ল্যাপটপ খুলে গুগলে সার্চ করা শুরু করলাম। মুহূর্তেই জানতে পারলাম কি হচ্ছে, তখন পন্ত আমেরিকা র নিউইয়র্ক, নিউজার্সি , আর কিছু জায়গায় হীট ওয়েভের কারণে হীট এলার্ট জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেটের আবহাওয়া পাতায় একের পর এক আপডেট আসছে। সেখানে জনগণের করণীয় এবং সরকারের নেয়া স্টেপগুলা সবাইকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেখান থেকে জানতে পারলাম আজ কুলিং সেন্টারগুলা অনেক ক্ষণ পন্ত খুলা রাখা হবে, আর সুইমিংপুলগুলাও বিকাল ৮ টা পন্ত খোলা থাকবে । এখানে ৯ টায় সন্ধ্যা হয় কিনা !
এক্টূ আগে শেষ আপডেট পাওয়া পন্ত রবিবার পর্যন্ত তাপদাহ চলবে। এরপর কমার সম্ভাবনা আছে। বিভিন্ন সূত্র অলরেডি অনেকে মারা গেছে আর হীট স্ট্রোক, এক্স হসশন এ অনেকে আক্রান্ত। আরো নানা রকম খোঁজ আস্তেছে। একি সাথে আমেরিকার একটা জায়গায় তাপমাত্রা অসম্ভব কমে গেছে।
আমরা যারা আমেরিকায় পড়ালেখা করতেছি, স্বাভাবিক ভাবে ই তারা প্রায় ই ছাদের উপর ঘরে বা বেজমেন্টে বাসা নেই। যে কারণে এখানে গরমে আর ঠান্ডায় আমরা অনেকেই প্রচুর কষ্ট পাই। বাংলাদেশ থেকে আমার মা আর আমার স্ত্রীর পরামর্শ মত তোয়ালে ভিজিয়ে, ঘরে পানি ছিটিয়ে আপাতত আছি। এখন তাপমাত্রা একটু কমে আসলে ও আগামীকাল আবার বাড়বে। তাই আতংকে আছি।
যাই হোক বাংলাদেশি ভাই বোন্দের প্রতি,
গত কয়েকবছর ধরে আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশে একটু অস্বাভাবিক ঠান্ডা আর অস্বাভাবিক গরম পড়া শুরু হয়েছে। এটা বাড়তে বাড়তে যে কই যাবে সে সম্পর্কে ধারণা নেই। সরকার হয়ত ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু আপনাদের উদ্দেশ্যে আমার কিছু পরামর্শ ঃ
অনেক সময় যখন তাপদাহ চলে, তখন আমাদের বডির ডিফেন্স মেকানিজম অনুযায়ী আমাদের প্রছুর ঘাম হয়, এর মাধ্যমে কিছু তাপমাত্রা বেরিয়ে যায়, যদি না যায় তাহলে তার হীট স্ট্রোক বা হীট এক্স হসশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি হয়ে যায় তাকে যথা সম্ভব গায়ে পানি দিয়ে হাস্পাতালে নিয়ে যান। বাকিটা ডাক্তার রা দেখবেন।
আর এটা প্রতিরোধ করার জন্য ঃ
১) দৈহিক পরিশ্রমের কাজ থেকে বিরত থাকবেন।
২) হাল্কা , লুজ জামা কাপড় পড়বেন।
৩) গায়ে ঠান্ডা পানি দিবেন ( কিন্তু বরফ শীতল না, তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।)।
৪) ঠান্ডা পানি , বা জুস খান।
৫) খালি ঠান্ডা পানি যে কোন গরমে খেয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। অতিরিক্ত পানি খাবেন না। মাঝে মাঝে স্যলাইন খাবেন। কেননা অতিরিক্ত পানি খেলে পানি র তুলনায় সোডিয়াম কমে যাবে এবং আপনার খিচুনি শুরু হবে। সেটা দূর করা কিন্তু আরেক ঝামেলা।
৬) পরিবেশ ঠান্ডা রাখার জন্য আশে পাশে ঠান্ডা পানি ছিটাতে পারেন।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়ত কিছু মানুষের কাছে আমার কথা পৌঁছাবে, কিন্তু যদি পারেন রিক্সাওয়ালাদের এই জিনিস গুলা একটু বুঝাবেন। আমি নিজে অনেক রিক্সাওয়ালাকে গরমে খালি পানি খেতে মানা করছি।
অবশেষে আমাদের দেশে সেই সরকারের অপেক্ষায় থাকলাম, যারা পরবর্তী নির্বাচনের অপেক্ষায় না থেকে এই সময়ে কি কাজ করা যায় কিভাবে অসংখ্য গরীব গৃহহীন মানুষ কে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম থেকে বাচানো যায় সে ব্যাপারে চিন্তা করবেন। আমাদের দেশে ও অলরেডি অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা শুরু হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এজন্য ই কিন্তু বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে আমাদের অনেক দেশ অনেক টাকা দেয়ার কথা বলছে। আসুন আমরা, আমাদের নিজ নিজ দলের নেতা নেত্রীদের গুনগান কম গেয়ে তাদের দোষ ধরি । ছাত্রলীগ হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রদল হিসেবে বিএনপি র ভুল ধরি । আমাদের নেতাদের কে বাধ্য করি একটা সিস্টেম দাঁড় করাতে । যদি আমরা কোন উদ্যোগ না নেই, তাহলে নেতাদের তো চেনাই হয়ে গেছে।আশংকা করি আর কয়েক বছর পর হয়ত কোন ব্যবস্থা না নিলে গরমে এবং ঠান্ডায় অসংখ্য মানুষ মারা যাওয়ার খবর আসতে থাকবে শহর থেকে গ্রাম থেকে। তখন কোন দল দেখে মানুষ মারা যাবে না। এ প্রসঙ্গে আরেকটা কথা না বললেই না, আমাদের দেশে যে বর্তমানে এত জ্যাম, এত বিদ্যুত সমস্যা, এটা তো এখন দেখার কথা না। এটা তো সেই ১৯৯০ সালেই ভাবা উচিত ছিল। আমাদের এই নেতারাই তো তখন থেকেই পর্যায়ক্রমে দেশ শাসন করে আসছেন। যাই হোক সরকার কি করবে জানি না, আসুন আমরা নিজেরাই চেষ্টা করে দেখি কতটুক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারি । হিসেব অনুযায়ী এমনি তেই টিপাইমুখ বাঁধ হলে সিলেট এবং এর আশেপাশে আরো খরা দেখা দিবে। আল্লাহ যেন আমাদের সহায় হোন।
২য় সংস্করণ ঃ কিছু ভাই এর কমেন্টের কারণে এ অংশটুকু আবার যোগ করলাম। দেখুন , আমরা হয়ত ভাবতে পারি, এটা আমেরিকার সমস্যা আমাদের না। অনেকাংশে কথাটা ঠিক। তবে আমাদের দেশে যখন গ্রীস্মের দাবদাহ চলে, তখন সেই গরমেই আক্রান্ত হতে পারে আমাদের দেশের শিশু, বৃদ্ধ এবং বৃদ্ধা এবং কৃষক, শ্রমিক। শিশু আর বয়স্ক দের আক্রান্ত হোয়ার কারণ হল যা তাদের ডিফেন্স যৌবনকালের মত শক্তিশালী থাকে না। তাই যে গরমে মধ্যবয়স্করা আক্রান্ত হবে না, তাতেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। আর আমাদের দেশে যেভাবে গরম বাড়তেছে, লোডশেডিং, গাছপালার অভাব, তাতে সেই পরিবেশে শ্রমিক এবং কৃষক যারা কায়িক পরিশ্রম করেন তাদের এই গরমেই এই হাইপারথারমিয়া বা হীট এক্স হসশন এ আক্রান্ত হওয়ার অনেক সম্ভাবনা আছে। এছাড়া যে কোন বয়সের মানুষ , যার ঘাম ঠিকমত হয় না, সেও সহজেই তাপমাত্রা একটু বাড়লেই আক্রান্ত হতে পারেন। সামান্য কিছু ব্যবস্থা নিলেই একদম ভাল হয়ে যাবেন। কিন্তু যদি না নেন কেউ, তাহলে হয়ত কারো কারো অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যাবে। মা এরা বা বাবা রা তাদের শিশু সন্তান কে শুধুমাত্র পানি খাওয়ানোর ব্যাপারে সাবধান। শুধু পানি না খাইয়ে ওই সময় পানি র সাথে স্যালাইন খাওয়ালে ভাল।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১১ দুপুর ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




