somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোস্তফা জব্বারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে হবে।

২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভূমিকাঃ আমি আমার নিজের ভাষায় লিখবো আর ঐ দিকে দেখবো কেউ পুরো সেট বর্ণমালা ক্রম অনুসারে নিজের নামে পেটেন্ট করে নিবে, তাকে ট্যাক্স দিয়ে আমাকে বর্ণমালা ব্যবহার করতে হবে, তা কেমন করে হয় ? এরকম একটা চুড়ান্ত "টাউট" প্রকৃতির কাজই হয়েছে বাংলাদেশে। পৃথিবীর আর কোন দেশে বা ভাষায় বিষয়টি হয়নি, যদি কোথাও সামান্যতমও হয়েও থাকে তবে বুঝে নিতে হবে সেখানেও আমাদের সমাজের মত সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে "টাউট, বাটপার আর বদমাইশ" শ্রেণীর লোকেরাই সুসজ্জিত হয়ে ডোমিনেট করছে।

ধরুনঃ আপনি একটি ইংরেজী স্মার্ট টাপিই সফ্টওয়ার বানাবেন। ওকে, নো প্রবলেম, বানান। এখানে একটা প্রশ্নের উত্তর আপনিই কমনসেন্স থেকে দেন দেখিঃ আপনার কি মনে হয় আপনি যখন মেশিনটা বানালেন তখন কোন অভদ্র টাউট টাইপের লোক সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে দৌড়ে আসবে, বলবে ভাই "আমিতো "সি" এই কী-তে লে-আউট করেছি, আপনি এটা পারেন না, আপনি চোর। এই যে আমার "এফ" এখানে আপনিও ঐ একই কী-তে "এফ" দিয়ে আমার পেটেন্ট চুরি করেছেন ? কি মনে হয় এ রকম ফাজিল কোন লোক থাকার সম্ভবনা বাংলাদেশ ছারা এই দুনিয়ায় আর কোথাও আছে বা থাকা সম্ভব ?

বিষয়টি আসলে এরকমঃ আপনি কোন ভাষায় কবিতা লেখেন, উপন্যাস লেখেন অথবা সফ্টওয়ার লেখেন কোন সমস্যা নাই। সেগুলি আপনার কপি রাইটও করতে পারেন, আইনে তাই বলে। তবে আপনার সেই কপি রাইট কখনও বর্ণমালাকে কভার করবে না, বর্ণমালার ক্রমকে কভার করবে না। বর্ণমালাকে নিজের সম্পত্তি হিসাবে দাবী করতে পারবে না। বর্ণমালা স্বাধীন ভাবে কখনও ছাপা বইয়ে, কখনও টাইপ মেশিনে, কখনও বড় সাইজের কম্পিউটার কী-বোর্ডে, আবার কখনও মোবাইলে এবং যে যন্ত্র আজও আবিষ্কার হয়নি সে যন্ত্রে তবে সব সময় এদের ক্রম সহজ থেকে সহজতর হবে। যেমন বর্ণমালার ক্রম, টাইপিং লে-আউট, ফনেটিক লে-আউট সব সময় সহজ থেকে সহজ হবে, এভাবে সে ইউনিভার্সাল সহজতম লে-আউটের দিকেই এগুবে, হয়তো কোথাও সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবাই একটা আদর্শকেই চুড়ান্ত করবে। ইংলিশের ক্ষেত্রে যেটা দেখা যায়।

কিন্তু এর মাঝখানে আপনি টাউট না হলে কোথাও নিজের লে-আউট দাবি করে ভাষা স্বাধীনতা খর্ব করতে চাইতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ঐ বর্ণমালা ব্যবহার করার যোগ্যতাই আপনার থাকবে না। এটা ভাষার নিজস্ব অধিকার। সবাই নিজের এবং ভাষার প্রয়োজনেই কাজগুলো করবে, বর্ণমালার উপর ভর করেই সামনে যাবে এবং কর্ম শেষে বর্ণমালার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। সেখানে মাঝ পথে কেউ যদি তার সফ্টওয়ার কপি রাইট করতে গিয়ে লে-আউটটিও তারই রাইট দাবি করার চেষ্টা করে তবে সে বাটপার হিসাবে চিহ্নিত হবে।

এইরকম অনৈতিক দাবি করে ভাষার স্বাধীনতাকে খর্ব করার অধিকার কারও থাকতে পারে না। ভাষা, বর্ণমালা কারো সম্পত্তি হতে পারে না। ভাষা, বর্ণমালা এগুলি পাবলিক প্রপার্টি। নিজের ভাষায় কথা বলতে যেমন কারও পার্মিশন লাগবে না তেমনি লিখতে গেলেও কেউ যদিellectual কী-বোর্ডProperty Righএর সার্টিফিকেট নিয়ে দৌড়ে আসে তবে তৎক্ষনাত তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রহিতার অভিযোগ এনে তাকে ABপুলিশ দিয়ে ধরাতে হবে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে হবে।

আমাদের প্রেক্ষাপটঃ আর কোন দেশে বা ভাষা নিয়ে এমন বাটপারি বাণিজ্যের প্রচেস্ট না হলেও একমাত্র বাংলাদেশে, বাংলা ভাষায় ফ্রন্ট, লে-আউট নিয়ে এই সমস্যা হয়েছে। এদেশের শিক্ষিত সচেতন মানুষ গুলোর অসচেতনতার সুযোগে কিছু টাউট লোক পাবলিক প্রপার্টি বেচে খাওয়ার মতলব থেকে এদেশের কপি রাইট আইনটি করেছে। আর মোস্তফা জব্বারে মত টাউট লোক ডিজিটাল বাংলা ভাষাটাকেই নিজের নামে প্যাটেন করে নিয়েছে।

সম্প্রতি ঘটনাঃ কয়েকদিন আগে বিজয় বাংলা টাইপিং সফ্টওয়ারে কথিত স্বত্তাধিকারী মোস্তফা জব্বার মিডিয়ায় একটি মন্তব্য করেন অন্য একটি বাংলা টাইপিং সফ্টওয়ার অভ্র কে নিয়ে। অভ্র নাকি তার বাংলা বর্ণমালার লে-আউট চুরি করেছে। সেই সাথে অভিযোগের দ্বিতীয় অংশে নির্বাচন কমিশন ও ইউএনডিপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন যে নির্বাচন কমিশন ও ইউএনডিপির প্রজেক্ট "নেশনাল আইডি কার্ড" প্রস্তুতে অভ্র ব্যবহার করে অন লাইনে কী-বোর্ড লে-আউট দিয়ে হ্যাকারদের সাহায্য করেছেন জেলা ওয়েব পোর্টাল হ্যাক করতে।

প্রতিক্রিয়াঃ মোস্তফা জব্বারের এই মন্তব্যের উপর হাজারও পোষ্ট এসেছে অসংখ্য ব্লগে। সেগুলির ভেতর অনেক নাজানা কথাও উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে বিজয় সফ্টওয়ারটির ডেভলপারই মোস্তফা জব্বার নিজে না। এমনকি মূল ডেভলপারের নামও কপি রাইটে রাখা হয়নি ইত্যাদী অনেক কুকির্তী।

উপসংহারঃ আজ আমরা এ বিতর্কের চুড়ান্ত করতে চাই। এর পর যা হতে পারে তা হলো। বিজয়ের কপিরাইট অনতিবিলম্বে বাতিল করা এবং মোস্তফা জব্বারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রজু করা। আর কাজটির দায়িত্ব প্রথমত সরকারের, যদি ডিজিটাল সরকার বিষয়টি না বোঝে তবে যে কেউ বিজয়ের কপিরাইট বাতিল এবং মোস্তফা জব্বারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে হাইকোর্টে রিট আবেদন করতে পারেন।

কাজের লিংকঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৬
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×