আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ৬/০১/২০১০ তারিখ তার সরকারের এক বছর পূর্তী উপলক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলার জেলা তথ্য বাতায়ন বা জেলা ওয়েব পোর্টাল একযোগে উদ্ভোদন কালে বলেন আমরা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা চালু করেছি। সেই সাথে সেদিন উনি ঢাকা বসে পঞ্চগড় ও রাঙামাটি এই দুইটি জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে লাইভ স্বচিত্র কথা বলেছেন শুনেছেন ও প্রশ্নউত্তর দিয়েছেন। যা বাকি ৬২ টি জেলা প্রশাসন মাল্টিমিডিয়া সেটআপ দিয়ে দেখেছন এবং বুঝেছেন ও বিশ্বাস করেছেন যে বিষয়টাতো তেমন কিছু না। আলোচনাতেও কোন সমস্যা নাই। আবার উপজেলা পর্যন্তও বিস্তৃত। খুব ভালো। খুব ভালো।
ভূমিকাঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথাযোগ্য মর্যাদা রেখেই বলছি। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান দিয়েও যদি নেটের সামান্যতম ধারনা আপনাদের না থাকে তাহলে তো মহাবিপদ। তাহলে তো ডিজিটাল করতে গিয়ে তার-টার ছিড়ে সাইট-টাইট আউলাইয়া এমন এক অবস্থা করে রেখে যাবেন যে আগামী আরও বিশ বছর লেগে যাবে দরিদ্র এই বিশ কোটি জনগনের প্যাচ-ট্যাচ খুলে সবে মাত্র দৌড় দেয়ার জন্য দাড়াতে; যেমন এক জ্ঞানী কাজ করে গিয়েছিলেন আপনার ত্যৎকালীন পূর্বসরী ম্যাডাম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে। যার ফলাফলের উদাহরন হচ্ছে আজকের বাংলাদেশ এবং ইন্টারনেট। উল্লেক্ষ্য তৎকালীন এই বিষয়ে কনসার্ন আমলা ছিলে জনাব মাগরুব মোর্শেদ, হি ইজ দা মেইন ক্রিমিনাল, ট্রাই হিম। আপনাদের মত এত অজ্ঞ মূর্খ, দেশের ও জনগনের লাভের সম্পূর্ন পরিপহ্নি কর্মের সর্বচ্চ যোগ্য লোকজন যদি না থাকতো তাহলে এই দ্যাশ ২০০০ সালের মধ্যেই ডিজিটালাইজেশনের যুগে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রবেশ করে পরবর্তী পাঁচ বছরেই এই দুনিয়ায় জায়গা করে নিত।
আর যদি বলেন উপরের কথাগুলো আমি ঠিক বলিনি তাহলে বলতে হবে উপজেলা পর্যন্ত ভিডিও কনফারেন্সিং দিয়েছেন কথাটা বলে আপনি দিনে দুপুরে ডাহ মিথ্যা ভাষন দিয়েছেন। তথ্য প্রযুক্তিতে দেশের বিশ কোটি জনগনকে জোড় করে অজ্ঞ রেখে এবং পেয়ে হাইকোর্ট দেখিয়েছেন। আপনার পদত্যাগ করা উচিৎ দিবালোকে এমন মিথ্যা ভাষন দেয়ার জন্য।
উপজেলা কেন, গতকাল তখন যদি আপনাকে বলা হতো, আচ্ছ আপনি এখন তৃতীয় কোন জেলায় কথা বলেনতো তাহলে ??? .... কি আর বলবো আপনাকে ? এটা ঠিক কাজ না। তাইতো আপনার ডিজিটাল বিষয়ে কনসার্ন আমলা, চীফ অব A2i অর্থাৎ Access2information আমরা বলি এক্সেস টু ইডিয়েটস্, জনাব এন আই খান এরকমই একটা অর্ডার ছড়াচ্ছিলেন অনুষ্ঠানের এক দুই দিন আগে থেকেই যে প্রধানমন্ত্রী যে কোন জেলায় কনফারেন্স করতে পারে তার রেডি তো ? "হ" "রেডি"। আাবার উনি জেলায় ফোন করে দুইটা মাল্টিমিডিয়া স্ক্রীন সেটআপ দিতে। আরে বলেন কি ? এটাকি কারেন্টের তার দিয়ে জোড়া দেয় না কি ? উনি হয় বিদেশী লোক না হয় সরকার কোটি কোটি টাকার শ্রাদ্ধ করে বানানো ডিজিটালে টাল মূর্খ এই আমলাকে লোকটাকে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রজেক্টের প্রধান বানিয়ে রেখে দিয়েছে। কাম ডান ভেব।
যা হউক ভিডিও মিটিং। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারীত দুই জেলা ছাড়া অন্য জেলাতো দূরে থাক আপনি ঢাকায় বসেই যে কোন মন্ত্রীর সাথে করেন দেখি ? আপনার নিজের অফিসেও পারবেন কিন যথেষ্ট সন্দেহ আছে। অথচ কাজটা এত সহজ যে দুনিয়া যে কোন দেশে আজকাল প্রাইমারী স্কুলের ছেলেমেয়েরাও দুষ্টামি করে এরকম হাজারো ফ্রী মানে বিনাপয়সা ভিডিও কনফারেন্স সাইট সাইট করে। আর এদেশে কোন মন্ত্রী সচিবও বলতে পারবে না বিষয়টা কি হলো এই দুই পার্থক্য কি ভাবে ?
শোনেন বিষয়টা হলো এই রকম আপনার ডিজিটাল বাংলাদের ফোকাল পয়েন্ট A2i প্রধান আগেই পঞ্চগড় আর রাঙামাটিতে দুইটা টিম পাঠিয়ে দেয় সাথে করে একটি ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়ার - অনেক টাকায় কেনা একবার একটিম সিংগাপুরে গিয়ে দেখে আসে আর এক গ্রুপ বিমানে নিয়ে আসে একটা সিডি। - আর দুই মেগাবিট স্পীডের ইন্টারনেট দিয়ে। আপনি অবশ্যই বিশাল কাজ করে ফেলেছেন, কোটি টাকা দিয়ে আপনাদের ধারনায় রকেট সমতুল্য একটা সফটওয়ার কিনে আর দেশের মানুষরে বর্তমান স্পীডের ১০ কিবি এর ২০০ শত গুন বেশী অর্থৎ ২ মেগাবিট স্পীড দিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করে।
আপনি দেশের মানুষরে শুধু এই গতীটা দিয়ে দেখেন ছোটো বাচ্চারাও হাজারটা সম্পূর্ন ফ্রী ভিডিও সফটওয়ার এনে সারাদিন ফ্রী কনফারেন্স করবে আপনার সাথে দেশের যে কোন লোকেশন থেকে। উল্লেখ্য জাপানে নেটের স্পীড বাংলাদেশের চেয়ে এক লক্ষ গুন বেশী।
কি ভাবে করবেন ? শোনেন, ১. বর্তমানেও আপনার দেশের সাবমেরিনে যে ক্যাপাসিটি আছে তার মাত্র ২৪% বিটিসিএল বিক্রি করতে পারছে আর নতুন কেপাসিটি এডিং এর সিডিউলড অডারও প্রতীমাস ফেরত দিচ্ছে কারন ১. ইউজার বারছে না দুনিয়ার সবচেয়ে বেশী দামী ইন্টারনেটের বাংলাদেশ নামক এই লোকেশনে। ২. পূর্বের চেয়ে অবিশ্যাস্য কম দামে কিনতে হলেও আরও বেশী ব্যান্ডউইথ কিনে আইএসপি গুলো ইউজারদের স্পীড বাড়াচ্ছে না। উল্লেক্ষ্য যদিও গত দুই বছরে সরকার ইন্টারনেটের দাম দশ গুন কমিয়ে ৮৪ হাজার টাকা থেকে মাত্র ৮ হাজার টাকায় নামিয়েছ। আর দেখুন এরা বেচছে আগের মতই।
২. গত চার বছর যাবৎ মোবাইল অপারেটরেরা থ্রি জি এর লাইসেন্স চেয়ে বসে আছে। মনে করে দেখুন ওয়ারিদ থ্রীজির স্লোগান নিয়ে মার্কেটে এসেছিল যদিও আন্ডার টেবিল কন্টাক উইথ ওয়ারিদ ক্লোজড দা গ্রোর্থ অব মোবাইল নেট ওয়ার্ক। এদিকে আপনার আমলার থ্রীজির সেই ফাইল চেয়ারের নীচে রেখে আস্তে আস্তে তাঁ দিচ্ছে যেখানে শ্রিলংকা সহ অনেক দেশ তিন বছর আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের মোবাইল অপারেটরদের ফ্রী থ্রজি লাইসেন্স দিয়ে বলে দিয়েছে স্বল্পতম সময়ে ইনফ্রাস্টাক্চার কমপ্লিট করতে। অস্ট্রেলিয়া ২০০৬, ভুটান ২০০৮ নেপাল ২০০৮ ওরা সব বোকা তাই না ?
৩. যে দেশে সামান্যতম ক্যাবল নেটওয়ার্ক নেই সে দেশে ওয়াইমেক্সের মত লাষ্ট রিলায়েবল ওয়ারলেস ব্রডবেন্ড কমিউনিকেশন টুলকে পৃথিবীর সর্বচ্চ মূল্যে বিক্রি করে দেশের ব্রডব্যান্ড ফিউচারের বারটা বাজিয়ে গেছে ফখর উদ্দীন মইন উদ্দিন সরকার। এরা যে ওয়াই মেক্সেরে হোল মার্কেটেটাকে একটা গ্রপের মোনোপলির সুজোগ দিয়ে বাংলাশের জন্য অপরিহার্য ওয়ারলেস নেট ওয়ার্কের মেরুদন্ড ভেঙে দিয়েছে সে বিষয়টা আপনাদে দৃষ্টি আসে না যদিও এদেশে আরও অন্তত চার বছর আগেই লাইসেন্স ফ্রী ওইমেক্স নীতিমালা নেয়া ফরজ ছিল। সেক্ষেত্রে এত দিনে আমর ঠিকঠাক মত ডিজিটাল হাইওয়েতে উঠে যেতাম। আরও একটা পুরো বছর কাটিয়ে দিলেন বিষয়টা নোটিশও না করে ?
৪. দেশে সাড়ে পাঁচ কোটি মোবাইল, যার মধ্যে তিন কোটিই আছে গ্রামে গঞ্জে। আর এই সব গ্রামের গঞ্জের ছোট খাটো হাট বাজারের প্রান্তিক ব্যবসায়ীর পাঁচ হাজার দশ হাজার টাকার মালের অডার দিতেও উপজেলা বা জেলা সদরে এসে ব্যাংকে টিটি করে অথবা এসএ পরিবহন টাকা পাঠায়। অথচ এই লোকটার ব্যাংকে নিজের নামে একাউন্ট আছে, একাউনটের নম্বর আছে, মোবাইলও ব্যাবহার করে আবার এও জানে ফ্লেক্সিলোড বিষয়ট জটিল না বাচ্চা পোলাপানেও পারে ।
আর এইদিকে আপনি এবং আপনার বাংলাদেশ ব্যাংক মোবাইল এসএমএস ব্যাংকিং পারমিশন দিলে এক মাত্র ট্রাস্ট ব্যাংককে। আরও দুইটা হাফ অনুমতি আছে, কি রেমিটেন্স না কি যেন শুধু। আচ্ছা আপনাদের সমস্যাটা কি এবং কোথায় ? আপনাদের এই অবস্থা কেন ? এই কাজটা করে যে এদেশের গ্রামের মফস্বলের অর্থনৈতিক কর্ম কান্ডে তাদের হাতের অতি পরিচিত মোবইল যা কিনা তাদের হাতে অন্তত আগামী ২০ বছর পর্যন্ত একমাত্র এক্সেস পয়েন্ট হিসাবে থাকবে তাকে ফ্লেক্সিলোডের মত সহজ একটা টেক্নোলজি থেকে দশ বছর পিছিয়ে দিলেন।
অথচ লাইসেন্সটা ওপেন বা লিবারেল থাকলে দেশের সাধারন ব্যাংক গুলো এতদিনে প্রতিযোগীতায় নেমে যেত কে কার আগে টেক্নোলজিটা ইনস্টল কের ফিচারটা সেল করবে। আপনার কি মনে হয় ব্যাংকগুলো আপনাদের বলবে এসএমএস ব্যাংকিং দিয়েছেন, এখন সফ্টওয়ার বানিয়ে দেন। আর আপনারা অল্প কয়জন লোকে এতগুলো বানাতে পারবেন না, তাই শুধু একটা পারমিশন দিলেন ? না কি মনে করেন লোকজন আগে গাটের টাকা ইনভেস্ট করে সফ্টওয়ার বানিয়ে বলবে, মহারানী এইযে আমি বিল্ডং বানাইছি এখন আমাকে দেন।
উপসংহারঃ আচ্ছা আপনার উপদেষ্টা আর সচিবদের বাদ দিলাম এরা নিজেদের ধান্দায় ব্যস্ত । আপনারে ছেলে না কমপিউটার বিজ্ঞানী ? সেও আপনাকে এসব কথা বলে না ? যদি না বলে তাহলে এটাও দেশের আর একটা শত্রু হবে কনফার্ম। তারেকের মত এরও এইম ইন লাইফঃ আমি একটা বড় চোর হবো। বি এওয়ার অন দ্যাট।
আরলিয়ার এডিশনঃ Click This Link
চলবেঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

