গত চব্বিশ কিংবা ছত্রিশ ঘন্টায় বাংলাদেশের নিউজ গুলি ছিল এরকমঃ ১, শিবিরের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান ২, উত্তরা থানার ১৪ শিবির নেতা-কর্মী গ্রেফতার ৩, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১জন শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। ৪, এবার চট্টগ্রামে ছাত্র হত্যা ৫, জামাত-শিবির নিধনঃ পূর্ব পরিকল্পনারই ফসল ৬, শিবিরের নিহত দুই কর্মীর সংবাদ নিয়ে মিডিয়ার নির্লজ্জ হলুদ সাংবাদিকতা। ৭, মহা বিনোদনঃ কেউ কাটে রগ, কেউ ফাটায় মাথা । ১৫০ শিবির কর্মী গ্রেফতার।
মৃতদের নাম পরিচয় নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রের ছাপ পাওয়া গেলেও আমাদের এই নির্লজ্ব সামাজে তারা সবাই ছিল খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান। জন্মের পর থেকেই যারা দেখে এসছে ন্যায় নীতি বর্জিত একটা সমাজে তাকে বেঁচে থাকতে হবে। এখানে নির্লজ্বতাই প্রসংশিত লোভই যোগ্যতা। এর ভেতরেই কেউ ছাত্রলীগ কেউ ছাত্রশিবির বা কেউ ছাত্রদল। অথবা হলে কোন রকমে মাথাটা গোজার একটা বালিশ অর্জন করে খেয়ে না খেয়ে গরীব বাবা মায়ের একটা কালো পুষ্টিহীন চেহারা যে আসলে রাজনীতির "ক" নাবুঝে হাসন ভাই হাবিব ভাই বলে চায়ের সাথে একটা দুইটা সিংগারা বেশি খেয়ে কাটিয়ে দিচ্ছিল।
এরাই সব মারতে মরতে আসলে সব এরাই, ছাত্রলীগ বলেন ছাত্রদল বলেন আর ছাত্র শিবির বললেতো তারা আমাদের রাষ্ট্রে সমাজে এবং ঘরেও সবার পরে সিরিয়াল আসা কিশোর।দরিদ্র বাবা মায়ের অনেকগুলো ছেলেমেয়ের মধ্যে সবচেয়ে কম পাওয়া, দুর্বল, পুষ্টিহীনতায় ভুগে পরীক্ষার হলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মাদ্রাসায় পাঠানো ছেলেগুলোই শিবিরের শয়তানের বানানো জীহাদী গ্রুপ।। কেন এরা ? এরাও আমাদের ভাই, ছোটভাই বড়ভাই বন্ধু, আমরা একই প্রজন্ম, নতুন প্রজন্ম। ভাতৃহত্যার এই অভিশপ্ত খেলা আমরা আর দেখতে চাইনা।
শয়তানি করে করে সারা শরীরের পোশম পাকানো বুড়ো হারামজাদাদে কার কে শত্রু তা আমাদের লক্ষ্য না। আমরা শুধু একটা তালিকা বুঝি (তালিকা এখানে Click This Link ফুল তালিকা )। রাজাকারের তালিকা। এদের থেকে মাত্র টপ বিশটা। আমরা বিশ্বাস করি নিজামী মুজাহিদ সাকার মত দশ পনেরটা ইবলিশের বংশধরকে দুনিয়া থেকে রিলিজ দিলেই জাদুর সোনার কাঠি রুপোর কাঠির মত দুঃস্বপ্নের ঘুম ভেঙে যাবে সমগ্র জাতির। এদেশের মানুষের, সমাজের আত্মবিশ্বাস ফিরে আসবে কয়েক শতাব্দী পর - যে ন্যায় বিচার বাঙালী জাতি হারিয়েছে দূর অতীতের মীর জাফর অথবা তারও আগে। সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে মুহুর্তে জাতির সমস্ত শুভ ভুলে যাওয়া অভ্যাস ও বোধগুলি সচল হয়ে যাবে। জাতির সোনালী সূর্যের উদয় হবে।
একাত্তুরে এদেশে গন হত্যা হয়েছে টা কি কোন বিচারকের, কোন বিবেকের, কোন নীতি শিক্ষার, কোন মানবতার সন্দেহ আছে ? কোন সাহ্যকর বিচারকের সামনে ব্যাখ্যা প্রমানের প্রয়োজন আছে এর ? তিরিশ লক্ষ মানুষ ভূমিকম্পে মারা গেছে এরকম যুক্তি তর্ক কোন বিচারক শুনতে চায় ?
শান্তি কমিটি যে গনহত্যার নেতৃত্ব দিয়েছে তা কোন রাজাকার আদালত আবার নতুন করে প্রমান দেখতে চায়, এটা ফাইজলামী না মঘের মুলুক ?
আর নিজামী মুজাহিদি সাকা এরা শান্তি কমিটি রাজাকার আলবদর কোন কমিটির কোথায় ছিল তা প্রমান শুনতে কোন পাকিস্তানী আদালতের পনের মিনিটের বেশী হেয়ারিং লাগাবে ?
সুতরাং গন আদালতে সামারী ট্রায়াল আর দোষী প্রমানে শীরচ্ছেদ। এটাই সঠিক লিগ্যাল এবং জাসটিস এর ব্যত্যয়ই ইনজাস্টিস। একটা মানুষ মারলে দশ বছরে বিচার করতে হয় তাতেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। আর যখন হত্যা করা হয় লক্ষ লক্ষ নিরিহ মানুষ তার বিচার একদিনে করাই সর্বোৎকৃষ্ট ন্যায় বিচার বরং অন্যথায় করাটাই চুড়ান্ত অবিচার। লক্ষ প্রাণের হত্যাকারীর বিচার সভ্য জাতি এভাবেই করে ইতিহাস তাই বলে।
এদেশের ভবিষ্যৎ সমাজ নতুন প্রজন্ম টপ লেভেল ২০ রাজাকারের বিচার প্রকাশ্য গনআদালতে সামারী ট্রায়ালে, প্রকাশ্য রায়, প্রকাশ্য রায় কার্যকর দেখতে চায়- গনআদালতে, প্রকাশ্য, এবং শীরচ্ছেদ।
আজই এদেশের লক্ষাধীক রাজাকার থেকে টপ ২০ জনের তালিকাটা ফ্রেস একটা কাগজে লেখেন। রাতের মধ্যেই সব কয়টাকে ধরেন এবং ঘোষনা দেন আগামী সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সকাল ১১ ঘটিকায় বঙ্গবন্ধু জাতিয় স্টেডিয়ামে প্রকাশ্য গনআদালতে এই কয়টার বিচার এবং রায় কার্যকর করা হবে।
দেশের প্রচলিত আইনেই বিচারক তালিকাটা হাতে নিবে। সিআরপিসি ১৯০ ধারায় অভিযোগ আমলে নিবেন। ৩৪২ ধারায় আসামী পরীক্ষা করবেন। এরপর রায় দিবেন। অর্থাৎ প্রথমে অভিযুক্তকে মাঠের মধ্যে হাজির, প্রমান দলীল ইত্যাদী উপস্থাপন, অভিযুক্তকে শ্রবণ এবং রায় প্রদান।
শীরচ্ছেদ সব কয়টারে, চক চকে রোদের আলোয়, গ্যালারী ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে। আর নতুন প্রজন্ম আপনাদের ডিজিটাল বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ড স্পীডে এই বিচার সারা দুনিয়ায় লাইভ কাস্ট করবে।বাংলার মাটিতে রাজাকারদের আর এক মুহুর্ত দেখতে চায় না তারা।
শুধু এক বিকাল একটা ফুটবল ম্যাচ এদের এই ২০ টা মাথা, ফাল্গুনের বিস্তির্ন হাওরের মাঠে। অতপর হাতমুখ ধুয়ে ভালো ছেলের মত সন্ধায় পড়ার টেবিলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

