১৯৭১ সালের গণহত্যাকারীদের বিচার এদেশের মানুষের প্রাণের দাবী। এদেশের মানুষ ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীসহ সকল গণহত্যাকারীদের বিচার ও শাস্তি চায়। এবং তারা তাদের বিচার একদিন করবেই এবং শাস্তি দিবেই।
কিন্তু আজ জনগণের এই প্রাণের দাবীকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে তৎপর বিভিন্ন গোষ্ঠী। এই প্রশ্নে সবচেয়ে সরব আঃলীগ যুদ্ধাপরাধীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। অথচ মুজিবের আমলে খুন করা হয়েছে সিরাজ সিকদার সহ ত্রিশ হাজারের উপরে মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক বিপ্লবীদের। ১৯৯৬ সালে নিজেদের ৫ বছরের শাসন আমলে ভুলেও উচ্চারণ করেনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা। কিন্তু ’৯৩ সালে এই ইস্যুকে উসকে দিয়ে, মানুষের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ’৯৬ এর নির্বাচনে তার ফায়দা লুটেছে। যেকোন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গতবছরই ইসলামী দলগুলোর একাংশের সাথে আঁতাতের ইতিহাস এখনো এদেশের মানুষ ভোলেনি। ১৯৮৬ সালে এরাই জামাতে ইসলামীর সাথে আঁতাত করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের আরেক বৃহৎ দাবীদার বিএনপি যাদের উৎস ক্যান্টনমেন্ট থেকে- তারা জামায়াতে ইসলামীর মত সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী শক্তিকে এদেশের রাজনীতিতে পুর্নবাসিত করেছে এবং ২০০১ এর নির্বাচনে তাদের নিয়ে সরকার গঠন করেছে।
ক্যান্টনমেন্টের আরেক উত্তরসূরী এরশাদ ইসলামকে সংবিধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি পুনবাসনের ষোলকলা পূর্ন করে।
এরা প্রত্যেকেই প্রতিক্রিয়াশীল এবং এদেশের মানুষের চোখে অত্যাচারী, দালাল, বিশ্বাসঘাতক হিসেবে এদের কারো মধ্যেই কোন পার্থক্য নেই। তাই, এক প্রতিক্রিয়াশীল কি আরেক প্রতিক্রিয়াশীলের বিচার করবে? না কি, কেবল নিজ নিজ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেই এই গণদাবীকে ব্যবহার করবে?
যে সেক্টর কমান্ডাররা যুদ্বপরাধীদের বিচারের দাবীতে সোচ্চার আমরা বলতে চাই যদি আপনরা প্রকৃতই যুদ্বাপরাধীদের বিচার চান তাহলে উপরোক্ত বিষয়ে পরিষ্কারভাবে আপনাদের মতামত ব্যক্ত করুন । কেন, যুদ্ধের ৩৭ বছর পর আপনরা বিচার চান? এতদিন কোথায় ছিলেন? এর জবাব এদেশের মানুষ জানতে চায়।
আমরা যদি প্রকৃতই গণহত্যাকারীদের বিচার চাই, তবে অবশ্যই শত্র“ মিত্রের মধ্যে আমাদের স্পষ্ট পার্থক্য টানতে হবে। শত্র“র নিজেদের মধ্যকার কোন্দলে ব্যবহৃত হওয়া যাবে না। সকল প্রতিক্রিয়াশীলদের উৎখাতের মাধ্যমেই কেবলমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হবে।
প্রপদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভ্রা চক্রবর্তী কর্তৃক ২৬ শে মার্চ ২০০৮ উপলক্ষে প্রকাশিত ভাঁজপত্রে প্রকাশিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

