প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) একটি বিপ্লবি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৯৪ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বষের্র একদল তরুন স্বেচ্ছাসেবায় উদ্যোগী হয়ে গড়ে তোলে প্রপদ। তারুন্যের সেই অগ্রযাত্রা শুধু ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, কুমিল্লা, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, জকিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যাতর্দের পাশে এরা দাঁড়িয়েছে সহযোগীতা ও মুক্তির গান নিয়ে। সাধারণ জনগণের সাথে নীরব যোগাযোগ প্রতিষ্টা, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ ও সমাধানের উপায় অনুসন্ধানে প্রপদ সবর্দাই নিবেদিত। দুগর্তদের মাঝে যাওয়া, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ করে স্থায়ী সমাধানের উপায় অনুসন্ধান, মানুষের দুঃখ কষ্ট কাছাকাছি থেকে পযর্বেক্ষণ করার এই ধারাবাহিক পথ পরিক্রমায় গড়ে উঠেছে সচেতন চিন্তা, সংগ্রামী পথযাত্রা। তারুণ্যের সেই স্বেচ্ছসেবা নিজস্ব গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রুপান্তরিত হয়েছে স্বেচ্ছাশ্রম ও সংগ্রামে। গড়ে উঠেছে নাটকের দল, গানের দল, প্রকাশনা। যা কথা বলে দেশ, জাতি ও এদেশের সাধারণ মানুষের। জনগণকে সংগঠিত করে তার সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানায় প্রপদ। প্রপদ এর কাযর্ক্রমের ধারাবাহিকতায় এখন চলছে ১৩তম শীতার্ত সহযোগীতা কাযর্ক্রম।
উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে প্রতিবছর শীতে মৃতের সংখ্যা শতাধিক। প্রতিবছরই ঘটছে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। একবিংশ শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই সময়ে শীত আমাদের দেশের শ্রমজীবী জনগণের জন্য জীবন সংহারী এক সংকট! শীতের এই সংকট কী নিছক শৈত্যের সংকট! নাকি আমাদের দেশে বিদ্যমান শোষণ-লুণ্ঠনমূলক আর্থ-সামাজিক অবস্থাই এই সংকটের জন্য দায়ী?সত্যটা অকপটে ও উচ্চকিত কন্ঠে আমরা বলতে চাই। শীত সংকট কোন প্রাকৃতিক দৈব দুর্বিপাক নয়। সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের তাঁবেদার শাসকদের অবাধ শোষণ ও লুণ্ঠনের ফল। যে একপ্রস্থ বস্ত্রের অভাবে আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষেরা প্রতিবছরের শীতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়ায়; সেই বস্ত্রখাত থেকে এদেশের শাসকেরা আয় করে জাতীয় রপ্তানী আয়ের সিংহভাগ। সাম্রাজ্যবাদের সেবার শ্রমঘন এই শিল্পে এদেশের শ্রমিকের শ্রম শোষণ করে ৯০ ভাগ আয় নিয়ে যায় সাম্রাজ্যবাদীরা। বিনিময়ে শ্রমিককে কোনরকমে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মজুরীও দেয়া হয় না। আমাদের কৃষি, শিল্পসহ সব অর্থনৈতিক খাতকে সাজানো হয়েছে একই সূত্রে। পরাধীন এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় জাতি ও জনগণের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র সংকটাপন্ন। ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে বেঁচে থাকাও আমাদের জন্য দুঃসাধ্য।অথচ, এদেশের মানুষ নিজেদের একটা স্বাধীন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের জন্য বার বার গড়তে চেয়েছে স্বাধীন গণতান্ত্রিক একটা সমাজ। তাদের স্বপ্ন বারবার প্রতারিত হয়েছে এদেশের শাসকশ্রেণীর জন্য।শীত সংকটকে ঘিরেও প্রতারণার নানা পথ উন্মুক্ত। একদিকে শীতকে প্রাকৃতিক দৈব-দুর্বিপাক বলে এদেশের শাসকশ্রেণী শোষণমূলক সমাজব্যবস্থাকে আড়াল করে; অন্যদিকে ত্রাণ সহায়তা, মানবসেবার আফিম দিয়ে শাসকশ্রেণীর পত্রিকাগোষ্ঠী, এন.জি.ও. গুলো সমাজের প্রগতিশীল অংশকে বুঁদ করে তাদেরকে দিয়েই সমাজের দুষ্টক্ষতে কিছু প্রলেপ লাগানোর চেষ্টা করে। এগুলো যে শীত সংকট থেকে মুক্তির কোন পথ নয়, বরং তা যে প্রতারণার নিত্য নতুন উদ্ভাবিত অপকৌশল-এটা অনুধাবন করা আমাদের জন্য এই সময়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাবী।আমরা বলতে চাই প্রকৃত সত্যটাকে। সমাধান চাই প্রকৃত সংকটের। চাই, উৎপাদনশীল জনগণের মূলস্রোতের সাথে অনুৎপাদনশীল বুদ্ধিজীবীদের সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটাতে। চাই, কৃষক-শ্রমিক- মেহনতি মানুষের মূলস্রোতের রাজনৈতিক শক্তির জাগরণ। সেই স্বপ্ন-আকাঙ্খাকে ঘিরেই আবর্তিত আমাদের শীতার্ত সহযোগিতা ও প্রচার কার্যক্রম।
লক্ষ্য:
শীতার্ত মানুষ, জাতি ও জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে; দায়ী, শোষণমূলক সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচার করা ও ছাত্র-তরুণদের সংগঠিত করা। একইসাথে আশু সংকটে জরুরী ত্রাণ সহায়তা করা।
উদ্দেশ্য:
১. শীত সংকটের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ছাত্র, তরুন ও বুদ্ধিজীবীদের মাঝে মত গঠন।
২. দেশব্যাপী ছাত্র-তরুণদেরকে সংগঠিত করা।
৩. সমমনা ব্যক্তি ও বন্ধু সংগঠনসমূহের সাথে সম্পর্কোন্নয়ন।
৪. শীতার্ত শ্রমজীবী মানুষদের জন্য একটি সুসংগঠিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
৫. অবক্ষয় ও প্রতিক্রিয়াশীলতার বিরুদ্ধে স্রোতের বিপরীতের ছাত্র-তরুণদেরকে সমাজের মূল স্রোতের (কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ) প্রতি দায়বদ্ধ করে তোলা।
কার্যক্রম:
দুটি ভাগে বিভক্ত করে এবছরের শীতার্ত সহযোগিতা ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
* প্রচার ও মত গঠন
* সহযোগিতা সংগ্রহ ও বিতরণ
সহযোগিতা সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমকে কাজের সুবিধার জন্য বিভক্ত করা হয় চারটি পর্বে।
প্রথম পর্ব: প্রচারণা ও স্বেচ্ছাশ্রমিক সংগ্রহ
দ্বিতীয় পর্ব: অর্থ ও বস্ত্র সংগ্রহ
তৃতীয় পর্ব: বস্ত্র বিতরণ
চতুর্থ পর্ব: শ্বেতপত্র প্রকাশ
সকল ব্লগারবৃন্দের প্রতি আবেদন-
স্বেচ্ছাশ্রমিক হোন, জনগণের দুর্দশা লাঘবে কাজ করতে আগ্রহী আপনার পরিচিতদের স্বেচ্ছাশ্রমিক হতে প্রেরণা ও আমাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিন, সকল সেবামূলক সংগঠনকেও এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন-
০১৯১৩৩০৫২১৪, ০১৯১৬৩৩৩৭৯৬
বিস্তারিত শীঘ্রই জানতে পারবেন প্রপদ এর ওয়ার্ডপ্র্রেস ব্লগ এ।
ফেসবুক এ যোগ দিন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




