somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীর শত্রু সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সামন্তবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই গড়ে তুলুন।

০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৮ মার্চ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আজ থেকে দেড়শ বছর আগে ১৮৫৭ সালে শ্রমের ঘন্টা কমানো, নারীদের ভোটাধিকার, মাতৃত্ব ছুটি, ফ্যাক্টরির পরিবেশ উন্নত করা ইত্যাদি দাবী দাওয়া নিয়ে আমেরিকার নারী শ্রমিকরা প্রথম রাস্তায় নেমেছিলেন। নারী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে জার্মানীর নারী নেত্রী ক্লারা সেৎকিনের নেতৃত্বে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত নারী সম্মেলনে এই দিনটিকে নারী দিবস হিসাবে ঘোষনা করে। ৮ মার্চ তাই শোষিত বঞ্চিত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন।
আজ ২০০৮ সালে এদেশের নারীদের অবস্থা ভয়াবহ। গার্মেন্টস নামক মৃত্যুকূপে লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক ১২/১৪ ঘন্টা শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যাদের নিম্নতম মজুরী মাত্র ৯০০/১৪০০ টাকা। মাতৃত্ব ছুটি দূরের কথা সাপ্তাহিক ছুটিও এখানে কল্পনা করা যায় না। বাধ্যতামূলক ওভারটাইম, জরিমানা, দিনের পর দিন পাওনা পরিশোধ না করা সাধারণ ঘটনা। আবার পাওনার দাবীতে আন্দোলনে চলে পুলিশি নির্যাতন।
শহর গ্রামের লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিকের উপর বর্ধিত শ্রম শোষণ বাদেও বিশেষত কৃষক ও সাধারণ মধ্যবিত্ত নারীরা এখনো গুরুতরভাবে সামন্ততান্ত্রিক ও মধ্যযুগীয় ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার। যৌতুক, ধর্ষণ, ফতোয়াবাজী, বাধ্যতামূলক পর্দা প্রথা, শুধুমাত্র ভোগের সামগ্রী হিসাবে গণ্য করা, সম্পত্তি অধিকারে অসমতা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন প্রভৃতি উপায়ে আজ লক্ষ কোটি নারী বঞ্চিত-অধিকারহীন, মানসিকভাবে পঙ্গু।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় দেহ ব্যবসা, সুন্দরী নারী প্রতিযোগীতা, ফ্যাশন শো, মডেলিং, পত্রিকা, বিজ্ঞাপনে, সিনেমায়, সংস্কৃতি, শিল্পে নারীকে করে তুলেছে ভোগ্যপণ্য, বেচা-কেনার বস্তু। তথাকথিত নারীবাদী এবং এন.জি.ও. ওয়ালাদের মতে এটাই হলো নারী স্বাধীনতা। শাসকগোষ্ঠীর দালাল নারীবাদীরা বা এনজিওগুলো নারীর প্রতি শ্রম শোষণ ও নারী নীপিড়নের শক্ত প্রতিবাদ করেনা। তারা নারী মুক্তি, নারী স্বাধীনতা বলতে বোঝায় নারীদের শিক্ষিত হওয়া, অফিস আদালতে চাকুরী করা। নারীবাদী বুদ্ধিজীবি লেখকরা খুব বেশী হলে মধ্যবিত্ত নারীদের উপর সামন্তবাদী শোষণ নিপীড়নের বিরোধীতা করে। তারা গার্মেন্টস শ্রমিক, ইটভাঙ্গা শ্রমিক, আয়া, নার্সসহ কর্মজীবী নারীদের বাঁচার তাগিদে জীবন-মরণের লড়াইয়ের পক্ষে মূলত দাঁড়ায়না। তারা পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের অধীনে নারীদের পণ্য পরিণত হওয়াকে বিরোধীতা করে না।
সাম্রাজ্যবাদ দ্বারা পরিচালিত এন.জি.ও গুলোর ক্ষুদ্র ঋনের কবলে পড়েছেন গ্রামের ভূমিহীন নারীরা। অভাব অনটন দূর করার প্রলোভন দেখিয়ে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগী কেনা, কুটির শিল্প ও ব্যবসা করার নাম করে ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে এবং কিস্তিতে কিস্তিতে সুদ-আসল মিলিয়ে এই নারীদের শ্রম শোষণ করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা লুটছে সাম্রাজ্যবাদ ও তার এদেশীয় দালালরা। দালাল প্রচার মাধ্যমগুলো এটাকে স্বাবলম্বী হওয়ার মডেল হিসাবে উপস্থাপন করে। কিন্তু কত ভূমিহীন যে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করে, ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ায় তার প্রচার দালালেরা করে না। তারা ভূমিহীনদের প্রকৃত মুক্তির পথ দেখায় না বরং মুক্তির সম্ভাবনাগুলোকে হত্যা করে ভুল পথে পরিচালিত করে।
পৃথিবীর কোথাও এমনকি সবচেয়ে উন্নত দেশে ‌‌"তথাকথিত গণতন্ত্রে" নারীরা সম্পূর্ণ সমানাধিকার পায়নি। তথাকথিত এসব গণতন্ত্র শুধু জাঁকাল গালভরা কথার বড় বড় প্রতিশ্রুতি আর স্বাধীনতা ও সাম্যের নামে আড়ম্বর-ভরা ধ্বনির গণতন্ত্র। কিন্তু কাজের বেলায় নারীদের স্বাধীনতাহীনতা ও নিকৃষ্ট অবস্থা এবং শ্রমিক ও শোষিতের স্বাধীনতাহীনতা ও নিকৃষ্ট অবস্থাকে ঢেকে রাখে।
ধ্বংস হোক এই ঘৃণ্য প্রবঞ্চনা!
অত্যাচারী ও অত্যাচারিতের মধ্যে, শোষক ও শোষিতের মধ্যে কখনও সাম্য হতে পারে না, হয় নি, হবে না। যতক্ষণ না আইনত নারীরা পুরুষের সমান সুবিধা পাচ্ছে, যতক্ষণ না মূলধনের কবল থেকে শ্রমিকরা স্বাধীনতা পাচ্ছে, আর মালিক ও মহাজন এবং ধনিদের দাসত্ব থেকে শ্রমজীবী কৃষক স্বাধীনতা পাচ্ছে ততক্ষণ প্রকৃত "স্বাধীনতা" হতে পারে না, হয়না, কখনও হবে না।
সমাজে যতদিন শোষণ থাকবে ততদিন শাসকগোষ্ঠী এই বৈষম্য টিকিয়ে রাখার স্বার্থে পুরুষতন্ত্র টিকিয়ে রাখবে। পুরুষতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে এ সমাজ ব্যবস্থা। সম্প্রসারণবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা-মুৎসুদ্দী পুঁজিবাদ ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ সারা পৃথিবী জুড়ে দারিদ্র্যের কারণ ও নারী নিপীড়নের হোতা। তাই এই ব্যবস্থায় শ্রমজীবী নারী-পুরুষসহ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের কারও মুক্তি নেই। কিন্তু সমাজের নিপীড়িত শ্রেণী ও জনগণের মুক্তি ব্যতিত পৃথকভাবে নারীর মুক্তি হতে পারে না। তাই সমাজের সার্বিক বিপ্লবী পরিবর্তনের উপরেই নারীর মুক্তি নির্ভরশীল।
তাই আসুন সমগ্র জাতি ও জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে সম্প্রসারণবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, আমলাতান্ত্রিক পুঁজিবাদীদের শোষণমুলক ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে জাতি ও জনগণের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি-অর্থনীতি-সংস্কৃতি গড়ে তোলার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হই।

সকল প্রকার লাঞ্চনা, অপমান, নিপীড়ন, শোষন, দাসত্বের বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠে আওয়াজ তুলুন-
# চাই নারীদের স্বাধীনতা ও সমান অধিকার।
# নারী মুক্তির নামে সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ট এন.জি.ও গুলোর তৎপরতাকে বিরোধীতা করুন।
# চাই শ্রমিকদের জন্য, কৃষকের জন্য, মেহনতকারী জনগণের জন্য স্বাধীনতা ও সমান অধিকার।
# নারী দেহকে পণ্যকারী যে কোন তৎপরতা ধ্বংস হোক।
# চাই সাম্রাজ্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী, আমলাতান্ত্রিক পূঁজিবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল বুদ্ধিজীবীদের উচ্ছেদের জন্য লড়াই।



১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×