গত বিশ থেকে ত্রিশ বছরে এদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠন গুলোকে দুনিয়ার জঘন্যতম স্থানে পরিনত করেছে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি। কেম্পাসের এই অভিজ্ঞতার ধারনাও পৃথিবীর কোন সভ্যতায় নেই।সম্প্রতী বছর গুলোতে এদেশের হাতে গোনা কিছু ভালো লোক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষনার পক্ষে কথা বললেও অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষই কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
আমাদের ছাত্র রাজনীতির আউটপুট হিসাবে গত আটই ফেব্রুয়ারী তারিখে নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারুর হোসেনের একটি সাক্ষাৎকার নিতে আমি জাতির পক্ষে বেহেস্তে গিয়েছিলাম । চলুন দেখি একজন ভুক্তভুগি হিসাবে তিনি এদেশের ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে আপনাদের কার চেয়ে কতটা ব্যতিক্রম বলে ?
জাতিঃ ফারুক আপনি কেন ছাত্ররাজনীতিতে এসেছিলেন ? আপনি কি এমপি মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখে ছিলেন ?
ফারুকঃ না তেমন কিছুই না। প্রথম বর্ষে হলে একটা সীট দরকার ছিল।
জাতিঃ ছাত্র রাজনীতি করে আপনি কি কি পেয়েছেন ?
ফারুকঃ না তেমন কিছুই পাইনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তো ধান্দার জন্য ড্রাই ল্যান্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে হতো। সেখানে সন্ধার সময় হলের গেটের আশেপাশে দাড়ালেও দুই চারটা গাড়ি থামিয়ে "বস পার্টি অফিস যাব পকেটটা একেবারে খালি একটু ড্রপ করে দিয়ে আসেন" বললেও তিন চারটা ফেন্সির দাম মুহুর্তে উঠে আসে। আর অন্ধকারে কাওকে থামালেতো কমপক্ষে মোবাইল সেট সিওর। আর ঢাকা শহরের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে লিংক রাখতে আড্ডাগুলোতে গেলে ফ্রিতে ঐ দিন ভালোই যায়। এছাড়া লিডারদের কাজের টেন্ডার ব্লকে গেলে ভালো হাত খরচ আসে। আমরা রাজশাহীতে হলে মাঝে মধ্যে ফাউ খাওয়া, কেম্পাসে ভাব নিয়ে চলা, আশেপাশে চারদিকে বাকি খাওয়া আর আশা ছিল পাশ করার পর একটা সরকারী চাকরীর লবিং যদি করা যায় ইত্যাদী। অল অড জব।
জাতিঃ তাহলে সিট ও ইত্যাদী। নীতি আদর্শ এগুলি ?
ফারুকঃ না ওগুলি কিছু না। এট লিষ্ট যারা ছাত্র রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত তাদের কাছে ওগুলি কখনও বিষয় না। আপনি জানেন কতজন ছাত্রদল ক্যাডার গত এক বছরে মিছিল শেষে বক্তব্য দিয়েছে এতদিন আমাদের ভুল শেখানো হয়েছে। আসলে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া না। সুজোগ দিলে সবাই বলবে। আবার বিএনপি আসলে বলবে হু ইজ মুজিব, ডিড উই সী হিম, হুইচ সেক্টর ডিড হি ফাইট ? বরং সাধারন ছাত্রছাত্রী যারা কখনও রাজনীতি করে না তাদের কাছে নীতি, আদর্শ, দেশ এসব অনেক বড় বিষয়। তারা ঠিকই দেশের প্রয়োজনের সময় নিজেই টেবিল ছেড়ে চলে আসে রাজপথে। তখন আমরা ফাউ লীড নেই আবার কেউ কেউ উল্টা দিকে বিক্রি হয়ে ভালো কামিয়েও নেই।
জাতিঃ ধরেন এমন হতো দেশে ছাত্র রাজনীতি নেই। আর কেউ তোমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নিচ্ছে। তাহলে তোমরা কি করতে ? তখন তো কোন প্লাটফর্ম নেই নেতৃত্ব নেই।
ফারুকঃ কেউ দখল করে নিতে এলে কি করতাম তার উত্তরটা আগে দেই। তার পেছন দিয়ে দিয়ে দিতাম। আর তখন দল নেই প্লাটফর্ম নেই এগুলো কোন বিষয়ই না। দেশের নিকট অতীত থেকে পেছনের দিকে চেয়ে দেখুন বরং তখন এই প্লাটফর্ম গুলো আরও সমস্যা করে। নব্বুইয়ের সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অভি গ্রুপের কথা আপনার মনে আছে না ? গোলাম ফারুক অভি গ্রুপ ছাত্রদল থেকে মেশিন নিয়ে এরশাদের কাছে বিক্রি হয়ে ডাঃ মিলনকে সহ অনেক সাধারন ছাত্র হত্যা করে ছিল। ওল টাইম সেইম। কেন ২০০৭ এ ছাত্র আন্দোলন দেখেন না ? আপনার কি মনে হয় সেখানে ছাত্র রাজনীতি কোন ভূমিকা বা শুভ ভূমিকা ছিল ? বহিরাগত ক্যাডার আর বাপ চাচার বয়সী লীডাররা আন্দোলনেও ধান্দাই করে।
জাতিঃ আচ্ছা শিবিরের ছেলেরা কেন আপনাকে হত্যা করলো আপনার কোন ব্যাক্তিগত শত্রুতা ছিল ?
ফারুকঃ না ! পোলাপান দুই দিন যাবৎই পাগলা কুত্তার মত ছিল। ওদের নেতা নিজামী কি এক বিশেষ কারনে শিবিরের হাতেই লাশ চাইছে। তরংঙ্গে সেই ম্যাসেজই ছিল। ওরা আমাকে যে ভাবে মেরেছে, রগ কাটা ম্যানহোলে ফেলা, টু টু নির্দেশ ছিল কি এক বিশেষ লক্ষ্যে। মরতে মরতে আমার তাই মনে হয়েছে। আমারতো ব্যাক্তিগত কোন শত্রুতা ছিলনা ওদের সাথে, তবে কেন এমন করলো ওর ?
জাতিঃ এবার আপনার মৃত্যুর আগের মুহুর্ত গুলি সম্পর্কে কিছু বলুন।
ফারুকঃ মাথায় লোহার রড় দিয়ে একটা প্রচন্ড বাড়ি মেরে আমাকে ফেলে দিল। ওরা দশ বার জন, কেউ পিটাচ্ছে কেউ লাথি দিচ্ছে আর কয়জন আমার হাতে পায়ে ধরে গরু জবাই করার ছুরি দিয়ে কচকচ করে রগ গুলি কোরবানীর গরুর মত কেটে ফেললো। আমি শুধু বাবা'গো মা'গো বলে চিল্লাচ্ছিলাম আর ওদের কাছে মাফ চাচ্ছিলাম। এরপর ওরা আমার রগকাটা হাত পায়ে ধরে ঐ টাংকির মধ্যে ফেলে দিল। যন্ত্রনায় শুধু ধরফর করেছি আর ঐ গু জীবানু ভরা পচা পানি খেয়েছি। দম বের হতে অনেক সময় লেগেছে। তখন অন্য কোন এক দুনিয়ায় ছিলাম আগের দুনিয়া না আবার এই দুনিয়ায়ও না। সে অন্য এক যন্ত্রনার দুনিয়া।
জাতিঃ আচ্ছা আপনি তো দুনিয়ায় থাকা অবস্থায়ই শুনে এসেছেন আপনার দেশে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে বিপক্ষে অনেক বিতর্ক আছে। এখন যদি আপনাকে জাতির পক্ষ থেকে আমি প্রশ্ন করি আপনি কি বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হউক এটা চান ?
ফারুকঃ অবশ্যই ! বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হউক। আজই এখনই। আর কেউ যদি এরে বিপক্ষে কথা বলে তাহলে তার উদ্দেশ্যে বলবোঃ প্রথমত তাকে বলা হউক তুই মূর্খ মানব। তোর মাথায় আসলে গোবর ছাড়া আর কিছু নাই। তুই দেশ জাতি আর মানবতার শত্রু। দ্বিতীয়ত তার মাথায় লোহার রড দিয়ে একটা বাড়ি দিয়ে, শিবির দিয়ে হাতের পায়ের রাগ কাটাইয়া, ম্যানহোলে ফেলে দেয়া হউক, জাতির বৃহত স্বার্থে। সে কয়েক কোটি শিক্ষিত গরু হলেও। সে তিনশ এমপি হলেও। আর সে যদি খালেদা হাসিনা হয় তাহলে এদের দুই জনের চার জোড়া হাত পায়ের রগ কেটে, মাথায় একটা বাড়ি বেশী দিয়ে, দুই জনকে একটা ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হউক।
অতএব তোমরা তোমাদের ভাইদের রক্ষা কর। রাজনীতিবিদদের বলো অন্য কোথাও থেকে গুন্ডা সংগ্রহ করতে। আমরা আমাদের আর কোন ভাইকে এভাবে রাজনীতি করে মরতে দিতে চাই না। আমাদের ক্ষমা কর।
বিতর্কঃ ছাত্র রাজনীতি আর ছাত্র আন্দোলন ভিন্ন জিনিষ। এদেশে ছাত্রদের ভূমিকা রাখার জন্য কোন দিনই রাজনীতির প্রয়োজন ছিল না।
৫২ ভাষা আন্দোলনে কোন হল থেকে কোন বিশেষ গ্রুপকে বের হতে হয়নি কাটা রাইফেল আর চাপাতি হাতে, হয়েছিল কি ?
৫৯ ৬১ শিক্ষা কমিশন আন্দোলন কি টুকু গ্রুপ বা কালা মিজান গ্রুপের প্রয়োজন ছিল ?
৬৬ ছয়দফা বা ৬৯ গন অভ্যুন্থানে কোন হলের কোন ক্যাডার বাহিনী অংশগ্রহন করেনি। প্রকৃত পক্ষে তখন আমাদের বর্তমান ফর্মেটের ছাত্র রাজনীতিই ছিল না।
আপনাদের কখনও কি মনে হয় ৭১ কোন গ্রুপকে ছাত্রদের প্লাটফর্ম দেয়ার প্রয়োজন ছিল ?
১৯৯০ ও ২০০৭ সেতো নিকট অতীত।একটু স্বরন করে দেখুনতো আপনাদের তথাকথিত ছাত্র রাজনীতির কোন অবস্থান আছে কিনা সে সব আন্দোলন গুলিতে। এদেশে প্রতিটি ঐতিহাসিক আন্দোলনে সর্ব স্তরের সাধারন ছাত্ররা বের হয়ে এসেছে স্বতস্ফুর্ত ভাবে সাধারন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে কোন দলের পালিত ক্যাডারদের ডাকে নয়।
সুতরাং জাতির বা ছাত্র সমাজের ছাত্র রাজনীতির কোন প্রয়োজন নেই। তবে কার প্রয়োজনে সমস্ত নৈতিকতা ধ্বংস করে এই ছাত্র রাজনীতি ?
সতরাং বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি আজই নিষিদ্ধ করা হউক ! BAN IT NOW.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


