ্যটা এত ষ্ট্রংলি মানুষের মাথায় ঢুকলো কিভাবে???
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন:
কাহিনী অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক, সন্দেহ নাই (দেশের প্রধানের ছেলে, সে লুটপাট করে, রেপ করে, তারপর ঐ বীর সেনা তার প্রতিশোধ নেয়) তাই মনে হয় এটা লোকমুখে খুব প্রচার পেয়েছে।
এটা একটা অন্যতম কারন হতে পারে।
বিলুপ্ত বৃশ্চিক বলেছেন:
++++++......++++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
অপহরণের ঘটনা সেনাবাহিনীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে
সেই কালোরাত্রির পরদিন আমাকে সেনা সদরে তলব করে পাঠানো হয়।
আর্মি হেডকোয়াটার্সে উপস্থিত হয়েই জানতে পারলাম চীফ আমাকে ডেকেছেন। কিন্তু তার আগেই ডাক পড়ল জেনারেল জিয়ার অফিসে। মেজর হাফিজ তখন PS-Cord to DCAS. সেই আমাকে খবর দিল জেনারেল জিয়া আমার সাথে কথা বলতে চান। তিনি আমার অপেক্ষায় আছেন। অনুমতি নিয়ে গিয়ে ঢুকলাম তার অফিসে। গতরাতে কি ঘটেছে তিনি জানতে চাইলেন। সবকিছুই বিস্তারিত খুলে বললাম তাকে। সব শুনে তিনি বেশ উত্তেজিতভাবেই বললেন,
-This is incredible and ridiculous. This is simply not acceptable. ঠিক আছে দেখ চীফ কি বলে।
তার অফিস থেকে বেরিয়ে আসতেই হাফিজ তার ঘরে নিয়ে গেল। নূরও ছিল সেখানে। হাফিজ বলল, “দ্যাখো ডালিম; গতরাতের বিষয়টা শুধুমাত্র তোমার আর ভাবীর ব্যাপারই নয়; সমস্ত আর্মির Dignity, pride and honour are at stake মানে আমরা সবাই এর সাথে জড়িত। You got to understand this clearly ok? অন্যান্য সব ব্রিগেডের সাথে আলাপ হয়েছে তারাও এ ব্যাপারে সবাই একমত। This has got to be sorted out right and proper. শেখ মুজিব কি বিচার করবে? আমরা শফিউল্লাহর মাধ্যমে দাবি জানাবো আর্মির তরফ থেকে। প্রধানমন্ত্রীকে সে দাবি অবশ্যই মানতে হবে। দাবিগুলোও আমরা ঠিক করে ফেলেছি। তুমি শফিউল্লাহ কি বলে সেটা শুনে আস তারপর যা করবার সেটা আমরা করব।”
আর্মি হেডকোয়াটার্স এ সমস্ত তরুণ অফিসারদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাফিজের অফিস থেকেই চীফের ADC -কে ইন্টারকমে জানালাম,
-I am through with DCAS so I am free now to see the Chief.
Right Sir. বলে রিসিভার নামিয়ে রাখলো ADC. কিছুক্ষণ পরই ADC হাফিজের কামরায় এসে জানাল চীফ আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। চীফের অফিসে ঢুকতেই তিনি আমাকে বসতে বললেন। চেয়ার টেনে বসলাম মুখোমুখি।
-How are you?
-Fine Sir.
-How is Nimmi?
-She is ok Sir, but terribly upset.
-Quite natural. But she is a brave girl I must say. The way she talked to the Prime minister was really commendable. এ সমস্ত কথার পর আসল বিষয়ের অবতারনা করলেন জেনারেল শফিউল্লাহ,
-দেখ ডালিম, গতরাতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই দুঃখ এবং অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। I am also very sorry about the whole affair. শেখ সাহেবতো তোমাদেরও আপনজন। অত্যন্ত স্নেহ করেন তোমাদের দু’জনকেই। তিনি যখন চাইছেন তুমি গাজীকে মাফ করে দাও, তার সে ইচ্ছা তুমি পূরণ করবে সেটাইতো তিনি আশা করছেন। তুমি যদি গাজীকে মাফ কর তবে তিনি খুশী হবেন তাই নয় কি?
-স্যার, তিনি আমাদের বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র। পারিবারিকভাবে আমাদের ঘনিষ্ঠতাও আছে; সেটাও সত্য। তিনি ও তার পরিবার আমাদের ভালোবাসেন। কিন্তু নীতির ব্যাপারে আপোষ আমি করতে পারব না সেটা আপনার সামনেই তাকে আমি বলে এসেছি। And I shall stick to that till the end.
- Well that’s up to you then. I have nothing more to tell you.
- Thank you Sir. বলে বেরিয়ে এসে দেখি চীফের অফিসের সামনে AHQ -র প্রায় সব অফিসার একত্রিত হয়ে দাড়িয়ে আছে। তারা আমার কাছ থেকে জানতে চাইলো চীফ কি বললেন। আমি আমাদের কথোপকথনের সবটাই তাদের হুবহু খুলে বললাম। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল সবাই। একজন ADC কে বলল, “Go and call him out here, we want to talk to him.”
ADC-র মাধ্যমে অফিসারদের অভিপ্রায় জানতে পেরে বেরিয়ে এলেন জেনারেল শফিউল্লাহ। সবাই তাকে ঘিরে দাড়াল। চীফ বললেন,
-বলো তোমাদের কি বলার আছে ?
-স্যার, গতরাতের ঘটনা শুধুমাত্র মেজর ডালিম এবং তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়। আমরা আজ যেখানে দুস্কৃতিকারী দমনের জন্য সারাদেশে ডেপ্লয়েড সেই পরিস্থিতিতে বিনা কারণে গাজী ও তার সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে আমাদেরই একজন অফিসার এবং তার স্ত্রীকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনীই নয়; It has compromised the honour and the dignity of the whole armed forces particularly army. We can’t take it lying. It has got to be sorted out right and proper. কথাগুলো বলল একজন। জেনারেল শফিউল্লাহ জবাবে বলার চেষ্টা করলেন,
- Well, the Prime minister is personaly very sorry about the whole affair.
- That’s not enough! শফিউল্লাহকে থামিয়ে দিল একজন।
- Now Sir, you being our Chief and the leader have to shoulder your responsibility to uphold the honour and the dignity of this army. সমগ্র সেনাবাহিনীর তরফ থেকে আমাদের ৩টি দাবি আপনাকে জানাচ্ছি।
১। গাজীকে তার সংসদপদ এবং অন্যান্য সমস্ত সরকারি পদ থেকে এই মুহুর্তে অব্যাহতি দিয়ে তাকে এবং তার অবৈধ অস্ত্রধারীদের অবিলম্বে আর্মির হাতে সোপর্দ করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে; যাতে করে আইনানুযায়ী তাদের সাজা হয়।
২। গতরাতের সমস্ত ঘটনা সব প্রচার মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে দেশের জনগণকে অবগত করার অনুমতি দিতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে।
৩। যেহেতু গাজী আওয়ামী লীগের সদস্য সেই পরিপ্রেক্ষিতে পার্টি প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে মেজর ডালিম এবং তার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
আপনাকে আমাদের এই ৩টি দাবি নিয়ে যেতে হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে এ দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। এই দাবিগুলি আপনি যদি আদায় করতে অপারগ হন তবে You have got no right to sit on your chair. You will be considered not fit enough to lead this army.
ঘাবড়ে গিয়ে ঢোক গিলতে লাগলেন জেনারেল শফিউল্লাহ। থতমত খেয়ে বেসামাল অবস্থায় কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন তিনি কিন্তু তার আগেই লেফটেন্যান্ট সামশের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম তার কোমরের বেল্ট খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিল জেনারেল শফিউল্লার পায়ের কাছে,
- We serve the army for our pride, honour and dignity. If that is not there then I hate to serve that army any longer.
উত্তেজিতভাবে উপস্থিত সবাই একই সাথে বলে উঠল,
- Sir, you got to restore our lost honour and dignity. We have had enough humiliation but no more. Sir, please don’t be afraid. We all are with you. Just try to understand the gravity of the problem and be one of us.
বাইরের শোরগোল শুনে জেনারেল জিয়া কখন বেরিয়ে এসেছিলেন আমরা খেয়ালই করিনি। হঠাৎ তিনি তার গুরুগম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
- Boys be quite and listen to me, I have heared everything and I appreciate your sentiment. I have also understood the problem. Your demands are just and fair. Shafiullah you must go with their demands to the Prime minister and make him understand the gravity of the situation and suggest him to accept the demands for the greater interest of the nation and the armed forces.
জেনারেল শফিউল্লাহ যেন ধরে প্রাণ ফিরে পেলেন। বললেন,
-আমি এখনই যাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তক্ষুণি তিনি বেরিয়ে গেলেন গণভবনের উদ্দেশ্যে। তখন দুপুর পেরিয়ে গেছে। শফিউল্লাহ চলে যাবার পর আমরাও মেসে চলে এলাম লাঞ্চের জন্য। এখানে একটা বিষয় প্রাণিধানযোগ্য। শফিউল্লাহকে যখন ঘেরাও করা হয়েছিল তখন সেখানে কর্নেল এরশাদও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য PSO -দের সাথে। তিনি তখন AG (Adjutant General) হিসাবে হেডকোয়াটার্স-এ পোষ্টেড ছিলেন। এক সময় জেনারেল শফিউল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,
-এরশাদ তোমার অভিমত কি ?
- Sir, I think their demands are quite legitimate. এ ধরণের ঘটনা আপনার কিংবা আমার সাথেও ঘটতে পারত। যেখানে Army is deployed to maintain law and order and engaged in anti-miscreant drive সেখানে এ ধরণের একটা ঘটনাকে শুধুমাত্র ডালিম-নিম্মীর ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে কানসিডার করা উচিত হবে না। It is definitely a question of honour and prestige of the entire army and you being the Chief must make this point clear to the Prime minister and advise the PM correctly to restore the lost honour by accepting the demands.
তার জবাব শুনে আমরা বেশ কিছুটা আশ্চর্যই হয়েছিলাম। কারণ, তিনি ছিলেন একজন Repatriated officer তিনি সাহস করে ঐ ধরণের স্পষ্ট বক্তব্য রাখবেন সেটা আমাদের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত। এতেই প্রমাণিত হয় পাকিস্তান প্রত্যাগতদের মাঝে অনেকেই ছিলেন ন্যায়পরায়ণ। সন্ধ্যার দিকে চীফ ফিরলেন গণভবন থেকে; সারাদিন দরবার করে। রাত ৮টার দিকে তিনি আমাদের কয়েকজনকে ডেকে পাঠালেন সেনা ভবনে। সেখানে গিয়ে দেখি কর্নেল সাফায়াত এবং ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফও উপস্থিত রয়েছেন। আমরা কুশলাদী বিনিময় করে সবাই বসলাম। চীফ শুরু করলেন,
-আমি প্রধানমন্ত্রীকে তোমাদের দাবিগুলো জানিয়েছি। তিনি সময় চেয়েছেন। প্রাইম মিনিষ্টার যখন সময় চেয়েছেন তখন তাকে সময় আমাদের দিতে হবেই। চীফের কথার মাঝে ফোঁড়ন কাটছিলেন কর্নেল সাফায়াত। ব্রিগেডিয়ার খালেদ নিশ্চুপ বসেছিলেন।
-স্যার ‘তোমাদের দাবিগুলো’ বলে আপনিকি এটাই বোঝাতে চাচ্ছেন যে আপনার ও আমাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে? দাবিগুলো ছিল entire army-র তরফ থেকে। তবে কি আমাদের বুঝতে হবে আপনি বা আপনারা মানে the senior lots are not with us ? জানতে চাওয়া হল জেনারেল শফিউল্লাহর কাছ থেকে। তিনি এ ধরণের কথায় একটু ঘাবড়ে গেলেন। চালাক প্রকৃতির ব্রিগেডিয়ার খালেদ অবস্থা আঁচ করতে পেরে শফিউল্লাহর হয়ে জবাব দিলেন,
- Boys don’t have wrong impression. Offcourse we all are together. How could we be different on this issue?
-কিন্তু স্যার মনে হয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মানবেন না। সময় চেয়ে নিয়ে তিনি প্রথমত: ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত: তার অবস্থানকে পোক্ত করার জন্যই সময় চেয়েছেন তিনি। যদি শেষ পর্যন্ত তিনি আমাদের দাবি মানতে রাজি না হন তবে কি করা হবে সে সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে জানতে চাই আমরা।
তিনজনই এ কথার কোন জবাব না দিয়ে চুপ করে বসে থাকলেন।
- Well Sir, if you don’t have any idea what to do next then we shall think what needs to be done. বলে চলে এসেছিলাম আমরা। আজিজ পল্লীর এক বাসায় বৈঠকে বসলাম আমরা। বিষয়বস্তু: দাবি মানা না হলে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে। অন্যান্য ব্রিগেডের সাথে যোগাযোগ করে মতামত বিনিময় করা হচ্ছিল সবসময়। রাত প্রায় ১১টার দিকে খবর পেলাম জেনারেল শফিউল্লাহর সাদা ডাটসন কারে দু’জন লোক সিভিল ড্রেসে চাদর মুড়ি অবস্থায় ২নং গেইট দিয়ে বেরিয়ে ৩২নং ধানমন্ডির দিকে যাচ্ছে। একজন young officer -কে মোটর সাইকেল নিয়ে গাড়িকে ফলো করতে বলা হল। রাত প্রায় ১১:৩০ মিনিটে ঐ অফিসার ফিরে এসে জানাল গাড়িতে ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ এবং কর্নেল সাফায়াত। তারা গিয়ে ঢুকেছিলেন শেখ সাহেবের বাসায়। রাত প্রায় ১২:৩০ মিনিটের দিকে খবর আসতে লাগল শহরে রক্ষীবাহিনীর মুভমেন্ট শুরু হয়ে গেছে। দুইএ দুইএ চার; মিলে গেল হিসাব। শফিউল্লাহ এবং সাফায়াত শেখ সাহেবের একান্ত বিশ্বাসভাজন বিধায় ৩২নম্বরে গিয়ে আমাদের সন্ধ্যার আলোচনার সবকিছুই জানিয়ে এসেছেন তারই পরিপ্রেক্ষিতে শহরে রক্ষীবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে; আর্মির তরফ থেকে যেকোন move এর মোকাবেলা করার জন্য। নিজেদের প্রতি তার অনুকম্পা আরো বাড়াবার জন্যই ব্যক্তি পূঁজার এক ঘৃণ্য উদাহরণ! রাত আড়াইটার দিকে বিভিন্ন বর্ডার এলাকা থেকে খবর আসতে লাগল মধ্যরাত্রির পর থেকে ভারতীয় বাহিনীর অস্বাভাবিকভাবে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তার মানে নিজের নিরাপত্তার জন্য শেখ মুজিব শুধুমাত্র তার অনুগত রক্ষীবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর তার তল্পিবাহক নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখে স্বস্তি পাচ্ছেন না; তাই বন্ধু রাষ্ট্রের সাহায্যও চেয়ে বসেছেন মৈত্রী চুক্তির আওতায়। আমরা কয়েকজন শহর ঘুরে দেখলাম খবরগুলো সত্যি। দুঃখ হল, পেশাগত নিজ যোগ্যতায় নয় শেখ মুজিবের বদন্যতায় যারা একলাফে মেজর থেকে জেনারেল বনে গেছেন তারা নিজেদের চামড়া পর্যন্ত বিকিয়ে দিয়ে বসে আছেন শেখ সাহেব এবং তার দলের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। ব্যতিক্রম অবশ্য ছিল; জেনারেল জিয়াউর রহমান ছিলেন তেমনি একজন। কিন্তু কথায় আছে Exception is never an example. ধিক্কার এসে গিয়েছিল আমাদের মনে এসমস্ত মেরুদন্ডহীন মতলববাজ সিনিয়র অফিসারদের চারিত্রিক দুর্বলতা জানার পর। পরদিন শফিউল্লাহর ডাক পড়ল গণভবনে। ফিরে এসেই আমাকে ডেকে পাঠালেন তিনি। গত দু’দিনের তুলনায় আজ তাকে বেশি confident দেখাচ্ছিল,
-Well Dalim, the Prime minister has asked for time as you have been already told. Meanwhile, I am ordering a court of inquiry about the whole matter that has happened so far just for an official record. Once the court of inquiry is finished you will go back to Comilla
- Right Sir. বলে সেল্যুট করে বেরিয়ে এসেছিলাম তার অফিস কক্ষ থেকে। কি অদ্ভুত যুক্তি! দোষ করল গাজী গোলাম মোস্তফা আর court of inquiry হবে আমার! বর্তমান অবস্থায় চীফের হুকুম মেনে নিয়ে court of inquiry -র পরিণাম পর্যন্ত চুপচাপ থাকতে হবে সিদ্ধান্ত হল। court of inquiry শেষ করে কয়েকদিন পর কুমিল্লায় ফিরে এলাম।
লেখক বলেছেন: আমাদের মনে রাখতে হবে এটা কিন্তু একতা খুনির জবানবন্দী। এটা পড়ে আপনার মনে হতে পারে মেজর ডালিম ধোয়া তুলশী পাতা এবং সেই সময়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিলো। এটা যে কোন অপরাধীর ক্ষেত্রেই সত্য যে তার জবানবন্ধী শুনে মনে হয় তার কোন দোষই নেই কারন সে কৌশলে তার গুরুতর অপরাধগুলা স্কিপ করে যায়।
লেখক বলেছেন: মূল পোষ্টের এই কমেন্টটাও দেখুন
ধারনা করা যায় গাজী গোলাম মোস্তফার সেই ঘটনার দিন থেকে শেখ মুজিব হত্যাকান্ড পরিকল্পনার বীজ রোপিত হয়। যতদুর শুনেছি, গাজী গোলাম মোস্তফা তৎকালীন আওয়ামী লীগের একজন চিহ্নিত বদমাশদের একজন। এরকম গাজীগন শেখ মুজিবের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামিয়েছিল।
সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ডের বিরাট দুর্বলতা ছিল তা মেজর মোমেন ও জেনারেল শফিউল্লাহর কথোপকথনে খুব স্পষ্ট। এটা একটা মাত্র নজীর। ঠিক কখন থেকে চেইন অব কমান্ড ছুটে গিয়েছিল জানিনা, কিন্তু সেটা ছিল এমনিতেই সেনাবাহিনীতে অস্থিরতার চরম সময় যেখানে জাসদ বা গনবাহিনীর বিপ্লবী তৎপরতা বিরাট ইন্ধন যুগিয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি ৯নং আদেশ বলে ৮জন সামরিক অফিসারকে চাকুরীচ্যুত করা হয়। নূর ও আমিও ছিলাম তাদের মধ্যে।
মাসখানেক পর জুলাই মাসের শের্ষাধে এক সন্ধ্যায় আমার বাসায় একটা র্পাটি ছিল। নিমন্ত্রিত অতিথিরা প্রায় সবাই এসে গেছে। বাইরে ইলশেগুড়ির বৃষ্টি হচ্ছে। হুদা ভাবীও এসে গেছেন কিন্তু হুদা ভাইয়ের পাত্তা নেই। বেশ একটু দেরি করেই এলেন কর্নেল হুদা। ভীষণ শুকনো তার মুখ। অস্বাভাবিক গম্ভীর তিনি। এসে সবার সাথে কুশল বিনিময় করে এককোনায় গিয়ে বসলেন তিনি। বোঝা যাচ্ছিল, কারো সাথে কথাবার্তা বলার তেমন একটা ইচ্ছে নেই তার। সদা উচ্ছল হুদা ভাই এত নিরব কেন? ব্যাপারটা খুবই অস্বাভাবিক ঠেকলো। এক ফাঁকে কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
-কি হয়েছে হুদা ভাই? কোন অঘটন ঘটেনিতো?
-না কিছু না।
নিজেকে কিছুটা হালকা করে নেবার জন্য ড্রিংকসের গ্লাসটা হাতে তুলে নিলেন তিনি। নিম্মী অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যস্ত। হঠাৎ হুদা ভাই নিম্মীকে ডেকে পাশে বসালেন। প্রশ্ন করলেন,
-আচ্ছা নিম্মী ধর এমন একটা খবর তুমি পেলে যার ফলে তোমার এই সুন্দর সাজানো সংসারটা ওলট-পালট হয়ে গেল, তোমাদের এই সুখ কেউ কেড়ে নিল তখন কি করবে?
নিম্মী অবাক বিস্ময়ে হুদা ভাইকে ভালো করে দেখে নিয়ে বলল,
-আজ আপনার কি হয়েছে হুদা ভাই? কী সব এলমেলো বলছেন কিছুই বুঝতে পারছি না। বলেন না কি হয়েছে? আমিও এরি মধ্যে তাদের সাথে যোগ দিয়েছি।
-ডালিম ঢাকা থেকে কোন খবর পেয়েছ? জিজ্ঞেস করলেন কর্নেল হুদা।
-নাতো। তেমন কিছু হলে নিশ্চয়ই পেতাম। প্লিজ হুদা ভাই রহস্য বাদ দিয়ে বলেন না কি হয়েছে? ব্যাপার কি?
-যা হবার নয় তাই হয়েছে। Presidential Order No-9 (PO-9) প্রয়োগ করে আর্মি থেকে ৮জন অফিসারকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তুমি এবং নূরও রয়েছো এই ৮ জনের মাঝে। খবরটা অপ্রত্যাশিত; তাই হজম করতে কিছুটা সময় লাগল। নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে নিম্মীকে ডেকে বললাম,
-জান, take it easy. নিজেকে সামলে নাও। Don’t get upset and spoil the party. Let this be over then we shall think about it. Now be brave as you have allways been and act like a good host ok? মেয়ে মানুষ তার উপর ভীষণ স্পর্শকাতর এবং কোমল প্রকৃতি নিম্মীর। তবুও সেদিন অতিকষ্টে সব কিছুই সামলে নিয়েছিল সে। অতিথিদের কেউই কিছু বুঝতে পারেনি কি অঘটন ঘটে গেছে ইতিমধ্যে। খবরটা তখন পর্যন্ত কেউ জানত না। পার্টি শেষে একে একে অভ্যাগতদের সবাই বিদায় নিয়ে চলে গেল। থেকে গেলেন শুধু হুদা ভাই ও ভাবী। ভাবীকে খবরটা দেয়া হল। খবরটা জেনে ভাবী ভেঙ্গে পড়লেন। আমাদের অত্যন্ত স্নেহ করতেন তিনি। নিম্মীও আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না; ক্ষোভে-কান্নায় জড়িয়ে ধরল ভাবীকে। আমি ও হুদা ভাই দু’জনে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। হুদা ভাই বললেন,
- Come on now both of you hold yourselves, this is not the end of the world. Allah is there and He is great. Please stop crying and think what should be done.
নীলু ভাবী কাঁদছেন আর হুদা ভাইকে বলে চলেছেন,
- Gudu you must do something about this injustice. You have to do whatever nessesary. This is simply outrageous you must not take this lying noway get this very clear.নিলু ভাবীর আন্তরিকতায় মন ভরে গেল।
- I got it Nilu I got it, please comedown. I promise you I shall go out of myway to redress this. Nimmi you too please stop crying, don’t you have faith on your Huda Bhai? আমাকে বললেন,
-কাল তোমাকে নিয়ে আমি ঢাকায় যাব এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করব। নিম্মী তুমিও যাবে আমাদের সাথে। ঠিক সেই মুহুর্তে ঢাকা থেকে ফোন এল। নূর বলল,
- Sir. we have been sacked under PO-9. We need your presence here as soon as possible. জবাব দিলাম,
-আমি এবং হুদা ভাই কালই আসছি। টেলিফোন রেখে দিলাম। পরদিন ব্রিগেডের সবাই খবরটা জেনে গেল। কর্নেল হুদা সকালেই CO’s conference call করলেন। সেখানে তিনি বললেন,
-ডালিম এবং আমি ঢাকায় যাচ্ছি। I can assure you all that I personally shall do everything to redress this shocking injustice. এ ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমার অসন্তোষও কম নয়।
ঢাকায় এলাম আমরা। আর্মি হেডকোয়াটার্স এ চরম উত্তেজনা। শফিউল্লাহ অফিসে নেই। তিনি নাকি অসুস্থ। জেনারেল জিয়া আমি এসেছি জানতে পেরে ডেকে পাঠালেন। গিয়ে ঢুকলাম তার অফিসে। তিনি সিট থেকে উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। স্বল্পভাষী লোক। বললেন,
- Have faith in Allah. He does everything for the better. This is just the beginning and I am sure manymore heads will roll.
-দোয়া করবেন স্যার। ঠিকই বলেছেন সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে। বললাম আমি।
-We must keep-in touch and you can count on me for everything just as before. For any personal need my doors are always open to you.
-Thank you very much Sir, You are most kind. But you must remain alert as you are our last hope. Future will say what is there in our common destiny.
MS branch থেকে PO-9 এর লিখিত অর্ডারটা নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলাম আমি ও নূর সেনা সদর থেকে। Retirement order টা যখন হাতে নিচ্ছিলাম তখন মনে পড়েছিল শেখ সাহেব স্বস্নেহে নিম্মীকে বুকে জড়িয়ে ধরে কথা দিয়েছিলেন সুবিচার করবেন তিনি। সেই সুবিচারের ফলেই আজ আমি চাকুরিচ্যুত হলাম বিনা কারণে!
সেদিনই সন্ধ্যায় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে কর্নেল হুদা গিয়ে হাজির হলেন ৩২নং ধানমন্ডিতে। অতি পরিচিত সবকিছুই। কিন্তু এবারের আসাটা কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির তাই পরিবেশটা কিছুটা অস্বস্তিকর। রেহানা, কামাল সবাই কেমন যেন বিব্রত! পরিবেশটাকে হালকা করার জন্য বললাম,
-কি কামাল বিয়ের দাওয়াত পাবোতো? আমার প্রশ্নে লজ্জা পেয়ে কামাল উত্তর দিল,
-কি যে বলেন বস! আমি নিজে গিয়ে আপনাকে ও নিম্মীকে দাওয়াত করে আসব। আপনাদের ছাড়া বিয়েই হবে না। রেহানা চা-নাস্তা নিয়ে এল। হুদা ভাই চুপ করে বসে সবকিছু দেখছিলেন। বাসায় ফিরে এলেন শেখ সাহেব। ডাক পড়ল আমাদের তিন তলার অতিপরিচিত ঘরেই। একাই বসে ছিলেন শেখ সাহেব। ঘরে ঢুকে অভিবাদন জানাবার পর কর্নেল হুদা বললেন,
-এতবড় অন্যায়কে মেনে নিয়ে চাকুরি করার ইচ্ছে আমারও নেই স্যার। বলেই পকেট থেকে একটা পদত্যাগপত্র বের করে সামনের টেবিলের উপর রেখে তিনি বললেন,
-আমার এই পদত্যাগপত্রের Official copy through proper channel শীঘ্রই আপনার কাছে পৌঁছাবে। তার এধরণের আকস্মিক উপস্থাপনায় কিছুটা বিব্রত হয়েই শেখ সাহেব বললেন,
-তোমরা সবকিছুই একতরফাভাবে দেখ। আমার দিকটা একটুও চিন্তা কর না। একদিকে আমার পার্টি আর অন্যদিকে ওরা। আমি কি করুম? পার্টির কাছে আমি বানধা। পার্টি ছাড়াতো আমার চলব না। তারপর আমার দিকে ফিরে বললেন,
-তুই আর নূর কাইল আমার সাথে রাইতে বাসায় দেখা করবি।
শেখ সাহেবের সাথে কথা বলার সময় হুদা ভাইয়ের চোখে পানি এসে গিয়েছিল। পরদিন জেনারেল শফিউল্লাহর অফিসে আমার ডাক পড়ল। চীফ আমাকে নির্দেশ দিলেন কুমিল্লায় আমার আর ফিরে যাওয়া চলবে না। নিম্মীকে পাঠিয়ে জিনিষপত্র সব নিয়ে আসার বন্দোবস্ত করতে হবে। কর্নেল হুদা এই নির্দেশের জোর প্রতিবাদ করলেন। কিন্তু শফিউল্লাহ তার সিদ্ধান্ত বদলালেন না। কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না তিনি। কুমিল্লায় ফিরে আমি যদি আবার কোন অঘটন ঘটিয়ে বসি! এভাবেই মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর যে আর্মি গঠন প্রক্রিয়ায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলাম রাতদিন; সেই আর্মি থেকে স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী বিদায় নেয়ার সৌভাগ্য থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল আমাকে। একজন সৈনিকের জন্য এই অবমাননা সহ্য করা খুবই কষ্টকর। আমি ঢাকায় রয়ে গেলাম। হুদা ভাই নিম্মী ও খালাম্মাকে নিয়ে ফিরে গেলেন কুমিল্লায়।
আমাকে কুমিল্লায় ফিরতে না দেয়ায় অফিসার এবং সৈনিকরা অসন্তোষ ক্ষোভে ফেটে পড়ল। একদিন দুই ট্রাক সৈনিক কুমিল্লা থেকে আমাদের মালিবাগের বাসায় এসে হাজির। আমাকে ওরা নিয়ে যেতে এসেছে। সরকার অন্যায়ভাবে ক্ষমতাবলে আমাকে চাকুরিচ্যুত করেছে; তার উপর যে রেজিমেন্ট আমি শুরু থেকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি সেই ইউনিটের তরফ থেকে আমাকে বিদায় সম্বর্ধনাও জানাতে পারবে না ইউনিটের সদস্যরা; সেটা কিছুতেই হতে দেবে না তারা। সব বাধা উপেক্ষা করে তারা আমাকে নিয়েই যাবে। পরিণামে যা কিছুই ঘটুক না কেন; তার মোকাবেলা করা হবে একত্রিতভাবে; সে সিদ্ধান্তই নেয়া হয়েছে ইউনিটে। Emotionally charged অবস্থায় পরিণামের বিষয়টি উপেক্ষা করে যে পদক্ষেপ তারা নিতে প্রস্তুত হয়েছে তার ফল তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে সেটা তারা ঠিক বুঝতে না পারলেও আমি বুঝতে পারছিলাম। তাই অনেক কষ্টে সবাইকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আমার যুক্তিগুলো মেনে নিয়ে অনেক ব্যাথা বুকে নিয়ে ফিরে গিয়েছিল তারা। ফিরে যাবার আগে আমার প্রিয় সহযোদ্ধারা বলেছিল, “স্যার আপনি যেখানেই থাকেন না কেন আমরা সবসময় আপনার সাথে আছি; একথাটা ভুলবেন না কখনো। প্রয়োজনে ডাক দিয়ে দেখবেন আমরা সব বাধা পেরিয়ে আপনার পাশে এসে দাড়াব।” একজন কমান্ডার হিসাবে অধিনস্ত সৈনিকদের কাছ থেকে এ ধরণের র্দুলভ সম্মান পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এর বেশি আর কি লাভ করা সম্ভব হত চাকুরিতে থাকলেও। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদভারে অনেক জেনারেল এবং কমান্ডার রয়েছেন ঠিকই কিন্তু তাদের কতজনের ভাগ্যে এধরণের শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস জুটেছে? আবেগ এবং আত্মতৃপ্তির অনাবিল আনন্দে সেদিন নিজেকে সামলে রাখতে পারিনি; খুশীর জোয়ার নেমে এসেছিল দু’চোখ বেয়ে। মনে হয়েছিল আমার সৈনিক জীবনের যবনিকাপাত অতি আকস্মিকভাবে ঘটানো হলেও স্বল্প পরিসরের এ জীবন আমার সার্থক হয়েছে। শুধু কুমিল্লা থেকেই নয়; দেশের বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট থেকেও অফিসর-সৈনিকরা সুযোগ-সুবিধামত আসতে থাকলো সমবেদনা জানাবার জন্য। সবার একই আক্ষেপ,কেন এমন অবিচার; এতবড় অন্যায়??? জবাবে সবাইকে বলেছি, “স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব। তারা ক্ষমতার দম্ভে ভুলে যায় ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়; প্রকৃতপক্ষে মানুষের নিজের হাতে কোন ক্ষমতাই নেই। আল্লাহতা’য়ালাই সব ক্ষমতার অধিকারী। তার ইচ্ছাতেই যেকোন ব্যক্তি বিশেষ ক্ষমতা লাভ করে থাকে কিন্তু তার দেয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তিনিই আবার শাস্তিস্বরূপ সে ক্ষমতা কেড়ে নেন। সব অত্যাচারীর ক্ষেত্রে তেমনটিই ঘটেছে। আল্লাহ যা করেন তা ভালোর জন্যই করেন; এ ঈমানের জোর আমার আছে। আমি তোমাদের দোয়া চাই আর কিছুই নয়।”
ছোট দেশ আমাদের। সেনাবাহিনী আরো ছোট। এ সংগঠনে সবাই সবার খবর রাখে। প্রত্যেকটি অফিসার কে কি চরিত্রের; কার কতটুকু যোগ্যতা এসমস্ত খবরা-খবর সৈনিকরা রাখে। পদাধিকারে প্রাপ্য মর্য্যাদা তারা সবাইকেই দিয়ে থাকে নিয়মাফিক। কিন্তু তাদের মন জয় করা শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা লাভ করতে পেরেছে শুধুমাত্র পরীক্ষিত সৌভাগ্যবানরাই। নীতিগতভাবে পদাধিকার বলে যে সম্মান লাভ করা যায় তার চেয়ে অর্জিত সম্মানই আমার কাছে বেশি মূল্যবান; তাই চাকুরি জীবনে অধিনস্থ সবাইকে সে ধরণের সম্মানই অর্জন করার জন্য অনুপ্রানিত করার চেষ্টা করেছি সবসময়। আমার সে প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে।
হালে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরকালে সেখানে রেডিওতে আমিনুল হক বাদশাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমার বাবা সেনাবাহিনী গড়েছিলেন বলেই মেজর’রা জেনারেল হতে পেরেছিলেন।” একটা গুরত্ত্বপূর্ণ কথা বলেছেন তিনি। এটা অতি সত্য কথা যে, মেজর থেকে যাদের জেনারেল বানানো হয়েছিল তাদের অনেকেরই জেনারেল হবার যোগ্যতা ছিল না। কিন্তু তবুও তাদের জেনারেল বানানো হয়েছিল। এর কারণ ছিল শেখ মুজিব চেয়েছিলেন অযোগ্য নেতৃত্বের অধিনে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে রাখতে এবং ঐ সমস্ত অযোগ্য ‘খয়ের খাঁ’ টাইপের জেনারেলদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে তার ঠেঙ্গারে বাহিনীতে পরিণত করতে। কিন্তু সেটা ছিল তার দিবাস্বপ্ন মাত্র। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক অংশের উপর ঐ সমস্ত ‘জী হুজুর!’ জেনারেলরা কোন প্রভাবই বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি।
নিম্মী ও খালাম্মা গিয়েছিলেন কুমিল্লায়; সংসার গুটিয়ে আনতে। বাসার সব জিনিষপত্র ট্রাকে করে বাই রোড পাঠাবার বন্দোবস্ত করে তারা বাই এয়ার ঢাকায় ফিরবেন। হঠাৎ করেই ব্রিগেড গোয়েন্দা ইউনিট খবর পেলো কুমিল্লা বিমান বন্দর থেকে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা নিম্মীকে কিডন্যাপ করার প্ল্যান করেছে। খবরটা পেয়েই কর্নেল হুদা কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করলেন। নিরাপত্তার সব দায়িত্ব দেয়া হল ফার্ষ্ট ফিল্ড রেজিমেন্টের মেজর বজলুল হুদা এবং ক্যাপ্টেন হাইকে। কর্নেল হুদা নিজে তার ফ্ল্যাগ কারে নিম্মী এবং খালাম্মাকে সঙ্গে করে এয়ারর্পোটে এসে তাদের প্লেনে তুলে দিয়েছিলেন। প্লেন টেক অফ না করা পর্যন্ত তিনি এয়ারপোর্টে উপস্থিত ছিলেন। এভাবেই আমার আর্মি ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি ঘটেছিল।
লেখক বলেছেন: সবার সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: "একাই বসে ছিলেন শেখ সাহেব। ঘরে ঢুকে অভিবাদন জানাবার পর কর্নেল হুদা বললেন,
-এতবড় অন্যায়কে মেনে নিয়ে চাকুরি করার ইচ্ছে আমারও নেই স্যার। বলেই পকেট থেকে একটা পদত্যাগপত্র বের করে সামনের টেবিলের উপর রেখে তিনি বললেন,
-আমার এই পদত্যাগপত্রের Official copy through proper channel শীঘ্রই আপনার কাছে পৌঁছাবে। তার এধরণের আকস্মিক উপস্থাপনায় কিছুটা বিব্রত হয়েই শেখ সাহেব বললেন,
-তোমরা সবকিছুই একতরফাভাবে দেখ। আমার দিকটা একটুও চিন্তা কর না। একদিকে আমার পার্টি আর অন্যদিকে ওরা। আমি কি করুম? পার্টির কাছে আমি বানধা। পার্টি ছাড়াতো আমার চলব না। তারপর আমার দিকে ফিরে বললেন,
-তুই আর নূর কাইল আমার সাথে রাইতে বাসায় দেখা করবি।"
সুতরাং দেখা যায় আওয়ামীলীগের নেতাদের কাছে জিম্মি তথা অতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। আর এই জন্যই তাকে দিতে হয়েছে সর্বোচ্চ মূল্য।
"সেদিনই সন্ধ্যায় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে কর্নেল হুদা গিয়ে হাজির হলেন ৩২নং ধানমন্ডিতে। অতি পরিচিত সবকিছুই। কিন্তু এবারের আসাটা কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির তাই পরিবেশটা কিছুটা অস্বস্তিকর। রেহানা, কামাল সবাই কেমন যেন বিব্রত! পরিবেশটাকে হালকা করার জন্য বললাম,
-কি কামাল বিয়ের দাওয়াত পাবোতো? আমার প্রশ্নে লজ্জা পেয়ে কামাল উত্তর দিল,
-কি যে বলেন বস! আমি নিজে গিয়ে আপনাকে ও নিম্মীকে দাওয়াত করে আসব। আপনাদের ছাড়া বিয়েই হবে না। রেহানা চা-নাস্তা নিয়ে এল। হুদা ভাই চুপ করে বসে সবকিছু দেখছিলেন। বাসায় ফিরে এলেন শেখ সাহেব। ডাক পড়ল আমাদের তিন তলার অতিপরিচিত ঘরেই"
সুতরাং দেখা যায় মেজর ডালিমের পরিবারের সাথে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অতি ঘনিষ্টতা ছিলো, সম্পর্কটা ভালো বলেই শেখ মুজিব ডালিমকে চাকুরীচ্যুত করার পরও বাসায় ডেকে নিয়ে রাষ্ট্রদুত বা অন্যকোন ব্যবসার পরামর্শ দেয়। নিজের ভাই শেখ নাসেরের সাথে ব্যবসার কথাও বলে। ডালিম নিজেই স্বীকার করেছে তার লেখায়। শেখ মুজিবের বদান্যতার কথা ডালিমের শেখ বিরোধী লেখায়ও চলে এসেছে। (হায়, এই ডালিম শেখ মুজিব হত্যায় জড়িত হলো, একমাত্র বাঙালীই পারে অকৃজ্ঞতার এই চরম নজীর দেখাতে)
খালেদ মাসুদ বলেছেন:
চরম পোষ্ট । ১৫ই আগষ্ট ঘটানোর জন্য এমন অনেক মিথ্যা কথাই ছড়ানো হয়েছিলো । মেজর ডালিমের হ্য়তো ক্ষোভ ছিলো যে বঙ্গবন্ধু তার স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করে গাজীকে যথেষ্ট শাস্তি দেননি । ১৫ই আগষ্টের ঘটনার পিছনে এর খলনায়কদের এইরকম সব ব্যাক্তিগত কারণই জড়িত। কারো স্ত্রীর সম্মান কারো ক্ষমতার লোভ । মাঝখান দিয়ে কাজ সেরেছে ৭১এর পরাজিতরা ।এখনো প্লাস দেওয়ার ক্ষমতা পাইনি । আপাতত প্রিয়তে । ধন্যবাদ ।
লেখক বলেছেন: কারো স্ত্রীর সম্মান, কারো ক্ষমতার লোভের জন্য একটি দেশের স্হপতি কে হত্যা !!!!
৭১ এর দেয়া পরের ঘটনাগুলা পড়েন, একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি দুঃখ প্রকাশের পরেও তাদের কমকান্ড দেশকে পুরা আনষ্টেবল করেছিলো।
অনেক ধন্যবাদ।
বোকা মানুষ বলেছেন:
ধীবর বলেছেন: শেখ কামাল যে হাইজ্যাক করে নিয়ে করেছিল, সেটা আমি সেই দুর্ভাগ্যবতির ক্লাস মেটেরকাছ থেকেই শুনেছি। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া যে কেউ এই ঘটনার সাক্ষি দেবে।@লেখক গাজি গোলাম মোস্তফার এই ঘটনার সাথে শেখ কামালও জড়িত ছিল । তাই শেষ পর্যন্ত অনেকটা মোড়লী কায়দায় একটা আপোষরফা করার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী।
নিম্মী বলেছেন "কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই।"
@লেখক তথ্য গুলো আংশিক সত্য।
লেখক বলেছেন: ২৭ নং কমেন্টের জবাবেও আমি বলেছি ডালিমের লেখাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করার কারন নেই কারন এটা একটা অপরাধীর জবানবন্দী মাত্র। তবে এটা থেকে সেই সময়ে কি হয়েছিল তার একটা ধারনা পাওয়া যায়।
বোকা মানুষ বলেছেন: @লেখক তথ্য গুলো আংশিক সত্য।
পুরোপুরি সঠিক তথ্য জানা থাকলে শেয়ার করেন। তবে শেখ কামাল জড়িত ছিল না এটা নিশ্চিত হওয়া যায় এই কারনে যে কামাল জড়িত থাকলে সেটা হত মেজর ডালিমের জন্য একটা প্রধান অস্ত্র তার অপরাধের বৈধতা দেয়ার জন্য এবং সেটা সে অবশ্যই অবশ্যই উল্লেখ করতো।
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: এক এক করে প্রত্যেকটা অপপ্রচারের পেছনের সত্য বেরিয়ে আসুক। অপপ্রচারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হোক নতুন প্রজন্ম।
ধন্যবাদ।
লুৎফুল কাদের বলেছেন:
ভাইজান ডালিমের এক কথা বিশ্বাস করেন যেইটা আপনাদের পক্ষে যাই, আর আপনেগো বিপক্ষে গেলেই ডালিম খুনি এর কথা বিশ্বাস করা যাইবনা. এখানে অনকরেই দেখলাম আপনার লেখাটা বিশ্বাস করছে. অতচ একই জায়গার থেকে নেওয়া অন্য লেখারে এরা বলছে খুনির লেখারে কেমনে বিশ্বাস করি. আজিব মানুষ.
লেখক বলেছেন: পুরোপুরি অবিশ্বাসের কথা আমি কখনও বলি নাই।আমি বলেছি একজন অপরাধীর ক্ষেত্রেইএটা সত্য যে তার জবানবন্ধী শুনে মনে হয় তার কোন দোষই নেই কা্রন সে কৌশলে তার গুরুতর অপরাধগুলা স্কিপ করে যায়। এই পোষ্টের উদ্দেশ্য আমরা এতদিন যে ভুল তথ্য "শেখ কামাল মেজর ডালিমের বউকে অপহরন করেছিল" জানতাম সেটাই জানানো। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়। ধন্যবাদ।
হাহা্হাাা। আওয়ামী সুবিধাবাদি মন।
লেখক বলেছেন: আমি বাংলাদেশের বর্তমান সকল দলের রাজনীতিকেই ঘৃনা করি, ফলে শেষ নির্বাচনেও কোনো ভোট দেইনি।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: তবে দেশের জন্য যারা অবদান রাখছেন তাদের সকলকেই শ্রদ্ধা করি।
হাসান বায়েজীদ বলেছেন:
এক এক করে প্রত্যেকটা অপপ্রচারের পেছনের সত্য বেরিয়ে আসুক। অপপ্রচারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হোক নতুন প্রজন্ম।
লেখক বলেছেন: অপপ্রচারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হোক নতুন প্রজন্ম। অনেক ধন্যবাদ।
খালেদ মাসুদ বলেছেন:
৭১ বলেছেন: লুৎফুল কাদের বলেছেন: ভাইজান ডালিমের এক কথা বিশ্বাস করেন যেইটা আপনাদের পক্ষে যাই, আর আপনেগো বিপক্ষে গেলেই ডালিম খুনি এর কথা বিশ্বাস করা যাইবনা. এখানে অনকরেই দেখলাম আপনার লেখাটা বিশ্বাস করছে. অতচ একই জায়গার থেকে নেওয়া অন্য লেখারে এরা বলছে খুনির লেখারে কেমনে বিশ্বাস করি. আজিব মানুষ-----------------------------------------------------------------
সত্যিই তো । যখন ডালিমের দোস্তরা ক্যামেরার সামনে বুক ফুলায়া কইসে শেখ মুজিবরে আমি মারসি সেইটা বিশ্বাস কইরা তাগোরে ফাসী দিয়া দিলো, আর অহন যখন জল্লাদের পা ধইরা কইলো আমি কোন দোষ করি নাই তখন তারে বিশ্বাস কইরা বেকসুর খালাস দিলো না । চরম না-ইনসাফী ।
লেখক বলেছেন: যখন ডালিমের দোস্তরা ক্যামেরার সামনে বুক ফুলায়া কইসে শেখ মুজিবরে আমি মারসি সেইটা বিশ্বাস কইরা তাগোরে ফাসী দিয়া দিলো, আর অহন যখন জল্লাদের পা ধইরা কইলো আমি কোন দোষ করি নাই তখন তারে বিশ্বাস কইরা বেকসুর খালাস দিলো না । চরম না-ইনসাফী ।
হা হা অসাধারন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
প্রতিবিপ্লবী বলেছেন:
কিন্তু শেখ কামাল নাকি ব্যাঙ্ক ডাকাত ছিলো? রাত্রে বেলা ডাকাতি করতে গিয়া গুলি খাইছিলো? তখন কি রাত্রে ব্যাঙক খোলা থাকতো?
লেখক বলেছেন: মূল পোষ্টে নীড় সন্ধানীর এই কমেন্টা দেখুন :
মেজর ডালিমের যে বই থেকে নেয়া সেই বইটাতেই আমি খুজেছি গুজবের ডালপালা কিছু পাওয়া যায় কি না। এমনকি মেজর ডালিমের বইয়ের সবগুলো কথা সত্য ধরে নিলেও শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে যতটা কলংক রটানো হয় তার বেশীরভাগ সত্য নয় বলে প্রতীয়মান হয়।
স্বয়ং মেজর ডালিম কোথাও বলেনি শেখ কামাল তার বউকে নিয়ে ভেগে গিয়েছিল, ব্যাংক ডাকাতি করেছিল ইত্যাদি বিষয়। তবু রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত কেউ কেউ পরিকল্পিত ভাবে এইসব মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রচার করেছে যুগ যুগ ধরে এবং প্রায় সাফল্য অর্জন করেছে।
ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
াহো বলেছেন:
জহির রায়হানের মৃত্যুরহস্য নিয়ে জুলফিকার আলী মানিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনবাবার মৃত্যুরহস্য নিয়ে অনল রায়হানের প্রতিবেদন
Click This Link
ব্রাইটসেন্ট্রাল বলেছেন:
আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কথা দিয়েছেন এর উচিত বিচার করবেন। আমরা আপনি কি বিচার করেন সেই অপেক্ষায় থাকবপ্রধানমন্ত্রী কথা রেখেছিলেন এই ঘটনায় ডালিমকে শোকজ করে।
লেখক বলেছেন: ঐ সময়টাতে শেখ মুজিবের অনেক লিমিটেশন ছিলো, উনি ছিলেন সম্ভবত আওয়ামীলীগের অনেক নেতাদের কাছে জিম্মি তথা অতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। সেই কারনেই সম্ভবত তিনি তার অপরাগতা প্রকাশ করেছিলেন ডালিম এবং তার বউ নিম্মির কাছে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে।
৭১ এর দেয়া ২৭ নং কমেন্টটা আবার পড়ুন। তাহলে বঙ্গবন্ধুর ডালিমকে শোকজ করার কারনটা মোটামুটি বোজা যাবে।
অপহরণের ঘটনা সেনাবাহিনীতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সেনাবাহীনির চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে যায় এবং পুরো দেশই আনষ্টেবল হয়ে যায় যার ফলে তিনি ভারতের সাহায্যের কথাও চিন্তা করেছিলেন।
ধন্যবাদ।
ছিনতাইকারি বলেছেন:
মোদ্দা কথা হৈল, বিচক্ষনতার অভাবের কারনে শেখমুজিব নিজের এবং নিজ পরিবারের সদস্যদের দুর্ভাগ্য ডেকে এনেছিলেন। উনার চলন বলনের যে হাল দেখলাম তাতে মনে হয় যে প্রশাসক হিসাবে উনার যোগ্যতা বড়জোর গ্রাম্য মাতব্বরদের সম পর্যায়ের ছিল, কোনো দেশের প্রধান মন্ত্রীর নয়। একটা ছোটো গ্রাম আর একটা আস্ত দেশ চালানোর ক্ষেত্রে পারংগমতার বিশাল তারতম্য আছে। যেই আর্মির লোকজন স্বাধীনতা যুদ্ধে "ঘাস খালি" প্যারেড করা মুক্তি বাহিনির চাইতে কোনো অংশে কম অবদান রাখেনি, স্বাধীনতার পরে তাদের একটা গর্বতো থাকবেই সদ্য ছিনিয়ে আনা বিজয়ের জন্য। তাছাড়া স্বাধীন একটা দেশের লাইসেন্সড অস্ত্রধারি হিসাবে তাদের গায়ের রক্ততো একটু গরমই তখন। অন্যদিকে দুরদর্শীতার অভাবে এবং নিতান্ত ভালোমানুষির দরুন দেশের আনাচে কানাচে যেইসব দুস্কৃতিকারি আওয়ামিলিগের নেতা হিসাবে এগিয়ে আসছিল তাদেরকেও তিনি কিভাবে কন্ট্রোল করবেন বুঝে উঠছিলেন্না। এদিকে সেই অর্ধমুর্খ দাম্ভিক নেতারা আস্কারা পেয়ে মাথায় উঠছিল। আর ব্যাপারটা স্বভাবতই সহ্য করতে পারেনি ঐ পাতিনেতাদের চাইতে বেশি যোগ্যতাধারি আর্মির লোকজন। আর্মিও ছিল বেয়াড়া গোছের। পৃথিবির সব দেশে আর্মির লোকজনের অবস্থান ব্যারাকেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর শেখমুজিবের আমলে দেখি সব অভিজাত এলাকা থেইকা শুরু কৈরা প্রধান মন্ত্রীর বেডরুম পর্যন্ত তাদের অবাধ যাতায়াত। এদের সাথে এতোটা দহরম মহরম রাখাটা কি ঠিক হৈসে?
আমি যা বুঝলাম তা হৈল ১৫ ই আগস্টের ঘটনাটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, বরং ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রনহীনতার ফল।
দুঃখ জনক
লেখক বলেছেন: আমি যা বুঝলাম তা হৈল ১৫ ই আগস্টের ঘটনাটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না, বরং ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রনহীনতার ফল।
অসাধারন মন্তব্যের জন্য ধইন্যা।
াহো বলেছেন:
Tofail said he was tortured several times. The killers repeatedly threatened to kill him if he doesn't back the Moshtaque government.Click This Link
Nightmare for AL men after bloodbath
The assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman on August 15, 1975 came as a severe blow to Awami League that led the country's Liberation War in 1971.
Following the cataclysmic event, many top and mid-level AL leaders either fled the country or went into hiding. Some were detained and tortured or forced to back the new regime installed by the killers of Bangabandhu and his family members.
"You are walking over your grave. If you get killed, nobody will take responsibility," Khandaker Moshtaque Ahmed, who assumed office as president immediately after the killings, told Tofail Ahmed at Bangabhaban, putting pressure on him to lend support to the new government.
Incumbent President Zillur Rahman, who was brought along with Tofail to Bangabhaban, also had to endure tremendous pressure.
Talking to The Daily Star recently, Tofail Ahmed, who was special assistant to President Sheikh Mujibur Rahman, recalled the post-August 15 days when AL leaders were gripped by horror of Bangabandhu's killing and the killers, who murdered four national leaders in Dhaka Central Jail.
Tofail said he was tortured several times. The killers repeatedly threatened to kill him if he doesn't back the Moshtaque government.
"The killers took me to a radio station several times. They mounted pressure on me to make statements on the radio in support of the new government. They tortured me as I refused to do their bidding every time," said Tofail.
He was also a member of the central committee of Bangladesh Krishak Sramik Awami League (BAKSAL), a national political party, which was formed to bring about a "second revolution" in the country.
Moshtaque, known for his conservative and pro-Islamic mindset, included some of his old colleagues in his cabinet. He received backing from all rightist parties, including those that had been banned for long.
Mohammad Ullah, Abu Sayeed Chowdhury, Prof Md Yousuf Ali, Phani Bhusan Mazumder, Abdul Mannan, Monoranjan Dhar, Abdul Momin, Asaduzzaman Khan, Dr AR Mallick and Dr Mozaffar Ahmed Chowdhury were among the AL leaders who joined the Moshtaque government.
"Only a few joined the Moshtaque government willingly. Most were forced to join it," said senior AL leader Abdur Razzaq.
Four AL leaders -- Syed Nazrul Islam, Tajuddin Ahmed, M Mansur Ali and AHM Quamaruzzaman -- refused to join the new cabinet. They were detained on August 23 and kept in Dhaka Central Jail.
AL leaders including Abdus Samad Azad, Zillur Rahman, Abdur Razzaq and Tofail were detained in early September. Many mid-level AL leaders and lawmakers of the country's first parliament were also arrested at different times.
Incumbent Speaker of the ninth parliament Abdul Hamid, who was probably the youngest lawmaker of the first parliament constituted through the 1973 national election, was also detained and kept in prison for a long time.
"I was confined in a condemned cell of Rajshahi prison for 20 days. I had to have lunch after lighting a lamp," Hamid recalled the days in prison while talking to The Daily Star.
Hamid was arrested on March 20, 1976 in Kishoreganj and was confined in Mymensingh cantonment for 20 days. Later, he was shifted to Mymensingh jail.
He was taken to Kushtia jail from there, and then to Rajshahi jail where AL leaders Abdul Jalil and Sarder Amzad Hossain along with other party leaders were detained.
"Army men used to enter Rajshahi jail illegally carrying arms. One day I heard a detainee crying out in pain. I came to know that he was being tortured. I was later threatened with the same punishment," Hamid said.
Army men repeatedly interrogated Hamid, who was sub-sector commander of Bangladesh Liberation Force in Kishoreganj and Sunamganj sectors, to know about the arms he used during the Liberation War.
"I told them every time that I surrendered all the arms after the Liberation War," he said.
Hamid was kept in Rajshahi jail for six months and then shifted to Dhaka Central Jail. He was released in 1978 after winning a legal battle.
In efforts to create a vacuum in AL leadership and prevent any possible resistance, the killers arrested AL leaders at random and murdered the four national leaders, who successfully led the Liberation War in absence of Bangabandhu.
The killers also looked for two influential AL leaders -- Razzaq and Tofail -- in Dhaka Central Jail on the night they assassinated the four leaders. But luckily they were not in the central jail at that time. Razzaq was kept in Comilla jail and Tofail in Mymensingh jail.
"On November 3, six or seven armed army men tried to enter Mymensingh jail to kill me, but the then jail super did not allow them to enter the prison," Tofail said.
Talking to The Daily Star, Razzaq, who was one of the secretaries of BAKSAL, said almost all AL leaders and activists had to suffer more or less repression following the killing of Bangabandhu.
Asked about the then foreign minister Dr Kamal Hossain, Razzaq said Dr Kamal was abroad at that time and did not return to the country for a long time.
Student leaders were also on the run to escape torture and repression by the army.
Present AL lawmaker Mostafa Jalal Mohiuddin, who was a student leader at that time, said he, Obaidul Quader, KM Jahangir Hussain and Bahalul Majnu Chunnu secretly communicated with some leaders and tried to stage agitations. But it could not be possible as most student leaders went into hiding to escape detention and torture.
BAKSAL could not begin its journey because of the catastrophic incident. BAKSAL, founded through the fourth amendment to the constitution on June 7 1975, was about to replace the nation's other political organisations and associations officially on September 1, 1975.
Khandaker Moshtaque declared martial law on August 20 with effect from August 15 and banned all political activities.
Amid a volatile situation fuelled by coup and counter coup, Ziaur Rahman became the Chief Martial Law Administrator on 19 November 1976, when Justice Sayem relinquished his position.
Ziaur Rahman ultimately became the country's president on 21 April 1977, when President Sayem stepped down.
Awami League was not allowed to resume its activities, until Ziaur Rahman consolidated his political power and completed preparation for forming BNP in 1978.
হযরত আরীফ বলেছেন:
বিষয়টি নিয়ে আরো ভালোভাবে জানা দরকার।তবে আপনি অনেক কষ্ট করে লিখেছেন,এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে এবং যারা তথ্যবহুল মন্তব্য দিয়ে লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছেন তাদেরকে ধন্যবাদ।
অভিমানী মেঘ বলেছেন:
হাইজ্যাকের ব্যাপারটা পুরোই বানানো গল্প।
লেখক বলেছেন: হাইজ্যাকের ব্যাপারটা পুরোই বানানো গল্প।
সহমত।
াহো বলেছেন:
Click This Link জহির রায়হানের মৃত্যুরহস্য নিয়ে জুলফিকার আলী মানিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
বাবার মৃত্যুরহস্য নিয়ে অনল রায়হানের প্রতিবেদন
Click This Link
স্পুতনিক বলেছেন:
লেথক এবং পাল্টা ইতিহাস বর্ননাকারী দুজনেরই পরিচয় দিলে কাহীনির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাইতো। যা হবার তা তো হয়েই গেছে, এথন এ নিয়ে তর্ক করে কোন ফায়দা নেই।
াহো বলেছেন:
শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রী নিম্মীর কিডনাপ প্রসংগWednesday, January 13th, 2010
শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রী নিম্মীর কিডনাপ প্রসংগ
Click This Link
আসি শেখ কামালের একটু পরিচয়ে —–শেখ মুজিবের জৈষ্ঠ ছেলে সবাই জানি , আরো একটা বিষয় জানি সেটা হল উনি আবাহনী ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিষ্টাতা। আর একটু একটু জানি ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গান শিখেছেন ছায়ানটে। নাটক করতেন। নিজে নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। অভিনয়ও করেছেন। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে ছিল তার বিচরণ । আর তা জানা যায় স্বয়ং খুনি মেজর ডালিমের লিখায়, জানা যায় জিয়ার উপদেষ্টা আবুল ফজলের লিখায় , জানা যায় তার বন্ধু বিএনপির সাবেক বিদ্যুত মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুর মুখ থেকে যিনি তার সাথে ছিলেন ব্যাংক ডাকাতির কথিত মাইক্রোবাসে ও। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও নাটক নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের হত্যা কান্ডের বৈধতা দিতে, জাসদের ভুল বিপ্লবের প্রোপাগন্ডার শিকার হতে—আমাদের ও ৩৫ বছর ধরে শুনে আসতে হয়েছে তিনি অস্ত্র হাতে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন বিজয় দিবসের আগের রাতে। আমাদের ও শুনতে হয় তিনি ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী নিম্নিকে কিডনাপ করেছিলেন সুলতানা কামালের মত স্ত্রী ঘরে রেখে। স্বয়ং ডালিমের নিজের ওয়েভ সাইট
ঘেটে তার লেখা যত বই “যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি ” কিছু কথা কিছু ব্যাথা”ঘেটে যার কোন ইশারা ও পাওয়া যায় না তাই বিরুধী পক্ষ এতদিন খেতে দিলেন আমাদের? ইতিহাসের ভুল পাঠ? পাওয়া যায় মেজর ডালিমের বইয়ে- নিজেই উল্লেখ করেছেন তাদের কিডনাপের সবিস্তার যদিও তিনি দিয়েছেন তারমত করেই কিছুটা নিজের রঙে । তার মুখ থেকেই শুনি ।
” রেডক্রস চেয়ারম্যান এবং তদানীন্তন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ প্রধান গাজী গোলাম মোস্তফা নিম্মী এবং আমাকে বন্দুকের মুখে লেডিস ক্লাব থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি ঘটে এক বর্বরোচিত অকল্পনীয় ঘটনা। আমার খালাতো বোন তাহ্মিনার বিয়ে ঠিক হল কর্নেল রেজার সাথে। দু’পক্ষই আমার বিশেষ ঘনিষ্ট। তাই সব ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে হচ্ছিল আমাকে এবং নিম্মীকেই।
——-আমাকে গাড়িতে তুলতেই খালাম্মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,
-ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।
-ঠিক আছে; তবে তাই হবে। বললেন গাজী।——–
-গাজী সাহেব আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।
আমার কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে তিনি আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ৩২নং ধানমন্ডি প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। আমরা হাফ ছেড়ে বাচলাম।
—————
-হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?
গাজীকে উদ্দেশ্য করে গর্জে উঠলেন শেখ মুজিব। চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। খালাম্মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। কামাল, রেহানা ওরা সবাই ধরাধরি করে ওদের উপরে নিয়ে গেল। শেখ সাহেবের কামরায় তখন আমি, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। শেখ সাহেব ওকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। ———-
গাজী -মাফ চা নিম্মীর কাছে।
গাজী শেখ সাহেবের হুকুমে নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠল নিম্মী,
-খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।
এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,
-কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আপনারা জাতির কর্ণধার হয়ে ক্ষমতা ভোগ করছেন সেইসব মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ভুলুন্ঠিত করে তাদের গায়ে হাত দেয়ার মত সাহস কম্বলচোর গাজী পায় কি করে?”
আমি অনেক চেষ্টা করেও সেদিন নিম্মীকে শান্ত করতে পারিনি। ঠান্ডা মেজাজের কোমল প্রকৃতির নিম্মীর মধ্যেও যে এধরণের আগুন লুকিয়ে থাকতে পারে সেটা আমার কাছেও আশ্চর্য লেগেছিল সেদিন। শেখ সাহেব নিম্মীর কথা শুনে ওকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,
-মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা-রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ। বলেই রেহানাকে ডেকে তিনি নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।”
আরো উঠে আসে তার লেখায় শেখ কামালের সহজ সরল অভিব্যক্তি–
“একরাতে হঠাৎ করে শেখ কামাল, সাহান এবং তারেক এসে উপস্থিত আমার কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসায়।
কি ব্যাপার কামাল। তোমরা এত রাতে এখানে ? প্রশ্ন করলাম।
-বস সরি! কিন্তু উপায় নাই। রাতটা আপনার বাসায় নিরাপদে কাটাবো বলেই এলাম। সকালে এসেছি পার্টির কাজে। সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম শহরে।—–
সবার মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে কারোই খাওয়া হয়নি, এসো খেয়ে নাও; তারপর কথা বলার জন্য সারারাত পড়ে আছে।
-নিম্মী You are really great বলল কামাল। সবাই হাতমুখ ধুয়ে খেতে বসে গেল। এরা তিনজনেই বিশেষভাবে পরিচিত এবং আপনজন। খাওয়ার মাঝেই সাহান বলে উঠল,
-ডালিম ভাই কামাল বিয়ে করছে।
-তাই নাকি! তা হঠাৎ করে বিয়ে কি বিষয়?
-না মানে, সবাই ধরছে; না করে আর উপায় কি বস ? রাজি হতেই হল।
-এত খুবই সুখবর। তা তোমার স্কলারশীপের কি হল? সস্ত্রীক যাচ্ছ নাকি? জানতে চাইলাম আমি।
-যাওন যাইবো না বস। পড়ালেখা করার সময় নাই। এরপর কামাল র্শাটের কলারের একপ্রান্ত আঙ্গুল দিয়ে নাড়িয়ে বেশ একটু গর্বের সাথেই বলল,
- Future Prime Minister বুঝতেইতো পারেন কত কাম। একদম সময় নাই।
-সেটাতো বুঝতেই পারছি; কিন্তু There is no short cut to knowledge. মাত্রতো ২-৪ বছরের ব্যাপার ছিল। লেখাপড়াটা সেরে আসলে ভবিষ্যতে একজন Educated Prime Minister পেতাম। This is my only interest nothing else. তাই বলা আর কি। তাছাড়া আগামী দু’চার বছরেতো চাচা রিটায়ার করছেন না; সেক্ষেত্রে স্কলারশীপটা avail করলেই পারতে।—— খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হালকা আলাপ করে সবাই শুয়ে পড়েছিলাম। পরদিন নাস্তার পর ওরা ঢাকায় ফেরার জন্য রওনা হয়ে গেল।
সংক্ষেপ করে দিলাম — বিস্তারিত পাবেন নীড় সন্ধানীর এই পোষ্টে মন্তব্যের ঘরে এবং প্রজন্ম ফোরামের এই টপিকটাতে
আসা যাক ব্যাংক ডাকাতি
আসলে আমাদের তথ্য প্রমানের ও দরকার ছিল না, একটা সাধরন চিন্তাই যথেষ্ট ছিল। মিথ্যা বর্ননাকে একটু টোকা দিলেই সেখান থেকে অসরতা খসে পড়তে দেখা যায় । বলা হয় ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি খেয়েছেন আহত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের ছেলেরকি স্পটে গিয়ে ডাকাতি করা লাগে। যারা বলে তাদের কাছ থেকে একটু জানতে চাইবেনকোন ব্যাংকের ?জানতে চাইবেন সদ্য গত তারেক রাজকুমারের টাকার দরকার হলে তিনি কি অস্ত্রহাতে ব্যাংকে যাবেন? জানতে কি চেয়েছি সেই টাকা গেল কোথায়? ৫৪ সালে মন্ত্রীত্বের স্বাধ পাওয়া শেখ মুজিব ৩২ নম্বরের বাড়িটির কাজ শেষ করে যেতে পেরেছিলেন কিনা?বলতে পারেন মন্ত্রীর আর বেতন কত? হ্যাঁ সত্য এখানেই যে বেতনের বাইরে না হাটলে বাড়ির কাজ অসম্পুর্নই থাকে। নাকি সিরাজ শিকদারের ডাকাতিটা চালিয়ে দেবার পায়তারা চালিয়েছে শেখের ছেলের কাঁধে —১৬ ই ডিসেম্বর সকালে বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ তাদের মিটিং থেকে প্রথম প্রচার করে “শেখ কামাল দলবল নিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি বিদ্ধ হয়”। যেটি ছিল পুলিশের সাথে নিছক একটা ভুল বুঝাবুঝি। জিয়াউর রহমান ও গিয়েছিলেন শেখ কামালকে দেখতে হসপিটালে। জিয়ার উত্তরসুরীরা কি কখনো শুনেছেন এই কথা জিয়ার মুখে? সাথে সাথে খবরটি বাতাসের চেয়ে বেশী বেগে ছড়িয়ে পড়ে। ঐ যে একটা আংশিক সত্যের সাথে মিথ্যা ঢুকিয়ে দিয়ে আসল সত্যের মৃত্যু ঘটানো। আসলেই তারা বৈজ্ঞানিক। বৈজ্ঞানিক বলেই এখন নৌকার ছাঁইয়ের নীচে। ভুল বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা জাসদের এই কবজ খানি পরবর্তীতে বিএনপি , জামাত ব্যবহার করে তাদের গলায়, যতনে বেঁধে রাখে বাম হাতে বছরের পর বছর। আর মোটা বুদ্ধির আওয়ামীনেতারা কেউ জেনে কেউ না জেনে চুপ করে ছিলেন। সে সময় সিরাজ শিকদার লুটপাট ব্যাংক ডাকাতি করে গরীবদের কাছে খাবার বিলি করছেন এই খবর ও তাদের দৈনিক গুলোতে ফলাও করে প্রচার পায়।
সিরাজ শিকদারকে নিয়ে লেখা কমরেড রোকন উদ্দিনের বই থেকে পাওয়া যায় ”
‘৭৩ সালকেই ধরা হয় সিরাজ সিকদারের স্বর্ণ সময়। গল্প ছড়িয়ে পড়ে সিরাজ ব্যাঙ্ক লুট করে অভাবী মানুষকে খাবার দিচ্ছেন। দখল করা হয় ময়মনসিং মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও টাঙ্গাইলের পাথরাইল পুলিশ ফাড়ি। ”
এই কথার আসল ঘটনা না জানার কারনে আওয়ামীলীগের নেতারা ও মাঝে মাঝে এই বিষয়ে চুপসে যান। বিব্রত হন। বলতে ও দেখেছি তাদের গোপনে। আসল ঘটনা জানতে এনাকে দেয়া লস এন্জেলেস প্রবাসী ,ঘটনার প্রতক্ষ্য দর্শী আবুল ফজল মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান এর জবানবন্দি দেখুন।
বিস্তারিত পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে নিতে পারেন esnip থেকে—আমি রহমান পিয়ালের করা পিডিএফ ফাইল
সিরাজ সিকদার কোথায়?
বরিশাল, মাদারী পুরের কিছু অংশ, কুষ্টিয়া , চুয়াডাংগা,মেহের পুর, ঝিনাইদাহ, এবং রাজবাড়ী এলাকার সাধারন মানুষের কাছে মাওবাদী সর্বহারার লিডার সিরাজ সিকদার এবং তার দল সর্বহারা একটি মুর্তিমান আতংক ।তার সম্পর্কে বিস্তারিত লিখলে এখানে পরিসর বেড়ে যাবে। অমি রহমান পিয়ালের গবেষনা পোষ্ট “ভুল বিপ্লবের বাঁশিওয়ালাতে” সব কিছু পাবেন
তো শুনে আসছিলাম শেখ মুজিব নাকি সিরাজ সিকদার মারা যাওয়ার পর দিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল ” কোথায় এখন সিরাজ সিকদার।” সেদিনের সংসদ কার্যবিবরনী ঘেটে দেখা যাক—
আসলে কি বলেছিলেন ”
১৯৭৪ সালে ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ গ্রেপ্তার হন সিরাজ শিকদার। এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে।
২ জানুয়ারী সাভারে নিহত হন সিরাজ শিকদার। সরকারী ভাষ্য গাড়ি থেকে পালানোর সময় গুলিতে নিহত হন তিনি।
সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস করানোর পর তার দ্বিতীয় বিপ্লবের (বাকশাল) বিশ্লেষণ করার এক পর্যায়ে (বক্তৃতার মাঝামাঝি) মুজিব বলেন : স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার পর যারা এর বিরোধীতা করেছে, যারা শত্রুর দালালী করেছে, কোনো দেশেই তাদের ক্ষমা করা হয় নাই। কিন্তু আমরা করেছি। আমরা তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বলেছি দেশকে ভালোবাসো। দেশের স্বাধীনতা মেনে নাও। দেশের কাজ করো। কিন্তু তারপরও এদের অনেকে শোধরায়নি। এরা এমনকি বাংলার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে বিদেশ থেকে টাকা নিচ্ছে। ওরা ভেবেছে আমি ওদের কথা জানি না! একজন রাতের আঁধারে মানুষ মেরে যাচ্ছে আর ভাবছে তাকে কেউ ধরতে পারবে না। কোথায় আজ সিরাজ শিকদার? তাকে যখন ধরা গেছে, তখন তার সহযোগীরাও ধরা পড়বে। আপনারা কি ভেবেছেন ঘুষখোর কর্মকর্তাদের আমরা ধরবো না? যারা বিদেশীদের থেকে টাকা নেয় তাদের আমরা ধরবো না? মজুতদার, কালোবাজারী আর চোরাকারবারীদের ধরবো না? অবশ্যই ধরবো। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। তারা কিছুই হজম করতে পারবে না। ইনশাল্লাহ, পাপী একদিন ধরা পড়বেই…’
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বিশৃংখলা কারী লুটে�রার জন্য বেশী মায়াকন্না করে যারা কমিউনিষ্ট বলতে মুখের থুতু ফেলান যারা তারা। এরশাদ সিকদার এখন কোথায়, বাংলা ভাই এখন কোথায়, ক্রস ফায়ারে নিহত পুর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির জয়নাল মাষ্টার এখন কোথায়? এই কথা যদি শুনি এখন কোন মুখ থেকে তাহলে কি আমার কানে বাজ পড়বে?
ওসমানীর না থাকা
আর সর্বশেষ ১৬ ই দিসেম্বরে ওসমানী কেন অনুপস্তিত ছিল তার ব্যাখ্যা উনি নিজেই দিয়েছেন। জেনেভা কনভেনশনে সাইনি না হওয়া, ৯২ হাজার সৈন্যের নিরাপত্তা, পাকিস্তানিদের অনিচ্ছা , সর্বপুরি প্রটোকল ঘটিত এবং ওসমানীর সিলেট অবস্তান । যদি ও সেখানে ওসমানীর ডেপুটি একে খন্দকার গিয়েছিল , মেজর হায়দার গিয়েছিল। ইদানিং এটা নিয়ে অতি উৎসাহী ভারতীয়রা এবং স্বাধীনতার ক্ষনটাকে কলংকিত করতে চাওয়া একটা মহলের অপতৎপরতা বেশ দৃষ্টি কটু লাগছে।
এর সমুচিৎ জবাব দিতে বিস্তারিত পড়তে পারেন মুক্তমনায়
নুরুজ্জামান মানিকের এই লিখায়http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=1952
আমার ও একটা পোষ্ট আছে কেন অরোরার কাছে
শেখ কামাল নিহত হয়েছেন, তার হত্যাকান্ডের ও বিচারের রায় হয়েছে। সে যদি অন্তত এই দুটি বিষয়ে নির্দোষ হয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে তাকে মুক্তিদিন, রক্তস্নাত রাজনীতিতে আর না হয় নাই করলেন গোয়েবলেস এর মিথ্যা তত্ব এর ব্যবহার!!!
আর বর্তমানে শুরু করেছে জনপ্রিয় সাহিত্যিক লেখক জাফরইকবাল কে নিয়ে। আরো অনেক মানুষই পড়বে প্রতিক্রিয়াশীলদের খপ্পরে। তাই যারা অসাম্প্রদায়িক চেতানর তারা সাবধান থাকবেন, চোখ খোলা রেখে।
(অমি রহমান পিয়াল, নুরুজ্জামান মানিক, আদিল মাহমুদ, নীড় সন্ধানী ,জিয়াউল হক, প্রজন্ম ফোরাম এবং বরাবরের মত উইকিকে কৃতজ্ঞতা।)
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ াহো আপনার অসাধারন তথ্যবহুল কমেন্ট এবং লিংকের জন্য। কয়েকটা লিংক আসে নাই। আশা করি ঠিক করে দেবেন।
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন:
তখনকার আর্মিরা দেখি বাঘের বাচ্চা আছিলো, মোমেনের হ্যাডম দেইখা মনে হইলো আর্মিরে নিয়া আসলেই গর্ব করন যায়, আর এদের স্বর্ন সময় আছিলো মনে হয় তখনই। সব একেকটা কুল হেডেড সোলজার...যদিও জাতির পিতার মৃত্যু বা বিচার নিয়া কোনো বিতর্ক ভালো লাগে না, কিন্তু আর্মি যা করে তা আমার কাছে অলওয়েজ রাইট, এগো যে কোনা মুভেই একটা আর্ট আছে!!
লেখক বলেছেন: শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ। কমেন্ট করে আসলাম।
ঢাকাইয়া টোকাই বলেছেন:
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: " তখনকার আর্মিরা দেখি বাঘের বাচ্চা আছিলো, মোমেনের হ্যাডম দেইখা মনে হইলো আর্মিরে নিয়া আসলেই গর্ব করন যায়, আর এদের স্বর্ন সময় আছিলো মনে হয় তখনই। সব একেকটা কুল হেডেড সোলজার..কিন্তু আর্মি যা করে তা আমার কাছে অলওয়েজ রাইট, এগো যে কোনা মুভেই একটা আর্ট আছে!! "সহমত, বাংলাদেশ টা দেশপ্রেমি আর্মিদের জন্যই টিকে আছে।
জুল ভার্ন বলেছেন:
শেখ কামাল যে "কিয়া মাল" ছিল-তা বর্তমান প্রজন্ম যদি জান্তো-তাহলে থুথুর বন্যায় ভেষেযেতো শেখ পরিবারের বর্তমান সদস্যরাও।
লেখক বলেছেন: এই পর্যন্ত শেখ কামাল সম্পর্কে যে সব তথ্য পাওয়া গেছে :
৭১ এর দেয়া ২৮ নং কমেন্টে
"দিনই সন্ধ্যায় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে কর্নেল হুদা গিয়ে হাজির হলেন ৩২নং ধানমন্ডিতে। অতি পরিচিত সবকিছুই। কিন্তু এবারের আসাটা কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির তাই পরিবেশটা কিছুটা অস্বস্তিকর। রেহানা, কামাল সবাই কেমন যেন বিব্রত! পরিবেশটাকে হালকা করার জন্য বললাম,
-কি কামাল বিয়ের দাওয়াত পাবোতো? আমার প্রশ্নে লজ্জা পেয়ে কামাল উত্তর দিল,
-কি যে বলেন বস! আমি নিজে গিয়ে আপনাকে ও নিম্মীকে দাওয়াত করে আসব। আপনাদের ছাড়া বিয়েই হবে না।"
াহো এর দেয়া ৪৫নং কমেন্টে
আসি শেখ কামালের একটু পরিচয়ে —–শেখ মুজিবের জৈষ্ঠ ছেলে সবাই জানি , আরো একটা বিষয় জানি সেটা হল উনি আবাহনী ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিষ্টাতা। আর একটু একটু জানি ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গান শিখেছেন ছায়ানটে। নাটক করতেন। নিজে নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। অভিনয়ও করেছেন। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে ছিল তার বিচরণ । আর তা জানা যায় স্বয়ং খুনি মেজর ডালিমের লিখায়, জানা যায় জিয়ার উপদেষ্টা আবুল ফজলের লিখায় , জানা যায় তার বন্ধু বিএনপির সাবেক বিদ্যুত মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুর মুখ থেকে যিনি তার সাথে ছিলেন ব্যাংক ডাকাতির কথিত মাইক্রোবাসে ও। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও নাটক নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের হত্যা কান্ডের বৈধতা দিতে, জাসদের ভুল বিপ্লবের প্রোপাগন্ডার শিকার হতে—আমাদের ও ৩৫ বছর ধরে শুনে আসতে হয়েছে তিনি অস্ত্র হাতে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন বিজয় দিবসের আগের রাতে। আমাদের ও শুনতে হয় তিনি ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী নিম্নিকে কিডনাপ করেছিলেন সুলতানা কামালের মত স্ত্রী ঘরে রেখে।
আপনিও শেয়ার করুন আপনার দৃষ্টিভঙ্গি।এক এক করে প্রত্যেকটা অপপ্রচারের পেছনের সত্য বেরিয়ে আসুক। অপপ্রচারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হোক নতুন প্রজন্ম।
না বলা কথা বলেছেন:
জুল ভার্নের কাছে শেখ কামাল সম্পর্কে জানতে চাই।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
কামালরে ধূয়া তুলসী পাতা বানাইতে গিয়া ডালিমের ব্যাক্তি গত ডাইরির লেখা পোষ্ট করছেন|সব পড়ার পর মনে হইতাছে, কামাল নিষ্পাপ, মুজিব রাক্ষস, ডালিম হিরো.....||
শুনেন, আপনাদের মত আম্লীগারদের প্রতিটি কাজ আম্লীগের পাছায় বাঁশ হইয়া ঢুকে.....|
লেখক বলেছেন: ৩২ নং কমেন্টের জবাব দেখুন।
আপনার কমেন্ট শুনে মনে হচ্চে আপনি টিপিক্যাল বিম্পি।
ব্লগে না এসে তারেক রহমানকে তেল মালিশ করেন কাজ অইবো।
আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকই যে দল করেন তা BAL বা বিম্পি যাই হোক না কেন , যদি তার দল খারাপ কাজও করে তাহলে তার দলকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে যান। এই জাতির ভাগ্য ফিরবো ক্যাম্নে !!!??? আফসুস !!
লুথা বলেছেন:
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: সুবিচার লাগবো....... সুবিচার........???? বা;লাদেশে সুবিচার চলিতেছে, সম্পূর্ন র;গীন.........!!!!!!!!!!!!!!!১৭ টি চুরি ও চান্দাবাজীর মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামীর মামলা হাওয়া খেয়ে বেরাচ্ছে........!!!
সুবিচারের ঠেলায় বিরোধী দলের নেত্রীর বাসায় রাত সারে তিনটায় পুলিশ যায় সমন নিয়ে....!!!
সুবিচারের ঠেলায় ১৮ বছরের সাজা পাওয়া আসামী মাফ পায় প্রধানমন্ত্রীর ইশারায়......!!!
সুবিচারের ঠেলায় বিরোধীদলের নেতা নির্যাতনের ফলে জেলেই মারা যায়.....!!!
সুবিচারের ঠেলায় হাজারীর ৪ টা খুনের মামলায় বেইল হয়ে যায়.....!!!
সুবিচারের ঠেলায় ৫০ জন বিডিআরকে মেরে গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়.......!!!
সুবিচারের ঠেলায় ৭৫ জন আর্মি অফিসারকে যারা মেরেছে সেই লেদার লিটন, নানক,আজম,তাপস, শেখ সেলিমরা হাওয়া খেয়ে বেড়ায় .....!!!
সুবিচার লাগবো....... সুবিচার........???? বা;লাদেশে সুবিচার চলিতেছে, সম্পূর্ন র;গীন.........!!!!!!!!!!!!!!!
লেখক বলেছেন: ![]()
![]()
হাই ৫ হাসান বলেছেন:
মিথ্যা ব্লেইম, গোয়েবলস আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতির (সঙ) (?) একটা অংশ
লেখক বলেছেন: হয়তোবা ![]()
![]()
ছিনতাইকারি বলেছেন:
জুলভার্ন সাহেব মুখ খুলেন, পোস্ট দিয়া ফালান শেখ কামালের সম্পর্কে। আমগো জাননের অধিকার আছে যে সে আরেকটা তারেক জিয়া আছিল কি না
রবিনহুড বলেছেন:
বেশ উপভোগ্য হলো আলোচনা।পোষ্টের লেখক ডালিমের নিজের বক্তব্য থেকে প্রমান করার চেষ্টা করলেন যে, সেই সময় ডালিমের বৌ কে কেউ কিডন্যাপ করে নি। শেখ কামাল জরিত ছিলো না।
আবার অন্য সময় পোষ্টের লেখক ডালিমে কথা যেনো বিশ্বাস করা না হয় সে জন্য একটা জিগির তুললেন সেটা হলো ... ("লেখক বলেছেন: ২৭ নং কমেন্টের জবাবেও আমি বলেছি ডালিমের লেখাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করার কারন নেই কারন এটা একটা অপরাধীর জবানবন্দী মাত্র।)
এটা হলো "মতের সাথে মিলে গেলে সত্য আর না মিললে মিথ্যা..." অত্যন্ত নিন্মমানের মন মানসিকতা নিয়ে আপনি ডালিমের বক্তব্যের সত্য মিথ্যা নির্নয় করার চেষ্টা করছেন।
কুলাঙ্গার গাজি গোলাম মোস্তফার এই ঘটনা শেখ মজিব বিচার না করে নিজেকেও কুলাঙ্গার হিসাবে পরিচয় দিলেন। সুতরাং একজন কুলাঙ্গারের পরিনতি এই রকম হওয়াই স্বভাবিক।
লেখক বলেছেন: মেজর ডালিম যেহেতু শেখ মুজিবের খুনি সুতরাং তিনি তার লেখায় শেখ মুজিবের নেগেটিভ দিকগুলি তুলে ধরে/ অতিরন্জিত করে তার কৃতকর্মকে বৈধতা দিতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক।
এই সিম্পল ব্যাপারটা যিনি ধরতে পারেন না তার কমনসেন্স নিয়েই আমার প্রশ্ন আছে।
যাই হোক ব্যক্তিগত আক্রমন না করে আপনি যা যা জানেন শেয়ার করুন।আমদের নতুন প্রজন্ম মুক্ত হোক ইতিহাসের অন্ধকার থেকে। ধন্যবাদ।
রবিনহুড বলেছেন:
শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করেছিলেন কি? কে সাক্ষী দিবেন?আমার এক দূর সম্পর্কের মামা আছেন, বাড়ী ভৈরব এর চন্ডিবের গ্রামে। তার ছোটবেলার পাশা পাশি বাড়ির বন্ধু "ফরিদ মিয়া" (এটা তার এলাকায় এই নামেই পরিচিত, পুরা নাম মনে নেই)
"ফরিদ মিয়া" হলো বর্তমানে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের শ্যালক। ১০/১২ বছর হলো "ফরিদ মিয়া" ক্যান্সারে মারা গেছেন। বর্তমানে তার এক ছেলে ফারহান বেচে আছে।
"ফরিদ মিয়া" ছিলেন শিল্পপতি। অত্যান্ত ঢন্যাঢ্য ব্যক্তি। টাকা পয়সার তেমন কোনে হিসাব রাখতে পারতেন না। হাত উজার করে খরচ করতে পারতেন। ফলে তার বন্ধু বান্ধবের অভাব ছিলো না। আমার সেই দূর সম্পর্কের মামা ছিলো তার দূর্দীনের একমাত্র বন্ধু। এটা বলার কারন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পরে তার খুব কম বন্ধুব্ন্ধবই পাশে দেখি গিয়েছিলো এক মাত্র সেই মামা ছাড়া।
মামা প্রায়ই আমাদের কাছে ফরিদ মিয়া ও শেখ মজিব পরিবারের গল্প করতেন। ফরিদ মিয়ার কল্যানে তিনিও প্রায়ই শেখ মজিবের বাড়িতে অবাধ যাতায়াত ছিলো।
সেই সময়ে "ফরিদ মিয়ার সাথে শেখ কামালের অত্যন্ত দহরম মহরম ছিলো। মামা প্রায়ই বলতেন যে "ফরিদ মিয়ার" বাসায় শেখ কামালের সাথে কত রাত যে সারা রাত তাশ খেলে কাটিয়েছেন আর কত রাত যে এক বিছানায় ঘুমাতেন সেটা একটা বড় ইতিহাস।
"ফরিদ মিয়ার বাসায় বসতো মদের আসর, শেখ কামাল সে আসরের একজন নিয়মিত মদ্যপ ছিলো। এটা নতুন কিছু ছিলো না....অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলেই "ফরিদ মিয়া" ষ্টমাক ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
সেই মামা আমাদের একদিন ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, উনি আর আরো দুই বন্ধু সহ "ফরিদ মিয়ার" বাসায় ছিলেন, হটাৎ খবর এলো শেখ কামাল আহত হয়েছে... ইত্যাদি ... ঘটনা শুনে "ফরিদ মিয়া" অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ল... কয়েক জনের সাথে ফোনে কথা বলে উপস্তিত বন্ধুদের সামনে যে মন্তব্য করে বলল যে.. "কামাইল্যার বুদ্বি সব সময় কম... নিজে না গিয়া পুলাপাইন দিয়া টাকাটা আনাইলেই তো হইতো... তুই নিজে অপারেশনে গেলি ক্যান?...."
মামা বলল যে, তখন আমরা জানতে পারি যে শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি খেয়ে আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে সেই রাতেই তারা শেখ কামালকে দেখতে গিয়েছিলেন।
মজার কথা হলো "ফরিদ মিয়া" শেখ কামালকে হাসপাতালে ডুকেই প্রথমে নাকি একটা থাপ্পর দিয়েছিলো... তার বোকামির জন্য।
"ফরিদ মিয়ার বক্তব্য ছিলো ডাকাতির অপারেশনে কামাল নিজে না গিয়েও সাঙ্গ পাঙ্গ দিয়ে করাতে পারতো....
কথা হলো শেখ কামাল সেই সময় এতটা ডেয়ারিং হয়ে পরেছিলো যে, তাকে কেউ গুলি করবে এটা ভাবতে পরে নি।
------------------------------------------------------------------------
আরেকটা মজার ঘটনা আছে, যেটা হলো এক সময় ফরিদ মিয়ার কি ভাবে শেখ কামালকে মাইর দিয়েছিলো।
পরবর্তিতে শেখ মজিব সেটা বিচার করার আশ্বাস দিয়ে মিটমাট করেছিলেন (মজিব সারা জীবন মানুষকে বিচারের আশ্বাসই দিয়ে গিয়ে ছিলে.. বিচার আর করে নাই...)। সেই ঘটনার জন্য শেখ মজিবের কাছে বিচার চেয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান। কারন ফরিদ ছিলো তার অত্যন্ত স্নেহ ভাজন শ্যালক..
-------------------------------------------------------------------------
ঘটনার বর্ননা সম্পকে কারো সন্দেহো থাকলে বা আরো তথ্যের প্রয়োজন হলে সেই "ফরিদ মিয়া" ও আমার দূর সম্পর্কের মামার ব্যাপরে তথ্য দেয়া আছে যাচাই করুন। তাদের কাছ থেকে শেখ কামাল সম্পর্কে আরো অজানা তথ্য পাবেন।
আবার গরু মেরে জুতা দান, চাকরীচ্যুত করে অপমান করা, আগের অপমানের সুবিচার না করা, আবার বাসায় ডেকে এনে বাবা আমার, লক্ষী আমার......ভাব ধরা...কোন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন লোক এ ব্যাপারকে সহজভাবে নিবে না। যেখানে বঙ্গবন্ধু উদারতা দেখাতে পারেনি, জিজিএম আনুগত্য দেখায়নি সেখানে ডালিমের কাছ থেকে উদারতা, ধৈর্য, বাস্তবতা বোঝা এসব আশা করা নেহায়েত অন্ধতা। বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতায় থাকা না থাকার ব্যাপারে একজন সৈনিকের কেন মাথা ব্যাথা থাকবে? নিজের সম্মানের চেয়ে বঙ্গবন্ধুর সম্মানকে বড় করে দেখতে হবে, কেন, কিসের জন্য? কাপুরুষ, আর্মির মীরজাফর সফিউল্লাহ্কেও সেদিন মেরে ফেলাটা অনিবার্য ছিল। অবিচার শুধু অবিচারই বাড়ায়, তাই তো সেদিন শিশু রাসেলও রক্ষা পেল না। দুঃখজনক।
আর ডালিম কেন এখনো পলাতক, তার কেন কোন খোঁজ পাওয়া যায় না? সেখানে কি কোন গোপনীয় বোঝাপড়া নেই তো শেখ পরিবারের সাথে, যেহেতু তাদের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন, আর এ জন্যই শেখ কামালের জড়িত থাকার ব্যাপারটা ডালিমও চেপে যাচ্ছে, নিজেকে বাঁচাবার জন্য। দোষ চাপাচ্ছে জিজিএম-এর উপর, যে কিনা মরে ভূত হয়ে গেছে --- এ রকম একটা সম্ভাবনাও তো থাকতে পারে।
খালেদ মাসুদ বলেছেন:
রবিনহুড বলেছেন: মামা বলল যে, তখন আমরা জানতে পারি যে শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়ে গুলি খেয়ে আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে সেই রাতেই তারা শেখ কামালকে দেখতে গিয়েছিলেনপ্রতিবিপ্লবী বলেছেন: কিন্তু শেখ কামাল নাকি ব্যাঙ্ক ডাকাত ছিলো? রাত্রে বেলা ডাকাতি করতে গিয়া গুলি খাইছিলো? তখন কি রাত্রে ব্যাঙক খোলা থাকতো?
মনে হয় তখন SCB-র ইভিনিং ব্যাংকিং চালু ছিলো
লেখক বলেছেন:
রবিনহুড বলেছেন:
খালেদ মাসুদ @ ডাকাতির ঘটনাটা কখন হয়েছিলো (দুপুর-বিকেল না রাতে ) সেটা আমার জিজ্ঞেস করা হয় নাই। এটা বহু বছর আগে শোনা ঘটনা। তখন এতটা মনযোগ দিয়ে শুনা হয় নাই। (আর আপনারাও ক্যান ঘটনা রাতে হয়েছিলো বলে ধরে নিচ্ছেন? সে রকম কি কোনো রটনা আছে? আর ডাকাতি রাতে হলেই যে ব্যাংক খোলা থাকতে হবে এমন কোনে কথা কি আছে? ব্যাংক বন্ধ অবস্তায় কি ডাকাতি করা যায় না? কয়েক বছর আগে ব্রাক ব্যাংক ডাকাতি করে রাতে ভল্টের অনেক স্বর্ন লুট হয়ে ছিলে... সেটা কি ডাকাতি হিসাবে পত্রিকায় আসে নাই?)তর্কের খাতিরে বহু কিছু বলা যায়, এখন আপনি এটাও বলতে পারেন, আমার মামা বা তার বন্ধু ফরিদ তো ঘটনা নিজের চোখে দেখে নাই... মামাও শোনা ঘটনা আমাকে বলেছে... সুতরাং এর সত্যতা ভিত্তি অত্যন্ত দূর্বল.... মিথ্যাও হতে পারে...
আমিও তো অন্যের কাছ থেকে শোনা কথা বললাম, সেটা যে সত্যি ছিলো সেটাও কি আমি হলফ করে বলতে পারি...? কখনই না.... এটা শ্রেফ শোনা কথা.... সত্য মিথ্যা পাঠকে মর্জি...
নাজনীন১ @ কুলাঙ্গার গাজি গোলাম মোস্তফার বিচার করতে শেখ মজিব এতো কুন্ঠা বোধ করলেন ক্যান? এই রকম কুলাঙ্গার গুলাকে না পুষলে আজ হয়তো তিনি নিজেই বেচে থাকতেন। এই কুলাঙ্গার গুলাই শেখ মজিবকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে গিয়েছিলো...
খালেদ মাসুদ বলেছেন:
রবিনহুড বলেছেন: আর আপনারাও ক্যান ঘটনা রাতে হয়েছিলো বলে ধরে নিচ্ছেন?-----------------------------------------------------------------------
কারণ আপনার লেখায় তাই বুঝা যায় । আপনি বলেছেন রাতে তাস-মদের আসর বসতো এবং সেইরকম একটা আসরেই ডাকাতির খবরটা ফোনে জানতে পারেন ফরিদ মিয়া । আর সেই রাতেই হাসপাতালে যান তারা । তো ঘটনাটা রাতে ঘটেছে এমনটাই বুঝায় না?
খালেদ মাসুদ বলেছেন:
রবিনহুড বলেছেন: তর্কের খাতিরে বহু কিছু বলা যায়, এখন আপনি এটাও বলতে পারেন, আমার মামা বা তার বন্ধু ফরিদ তো ঘটনা নিজের চোখে দেখে নাই... মামাও শোনা ঘটনা আমাকে বলেছে... সুতরাং এর সত্যতা ভিত্তি অত্যন্ত দূর্বল.... মিথ্যাও হতে পারে...আমিও তো অন্যের কাছ থেকে শোনা কথা বললাম, সেটা যে সত্যি ছিলো সেটাও কি আমি হলফ করে বলতে পারি...? কখনই না.... এটা শ্রেফ শোনা কথা.... সত্য মিথ্যা পাঠকে মর্জি...
---------------------------------------------------------------
তর্কের খাতিরে আসলেই অনেক কিছু বলা যায় । কিন্তু সব ব্যাপারে শুধু শোনা কথা নিয়ে তর্ক করা মনে হয় ঠিক না । বিশেষ করে যেসব বিষয় আমাদের দেশ বা দেশের ইতিহাসের গতিপ্রক্বতি পরিবর্তন করে দিতে পারে বা দিয়েছে । গোয়েবলসের ভাবানুসারিরা কিন্তু এইভাবেই মিথ্যাকে সত্যি বানিয়ে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করে ।
একটা উদাহরণ দিই । সেই ছোটবেলা থেকে জেনে আসছিলাম বঙ্গবন্ধু সব রাজাকারকে বেকসুর খালাস দিয়ে গেছেন । অথচ পরে অনেক পড়াশোনা করে কাঠ-খড় পুড়িয়ে যে সত্যিটা জানলাম সেটা হলো তিনি ছোট খাটো গ্রাম্য পাতি রাজাকার শ্রেণীটাকে ক্ষমা করেছিলেন, বাঘাগুলোকে না । এমনকি নামকরা রাজাকারদেরকে ধরাও হয়েছিলো এবং সংসদে আইন পাশ করে তাদের বিচারও তিনি শুরু করে গিয়েছিলেন । তার আমলে কয়েকজনের বিচার হয়ে শাস্তিও শুরু হয়ে গিয়েছিল। পরে মেজর জিয়া রাষ্ট্রপতি হয়ে নির্বিচারে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেন । অথচ এই মিথ্যা প্রচারটাকে ভিত্তি করে জামায়াত-শিবির তো বটেই, বিএনপি-জাপাও বলে এসেছে রাজাকারদেরকে তো শেখ মুজিবই ক্ষমা করে গেছেন, আমরা আর কি বিচার করবো কিভাবে ? সেই বিচার আমরা আজকেও পাইনি ।
লেখক বলেছেন: বঙ্গবন্ধু সব রাজাকারকে বেকসুর খালাস দিয়ে গেছেন !!! আমি এখনও এটা জানি। আফসুস ![]()
এই অপপ্রচারগুলো কিভাবে এত প্রতিষ্ঠিত হলো সেটা ভেবে অবাক লাগে !!
তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন:
এই সম্পর্কে কয়েকটা সাম্প্রতিক লেখার লিংকফারুক-ব.রশিদ-ডালিম এরা কেউ কি সরাসরি যুদ্ধ করেছে? কোন তথ্য কারো কাছে কি আছে?
মেজর ডালিমের নিজস্ব ওয়েবসাইট..
এই সংক্রান্ত কোনো লেখা থাকলে মন্তব্যের সাথে লিংকও দিন। ধন্যবাদ।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
লেখক বলেছেন: ৩২ নং কমেন্টের জবাব দেখুন।আপনার কমেন্ট শুনে মনে হচ্চে আপনি টিপিক্যাল বিম্পি।
ব্লগে না এসে তারেক রহমানকে তেল মালিশ করেন কাজ অইবো।
------------->>
আমার ভোট পাওয়ার যোগ্যতা বা;লাদেশের বর্তমান রাজনীতিবিদ কারোই নাই, জীবনে কাউকে ভোট দেই নাই, জিয়ার বিএনপি পছন্দ ছিল, আম্লীগ-জামাতরে মানব জাতির শত্রু মনে করি|
আমি চরম জাতীয়তাবাদী, বা;লাদেশ প্রেমিক আমি|
সুতরা; আমাকে নিয়ে আপনার অনুমান পুরাটাই ভুল, আর বললাম না, তেল মাখার মত যোগ্যতা তারেকতো দূরে থাক বা;লাদেশের কোন রাজনীতিবিদেরই নেই |
কানে কানে বলি: শেখ কামালকে "ধোয়া তুলসী পাতা" প্রমানের চেষ্টার মাজেজাটা কী........
লেখক বলেছেন: আপ্নাকেও কানে কানে উত্তর দেই : ![]()
![]()
এখনে শেখ কামালকে "ধোয়া তুলসী পাতা" প্রমানের চেষ্টা চলছেনা। এখানে শুধু শেখ কামালে যে মেজর ডালিমের বউরে অপহরন করেছিলো এই তথ্যটা যে ভুয়া এইটা প্রমানের চেষ্টা চলছিলো। সাথে ব্লগারদের অংশগ্রহনের ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য জানলাম, এইটা ফ্রি ![]()
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন:
@ বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত : ভাই জনাব চরম-জাতীয়তাবাদী-দেশ-প্রেমিক-মহা-গুরুত্বপূর্ণ-ভোটের-মালিক ভাই আমার, এই পোস্টে লেখক সত্য খুঁজতে নামছেন বইলাই মনে হয়, সেই সত্য কার পক্ষে যাবে আর কার বিপক্ষে, সেইটা লেখক বিচার করতে বসে নাই বলেই মনে হয়।নিজেরে দেশপ্রেমিক বইলা দাবী করলেন, তাইলে অপছন্দের কিছু সত্য কথা শুনলেই "ছ্যাঁত" করে উঠা বাদ দেন দয়া কইরা। সবকিছু যদি আপনি লাল চশমায় দেখায় শুরু করেন, তাইলে দেশের আসল রং কোন দিনই বুঝবেননা। কোন দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য বা অন্ধ বিদ্বেষ আপনার দেশপ্রেমকেই ভেজাইল্যা করে ফেলবে।
আপনার দেশপ্রেমের দূর্বলতাগুলো কেটে যাক, কিন্তু দেশপ্রেম অটুট থাকুক, এই দোয়া করি।
লাল দরজা বলেছেন:
অনেক্ষন লাগিয়ে সব গুলো কমেন্ট সহ ব্লগটা পড়লাম। ধন্যবাদ আপনাকে।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ এবং ধন্যবাদ তাদেরকে যারা অসাধারন তথ্যবহুল কমেন্ট করেছেন।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
@ দি ফিউরিয়াস ওয়ান:লেখক সত্য খুজঁতে নামছে.........??????????????
হেরে কে কইছে কামাল মেজর ডালিমের বউরে কিডন্যাপ করছিল.......???
হের গাড়ীর ড্রাইভার.......???????!!!
আর সেই ড্রাইভাররে ইতিহাস শিখাইতে তিনি মেজর ডালিমের লেখা জীবনী থেকে নিজের দলের পক্ষে যায় এমন লাইন গুলোকে সত্য মনে করছেন, আবার যে সমস্ত লাইন তার প্রিয় দলের বিপক্ষে যায় সেইটারে আবার মিথ্যা বলে ঘোষনা দিচ্ছেন...........!!!!!!!!!!
লেখক সত্যা জানতে পোষ্ট দিয়েছেন.........
** গত ৪৫ বছর যাবত সবাই জানি গাজী গোলাম মোস্তফা, তার ছেলে ও সা;গ পা;গরা ঘটনার নায়ক| কামালকে এই ঘটনায় জড়িয়ে যে কেচ্ছা লেখক শুনেছেন এব; ব্লগে সত্য(!?) খুজতে এসেছেন সেটা রহস্যপূর্ন**
লেখক বলেছেন: ৬৮ নং এ দি ফিউরিয়াস ওয়ান এবং ৭০ নং এ রোবোট এর কমেন্ট দেখুন।
এবং আপনি বলেছেন : জিয়ার বিএনপি পছন্দ ছিল, আম্লীগ-জামাতরে মানব জাতির শত্রু মনে করি।
জিয়ার বিএনপির সাথে সাথে আপনি যে কখন তারেকের বিম্পিরেও পছন্দ কইর্যা ফালাইছেন আপনি নিজেও জানেনা। নেক্সড কমেন্টের আগে সাইকিয়াটিস্টের কাছে যাওয়ার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন:
@বি.র.ক্লা.: আপনার ধারণা ভুল যে গত ৪/৫ বছর ধরেই সবাই এটা জানে, আমি আমারব্লগ.কম-এ ঐ পোস্ট দেখার আগ পর্যন্ত জানতাম যে মেজর ডালিমের বউকে শেখ কামাল রেপ করেছে। আর আমি রাজনীতির খবর একেবারে কম রাখিনা।আর এই রেপের কাহিনীর আলাদা মূল্য আছে, কারণ এইটা এমন এক আরবান মিথ যেটা সাধারণ জন গণের মধ্যে মুজিব হত্যাকে হালাল করতে ব্যাবহৃত হয়েছে।
এই পোস্টকে রহস্যপূর্ণ বলার কোন কারণই নাই, কারণ এই রেপের কাহিনী জানে আর বিশ্বাস করে এখনো বহু লোক। বরং সেই হিসাবে এই পোস্ট অত্যন্ত সময়োপযোগী বলা যায়।
আপনার লাল চশমাটা নামায়ে দুনিয়া দেখেন, নাইলে দুধের গ্লাসরে সারাজীবনই রক্তের নহর মনে হবে।
াহো বলেছেন:
পাকিস্তানে দাবি :মুজিবের মত ভুটট হত্যার বিচারপাকিস্তানে দাবি :মুজিবের মত ভুটট হত্যার বিচার
Daily Times, Lahore, Pakistan
Saturday, January 30, 2010
Editorial...
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ াহো, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার অসাধারন মন্তব্যগুলোর জন্য।
রোবোট বলেছেন:
@বি.র.ক্লা.:আমাকেও তাই বলা হৈসে। আমার বয়স ৩৮। আর কিছু বলার আছে? এই ব্লগেও এইসব কাহিনী শুনসি। ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা সম্পর্কে মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর এক জেনারেলের নীরব স্বাক্ষ্য ..... বইটা পড়ুন। উনি আওয়ামী লীগের কেউ না। "গত ৪৫ বছর যাবত সবাই জানি ..."
৪৫ বছর আগে কেমনে জানলেন এইসব? ১৯৬৫ সালেই আপনে জানতেন ৭৪এ কি হবে? আপনি কে ভাই? একটু সালাম করতাম।
রুচি বলেছেন:
অনেক না জানা কথা জানলাম কিন্তু অঅপনার দেয়া লিংকগুলও সম্ভবত ডিলিট করা হয়েছে
লেখক বলেছেন: কোন লিংকগুলা কাজ করছেনা আপু ?? একটো স্পেসিকলি যদি বলতেন, আমি তো দেখি সবগুলাই ঠিক আছে।
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
@রোবট:৪৫ বছর বলতে বয়স বুজিয়েছি, ঘটনা ১৯৬৫ সালে ঘটছে বুঝাই নাই|
সালাম করার প্রয়োজন নাই, দলীয় ইতিহাস লিখবো যারা হেগো জন্য ছালাম তুইলা রাখেন|
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
@ফিউরিরাস:আমি বুজাতে চেয়েছি আমার পুরো বয়সে আমি কখনো শুনিনি শেখ কামাল ডালিমের বউকে কিডন্যাপ করেছে|
যা জানি তা হলো ঘটনার নায়ক গাজী গোলাম মোস্তফা, তার ছেলে ও সা;গ পা;গরা ঘটনার নায়ক|
তো চোখের লাল চশমা খুলে ফেললে গাজী ও তার দোসরদের দেখতে দুধের মত সাদা মনে হবে...........
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন:
লেখক বলেছেন: নেক্সড কমেন্টের আগে সাইকিয়াটিস্টের কাছে যাওয়ার অনুরোধ রইলো
-------------->>>
একজন ভাল সাইকিয়াটিস্টের নাম যদি দিতেন, জবর উপকার হইতো.......
লেখক বলেছেন: আপনার সত্যিই অনেক প্রব্লেম আছে। একটা পোষ্টে আপনার মন্তব্য
"আম্লীগের লুচ্চা গুলা যখন ভারতে বইসা পতিতা ভোগে ব্যস্তছিল, তখন ডালিমের ভাই স্বপনের গেড়িলা আক্রমনে ঢাকায় পাকী সেনারা তটস্হ ছিল "
এই পোষ্টে আপনার মন্তব্য
জিয়ার বিএনপি পছন্দ ছিল, আম্লীগ-জামাতরে মানব জাতির শত্রু মনে করি|
এই কমেন্টগুলায় আপনার টিপিক্যাল মেন্টালিটিরই পরিচয় পাওয়া যায়।আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকই যে দল করেন তা BAL বা বিম্পি যাই হোক না কেন , যদি তার দল খারাপ কাজও করে তাহলে তার দলকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে যান। আপনিও মনে হয় এই দলের অন্তর্ভুক্ত। নিজের সমালোচনা করতে শিখুন এবং কেউ ভালো কাজ করলে সে আপনার বিরোধী হলেও তাকে তার প্রাপ্য সম্মান দিন।
আমার মনে হয় এগুলা ওভারকাম করার জন্য সাইকিয়াটিস্টের কাছে যাওয়ার দরকার নাই। আপনি নিজেই নিজের সাইকিয়াটিস্ট হয়ে যান। ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
সাইবেরিয়ান কোকিল বলেছেন:
সত্য কোনদিন চাপা থাকে না। লেখককে ধন্যবাদ ++++
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
আমি স্যাম বলেছেন:
আসলে আমরা বাঙালীরা এমনই আর যিনি "জিয়া"কে পছন্দ করতেন তাকে বলছি (যদিও এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার), জিয়া যে একজন সুবিধাবাদী তা জানতে কর্নেল তাহেরের জবানবন্দি পড়ুন। সামুতেই পাবেন। আর কোন কিছুর কথা নাই বা বললাম।
লেখক বলেছেন: অসাধারন মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
গরম কফি বলেছেন:
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত @ আপনি অপ্রয়জনীয় ,অপ্রাসঙ্গিক তর্ক করেন। সরাসরি বল্লাম ,রাগকরবেন না ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ রুচি আপু ![]()
খুবি সত্যি কথা, আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকই দেশের চেয়ে দলকে অনেক বেশি ভালবাসে। দেশ রসাতলে যাক, শুধুমাত্র তাদের সমর্থিত দল ক্ষমতায় আসুক এটাই চায়। এই ধরনের চামচামি করে কি লাভ হয় বুঝি না।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পরশ পাথর, আপনার মন্তব্যের জন্য।
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন:
ডালিমকে বরখাস্ত করা শেখ মুজিবের চরম এক অবিচার বলেই মনে করি। উনি মনে হয় এই পর্যায়ে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন।
লেখক বলেছেন: ৭১ এর দেয়া ২৭ এবং ২৮ নং মন্তব্য দেখুন।
এখানে দেখবেন পরবর্তীতে সেনাবাহীনির চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ভেঙ্গে গিয়েছিলো। এটা একটা সদ্য স্বাধীন রাষ্টতো দুরের কথা একটা প্রতিষ্ঠিত রাষ্টের কাছেও খুব এলার্মিং।নিচের কোটেশনটা দেখুন :
"রাত প্রায় ১১টার দিকে খবর পেলাম জেনারেল শফিউল্লাহর সাদা ডাটসন কারে দু’জন লোক সিভিল ড্রেসে চাদর মুড়ি অবস্থায় ২নং গেইট দিয়ে বেরিয়ে ৩২নং ধানমন্ডির দিকে যাচ্ছে। একজন young officer -কে মোটর সাইকেল নিয়ে গাড়িকে ফলো করতে বলা হল।"
সিচুয়েশন এমন অবস্হায় গিয়েছিলো যে সেনাবাহীনির একজন জেনরেলকেও গোপনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে পরিস্হিতি জানাতে হয়"
ফলে বঙ্গবন্ধুকে ভারতীয় বাহীনির সাহায্য পর্যন্ত চাইতে হয়েছিলো। এমত অবস্হায় বঙ্গবন্ধুকে ডালিমকে বরখাস্ত করা ছাড়া হয়তোবা কোন উপায় ছিলো না।
এই পরিস্হিতিতে উনার এ ছাড়া কিই বা করার ছিলো ??
আবার সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছিলো খুব দ্রুত।
মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।ভালো থাকবেন।
লেখক বলেছেন: শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ৮৩ নং মন্তব্য এবং এর জবাব দেখুন। ধন্যবাদ।
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন:
মেজর ডালিমের লেখা : ১৫ই আগষ্ট ছিল জাতীয় মুক্তির দিন
জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো সেই সত্যকেই তুলে ধরেছিল। ইতিহাসও সেই সত্যকেই বহন করবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের বিপ্লব দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। সমসাময়িক দেশ বিদেশের প্রতিক্রিয়াতেই তা লেখা রয়েছে। ইতিহাসেও তা থাকবে। আজ আর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ৩০বছর আগে স্বাধীনতার যাত্রাকাল থেকে ক্ষমতাসীনরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করত, যদি সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা থাকত, যদি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সংগঠনের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকত, যদি অন্যায়-অত্যাচার, হত্যা-নির্যাতন না হত, যদি সরকার পরিবর্তনের নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বহাল থাকত তাহলে দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে নাজাত পাওয়ার জন্য ’৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হত না।
১৬ই আগষ্ট ১৯৭৫ দৈনিক ইত্তেফাকে ‘ঐতিহাসিক নবযাত্রা’ নামে সম্পাদকীয়ের অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য তুলে ধরছি:- “দেশ ও জাতির এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন পূরণে ১৫ই আগষ্ট শুক্রবার প্রত্যুষে প্রবীণ জননায়ক খন্দোকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সরকারের সর্বময় ক্ষমতা গ্রহণ করিয়াছেন। পূর্ববর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত হইয়াছেন এবং এক ভাবগম্ভীর অথচ অনাড়ম্ভর অনুষ্ঠানে খন্দোকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করিয়াছেন। দেশের আইন-শৃংখলাকারী সংস্থাসমূহ যথা: বাংলাদেশ রাইফেলস, পুলিশ এবং রক্ষীবাহিনী প্রধানগণও নতুন সরকারের প্রতি তাদের অকুন্ঠ আনুগত্য জ্ঞাপন করিয়াছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জীবনে এই পরিবর্তনের এক বিষাদময় পটভূমি রহিয়াছে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত ও অসংখ্য মা-বোনের পবিত্র ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা একদিন যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম সেখানে আমাদের আশা ও স্বপ্ন ছিল অপরিমেয়। কিন্তু বিগত সাড়ে তিন বছরেরও উর্ধ্বকালে দেশবাসী বাস্তব ক্ষেত্রে যাহা লাভ করিয়াছে তাহাকে এক কথায় হতাশা ও বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সত্যিকার আশা-আকাংখা রূপায়নে খন্দোকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিতে আগাইয়া আসিতে হইয়াছে। তারও কারণ ছিল। পূর্ববর্তী শাসকচক্র সাংবিধানিক পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের সমস্ত পথ রুদ্ধ করিয়া রাখিয়া সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপকে অনিবার্য করিয়া তুলিয়াছিল। কিন্তু ইতিহাসের গতিকে কোনদিন ক্ষমতা লিপ্সার বাধ দিয়া ঠেকাইয়া রাখা যায় না। আজকের এই ঐতিহাসিক মুহুর্তে আমাদের দায়িত্ব অনেক। বাংলাদেশের এক মহা ক্রান্তিলগ্নে জননায়ক খন্দোকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে তাহাকে সুসংহত করিতে হইলে জনগণের প্রতি অর্পিত ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধভাবে আগাইয়া যাইতে হইবে।”
লেখক বলেছেন: মেজর ডালিম যেহেতু শেখ মুজিবের খুনি সুতরাং তিনি তার লেখায় শেখ মুজিবের নেগেটিভ দিকগুলি তুলে ধরে/ অতিরন্জিত করে তার কৃতকর্মকে বৈধতা দিতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক।
আরেকটা কথা : মেজর ডালিমের সাথে বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক সম্পর্কও খুব ভালো ছিলো যা উপরের লেখা এবং মন্তব্য থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।সুতবাং দেখা যায় নিম্মি অপহরন এবং ডালিমের বরখাস্তের পূর্বে শেখ মুজিব ডালিমের কাছে খুবই ভালো ছিলেন, আর অপহরন বিচারের অপরাগতা এবং বরখাস্তের পরে দেশে সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা , যদি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কার্যক্রম ও সংগঠনের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা , যদি অন্যায়-অত্যাচার, হত্যা-নির্যাতন , যদি সরকার পরিবর্তনের নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নাই!!!
দেশের অবস্হার প্রতিবাদ যদি তার ব্যক্তিগত জীবনে আঘাত আসার আগে করতেন তাহলে এটা গ্রহনযোগ্য হত।
লেখক বলেছেন: আর সম্পাদকীয়তে লেখার ব্যাপারে আমার অবজারভেশন:
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে তার বিরুদ্ধে টিভি বা মিডিয়াতে জোর করে তার বিরুদ্ধে প্রচারনার অংশও এটা হতে পারে।
দেশে যখন সেনা শাসন আসে তখন তার বিরুদ্ধে কিছু লেখা যায় না বা জোর করে অনেক কিছু করানো হয় এটা আমরা কয়েকদিন আগেও তত্ববধায়ক সরকারের সময়ও দেখেছি।
আর সেই সময় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছিলো যা এই লেখা বা ৬২ নং এ খালেদ মাসুদের মন্তব্য বা আরও অনেক মন্তব্য থেকে বোঝা যায়। এই অপপ্রচার দ্বারাই খুনিরা সম্ভবত শেখ মুজিবকে হত্যার বৈধতা দিতে চেয়েছিলো।
লেখক বলেছেন: এগুলা আমার ব্যক্তিগত অবজারভেশন। আপনাদের অন্য কোন অবজারভেশন থাকলেও শেয়ার করতে পারেন।
আমদের নতুন প্রজন্ম মুক্ত হোক ইতিহাসের অন্ধকার থেকে। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোয় বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার খবর বেরোয়, তবে তাঁর পরিবারের সদস্যসহ অন্যদের হত্যার বিষয়টি চেপে যাওয়া হয়।
Click This Link
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন:
সম্প্রতি এই সম্পর্কে অতি গুরুত্বপুর্ন পোষ্টদি ডেইলী ষ্টারে জেনারেল শফিউল্লাহর সক্ষাতকারের বঙ্গানুবাদ: এবং কিছু প্রশ্ন।
Click This Link
লেখক বলেছেন: দি ডেইলী ষ্টারে জেনারেল শফিউল্লাহর সাক্ষাতকারের বঙ্গানুবাদ :
জানুয়ারী ৩১, রোববার, ২০১০ ইং তারিখে দি ডেইলী ষ্টার এর সাথে এই সাক্ষাতকারটিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট এর আগে ও পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ঘটতে থাকা ঘটনাবলী নিয়ে বলেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অবঃ)কে এম শফিউল্লাহ, বীর উত্তম।সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন ইনাম আহমেদ এবং জুলফিকার আলী মানিক। ব্লগারদের আলোচনার সুবিধার্তে সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন ব্লগার স্তবদ্ধতা। এই সাক্ষাতকারটি খুবই গুরুত্বপূর্ন বিধায় এখানেও দেয়া হলো। মূল লেখার লিংক উপরে। উপরের পোষ্ট, মন্তব্য এবং এই সাক্ষাতকারের মাধ্যমে সেই সময়ে আসলে কি হয়েছিলো আমরা তার একটা পুরোপুরি ধারনা পাব।
----------------------------------------------------------
সেনাবাহিনীর আর্টিলারী এবং আর্মার্ড ডিভিশন তখন নিয়ম মাফিক রাত্রিকালীন প্রশিক্ষনে ছিলো।প্রশিক্ষণ হতো মাসে দুইবার বৃহস্পতি ও শুক্রবারে। ঘটনাক্রমে ১৫ই আগষ্ট ছিলো এই দুটো দিনেরই একটি।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সেনাবাহিনীর ইন্টেলিজেন্স উইং গুলো ফোর্সের উন্নয়নের সাথে সাথেই পরিণতি লাভ করে। শফিউল্লাহ বলেন, ‘সেই সময়কার একটা বড় সমস্যা ছিলো সেনাবাহিনীর কোন সুসংগঠিত ইন্টেলিজেন্স উইং ছিলোনা’।আর্মি দিয়ে গঠিত ডিএফআই (দি ডিরেক্টরেট অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স)এর সরাসরি তিনবাহিনীর প্রধানদের কাছে রিপোর্ট করার নিয়ম ছিলো।কিন্তু ১৯৭৪ সালে হঠ্যাৎ করে এই নিয়ম পরিবর্তন করে ডিএফআই কে সরাসরি প্রেসিডেন্ট এর সচিবালয়ের অধীনে রিপোর্ট করতে বলা হয়।এতে আর্মি প্রধানের সাথে ডিএফআই এর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এর ব্যাপারে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়। শফিউল্লাহ তখন সেনাবাহিনীকে সুসংগঠিত করার একটি পরিপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেন যাতে সেনা বাহিনীর পাঁচটি ডিভিশন এবং ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট এর কথা বলা হয় এবং এই অর্গানোগ্রাম এখনো সেনাবাহিনীতে বিদ্যমান।তবে সেই সময় প্রস্তাবটি তখনও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আটকে ছিলো এবং প্রস্তাবটি পাস হতে অনেক সময় নিচ্ছিলো।
শফিউল্লাহর ভাষায়, ঠিক সেই সময় দূর্ঘটনাক্রমে একটি আশ্চর্যজনক তথ্যের প্রকাশ ঘটে।১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের আগে কোন এক সময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে একজন এনসিও (নন কমিশনড অফিসার)সেনাবাহিনীতে বিদ্রোহের লিফলেট সহ ধরা পড়ে।লিফলেটগুলিতে রক্ষীবাহিনী সম্পর্কিত বিষেদাগার করা হয়েছে এবং আরো বলা হয়েছে যে, সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসেবে এই প্যারামিলিটারী তৈরী করা হয়েছে এবং এর ফলে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বহু সংখ্যক সেনা কর্মচারী চাকুরী হারাবেন।
‘তখন আমি তখনকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রোফেসর নুরুল ইসলামকে লিফলেটটি সম্পকে অবগত করার জন্য লিফলেট সহ তার কাছে যাই এবং তারপর আমরা প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করি।প্রেসিডেন্টকে আমরা অনুরোধ করি, সেনাবাহিনীর ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট গঠনের প্রস্তাবটা তিনি যেনো যত দ্রুত সম্ভব পাস করেন এবং যত দ্রুত এটা করা যাবে তত দ্রুতই এর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো যাবে’। আর প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগপর্যন্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডিএফআই কে আর্মি হেডকোয়ার্টারের অধীনে দেয়ার জন্যও প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেন।কিছুক্ষণ নীরবতার পর শেখ মুজিব শফিউল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রউফ কি তোমাদের ইন্টেলিজেন্স অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কে অবহিত করেননা?’ রউফ তখন ছিলেন ডিএফআই এর ডিরেক্টর জেনারেল।শফিউল্লাহ তখন বঙ্গবন্ধুকে এনসিও এর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত লিফলেটটি দেখান এবং বলেন যে তিনি নিশ্চিত নন যে বঙ্গবন্ধুকে রউফ এই লিফলেটটির সম্পর্কে অবগত করেছেন কি না।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কোন উত্তর করেননি এবং তার নীরবতাকে আমি ধরে নেই যে তিনি এব্যাপারে অবগত আছেন।আমি খুব বিস্মিত হয়েছিলাম এই ভেবে যে এখানে ইন্টেলিজেন্স শাখার সাথে যোগাযোগের মধ্যে একটি ফাঁক রয়ে গেছে।লিফলেটের ব্যাপারটি এমন একটি ব্যাপার যা প্রেসিডেন্ট জানেন কিন্তু আমি জানতামনা-অথচ আমারই বিষয়টি আগে জানা উচিত ছিলো।’
শফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুকে বলেন যে নতুন ইন্টেলিজেন্স এর পরিকল্পনাটা এখনও পাস হয়নি।তিনি আরও বলেন যে, সম্পূর্ণ অর্গানোগ্রামটা যদি পাস করতে সময় লাগে, প্রেসিডেন্ট অন্তন পক্ষে মিলিটারী ইন্টেলিজেন্স সেট আপের প্রস্তাবটা পাস করতে পারেন।
ইন্টেলিজেন্স ইউনিটটা প্রায় বাস্তবায়ন হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু সেটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে ‘৭৫ এর সেপ্টেম্বর এর কোন এক সময়ে।
’৭৫ এর আগষ্টের ১৫ তারিখে বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগদানের কথা ছিলো।উনি যেখানে তিনি সার্টিফিকেট বিতরণ করবেন, সেখানে ১৪ তারিখ বিকেলে কয়েকটি বোমের বিস্ফোরণ ঘটে।যেহেতু পুলিশের কোন বোমা বিশেষজ্ঞ ছিলোনা তাই তৎকালীন আইজিপি নুরুল ইসলাম শফিউল্লাহকে ফোন করে আর্মির সহায়তা চান।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমি অনেকগুলি দল পাঠাই পুরো এলাকাটিতে বোমা আছে কি না তা ভালো করে অনুসন্ধান করার জন্য।’ সেই একই দিনে একটি ভারতীয় হেলিকপ্টার ফেনীতে শকুনের সাথে সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয় এবং কপ্টারটিতে অবস্থানরত সব ক’জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হন।হেলিকপ্টারটি চট্রগ্রামের পাহাড়ী এলাকায় সদ্য মাথা চাড়া দেয়া শান্তিবাহিনীর কার্যক্রমের উপর নজর রাখার জন্য বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিলো এবং সেনারা তখন ভারতের স্বাধীনতা দিবসে যোগদানের জন্য দেশে যাচ্ছিলেন।‘আমি মৃতদেহগুলো ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।’
একটি লম্বা এবং ক্লান্তিকর দিন শেষে শফিউল্লাহ যখন বিছানায় যান তখন রাত প্রায় দেড়টা।প্রায় ফজরের নামাজের সময় তার ভৃত্য তাকে জাগিয়ে তোলে এবং তিনি দেখতে পান যে তখনকার মিলিটারী ইন্টেলিজেন্স এর ডিরেক্টর কর্ণেল সালাউদ্দিন তার কক্ষের দরজার বাইরে দাড়িয়ে আছেন।তিনি শফিউল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি আর্মার্ড এবং আর্টিলারী ডিভিশনকে শহরের দিকে পাঠিয়েছো’?শফিউল্লাহ টের পান তার মেরদন্ড বেয়ে একটি ঠান্ডা হিমস্রোত বেয়ে যাচ্ছে।তিনি উত্তর দেন ‘না তো। কেনো?’
সালাউদ্দিন উত্তর দেন, ‘আর্মার্ড ডিভিশন এবং আর্টিলারী ডিভিশন রেডিও ষ্টেশন, গণভবন এবং বঙ্গবন্ধুর ধনামন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ীর দিকে এগুচ্ছে।’
শফিউল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, "ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার এব্যাপারটি জানে’? সে সময ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন কর্ণেল শাফায়াত জামিল।
শাফায়াত জামিল বলেন,‘আমি জানিনা।আমি আপনার কাছেই প্রথম এসেছি।’
‘যাও শাফায়াত জামিলকে বলো এক, দুই এবং চার নম্বর ব্যাটালিয়নকে পাঠিয়ে আর্টিলারী এবং আর্মার্ড বাহিনীর অগ্রসর হওয়া বন্ধ করতে।’ এ নির্দেশ এর সাথে শফিউল্লাহ এও বলেন যে তিনি নিজেও দ্রুত শাফায়াত জামিলকে ফোন করতে যাচ্ছেন।এখানে বলে রাখা ভালো যে, আর্মিতে চীফ অফ ষ্টাফ সমগ্র আর্মিকে পরিচালিত করে আর ট্রুপগুলো পরিচালিত হয় ব্রিগেড কমান্ডারদের নির্দেশে ।
শফিউল্লাহ তখন লাল টেলিফোনটি তুলেন শেখ মুজিবকে সতর্ক করার জন্য।কিন্তু ফোন লাইনটি ব্যস্ত ছিলো।তখন তিনি শাফায়াত জামিলকে ফোন করেন এবং এ লাইনটিও ব্যস্ত পান।এরপর তিনি কর্ণেল জামিলউদ্দিন আহমেদকে ফোন করেন।কর্ণেল জামিল তখন সদ্য প্রেসিডেন্টের মিলিটারী সেক্রেটারী পদ থেকে ডিএফআইতে বদলী হয়েছেন।ফোনে শফিউল্লাহকে জামিল বলেন যে, বঙ্গবন্ধু তাকে ফোন করেছিলেন এবং তাকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যেতে বলেছেন কারন সেখানে কিছু লোক বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে।শফিউল্লাহ জামিলকে বলেন বঙ্গবন্ধুকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করার জন্য।জামিল পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যাওয়ার পথে সোবাহানবাগ মসজিদের সামনে বিদ্রোহী আর্মি অফিসারদের হাতে নিহত হন।
শফিউল্লাহ যখন কর্ণেল শাফায়াত জামিলকে ফোনে পান তখন প্রায় ভোর সাড়ে পাঁচটা।‘তুমি কি জানো, আর্টিলারী এবং আর্মার্ড সেনারা কেনো শহরের দিকে যাচ্ছে?’ তিনি শাফায়াতকে জিজ্ঞেস করেন।
‘না’।
‘আমি তাকে বলি যে, সালাউদ্দিন আমাকে এ ব্যাপারে জানিয়েছে, এবং তাকে আমি তৎক্ষনাত তার অধীনস্থ এক, দুই ও চার নম্বর বেঙ্গল রেজিমেন্টকে পাঠিয়ে অগ্রসররত সেনাদের থামানোর ও ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেই।’
শফিউল্লাহ এয়ার ফোর্স এবং নৌবাহিনীর প্রধানদের সাথেও এ ব্যাপারে কথা বলেন এবং তারাও তাকে অবহিত করেন যে এ ব্যাপারে তারা কিছু জানেননা।এর কিছুক্ষণ পরে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সাথে কথা বলেন এবং তারাও এব্যাপারে তাদের অজ্ঞতার কথা জানান।
তিনি যখন জিয়াকে সেনাদের শহরের দিকে অগ্রসরতার কথা জানান, জিয়া প্রতিউত্তরে বলেছিলেন, ‘তাই না কি?’ এর থেকেই তিনি ধরে নেন জিয়া ব্যাপারটি সম্পর্কে কিছু জানতেননা। এরপর তিনি খালেদ মোশাররফ এবং জিয়া উভয়কেই যতদ্রুত সম্ভব তার বাসভবনে আসতে বলেন।
তারা দু’জনেই ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হন। খালেদ তার নিজস্ব গাড়ি চালিয়ে আসেন, পরনে ছিলো স্লিপিং গাউন। জিয়া এসেছিলেন তার অফিসের গাড়ি করে, শেভ করা এবং সেই সাত সকালেও ইউনিফর্ম পরিহিত।
খালেদ এবং জিয়া তার বাড়ী পেৌঁছানোর আগে তিনি আরেকবার প্রেসিডেন্ট এর বাড়ীতে ফোন করেন এবং এবার তিনি বঙ্গবন্ধুকে ফোনে পান।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘যখন ডিএমআই (সম্ভবত ডিএফআই হবে, মূল অংশে ডিএমআই আছে) আমাকে সেনাদের শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্পর্কে অবহিত করে সেটা ছিলো সোয়া পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে এবং শাফায়াত জামিলের সঙ্গে আমি কথা বলি সাড়ে পাঁচটা থেকে পাঁচটা পঁয়ত্রিশ এর মধ্যে।আমি যখন বঙ্গবন্ধুকে প্রথমবার ফোন করি তার বিশ থেকে পচিঁশ মিনিট পর আমি তাকে ফোনে পাই।সময়টা আমার ঠিক মনে নেই তবে তা অবশ্যই সকাল ছয়টার আগে।’
‘তোমার বাহিনী আমার বাসায় আক্রমণ করেছে।তারা হয়তো কামালকে [বঙ্গবন্ধুর ছেলে] হত্যা করতে পারে।এক্ষুনি তোমার বাহিনী পাঠাও’। বঙ্গবন্ধু রাগত কন্ঠে বলেন শফিউল্লাহকে।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘স্যার আমি কিছু একটা করার চেষ্টা করছি।আপনি কি কোন ভাবে বাড়ী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন?’
‘ও পাশ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আমি হ্যালো বলতে থাকি এবং এক মিনিট পরেই আমি গুলির শব্দ পাই এবং তার কয়েক মিনিট পরেই ফোন লাইনটি ডেড হয়ে যায়।’
এরপর খালেদ মোশাররফ এবং জিয়াকে সহ শফিউল্লাহ তার অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হন।এর মধ্যে দশ থেকে পনেরো মিনিট হয়ে গিয়েছে শফিউল্লাহ কথা বলেছেন কর্ণেল শাফায়াত জামিলের সাথে কিন্তু তখন পর্যন্ত সেনাদের অগ্রসরতা থামেনি।
শফিউল্লাহ ছেচল্লিশ নম্বর ব্রিগেডকে পরিচালিত করার জন্য খালেদ মোশাররফকে নির্দেশ দেন এবং তাকে রিপোর্ট করতে বলেন।
নাসিম, জিয়া এবং খালেদ মোশাররফ সহ শফিউল্লাহ তার অফিসে বসে ছিলেন এবং তাদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে একটি ট্যাংক তাদের অফিসের কাছে অবস্থান নিয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই দু’তিনটি গাড়ি তার অফিস চত্বরে আসে এবং মেজর শরীফুল হক ডালিম পনেরো-ষোল জন সৈন্য সহ তার অফিসে প্রবেশ করে।ডালিম তার কিছুদিন আগে চাকুরীচ্যুত হন।
‘চীফ কোথায়?’ শফিউল্লাহর কক্ষে প্রবেশ করতে করতে ডালিম জিজ্ঞাসা করেন।
ডালিম এবং তার সৈন্যদের অস্ত্র শফিউল্লাহর দিকে তাক্ করা ছিলো।
শফিউল্লাহ ডালিমকে বলেন, ‘অস্ত্র দেখে এবং ব্যবহার করে আমি অভ্যস্ত।যদি তোমরা অস্ত্র ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসে থাকো তবে ব্যবহার করো।আর যদি কথা বলতে চাও তবে অস্ত্র বাহিরে রেখে এসো।’
ডালিম অস্ত্র নীচু করে বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট আপনাকে এক্ষণি রেডিও ষ্টেশনে যেতে বলেছেন।’
উত্তেজনাকর কিছু মুহুর্ত পার হওয়ার পর শফিউল্লাহ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট? আমি যতদূর জানি প্রেসিডেন্ট মারা গিয়েছেন।’ যখন শফিউল্লাহ তার অফিসে পৌছান, তার এডিসি ক্যাপ্টেন কবির তাকে জানান যে প্রেসিডেন্ট মারা গিয়েছেন।
ডালিম গর্জে উঠে বলেন, ‘আপনার জানা উচিত যে খন্দকার মোশতাক এখন প্রেসিডেন্ট।’
শফিউল্লাহ বলেন ‘খন্দকার মোশতাক আপনার প্রেসিডেন্ট হতে পারে, আমার নয়’।
ডালিম বললেন, ‘আমাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করবেননা যা আমি এখানে করতে আসিনি।‘
শফিউল্লাহ উত্তর দেন, ‘তোমার যা ইচ্ছা তুমি করতে পারো, আমি তোমার সাথে কোথাও যাচ্ছিনা।‘
শফিউল্লাহ এরপর তার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান এবং ডালিম্ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ভেতর দিয়ে সোজা ছেচল্লিশ নম্বর ব্রিগেডে যান।কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে তিনি দেখতে পান ব্রিগেডের সকল সৈন্য এবং তাদের সকল অফিসারেরা চক্রান্তকারীদের সাথে যোগ দিয়েছে।সেখানে তিনি মেজর খন্দকার আব্দুর রশীদ এবং ৪৬ নম্বর ব্রিগেডের তৎকালীন মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর দেখা পান।তারা তাকে বারংবার রেডিও ষ্টেশনে যাবার তাগিদ দিচ্ছিলো।শফিউল্লাহ তাদের বলেন যে তিনি একা রেডিও ষ্টেশনে যাবেননা।
পুরো সময়টা ধরে শফিউল্লাহ ভাবছিলেন।এটা তার কাছে পরিষ্কার ছিলো যে, সেনাবহিনীর বড় অংশটিই বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দিয়েছে।যেহেতু কেউ তার নির্দেশ মানছিলোনা সেহেতু সে সময় কিছু করার চেষ্টা করতে যাওয়াটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতো।শফিউল্লাহ স্বগোক্তি করেন, ‘আমাকে আগে আমার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে’।
পরে বিদ্রোহীরা নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার এ্যাডমিরাল এমএইচ খান এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার সহ তিন প্রধানদের নিয়ে রেডিও ষ্টেশনে যায়।সেখানে শফিউল্লাহ দেখতে পান খন্দকার মোশ্তাক একটি কক্ষে বসে আছেন সাথে তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুর।
শফিউল্লাহকে দেখার সাথে সাথে মুশতাক আন্দোলিত কন্ঠে বলেন, ‘শফিউল্লাহ, অভিনন্দন!তোমার সেনারা খুব ভালো কাজ করেছে। এখন বাকীটা সেরে ফেলো।’
‘সেটা কি?’ শফিউল্লাহ প্রশ্ন করেন।
‘সেটা আমার থেকে তুমি ভালো জানো’, মুশতাক উত্তর দেন।
‘সে ক্ষেত্রে এটা আমার উপর ছেড়ে দিন’।শফিউল্লাহ দ্রুত উত্তর দেন এবং কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
তখন তাহেরউদ্দিন ঠাকুর মুশতাককে বলেন, ‘ওনাকে যেতে দেবেননা।ওনার সঙ্গে আমাদের এখনও কিছু কাজ বাকী আছে’।
শফিউল্লাহ যখন বেরিয়ে আসছিলেন তখন তিনি দেখতে পান ডালিম এবং রশীদ সৈন্য নিয়ে দাড়িয়ে আছে এবং তারা তিন বাহিনীর প্রধানদের আর একটি কক্ষে নিয়ে আসে।
এর কিছুক্ষণ পর তাহেরউদ্দিন ঠাকুর কক্ষটিতে প্রবেশ করে এবং শফিউল্লাহকে খন্দকার মুশতাক এর সমর্থনে একটি লিখিত বক্তব্য জোরে পাঠ করতে বলে।কথামতো শফিউল্লাহ তাই করেন এবং বক্তব্যটি রেকর্ড করা হয়।রেকর্ড শেষ হয়ে গেলে মুশতাক ঘোষণা করেন, ‘আমি তিন বাহিনীর প্রধানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেখতে চাই’।
এরপর বঙ্গভবনের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে খুব দ্রুত।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলে শফিউল্লাহ ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যেতে চান কিন্তু মোশতাক তাতে বাধা দেন এবং বলেন যে, শিগগীরই নতুন ক্যাবিনেট গঠন করা হবে।
১৫ই আগষ্টে নতুন ক্যাবিনেট গঠন হবার পর যখন শফিউল্লাহ বাড়ী যাবার কথা ভাবছিলেন তখন তাহের উদ্দিন ঠাকুর তাকে যেতে নিষেধ করেন এবং বলেন যে রাতে একটি কনফারেন্স আছে।
১৮ই আগষ্ট পর্যন্ত শফিউল্লাহকে বঙ্গভবনে অবস্থান করতে হয়।সেই সময়ে সেখানে অনেকগুলি সভা হয় যার আলোচনার মূল বিষয় বস্তু ছিলো মার্শাল ল’ জারি করা হবে কি না সে বিষয়ে।
সভায় শফিউল্লাহ বলেন যে, আলাদা করে মার্শাল ল’ জারি করার কিছু নেই কারন তা আগেই রেডিওতে জারি করা হয়েছে।মার্শাল ল’ কে জারি করেছে, মুশতাকের এরকম একটি প্রশ্নের জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, ‘ডালিম করেছে’।তখন মুশতাক তাকে বলেন, ‘ডালিমতো তোমারই লোক [ফোর্স]।শফিউল্লাহ উত্তর দেন, ‘ডালিম যদি আমারই লোক হতো তবে মার্শাল ল’ ঘোষনার সময় সে আমার নাম বলতো, কিন্তু সে বলেছে আপনার নাম’।তখন শফিউল্লাহ বিষয়টির আইনগত দিকগুলির দিকে নজর দেয়ার অনুরোধ করেন।
মোশতাক তখন বলেন, ‘সব কাজ শেষ।এখন শুধু মার্শাল ল’ জারির গেজেটটা প্রকাশ করা বাকী’।
১৫ থেকে ১৮ই আগষ্টের সেই সময়টার সভার কোন একসময়ে মুশতাক সভায় বলেছিলেন যে, তিনি মার্শাল ল’ জারির ঘোষণা পত্রটি ড্রাফট করবেন এবং সবাইকে তা দেখাবেন।পরদিন, তিন বাহিনীর প্রধানেরা যখন একসঙ্গে বসে ছিলেন, মুশতাক পকেট থেকে একটি কাগজ বের করেন এবং শফিউল্লাহর হাতে দিতে দিতে বলেন, ‘এটিই সেই ঘোষণা পত্র’।
শফিউল্লাহ তাকে বলেন যে তারা এটি ভালো করে দেখবেন যে এতে কোন ভুলভ্রান্তি আছে কি না।
মুশতাক তাকে বলেন ‘জেনারেল শফিউল্লাহ, আমি আজ তিন মাস ধরে এর উপর কাজ করছি’।
শফিউল্লাহ তখন বলেন, ‘সেক্ষেত্রেতো এটা অবশ্যই নিখুঁত হবে’।
১৫ই আগষ্ট শফিউল্লাহ মুশতাককে জিজ্ঞেস করেন বঙ্গবন্ধুকে কোথায় কবর দেয়া হবে সে বিষয়ে, মুশতাক তিক্ততার সাথে তাকে উত্তর দেন ‘যেখানে খুশী সেখানে কবর দাও কিন্তু ঢাকায় নয়’।
১৮ই আগষ্ট শফিউল্লাহ ক্যান্টনমেন্টে ফিরে আসেন এবং তার পরদিন তিনি একটি সভার আয়োজন করেন কীভাবে সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে আনা যায় সে ব্যাপারে।
সে সময় জিয়া তাকে বারবার করে বলেন যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী আমাদের আক্রমন করতে পারে। শফিউল্লাহ বলেন, ‘জিয়া চাইছিলো আমি যাতে সৈন্যদের ক্যান্টনমেন্টে না এনে তাদেরকে বর্ডারের দিকে নিয়োজিত করি’।সে অনুযায়ী শফিউল্লাহ সভায় আর সবার সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিক থেকে আক্রমনের সম্ভাবনাটার কথা সবার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সকল সৈন্যদের বঙ্গভবন থেকে ব্যারাকে ফিরে যাবার নির্দেশ প্রদান করেন।সভায় বঙ্গবন্ধুর দুই খুনী আব্দুর রশীদ এবং ফারুক রহমানও উপস্থিত ছিলো।সভার এক পর্যায়ে শাফায়াত জামিল উঠে দাঁড়ান এবং রশীদ এবং ফারুক রহমানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এদের জন্যই আজ এ অবস্থা।এরাই সব পরিস্থিতির জন্য দায়ী।এদের মার্শাল কোর্টে বিচার হওয়া উচিত’।
সভা শেষে দুই খুনী বঙ্গভবনে ফিরে যায় যেখানে তাদের অন্যান্য বিদ্রোহীরা অবস্থান করছিলো।
আগষ্টের ২২ তারিকে শফিউল্লাহ সকল সৈন্যদের বঙ্গভবন থেকে ফেরত পাঠানোর জন্য মুশতাককে বলেন ।কিন্তু মুশতাক তাকে বলেন যে সৈ্ন্যদের মধ্যে এখনও ভীতি কাজ করছে, তাদেরকে আর একটু সময় দেয়া দরকার।
আগষ্টের ২৪ তারিখে শফিউল্লাহ রেডিওর বুলেটিনের ঘোষণায় শুনতে পান যে জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীকে প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।ঘোষণাটির একটু পরেই মুশতাক শফিউল্লাহকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমার পছন্দ হয়েছে’?
জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ এটা ভালোই হয়েছে’।
মুশতাক বলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে সাড়ে পাঁচটার সময় দেখা করতে চাই’।
বিকেলে বঙ্গভবনে পোঁছানোর পর একজন আর্মি অফিসার তাকে প্রথমে ওসমানীর সাথে দেখা করতে বলে।
শফিউল্লাহ দেখেই ওসমানী সেনাবহিনীতে ও যুদ্ধক্ষেত্রে তার কর্মকান্ডের জন্য তাকে প্রশংসিত করেন এবং বলেন ‘এখন আমাদের আপনাকে বিদেশে প্রয়োজন’।
শফিউল্লাহ বুঝতে পারেন যে এটি তার সাথে একটি বিদায়ী সম্ভাষণ।তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুশতাকের কাছে।মুশতাও তাকে একইরকম প্রশংসাবাণী শোনায় এবং বলে যে দেশ সেবার জন্য তার এখন বিদেশে যাওয়া উচিৎ।
শফিউল্লাহ উত্তর দেন ‘আমি দেশের বাইরে যাবার জন্য প্রস্তুত নই’।
মুশতাক রাগত: কন্ঠে বলেন, ‘তুমি কি জানোনা শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের কি দশা হয়েছে’?
শফিউল্লাহ উত্তর দেন, ‘আমি যুদ্ধের সময় আমার পরিবারকে আল্লাহর জিম্মায় রেখে গিয়েছি’ এবং তারপর তিনি বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন।
কিন্তু বাসায় পৌঁছানোর আগেই শফিউল্লাহ জানতে পারেন যে জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া তাকে তার বাড়ীর বাহিরে যাবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
আগষ্টের ২৪ তারিখে তিনি একটি চিঠি পান যাতে বলা আছে যে তাকে সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
[নোট: নভেম্বরের তিন তারিখে জেল হত্যার পর শফিউল্লাহ তার মত পরিবর্তন করেন এবং মালয়শিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদান করেন।]
লেখক বলেছেন: আরো একটা লিংক
১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্ট এর হত্যাকান্ড -- এড়ানো যেত কি ????
Click This Link
লেখক বলেছেন: ধাঁধাঁ এই সপ্তাহে অইবো না খুব বিজি ছিলাম। তাই
মধ্যরাতে ধাঁধা প্রতিযোগীতা - (পর্ব ৬) আপনিও অংশগ্রহন করুন(Click This Link) এইখানে আগের একটা সহ আরো দুইটা ধাঁধাঁ দিয়েছি।
আপাতত এগুলাই ট্রাই মারো। আগামী সপ্তাহে নতুন পর্ব।![]()
![]()
পাহাড়ের কান্না বলেছেন:
গুরুত্বপূর্ন পোস্ট। প্রিয়তে রেখে দিলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
রাফাত সাদাত বলেছেন:
অনেক তথ্য জানলাম। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
লালসালু বলেছেন:
হাফ সেঞ্চুরির প্লাসটা আমিই দিলাম।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ লালসালু। আপনার প্রত্যাবর্তন শুভ হোক।
রাজসোহান বলেছেন:
আপনের সমস্যটা কি ??????????আমার বাড়িত আসেন না ক্যান????
আপনে যা ভুল জানতেন তা হইল অহন ও আমি আপনারে পিলাচ দেই নাই...এবার কইলাম মাইনাস দিমু
লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: হা হা ভুই পাইছি, আসতাছি , আমি প্রথম পেইজের অনেক গুরুত্বপূর্ন লেখাও মিস করি। স্বপ্বকথকের লেখাটা মিস করে খারাপ লাগছে।
আমার লিংঙ্কে তোমার ও স্বপ্নকথকের নাম অ্যাড কর্লাম। সুতরাং প্রত্যেকবারই আসবো ![]()
![]()
লেখক বলেছেন: কমেন্ট করে আসলাম এবং প্রিয়তে।
ধন্যবাদ।
রাজসোহান বলেছেন:
এই এত্তগুলান পেচাল পাইর্যা কি যে লাভ হয় তা আইজও মাথাত ঢুকলো না
লেখক বলেছেন: মাসুদ রানা* বলেছেন: আসল সত্যটা জানা জরুরী।
যে দেশে গুনের কদর নাই সে দেশে গুনী জন্মাতে পারেনা। সুতরা ইতিহাসের আসল সত্য জেনে যার যার প্রাপ্য মর্যাদা তাকেই দিতে হবে।
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন:
সেই সময়ের আর একটা অপপ্রচার সম্পর্কে গুরুত্বপুর্ন পোষ্টমুজিব সরকার কি আসলেই ক্ষমা করেছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের ???(Click This Link)
শাহেরীন বলেছেন:
প্লাসাইলাম।।ডালিম নিজেই এই বিষয়টাকে ভিত্তিহীন বলেছে তার বিভিন্ন লেখায় ও ওয়েবসাইটে(যদিও সে ঐখানে অনেক মিথ্যাচার করেছে)।।
লেখক বলেছেন: ডালিম নিজেই এই বিষয়টাকে ভিত্তিহীন বলেছে তার বিভিন্ন লেখায় ও ওয়েবসাইটে(যদিও সে ঐখানে অনেক মিথ্যাচার করেছে)।
অনেক ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।
স্তব্ধতা' বলেছেন:
ভাই দ্রুত একটা মন্তব্য করে চলে যাই।জরুরী কাজ আছে।@নাজনীন ১ এর সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই শেখ হাসিনা একটা ভন্ড।ও ফাঁসি দিয়েছে যারা লীগ করেনা তাদের যারা হত্যাকারী তাদের বিচার হয় নাই। শফিউল্লাহ কত বড় হারামী ছিলো তার নমুনা আমার পোষ্টের (উপরের অনুবাদটা, লিংক আপনি দিয়েছেন) ব্লগার সুবিদ এর সাথে আলোচনায় দিয়েছি।দেখেন তার অসংগতি, সাক্ষাতকারে ও বলেছে:''‘তোমার বাহিনী আমার বাসায় আক্রমণ করেছে।তারা হয়তো কামালকে [বঙ্গবন্ধুর ছেলে] হত্যা করতে পারে।এক্ষুনি তোমার বাহিনী পাঠাও’। বঙ্গবন্ধু রাগত কন্ঠে বলেন শফিউল্লাহকে।
শফিউল্লাহ বলেন, ‘স্যার আমি কিছু একটা করার চেষ্টা করছি।আপনি কি কোন ভাবে বাড়ী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন?’ ‘ও পাশ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আমি হ্যালো বলতে থাকি এবং এক মিনিট পরেই আমি গুলির শব্দ পাই এবং তার কয়েক মিনিট পরেই ফোন লাইনটি ডেড হয়ে যায়।’
আর ১৯৭৫ সালের ২১শে আগষ্ট দ্যা টাইমসে প্রকাশিত পিটার হেজেলহার্ষ্ট কি বলেছে দেখুন:
Sheikh Mujibur telephoned the army commander, Major General KM Shafiullah demanding help. It was his last call but the army chief was already surrounded and said ‘Sorry sir, I’m helpless’.
ওর সাক্ষাতকারের সময় দেখেন ডেইলী ষ্টারের কাছে নিজেরে কি হিরো বানানোর চেষ্টা (সে সারাউন্ডেড/হেল্পলেস ছিলোনা) আর টাইমসে দেখেন কি বলেছে (সে সারাউন্ডেড/হেল্পলেস ছিলো)। হত্যার আসল বিচার হয়েছে কি? যাদের ফাঁসীতে ঝোলালাম, সেই দড়ি আবার আমাদের তাড়া করে ফিরবেনাতো? ইতিহাস কাউকেও ছাড়েনা। আর ইতিহাসের প্রতিশোধ বড় নির্মম হয়।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ স্তবদ্ধতা আপনার গুরুত্বপুর্ন মন্তব্যের জন্য।
আমি সবক্ষেত্রেই বলেছি মেজর ডালিম বা জেনারেল শফিউল্লাহর জবানবন্দী বা সাক্ষাৎকার থেকে আমরা সেইসময়ে আসলে কি হয়েছিলো তার একটা ধারনা পাবো। কারও জবানবন্দী পুরোপুরি সত্য তা আমি কখনোই বলিনি এবং আমি এও বলেছি একজন খুনী বা অপরাধী সবসময়ই তার জবাববন্দীতে তার অপরাধগুলো সুকৌশলে স্কিপ করে যায় এটা যেমন মেজর ডালিমের ক্ষেত্রে সত্য তেমনি সত্য জেনারেল শফিউল্লাহর ক্ষেত্রেও।
এবং ঐ সময় সম্পর্কে লেখাগুলোর লিংক দেয়ার চেষ্টা করেছি এবং কারও কাছে কোন লিংক থাকলে তাও অ্যাড করার জন্য অনুরোধ করেছি।
"ইতিহাস কাউকেও ছাড়েনা। আর ইতিহাসের প্রতিশোধ বড় নির্মম হয়।"
অনেক ধন্যবাদ।
স্বপ্নরাজ বলেছেন:
৭১ বলেছেন: লুৎফুল কাদের বলেছেন: ভাইজান ডালিমের এক কথা বিশ্বাস করেন যেইটা আপনাদের পক্ষে যাই, আর আপনেগো বিপক্ষে গেলেই ডালিম খুনি এর কথা বিশ্বাস করা যাইবনা. এখানে অনকরেই দেখলাম আপনার লেখাটা বিশ্বাস করছে. অতচ একই জায়গার থেকে নেওয়া অন্য লেখারে এরা বলছে খুনির লেখারে কেমনে বিশ্বাস করি. আজিব মানুষ.হাহা্হাাা। আওয়ামী সুবিধাবাদি মন।
------ আম্লীগের ব্লগ থেইকা পেস্ট মারছেন একটা লেখা । মুল বইয়ের সুবিধামত জায়গা থেকে তোলা ,,,,,ধীবরের কমেন্ট টাও বিশ্বাস যোগ্য মনে হচ্ছে না. আফনের কাছে... এমন ভাবে পোস্ট দিছেন যে আপ্নে আম্লীগের কোন সাপোর্টার কোনওকালে ছিলেন না এই মাত্র চোপখ খুলল আফনার ..আলোর পথে যাত্রা শুরু হলো......
ভাই আসলেই আফনে একজন সিস্টেম ইন্ঝিনিয়ার।
লেখক বলেছেন: মেজর ডালিম যেহেতু শেখ মুজিবের খুনি সুতরাং তিনি তার লেখায় শেখ মুজিবের নেগেটিভ দিকগুলি তুলে ধরে/ অতিরন্জিত করে তার কৃতকর্মকে বৈধতা দিতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক।সুতরাং শেখ কামাল তার বউরে অপহরন করলে তিনি তার বইয়ের প্রথম পাতায় পারলে প্রচ্ছদে এই কথা উল্লেখ করতেন এবং সেটা হত নিঃসন্দেহে তার একটা প্রধান অস্ত্র।
যেহেতু তার লেখায় এই কথাটা নাই সুতরাং আমরা ধরেই নিতে পারি আমরা যেটা শুনে আসছিলাম সেটা মিথ্যা।
কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে তার লিংক মূল পোষ্টেই দেয়া হয়েছে এটা আবার নতুন করে উল্লেখ করার কিছু নাই।
ধীবরের কমেন্ট টাও বিশ্বাস যোগ্য মনে হওয়ার কোনো কারন নাই, উনি প্রমান করতে পারলে আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করতে বাধ্য হতাম। উনি কার কাছে কোথায় শুনছেন যার কোন ভিত্তি নাই।
"মুল বইয়ের সুবিধামত জায়গা থেকে তোলা ...."
তাহলে আপনি বই থেকে অসুবিধার জায়গাগুলা তুলে দ্যান, আপনারে মানা করছে কে?? আর আমাদেরকেও জানতে সাহায্য করেন।
শোনেন ত্যানা সবাই প্যাচাইতে পারে, অলরেডি অনেক প্যাচানো হয়েছে, উপরের সবগুলা কমেন্ট পড়ে বুঝতে পারবেন, আপনারে আর নতুন করে প্যাচাইতে অইবো না। পারলে প্রমান নিয়া আসেন আর আমাদেরকেও জানতে সাহায্য করেন, না পারলে ফুটেন।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
স্বাধীনতা পরবর্তী রাজনীতি ও সমাজ ঠিক কোন অবস্থায় ছিলো, এই পোস্টে তার এক চমৎকার ধারনা পাওয়া গেলো! এই পোস্টের আংশিকও যদি সত্য হয় তাহলেও একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় এসে মুজিবের চরম পদস্খলন ঘটে যার কারনেই তার চার পাশে প্রকৃত রাজনীতিবিদ না থেকে চরম সন্ত্রাসী ও জানোয়ারদের সমারোহ ঘটেছিলো! আরেকটা বিষয় হিসেব করেই বলা যায়, যে মুজিবের এত পদস্খলন ঘটেছিলো তার ছেলে শেখ কামাল যে অতিশয় ভদ্র (!!!) ছিলো, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না! পোস্টার সূক্ষ্মভাবে একটা অপবাদ থেকে আম্বালীগকে বাচাতে গিয়া কিছু নতুন কিছু জানার উপায় করে দিলেন! এজন্য ব্লগার "৭১" অনেক ধন্যবাদ!ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে ইতিহাস নিয়ে আলীগ-বামের একপেশে খেলাধূলা যে এতটা ন্যক্কারজনক তা কল্পনাতীত! অবশ্য আচরন দিয়েই এদের চরিত্র বুঝতে পারার কথা! কিন্তু আবাল বাঙ্গালীর বোধ হয় সে যোগ্যতাও নাই!
লেখক বলেছেন: আপনারও তো একই আবস্হা।
সর্বোচ্চ ক্ষমতায় এসে মুজিবের চরম পদস্খলন ঘটে এটা আমি সরাসরি বলবো না তবে তার চার পাশে প্রকৃত রাজনীতিবিদ না থেকে চরম সন্ত্রাসী ও জানোয়ারদের সমারোহ ঘটেছিলো এবং মুজিব তাদের দ্বারা অনেকাংশেই প্রভাবিত হয়েছিলো এবং বর্তমান আওয়ামীলীগের/ বিএনপির ক্ষেত্রেও এটা সত্য।
আর শেখ কামালের বিরুদ্ধে যে অপবাদগুলা এগুলার প্রমান এই পোষ্টে পাইলেন কই?? স্বপ্ন দ্যাকতে দ্যাকতে পড়লেতো অইবো না।
এই পোষ্টের মন্তব্যগুলাও যে অনেক গুরুত্বপুর্ন এটা আপ্নারে আর নতুন কইর্যা বলতে অইবো না। আমি আগেই উল্লেখ করেছি। পারলে নতুন কিছু প্রমানসহ অ্যাড করেন যাতে আপনার মন্তব্যও গুরুত্ব পায়, না পারলে আপনিও ফুটেন।
আর এইটা কোন দলের অ্যাডের ব্লগ না আমি আগেও উল্লেখ করেছি এখনও আবার রিমাইন্ডাইলাম।
মূল পোষ্ট এবং সবগুলা মন্তব্য পড়ে কমেন্ট কাম্য। ধন্যবাদ।
পশু বলেছেন:
৭১ বলেছেন: লুৎফুল কাদের বলেছেন: ভাইজান ডালিমের এক কথা বিশ্বাস করেন যেইটা আপনাদের পক্ষে যাই, আর আপনেগো বিপক্ষে গেলেই ডালিম খুনি এর কথা বিশ্বাস করা যাইবনা. এখানে অনকরেই দেখলাম আপনার লেখাটা বিশ্বাস করছে. অতচ একই জায়গার থেকে নেওয়া অন্য লেখারে এরা বলছে খুনির লেখারে কেমনে বিশ্বাস করি. আজিব মানুষ.
লেখক বলেছেন: আপনি মনে হয় সবগুলা কমেন্ট পড়েন নাই।
সবগুলা কমেন্টসহ পোষ্টটা আবার পড়ুন, আশা করি ব্যাপারটা ক্লিয়ার হবে।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
আমি ঠিক এই ভার্সনটা লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মহিউদ্দিন আর্টিলারির মউকে শনেছি ১৯৮৬-৮৭তে। উনিতখন পো্রট ত্রাস্তে চাকরী করতেন এবং আমার কেন্দ্র থকে রেশন নিতে। রেশন নিতে যে সময়টা লাগতো সে সময়টা তিনি আমার অফিসে বসে গল্প করতেন।এ ঘটনার জন্যেই আমরা সপরিবারে বেঁচে যাই।
এ এইচ এম কামরুজ্জামন বলেছিলেন (নিজ কানে শোনা) গাজী মেজর ডালিম আর তার স্ত্রকে নিয়ে ৩২ নম্বর গয়ে বংগবন্ধুকে বলেন " ডাকাত নিয়ে এসেছি"।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
আমি ঠিক এই ভার্সনটা লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মহিউদ্দিন আর্টিলারির মউকে শনেছি ১৯৮৬-৮৭তে। উনি তখন চিটাগাং বন্দরে চাকরী করতেন এবং আমার কেন্দ্র থেকে রেশন নিতে। রেশন নিতে যে সময়টা লাগতো সে সময়টা তিনি আমার অফিসে বসে গল্প করতেন।এ ঘটনার জন্যেই আমরা সপরিবারে বেঁচে যাই।
এ এইচ এম কামরুজ্জামন বলেছিলেন (নিজ কানে শোনা) গাজী মেজর ডালিম আর তার স্ত্রীকে নিয়ে ৩২ নম্বর গিয়ে বংগবন্ধুকে বলেন " ডাকাত নিয়ে এসেছি"।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্ত হোক ইতিহাসের অন্ধকার থেকে এই কামনা সব সময়ই।
সিষ্টেম ইন্জিনিয়ার বলেছেন:
আরও একটা গুরুত্বপূর্ন সিরিজ :ঊনসত্তুর থেকে পচাঁত্তুর-'৭১এ যাদেরবয়স তিনের কম ছিল তাদের থেকে সামুর কনিষ্ঠতম ব্লগারটিকে উৎসর্গীকৃত-পর্ব১৮
Click This Link
ত্রিশোনকু বলেছেন:
আসি শেখ কামালের একটু পরিচয়ে —–শেখ মুজিবের জৈষ্ঠ ছেলে সবাই জানি , আরো একটা বিষয় জানি সেটা হল উনি আবাহনী ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিষ্টাতা। আর একটু একটু জানি ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গান শিখেছেন ছায়ানটে। নাটক করতেন। নিজে নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। অভিনয়ও করেছেন। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে ছিল তার বিচরণ । আর তা জানা যায় স্বয়ং খুনি মেজর ডালিমের লিখায়, জানা যায় জিয়ার উপদেষ্টা আবুল ফজলের লিখায় , জানা যায় তার বন্ধু বিএনপির সাবেক বিদ্যুত মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুর মুখ থেকে যিনি তার সাথে ছিলেন ব্যাংক ডাকাতির কথিত মাইক্রোবাসে ও। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও নাটক নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের হত্যা কান্ডের বৈধতা দিতে, জাসদের ভুল বিপ্লবের প্রোপাগন্ডার শিকার হতে—আমাদের ও ৩৫ বছর ধরে শুনে আসতে হয়েছে তিনি অস্ত্র হাতে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন বিজয় দিবসের আগের রাতে। আমাদের ও শুনতে হয় তিনি ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী নিম্নিকে কিডনাপ করেছিলেন সুলতানা কামালের মত স্ত্রী ঘরে রেখেসিসটেম ইনজিনিয়ার,
আপনার প্রতি বিনম্র শদ্ধা রেখে আমি আরেক টু যোগ করি আমার নিজের স্মৃতি থেকে:
........কেউই আমাকে আটকালোনা, কেউই কিছু জিজ্ঞেসও করলোনা। ঢুকেই হাতের ডানে লন। আমি অতি ভীত, সন্ত্রস্ত ও আতংকিত হয়ে পাথরের মত দাড়িঁয়ে থাকলাম। সম্বিৎ ফিরে এল একটা ডাক শুনে "কি ভাইয়া?" অত্যন্ত নরোম স্বরের সেই ডাক। বাঁ দিকে ঘাড় ফিরিয়ে দেখি কৃশ, দীর্ঘাংগ, গোঁফ ওয়ালা একজন তরুন তাকিয়ে আছেন আমার দিকে স্নেহ ভরা দৃষ্টি দিয়ে। চিনে ফেল্লাম-শেখ কামাল। কোন মতে বল্লাম বোনের জেদের কথা, অনশনের কথা। মিষ্টি হেসে উনি বোনটাকে কোলে নিতে চাইলেন। বোনের সোজা উত্তর "তুমি তো বংগবন্ধু না। তোমার কোলে যাব না"। শেখ কামাল তখন বল্লেন তোমরা একটু অপেক্ষা কর, ভেতরে এসে বস। আব্বা একটু পরই নীচে নামবেন। বলে চলে গেলেন তিনি। আমর সাহসে কুলালোনা ভেতরে ঢোকার। সেটা আমার শেখ কামলের সাথে প্রথম ও শেষ দেখা। পরে ভুলে যাব বলে এখ্নই বলছি। লোকমুখে শুনি এবং বইতেও পড়েছি যে শেখ কামাল নাকি সুলতানাকে জোর করে তুলে এনে বিয়ে করেছিল যখন সুলতানার অন্যখানে বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এটা সর্বৈব মিথ্যাচার। সুলতানার সাথে শেখ কামালের সখ্যতা হয়। সুলতানার বাড়ির গুরুজনেরা কেউ সেটা মেনে নিতে পারেননি। তারা অন্যত্র তাঁর বিয়ে ঠিক করেন। সুলতানা কামাল ধনুক ভাংগা পণ করে বসে থাকেন-শেখ কামাল ছাড়া আর কাউকেই তিনি বিয়ে করবেন না। বাধ্য হয়ে তাঁর অভিভাবকদের শেখ কামালের কাছে তাঁকে বিয়ে দিতে হয়। সুলতানা কামালের আপন বড় ভাই রফিক মামা এখনো জীবিত এবং একজন নাম করা শিকারী(পরিবেশবাদীরা আমাকে মাফ করবেন)। ক'দিন আগেই তাঁর স্ত্রী বিয়োগ হয়েছে। এ ব্যাপারে যদি কারো যদি কোন সন্ধেহ থাকে তাহ'লে তাকে আমর সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করছি।। ওঁর সেল নম্বর অনুমতি সাপেক্ষে দিয়ে দেব। ওঁ একটু নিভৃতচারী, সম্ভবত: এখনো শাহজাহান পুরে থাকেন।
একটু পরই নেমে এলেন বংগ বন্ধু.............
ঊনসত্তুর থেকে পচাঁত্তুর-'৭১এ যাদের বয়স তিনের কম ছিল তাদের থেকে সামুর কনিষ্ঠতম ব্লগারটিকে উৎসর্গীকৃত-পর্ব১৪ ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩২
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমিও এটা জানতাম যে সুলতানা কামালকে শেখ কামাল জোর করে/কিডন্যাপ করে বিয়ে করেছিলেন এবং সুলতানা কামাল রাজী ছিলেন না।
আমার জন্মই তার ১০-১২ বছর পরে, সুতরাং যে যেইটা বলতো সেটাই বিশ্বাস করে আসতাম/ বাধ্য ছিলাম। আপনার মত লোকেরা বা সেই সমসাময়িক লোকদেরই দায়িত্ব আমাদের বা নতুন প্রজন্মদের সঠিক তথ্য জানানোর। আমার আপনাদের সাথে আছি।
আমাদেরকে যে ঘৃনার যোগ্য তাকেই ঘৃনা করতে দিন এবং যিনি সম্মানের যোগ্য তার প্রাপ্য মর্যাদা তাকে দিতে দিন। ধন্যবাদ।
রাগ ইমন বলেছেন:
আমি নিজেও অনেক খুঁটি নাটি ভুল জানতাম। নিজেরে বিরাট গাধা প্রমানিত করলাম !
অনেক প্রোপাগান্ডাকে আমিও সত্য বলে জানতাম। ভেবে আঁতকে উঠছি এখন যে আমি নিজেও কি করে এই সব গোয়েবলসের শিকার হলাম! কতটা সুচারু রুপে গত আটত্রিশ বছর ধরে এই সব মিথ্যা চালানো হয়েছে !! যারা সত্য জানেন , তাঁরা চেষ্টাই করেন নাই মিথ্যাকে মিথ্যা প্রমানের !
আমার পূর্বের প্রজন্মকে ভাই চরম ধিক্কার শুধু এই কারণে ।
--------------------
একই ঘটনাকে সব সময় কয়েকটি সোর্স থেকে যাচাই করা উচিত । কোন বর্ননাকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়া উচিত না , সেইটা যেই বলুক। তবে , কয়েকটা সোর্স থেকে যাচাইয়ের পর স্থান, কাল, অবজেক্টিভ প্রমান ও সাবজেক্টিভ জবানবন্দী - ইত্যাদি সব কিছুকে মিলিয়ে মিশিয়ে আসল সত্যের কাছে পৌছানো যায় । এ যাবত কালে এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি আর মানব ইতিহাসে নাই ।
---------------------
যারা অকাট্য প্রমান ( নিজের চোখে দেখেছি ধরনের) সাক্ষ্য প্রমান ছাড়া কোন যুক্তি - বুদ্ধি - বিবেচনাকে " একেবারেই গ্রহনযোগ্য না" বলে বহুৎ লাফালাফি করছেন , তাদের কাছে প্রশ্ন করি ,
" ভাই, আল্লাহকে বিশ্বাস করেন কেন? আল্লাহকে নিজের চোখেই তো দেখেছিলেন , নাকি?"
লেখক বলেছেন: "কতটা সুচারু রুপে গত আটত্রিশ বছর ধরে এই সব মিথ্যা চালানো হয়েছে !! যারা সত্য জানেন , তাঁরা চেষ্টাই করেন নাই মিথ্যাকে মিথ্যা প্রমানের !
আমার পূর্বের প্রজন্মকে ভাই চরম ধিক্কার শুধু এই কারণে ।
একই ঘটনাকে সব সময় কয়েকটি সোর্স থেকে যাচাই করা উচিত । কোন বর্ননাকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়া উচিত না। "
পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সের বড়ই অভাব।সুতরাং কয়েকটা সোর্স থেকে যাচাইয়ের পর স্থান, কাল, অবজেক্টিভ প্রমান ও সাবজেক্টিভ জবানবন্দী - ইত্যাদি সব কিছুকে মিলিয়ে মিশিয়ে আসল সত্যের কাছে পৌছানো ছাড়া উপায়ও নাই।![]()
![]()
অনেক ধন্যবাদ আপু আপনার গুরুত্বপূর্ন মন্তব্যের জন্য।
এস এম শেলী বলেছেন:
মেজর ডালিমের ওয়েব সাইট টি কি মেজর ডালিম-ই বানিয়েছে? বলতে পারেন?
লেখক বলেছেন: সাইট টা মেজর দিলিম বানাইছে কিনা এইটা জানিনা তবে লেখাগুলা যে মেজর ডালিমের বই থেকে নেয়া এইটা শিওর।
ধন্যবাদ।
মিজান রহমান শ্রেষ্ঠ বলেছেন:
শেখ মুজিব এবং তার দল সেই শুরু থেকেই প্রচার বিভাগটা খুব খারাপ ভাবে চালিয়ে। আজ ও আওয়ামীলীগের প্রচার বিভাগ খুব খারাপ। আর সব সময়ই তাদের অপজিশন গ্রুপ এইদলটার বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা প্রচার করে গেছে।যেমন সর্বেশষ প্রচারঃ
* আওয়ামীলীগ ১০টাকা করে চাল খাওয়ানোর কথা খাওয়াচ্ছ ২২ টাকায়।
* জয় বাংলাদেশী নাগরিক নয়।
* ইত্যাদি।
আর বলতে ইচ্ছে করছে না । কারণ রাজনীতির কথা বলতে আমার ভাল লাগেনা।
লেখক বলেছেন: বর্তমান রাজনীতির ব্যাপারে আমারও খুব আগ্রহ কম,
মুজিবের সময়ের রাজনীতির ব্যাপারে একটু আগ্রহ এই কারনে যে একটা সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গড়া সম্ভব, এটাই ভাবতাম, কিন্তু ঐ সময়ের সকল প্রতিবন্ধকতাকে বঙ্গবন্ধু অতিক্রম করতে পারেননি যার জন্য তিনি নিজে যতটা না দায়ী তার চেয়ে বেশী দায়ী ঐ সময়ের মুষ্টিমেয় কয়েকটি আওয়ামীলীগ নেতা, গাজী ছিলেন তাদের অন্যতম।
শেখ মুজিব ঠিক মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারলে বা সফল হলে হয়তো আমাদের দেশও মালয়েশিয়া বা তার সমপর্যায়ে থাকতো।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
জিসান শা ইকরাম বলেছেন:
আওয়ামী লীগের প্রচার বিভাগ খুবই দুর্বল।
লেখক বলেছেন: আওয়ামী লীগের প্রচার বিভাগ খুবই দুর্বল।
সহমত, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
জিয়া চৌধুরী বলেছেন:
সহিহ বাত করনেকে লিয়ে পেলাচ।
জিয়া চৌধুরী বলেছেন:
সহিহ বাত করনেকে লিয়ে পেলাচ।
জিয়া চৌধুরী বলেছেন:
সহিহ বাত করনেকে লিয়ে পেলাচ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
এ. এস. এম. রাহাত খান বলেছেন:
ভাইরে মিথ্যা নাকি ১০০ বার বললে সত্য হয়ে রটে যায়!!! এই যা
লেখক বলেছেন: মিথ্যা ১০০ বার বললে সত্য হয়ে রটে যায় !!
সহমত, ধন্যবাদ।
আলিফ মাহমুদ বলেছেন:
জানলাম... মিথ্যা দুর হওয়াই ভাল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার বলেছেন:
বাংলাদেশের কোন একটি ঘটনাকে নানা মতের মানুষ নিজেদের মতো করে প্রচার করেছ তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। কিন্তু আফসোস! সঠিক তথ্য দেয়ার মতো কেউ নেই। যদিও কেউ দেয়, তার সরবরাহকৃত হাজারো মিথ্যা তথ্যের মধ্যে সেই সত্যটি কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। মেজর ডালিমের ওয়েবসাইটটিও নাকি তার নিজের লেখা নয়?.....জাতির পিতা হত্যাকান্ডকে জায়েজ করতে রাজনীতির কুলাঙ্গার'রা যে তথ্যটি সাধারণ মানুষকে গিলিয়েছে তার মূল হল- শেখ কামাল ডালিমের বউকে কিডন্যাপ করেছে। কেউ আবার আগ বাড়িয়ে বলে ধর্ষণ করেছে। দ্বিতীয় তথ্যটি অনেকে বিশ্বাস না করলেও প্রথম তথ্যটি (কিডন্যাপ) সবাই বিশ্বাস করে। কয়েক মুহুর্ত আগে পর্যন্ত আমারও দ্বিমত ছিল।
সত্য হোক আর মিথ্যা হোক, আপনার দেয়া তথ্য মানতে মন চাইছে। অন্তত: একটা অবাঞ্ছিত ইতিহাস থেকে নিজের গ্লানি দূর করতে পারব। আমরা কি কোনদিন সঠিক ইতিহাস রেখে যেতে পারব দেশবাসী কিংবা আমাদের পরের প্রজন্মের জন্য?
লেখককে অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: রাগইমন আপুর সাথে মিলিয়ে আবারও বলবো :
পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য সোর্সের বড়ই অভাব। সুতরাং
একই ঘটনাকে সব সময় কয়েকটি সোর্স থেকে যাচাই করা উচিত । কোন বর্ননাকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নেওয়া উচিত না , সেইটা যেই বলুক। তবে , কয়েকটা সোর্স থেকে যাচাইয়ের পর স্থান, কাল, অবজেক্টিভ প্রমান ও সাবজেক্টিভ জবানবন্দী - ইত্যাদি সব কিছুকে মিলিয়ে মিশিয়ে আসল সত্যের কাছে পৌছানো যায় ।
আমাদের নতুন প্রজন্ম মুক্ত হোক ইতিহাসের অন্ধকার থেকে এই কামনা সব সময়ই।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
অহনা বলেছেন:
১) সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে শেখ কামাল বিয়ে করছিলো। ২) শেখ কামাল কিডন্যাপ করে সুলতানাকে বিয়ে করে ছিলো।
কথাগুলো মিথ্যা?
সিরাজগঞ্জ-শাহজাতপুরে সুন্দরী কুমারী নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ করে আওয়ামী নামধারী মুক্তিযোদ্ধারা! তাদেরকে প্রচণ্ড আক্রোশে খুন করে সাধারণের কাছে সঙবর্ধিত হয়েছেন আরেক মুক্তিযোদ্ধা। মিথ্যা?
লেখক বলেছেন: ত্রিশোনকু ভাইয়ার ১০১ নং মন্তব্য দেখুন।
গোপাল ভারঁ বলেছেন:
আচ্ছা এই সাইটা যে মেজর ডালিম এর আপনাদের কে বল্ল? এই সাইট এর লেখা গুলা যে ডালিম লিখছে তার প্রমাণ কি?
এই সাইটির ডোমেইন হিস্ট্রি দেখুন
Registration Service Provided By: MAJORDALIMBANGLA.NET
Contact: +88.000000000000
Domain Name: MAJORDALIMBANGLA.NET
Registrant:
majordalimbangla
Mr. Almahmood ()
Uk
Uk
Oxfordshire,00000000
GB
Tel. +000.000000000
Creation Date: 20-Sep-2007
Expiration Date: 20-Sep-2017
Domain servers in listed order:
ns2.majordalimbangla.net
ns1.majordalimbangla.net
Administrative Contact:
majordalimbangla
Mr. Almahmood ()
Uk
Uk
Oxfordshire,00000000
GB
Tel. +000.000000000
Technical Contact:
majordalimbangla
Mr. Almahmood ()
Uk
Uk
Oxfordshire,00000000
GB
Tel. +000.000000000
Billing Contact:
majordalimbangla
Mr. Almahmood ()
Uk
Uk
Oxfordshire,00000000
GB
Tel. +000.000000000
Status:ACTIVE
লেখক বলেছেন: ১০৩ নং মন্তব্যের জবাব দেখুন।
লেখক বলেছেন: ডোমেইন হিস্ট্রি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ, আমরা আরও কিছু নতুন তথ্য জানলাম।
বিষ্মিত বলেছেন:
একটি অবিচার আরে কত বড় অবিচারের জন্ম দিতে পারে এটা মনে হয় তারই ইতিহাস।প্রচলিত আইন কে বৃদ্বাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতা এবং অস্ত্রের জোরে আইন ভাঙ্গার এই প্রবণতার 'রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি' প্রাথমিক পর্যায়ে রোধ করা সম্ভব হয়নি বলেই অব্যাবস্হার মহামাহারীতে পুরো জাতি ডুবে আছে আজ ও; দলীয় কুলাঙ্গার দের শাস্তির ব্যাবস্হা না করে মুজিব করেছিলেন ডালিমের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষমাপ্রার্থণা আর হাসিনা অভিমান নিজেকে সরিয়ে নিলেন ছাত্রলীগের অভিভাবকের পদ থেকে।(আইন তখনো ছিল,এখনো আছে-ব্যক্তিগত ক্ষমাপ্রার্থণা আর ব্যক্তিগত অভিমান সংসার কিংবা ব্যক্তিজীবনে চলে,রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখতে নয়)
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির বাকি অংশটুকু নির্মম ভাবে ফিরে না আসুক সে কামনাই করছি...
লেখক বলেছেন: দলীয় কুলাঙ্গার দের শাস্তির ব্যাবস্হা না করে মুজিব করেছিলেন ডালিমের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষমাপ্রার্থণা,
এইটা অবশ্যই অন্যায় তবে এইরকম অন্যায় না যে তাকে সহ তার পরিবারকেও ধ্বংস করে দিতে হবে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ মাসুদ মারুফ ।
সাপিয়েন্স বলেছেন:
আমি জানতাম বঙ্গবন্ধুপুত্র শেখ কামাল মেজর ডালিমের বউকে হাইজ্যাক করেছে।[/si
আমি তো সবসময় ওপরের এই বিয়েতে মশকরা সংক্রান্ত ঝগড়া ও ৩২ নম্বরে তার সালিশের গল্পটাই শুনেছি। মিথ্যা হাইজ্যাকিং-এর কাহিনীর কোন রেফারেন্স আছে কি?
শেখ কামালকে ঢাবির প্রধান প্রকৌশলী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার দবিরুদ্দিন আহমেদ যে বাধ্য হয়ে জামাই বানিয়েছিলেন, তাতে যে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুশ্রী ও কৃতি মহিলা এথলেট সুলতানা আহমেদের কোন আন্তরিক সায় ছিল না, তা সর্বজনবিদিত। এমনকি শেখ জামালকে তার কাজিনও বিয়ে করতে রাজি ছিল না, দুই ভাইয়ের এতই অপযশ ছিল।
শেখ কামাল মাতাল অবস্থায় বন্ধু-বান্ধবের সাথে ব্যাংক লুট করতে গিয়ে গুলি খেয়েছিলেন, এর অজস্র রেফারেন্স ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
১৯৭৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী রাতে শহীদ মিনার এলাকার বিদ্যুৎ পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে অন্ধকারে বহ সমাগত ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, এ কথাও সমসাময়িকরা বলেন।
লেখক বলেছেন: মিথ্যা হাইজ্যাকিং-এর কাহিনীর কোন রেফারেন্স আছে কি?
এইটা আসলে মূলত ছড়াইছে মানুষের মুখে মুখে।
উপরে দি ফিউরিয়াস ওয়ানের ১৪ নং মন্তব্য দেখুন।
আর বাকী কথা গুলার জবাবে
আসি শেখ কামালের একটু পরিচয়ে —–শেখ মুজিবের জৈষ্ঠ ছেলে সবাই জানি , আরো একটা বিষয় জানি সেটা হল উনি আবাহনী ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিষ্টাতা। আর একটু একটু জানি ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। গান শিখেছেন ছায়ানটে। নাটক করতেন। নিজে নাট্যদল প্রতিষ্ঠা করেন। অভিনয়ও করেছেন। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে ছিল তার বিচরণ । আর তা জানা যায় স্বয়ং খুনি মেজর ডালিমের লিখায়, জানা যায় জিয়ার উপদেষ্টা আবুল ফজলের লিখায় , জানা যায় তার বন্ধু বিএনপির সাবেক বিদ্যুত মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুর মুখ থেকে যিনি তার সাথে ছিলেন ব্যাংক ডাকাতির কথিত মাইক্রোবাসে ও। খেলাধুলা, সঙ্গীত ও নাটক নিয়ে সময় কাটিয়েছেন। ১৯৭৫ সালের হত্যা কান্ডের বৈধতা দিতে, জাসদের ভুল বিপ্লবের প্রোপাগন্ডার শিকার হতে—আমাদের ও ৩৫ বছর ধরে শুনে আসতে হয়েছে তিনি অস্ত্র হাতে ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন বিজয় দিবসের আগের রাতে। আমাদের ও শুনতে হয় তিনি ডালিমের সুন্দরী স্ত্রী নিম্নিকে কিডনাপ করেছিলেন সুলতানা কামালের মত স্ত্রী ঘরে রেখে
ত্রিশোনকু ভাইয়ার ১০১ নং মন্তব্য দ্রষ্টব্য, তার লেখা সিরিজটাও পড়তে পারেন।
আর আপনার কোন রেফারেন্স বা লিংক থাক্লেও শেয়ার করতে পারেন।
ধন্যবাদ।
ফজলে এলাহী বলেছেন:
একজন মেজরের এমন সাহস কোথা থেকে আসে যে,সে প্রধানমন্ত্রীর সামনে গাদ্দারি করে,কে এই মেজর মমিন?? এতো সাহস কোথায় পেয়েছিলো ??আর নিম্মি?? এই বেটিকে তো কিডন্যাপই করা হয়নি,স্ব ইচ্ছায়ই গাড়ীতে এসেছে বলে লেখাতেই আছে,তাহলে তার এতো তেহ কোথা থেকে.......
...গাজীর কাজের নিন্দা জানিয়েও বলি,,সেইদিন গাজী এদের মারলে বঙ্গবন্ধু মরতোনা !
লেখক বলেছেন: একজন মেজরের এমন সাহস কোথা থেকে আসে যে,সে প্রধানমন্ত্রীর সামনে গাদ্দারি করে,কে এই মেজর মমিন?? এতো সাহস কোথায় পেয়েছিলো ??
এই ব্যাপারে আমিও কনফিউজড্। সাধারনের সাথে একজন প্রধানমন্ত্রীর যে একটা নূন্যতম দূরত্ব থাকা উচিত বঙ্গবন্ধু এটা বিশ্বাস করতেন না। এটা আপনি বুঝতে পারবেন ত্রিশোনকু ভাইয়ের একটা পোষ্ট পড়ে যেখানে তিনি এবং তার ছোট বোন বঙ্গবন্ধুর জন্য ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন। এই কারনেই হয়তো ধীরে ধীরে মেজর মমিনরা এই সাহস পেয়েছিলো।
আর নিম্মি এই বিহেভ করতে পেরেছিলো কারন শেখ মুজিবের পরিবারের সাথে ডালিমের পারিবারিক সম্পর্কও খুব ভালো ছিলো যেটা উপরের লেখা এবং মন্তব্যগুলায় স্পষ্ট।
আর আপনার সাথে আমার কিছুটা দ্বিমত আছে। গাজীর মত লোকরাই শেখ মুজিবের সামনে তৈরি করেছিলো একটা ধোয়ার আবরন এবং বঙ্গবন্ধুকে করেছিলো তাদের প্রতি অতি নির্ভরশীল। আর এই কারনেই নিজের অজান্তেই বা বাস্তবতা না জেনেই বঙ্গবন্ধু অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যার চরম মূল্য দিতে হয়েছিলো তাকে এবং তার পরিবারকে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
জোবায়ের বলেছেন:
দারুন পোষ্ট
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
উনার মতো একজন নেতার জন্য এটা দূঃখ জনক
লেখক বলেছেন: আসলে একজন নেতা সবদিকেই একপার্ট হবেন এটা ভাবা ভুল কারন সেওতো মানুষ। আর সে আওয়ামীলীগের অনেক নেতাদের কাছে জিম্মি তথা অতি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন বলেই কিন্তু তাকে দিতে হয়েছিলো চরম মূল্য।
তবে যাদের উপর নির্ভরশীল হয়েছিলেন তারা যদি ভালো হতো তবে হয়তো আমাদের দেশও থাকতো এতদিন মালয়েশিয়া বা তার সমপর্যায়ের।
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মিথিলা মেহজাবিন বলেছেন:
ও এই কথা?
লেখক বলেছেন: হুম ![]()
![]()
আত্মা দীপ্ বলেছেন:
এই পোস্টি যারা পরেছেন এবং পড়বেন,সবাই কে বলছি......আর কত?ইতিহাসের ধুলো সাফ করতে গিয়ে সময় ব্যয় না করে,বঙগবন্ধু-জিয়া -কে একপাশে সরিয়ে রেখে আমাদের কি উচিত নয় যে দেশের বর্তমান সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা?কিভাবে দারিদ্রের হাত থেকে দেশ কে মুক্ত করা?কিভাবে দেশের আপমর জনগন কে একসুতোয় বেঁধে একযোগে কাজ করান যায় তা নিয়ে আলোচনা করা?
.................এখনো কি সময় আসেনি চায়ের কাপের এই আলোচনা গুলো চায়ের আড্ডাতেই সীমাবদ্ধ রাখা?
আর কত সময়ের নির্মম অপচয় ????????
লেখক বলেছেন: আমাদের অবশ্যই উচিত দেশের বর্তমান সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা। কিভাবে দারিদ্রের হাত থেকে দেশ কে মুক্ত করা যায়,কিভাবে দেশের আপমর জনগন কে একসুতোয় বেঁধে একযোগে কাজ করান যায় তা নিয়ে আলোচনা করা।
তবে সেই সাথে বঙগবন্ধু-জিয়া তাদের প্রকৃত অবদানও স্বীকার করতে হবে, জানতে হবে। তবে তথ্য বিকৃতির জন্য এই দেশে আসল সত্য জানা খুবই কঠিন, সেজন্য ব্লগই সবচেয়ে ভালো মাধ্যম যেখানে মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত সত্য।
তবে দেশের বর্তমান সমস্যা সমাধানের জন্য একযোগে কাজ এটাই হওয়া উচিত ফার্ষ্ট প্রায়োরিটি।
কিন্তু আমাদের দেশের নেত্রীরা করে পুরোপুরি উল্টা কাজ। আমাদের দেশের অনেকই কোটি কোটি টাকা আয় করে কিন্তু ট্যাক্স দেয় না বা ফাকি দেয়।আমি বছরে একটা ভালো অ্যামাউন্টই ট্যাক্স দিই যদিও আমার আয় খুব বেশি নয় কিন্তু বিনিময়ে আমরা কিছুই পাইনা। অথচ দেশের বাইরে যারা ট্যাক্স দেয় তাদের জন্য সরকারী সার্ভিস গুলায় স্পেশাল ব্যবস্হা যেমন আমি পাসপোর্ট রিনিও করতে গেলাম আমার জন্য আলাদা কাউন্টার। এটা একটা সম্মান যার কারনে আমি ট্যাক্স দিতে উৎসাহিত হবো। কোন সুবিধাতো পাইইনা তার উপর যখন দেখি আমাদের ট্যাক্সের টাকা ব্যায় হয় বিমানবন্দরের নাম চেইঞ্জ করার মত অহেতুক কাজে তখন খুবই খ্রাপ লাগে।
যাই হোক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ভলো থাকবেন।
সিনসিয়ার বলেছেন:
অসাধারণ একটা আলোচনার জন্যে লেখক কে বিলম্বিত ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনার বিলম্বিত ধন্যবাদ গৃহীত হলো ![]()
কাকপাখি ২ বলেছেন:
ধইন্যবাদ । ভালপোষ্ট ।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।
কালীদাস বলেছেন:
জটিল পোস্ট!! কেন যে আগে চোখে পড়ে নাইযাই হোক, আমি কিছু কথা যোগ করি। আমি যতটুকু শুনেছি কামাল ডালিমের স্ত্রীকে কিডন্যাপ করেছে- এজাতীয় কোন কথা কোন সোর্স থেকেই শুনিনি। ১৯৭২-১৯৮১ এর ঘটনাবলীর জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্ত মনে করি ম্যাসকারেনহাস আর লিফশুলজের বই দুটিকে, ঐ লেখক দুইজনও এরকম ক্লেইম করেননি। তবে ম্যাসকারেনহাস যা বলেছেন তার বিশদ আলোচনা আপনার পোস্টে রয়েছে(যেটা ডালিমের স্বীকারোক্তি)। ম্যাসকারেনহাস পরে এটাও বলেছিলেন ডালিম, শেখ মুজিবের আত্মীয় বলেই নাকি ১৫ই আগস্ট সরাসরি মুজিবকে ফায়ার করতে চায়নি ডালিম, শেখ মুজিবকে শুট করেছিল মেজর নুর। তবে ডালিমের এই ঘটনাটা অন্যভাবে নাকি মুজিব হত্যাকান্ডকে প্রভাবিত করেছিল, ডালিমের আর্মির ফ্রেন্ডরা যখন গাজীকে বের করার জন্য পুরা ঢাকায় হান্টিং শুরু করে, সেটার জন্যই নাকি ডালিম এবং তার বেশ কয়েকজন আর্মি ফ্রেন্ডকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠান হয় অথচ নাটের গুরু গাজীর কিছুই হয়নি। এটাই নাকি ঐ লোকগুলোকে শেখ মুজিব হত্যাকান্ডে প্রভাবিত করেছিল।
সুলতানাকে কামাল উঠিয়ে নিয়ে এসেছিল- এটাও সরাসরি কাউকে প্রমাণ করতে পেরেছে বলে শুনিনি। আমার আব্বা তখন ভার্সিটির স্টুডেন্ট, আব্বার কাছে যা শুনেছি সেটা ঐ মুহুর্তে সারা ভার্সিটির সবার কথাই ছিল। সেটা হল, কামাল সুলতানাকে পছন্দ করত এবং সেটা নিজের বাসায় জানিয়েছিল। পরবর্তীতে শেখ মুজিব নিজে সুলতানার বাসায় যেয়ে সুলতানার বাবাকে রিকোয়েস্ট করে কামালের পুত্রবধু হিসেবে সুলতানাকে দেয়ার জন্য। একজন প্রেসিডেন্টের রিকোয়েস্ট ফেলা যে কারো জন্যই টাফ
তবে পারসোনালি কামাল চরম ঔদ্ধত্যপূর্ন একজন যুবক ছাড়া কিছু ছিলনা। ৭২এর ডিসেম্বরে শাপলা চত্বরে যে পুলিশের সাথে গুলিবিনিময় করে গুরুতর আহত হয়, প্রায় মরার মত অবস্হা হয় তার। একটা গুজব শুনেছিলাম, ঐসময় ঢাকায় কোন ব্যাংক ডাকাতি হলে নাকি বঙ্গবন্ধু প্রথমেই খবর নিতেন কামাল কোথায় ছিল ঘটনার সময়! সেই তুলনায় জামাল অনেক ভদ্র ছিল, সে ইংল্যান্ডের স্যান্ডহাস্ট থেকে ট্রেনিং নিয়ে মাত্র আর্মিতে জয়েন করেছিল। বেশিদিন সার্ভ করতে পারেনি আর্মিতে, ১৫ই আগস্ট মারা যায়।
পোস্টে+++++++++++++
আছেন কেমন? অনেকদিন ব্লগে কোন লেখা দেখিনা যে?
লেখক বলেছেন: ডালিমের এই ঘটনাটা অন্যভাবে নাকি মুজিব হত্যাকান্ডকে প্রভাবিত করেছিল । সহমত,
অসাধারন মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
ভালো আছি Bro । একটু বিজি আছি, অচিরেই তোমাদের সাথে আবার যোগ দিব ![]()
ডন অফ কর্লিওন বলেছেন:
কামাল তো নিজের বউকেই জোর করে বিয়া করসিল। ঢাকা স্টেডিয়ামে পিতার বয়সি এক ফুটবল কোচকে থাপ্পড় মারসিল। সে ছিল আমাদের উদে হোসেন।
লেখক বলেছেন: ঢাকা স্টেডিয়ামে পিতার বয়সি এক ফুটবল কোচকে থাপ্পড় মারসিল !!
নতুন তথ্য জানলাম। তবে কোন লিংক থাক্লে এটা বেশি বিশ্বাসযোগ্য হইতো অথবা কোন পত্রিকার স্ক্যান করা কপি।
তবে এটা এই যুগেও কম হয়না, পার্থক্য হইলো এযুগের প্রধানমন্ত্রীর ছেলেরা থাকে অফলাইনে, ফলে সে হাইলাইট হয় না। অনেকটা গডফাদারের মত।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।
মোহাম্মাদ রাকিবুল হাসান বলেছেন:
বাবারে বাবা! কত নতুন কিছু জানলাম। লেখক নিজের অজান্তেই সে সময়কার দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরলেন।তবে সকল অপকর্মই ধিক্কার পওয়ার যোগ্য, যে কোন হত্যাকান্ডই অমার্জনীয়।
লেখক বলেছেন: আসলে আমি নিরপেক্ষভাবেই শুধুমাত্র একটা সত্য তুলে ধরতে চেয়েছি, কিন্তু ব্লগারদের আলোচনায় আর অনেক বিষয় চলে এসেছে। আমি কিন্তু আগেই স্বীকার করেছি বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার কিছুটা দুর্বলতা আছে কারন আমি এখনও বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু যদি গাজীদের মত নিকৃষ্ট কারও প্রভাব বা কোন গ্রুপের উপর অতি নির্ভরশীল না হয়ে স্বাধীনভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারতেন তাহলে হ্য়তো আমাদের দেশের অবস্হা অন্যরকম হতে পারতো। কারন তিনি ছিলেন প্রকৃত দেশপ্রেমিক যা বর্তমান সময়ের কোন নেতার মধ্যেই দেখা যায় না। তিনি ছিলেন আবেগী নেতা ফলে তিনি গাজীদের মত লোকদের শক্তহাতে দমন করতে পারেননি। এটাই ছিল তার অন্যতম দুর্বলতা।বঙ্গবন্ধুর প্রতি দুর্বলতার কারনেই হয়তো পোষ্টের কোথাও আমার পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ পেতে পারে।
তবে সকল অপকর্মই ধিক্কার পওয়ার যোগ্য, যে কোন হত্যাকান্ডই অমার্জনীয়। সহমত।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
মুসাফির রকস বলেছেন:
এটা করতেই পারে। ডালিমের বউ সুন্দরী ছিল। এতে তার কোন দোষ নেই। আমরা ঘোষণা দিচ্ছি তিনি ব্যাংক ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত নন।
লেখক বলেছেন: এই পোষ্টে জাশি, ছাগু, ছুপা ছাগু, যুদ্ধাপরাধী এদের মন্তব্যকে গুরুত্ব দেয়া হয় না বা ওভারলুক করা হয়। ধন্যবাদ।
মুসাফির রকস বলেছেন:
ব্যাংক ডাকাতির বিষয়টা জানালে উপকৃত হব। যদি কেউ এ বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন তাহলে অনেক রহস্য উন্মোচিত হবে আশা করি
লেখক বলেছেন: ইগনোরড..........।
নিশম বলেছেন:
ঠিক এ বিষয়টা নিয়ে আমি সামু জীবনে আমার ২য় পোস্টটি দেই। এবং জানা কথা, মাইনাচের বন্যায় ভাসিএ দেয়া হয়, যদিও কমেন্ট গুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায় , মাইনাস যারা দিলো , তারা প্রকৃত কোনো কারণ দেখাতে পারেনি।Click This Link
ধন্যবাদ । তবে , একটা কথা বলতে চাই , কথা ছড়ানোর অনেক উপায় আছে, মিডিয়া লাগেনা সব সময়। (১৯৭৭-১৯৮১) এই সময়কালের কথা চিন্তা করুন , অপপ্রচার কিভাবে ছড়ানো যেতে পারে?
লেখক বলেছেন: হা হা সবাই ছাত্রলীগের উপর ক্ষোভ থেকে আপনাকে মাইনাস দিয়েছ কারন মন্তব্যে গিয়ে আপনার লেখার বিষয়বস্তু চেইঞ্জ হয়ে গেছে বা অন্য দিকে ডাইভার্ট হয়ে গেছে।
ব্যাপার না, প্রথমদিকে মাইনাস পেলে এক্টু বেশি খ্রাপ লাগে, পরে দ্যাখবেন আর কোন ফিলিংস নাই। আপনার লেখা আপনি লিখে যান, প্লাস মাইনাস নিয়া ভাববেন না। ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ...।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
অবিবর্তিত বলেছেন:
অনেক তথ্যপা্ওয়া গেল।অনেক সত্যই বের হল হয়তো সবটা না।লেখকের অনুসন্ধিতসু স্টাইল ভালো লাগল ।আমার নিজের ভুল্ও ভাঙল।ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ অবিবর্তিত..।
প্রজন্ম৮৬ বলেছেন:
আর্মিগুলা'র হিরোইজম মারাত্মক ক্ষতিকর।পাকিস্তান আমলে কমিশন্ড অফিসারগুলা নিজেদের সুপ্রিম অথরিটি ভাবতো,তাই বেয়াদব হয়ে ছিল। ডালিম শেখ পরিবারের অত্যন্ত কাছের লোক ছিল এজন্যই ব্যাক্তিগত প্রতিশোধ তুলছে শেখ পরিবারের উপর।
অবশ্য শেখ সিন্ডিকেট এমন পরিস্থিতি তৈরী করছিল যার কারনে ওদের ধ্বংস নিশ্চিত ছিল।
পুরান বাংলা সিনেমায় যেই 'গুন্ডা' চরিত্র দেখানো হইতো তার সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা কিছু খারাপ লোকের জীবন থেকে নেয়া।মাথামোটা পাবলিকদের যুগ গেছে দেশে একসময়।
আগামীর ইতিহাস বলবে যে, শেখ মুজিব,জিয়াউর রহমান,৪ খলিফা,এরশাদ,খালেদা,হাসিনা সবাই বিভিন্ন চারিত্রিক দোষে দু্ষ্ট ভয়ানক খারাপ নেতা ছিল।
কিন্তু প্রত্যেকেই দেশের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে দেশে'র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছিল।
এখন আমাদের প্রয়োজন নতুন মুখ।
লেখক বলেছেন: এখন আমাদের প্রয়োজন নতুন মুখ। সহমত, ভালো থাকবেন।
স্যার ... বলেছেন:
সত্য জানার সাহস সৎ গুণ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ স্যার।
কাজলভোমোরা বলেছেন:
শেখ মুজিবের উচিত ছিল গাজী সাহেবের একটা বিচার করা, যত সীমাবদ্ধতাই উনার থেকে থাকুক না কেন। এটাই তো একটি সফল রাষ্ট্রনায়কের কর্তব্য: সবকিছুতে ভারসাম্য বজায় রেখে কার্য সমাধা করা।
আর ডালিম সাহেবেও আর একটু নমনীয়তা দেখাতে পারতেন। প্রতিক্রিয়াটা অগ্রহনযোগ্য হয়েছে নিশ্চিত।
লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ..
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
প্যরাডাইসলস্ট_১১৩১ বলেছেন:
dhonnobad
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
বিদ্রোহী কান্ডারী বলেছেন:
যে যাই বলেন আমার মেজর ডালিমকে ভালো লাগে। এরকম সাহসী আর নেতা অফিসার আর নাই এখন আর্মিতে। সবশেষ।
লেখক বলেছেন: আসলে আমাদের সাহস দেখাতে হবে এমন ক্ষেত্রে যা দেশের জন্য, মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে।
ডালিম আসলে একজন মানুষকেই খুন করে নাই, ধ্বংস করে দিয়েছে একটি জাতিকেও । এখন তো আমাদের দেশের কোন সম্ভাবনাই দেখতে পারছি না।
পৃথিবীতে যত বড় বড় নেতা আছেন তাদের প্রতেকেরই কোন না কোন সমস্যা থাকেই যেমন নারী ঘটিত সমস্যা যেটা সবচেয়ে কমন। সুতরাং বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র কিছু ছাড় দিতেই হয়। বঙ্গবন্ধুর অবশ্যই কিছু সমস্যা ছিলো কিন্তু সেটা ছিলো সমাধান বা নিরাময়যোগ্য। তিনি থাকলে এত দিনে হয়তো আমাদের দেশ হয়ে যেতো মালয়শিয়া
বা তার কাছাকাছি দেশের মত।
ধন্যবাদ।
রিফাত হোসেন বলেছেন:
শেখ সাহেব এর মাইনাস পয়েন্ট তারা আত্নীয় বাজী আর রক্ষী বাহিনী ।
রিফাত হোসেন বলেছেন:
শেখ সাহেব এর মাইনাস পয়েন্ট তারা আত্নীয় বাজী আর রক্ষী বাহিনী । আর অবশ্যয়ই বাকাশাল ।
লেখক বলেছেন: অবশ্যই এগুলো শেখ সাহেবের মাইনাস পয়েন্ট যার জন্য তাকে দিতে হয়েছিলো চরম মূল্য কিন্তু তার প্লাস পয়েন্ট ছিলো মাইনাসের তুলনায় অনেক অনেক বেশী। বিলাসহুল জীবনের প্রতি তার কোন লোভই ছিলো না, এমন কি সরকার প্রধান হিসেবে তিনি তেমন কোন সিকিউরিটিও নিতেন না।
উপরে ত্রিশোনকু ভাইয়ের ১০১ নং কমেন্ট দেখুন, তিনি তার বোনকে নিয়ে অনায়াসেই ঢুকে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে যা এখনকার সময়ে চিন্তাই করা যায় না।
আর এরই সুযোগ নিয়েছিলো দুবৃত্তরা। নুন্যতম বাধা ছাড়াই তার খুন করলো জাতির স্বপ্নদ্রষ্টাকে।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও থ্যাংকস চতুষ্কোণ ।
পিথক বলেছেন:
লেখকের লেখা পড়ে মনে হচ্ছে উনি একজন একালেন ভাল রচয়িতা। গরুকে নদীতে নামিয়ে দিয়ে উনি যেভাবে নদীর রচনা লেখেছেন কা সত্যিই প্রশংশনীয়।
লেখক বলেছেন: পিথক আপনি মনে হয় বুঝতে ভুল করেছেন। আমার লেখার শিরোনাম এবং লেখায় বোঝাতে চেয়েছি মেজর ডালিমের বউয়ের সাথে শেখ কামালের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এটাই আমার মূল লেখায় বর্নিত হয়েছে।
ম
ন্তব্যে হয়তো অন্য প্রসংগ চলে আসতে পারে এবং আসাটাই স্বাভাবিক।
নদীর পাড়ে গরু বাধা থাকলে এবং সেই গরু নিয়ে রচনা লিখলে নদীর কিছুটা বর্ননা আসবেই এবং এই পোষ্টে নদীর যে বর্ননা আমার মনে হয় সেটা সহনীয় পর্যায়ের।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
এমদেশ বলেছেন:
@ডিজিটাল কলম "গাজী মহারাজা এখন কোথায় আছে বা তার বংশধরেরা কারা????????" --এই মন্তব্যের উত্তরে বলছি, গাজীর বংশধররা বেশ ভালোই আছে মনে হয়। যদি "গাজী ট্যাংকের" মালিক গাজীর ছেলেরা হয়, যদি গাজী নামের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর কোম্পানীর মালিক গাজীর ছেলেরা হয়, যদি "নতুন টিভি চ্যানেল: গাজী টিভি'র মালিক গাজীর ছেলেরা হয়।
এ সম্পর্কে আর কারো জানা থাকলে এখানে লিখুন। 'গাজী মোস্তফা রাস্তা দিয়া হাইট্টা যায়, একটা কম্বল বাঁধা ছিল..." সেই কুখ্যাত সময়ে এ গানটা শুনেছি শিশু-কিশোররা গাইতো। গাজী গোলাম মোস্তফা, মুজিব, শেখ কামাল কেউ ধোয়া তুলসী পাতা ছিল না। তারা নিজের গর্ত নিজেরাই খুঁড়েছিল। স্বাধীনতার পর পরই বাংলাদেশে সাড়ে ৭ কোটি কম্বল এসেছিল বিদেশ থেকে। সেই কম্বল নাকি গাজী গোলাম মোস্তফা ভারতে পাচার করেছিল। এমনকি শেখ মুজিবও নাকি বলেছিল, "এত কম্বল বিদেশ থেকে এসেছে, আমার কম্বলটা গেল কই?"
লেখক বলেছেন: রক্ষীবাহিনীর ব্যাপারে আমি নিজেও অনেক গল্প শুনেছি যার কোন প্রমান আমি পাই নাই। তবে যা রটে তার কিছু বটেও। কারও কাছে কোন ডকুমেন্ট বা ঐ সময়ের সংবাদপত্রের কপি বা ঐ রকম কিছু থাক্লে রেফারেন্স সহ লিখতে পারেন।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।
মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন:
যদিও আনেক পরে পড়লাম। তারপরও ভাললাগা জানিয়ে গেলাম। সত্য আগুনের মত। যতই চেপে রাখা হোক বের হয়ে আসবেই।
সোজা প্রিয়তে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মেঘনা পাড়ের ছেলে ।
টুকিঝা বলেছেন:
মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন: যদিও আনেক পরে পড়লাম। তারপরও ভাললাগা জানিয়ে গেলাম।সত্য আগুনের মত। যতই চেপে রাখা হোক বের হয়ে আসবেই।
সোজা প্রিয়তে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ টুকিঝা..........।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ এ হেলাল খান।
শাকিল সারোয়ার বলেছেন:
এক পোস্টে এত ইতিহাস জানব বুঝলে আরো আগেই পড়তাম। ধন্যবাদ সবাইকে আনেক ইতিহাস জানানোর জন্য। তবে বর্তমান ইতিহাস মোটেও ভাল না। আরেকটা ১৫ই আগষ্ট ঘটে যেতে পাড়ত BRD হত্যকান্ডের পর। BRD হত্যকান্ডের সুবিচার আমাদের সরকার করতে পরবে না; এটা নিশ্চিত। এর কারণে আর না কোন আরেকটা ১৫ই আগষ্ট ঘটে....
চারু_চারবাক বলেছেন:
এমদেশ বলেছেন: @ডিজিটাল কলম "গাজী মহারাজা এখন কোথায় আছে বা তার বংশধরেরা কারা????????" --এই মন্তব্যের উত্তরে বলছি, গাজীর বংশধররা বেশ ভালোই আছে মনে হয়। যদি "গাজী ট্যাংকের" মালিক গাজীর ছেলেরা হয়, যদি গাজী নামের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর কোম্পানীর মালিক গাজীর ছেলেরা হয়, যদি "নতুন টিভি চ্যানেল: গাজী টিভি'র মালিক গাজীর ছেলেরা হয়।
এ সম্পর্কে আর কারো জানা থাকলে এখানে লিখুন। 'গাজী মোস্তফা রাস্তা দিয়া হাইট্টা যায়, একটা কম্বল বাঁধা ছিল..." সেই কুখ্যাত সময়ে এ গানটা শুনেছি শিশু-কিশোররা গাইতো।
আপনি বোধহয় "গাজী গোলাম মোস্তফা" আর "গাজী গোলাম দস্তগীর" এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন।
গাজী গোলাম মোস্তফা ১৯৭৭ সনে সৌদি আরবে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার পর গাজী গোলাম মোষ্তফাকে আটকানোর জন্য তার সমস্ত স্হাবর অস্হাবর সম্পত্তি তন্ন তন্ন করে খুজেও একটি চুরির পয়সার খোজ না পেয়ে তাকে বেকসুর খালাশ দেয়।
দ্রাবিড় দোলন বলেছেন:
লেখক আপনাকে অনেক ধন্যবাদ যে এরকম একটি বিষয় আপনি অত্যন্ত বিশ্বাস যোগ্যতার সাথে তুলে ধরতে পেরেছেন।বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম নায়ক লেঃ কর্নেল ফারুক রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার কারণ সম্পর্কে বলেন-
১। আওয়ামীলীগের লোকেরা একজন সামরিক অফিসারের স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করে, কিন্তু শেখ মুজিব এর বিচার করেন নাই।
২। ব্যাক্তিগত ক্ষমতার লোভে মুজিব গণতন্ত্রকে হত্যা করে গোটা জাতিকে শৃংখলিত করেন।
৩। মুজিব, তার পরিবার, তার দল এবং দূর্নীতিবাজ আমলারা দেশের সম্পদ লুন্ঠন করে, অপরদিকে সাধারন মানুষ অনাহারে মৃত্যুবরণ করে।
৪। তার সরকার দেশকে বিদেশী শক্তির হাতে তুলে দেয়।
৫। মুজিব ইসলাম ধর্মের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে।
৬। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে দারুনভাবে অবহেলা ও অপমানিত করেন।
এই অভিযোগ গুলো কি সত্য? যদি সত্য হয় তাহলে এই কারণ গুলো বঙ্গবন্ধু হত্যাকে কতটুকু যৌক্তিক করতে পারে? এ বিষয়ে লেখলে খুশি হব।
দুষ্টু মানুষ বলেছেন:
আপনার দেয়া লিংক http://www.majordalimbangla.net/71.html বা http://www.majordalim.com/ ওপেন হয় না।
কিন্তু http://www.majordalimbubangla.com/ এটা ওপেন হয়। আপনি কী আসলে এই লিংক টা দিতে চেয়েছিলেন।
অনেক তথ্যবহুল পোষ্ট। ভাল লাগল।
খইকাঁটা বলেছেন:
সোহেল সি এস ই বলেছেন: হুমায়ুন আজাদের মতে,"ইতিহাস হচ্ছে বিজয়ীর হাতে লেখা, বিজিতের নামে একরাশ কুৎসা"।তাইলে ভাইয়া হুমায়ুন আজাদ কি এটা বোঝাতে চাইছে যে ৭১এ বিজয়ী বাংগালীর হাতে লেখা ইতিহাস, বিজিত অন্য আরেকটা বাংগালী অংশের নামে একরাশ কুৎসা।
লেখককে বলছি, আমার বয়স অনেক কম হওয়ায় আমাকেও এসব ব্যাপারে শুধু মাত্র শোনার উপরেই নির্ভর করতে হয়েছে। তবে কামাল সাহেবের অত্যাচারের ব্যাপারটা কিন্ত একেবারে মিথ্যা নয়। কারন আমার যে মুরুব্বী আমাকে কথাটা বলেছেন তাকে আমি জানি। খুব গল্প মারা লোক তিনি নন। হয়ত আমরা যা শুনি তা পুরোপুরি সত্য নয়। একেবারে ফেলনাও নয়।
Observer বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম
ইকথিয়ান্ডর বলেছেন:
এই কথা জানলাম আজকে। এতদিন ভুল জানতাম। তবে সমস্যা হল এই কথা আমি অন্যদের বুঝাতে পারব না।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

























