তাহলে আমি ইনশাআল্লাহ এগুলা করতাম ঃ
সাল ঃ ২০১২ঃ
১) প্রথমত বাংলাদেশে গণতন্ত্র স্থগিত করতাম। কিছুদিনের জন্য।
২) ছাত্র রাজনীতি নামের সন্ত্রাসনীতি বন্ধ করে দিতাম।
৩) শিক্ষক এবং ডাক্তারদের পলিটিক্স নিষিদ্ধ করে দিতাম।
৪) ৩ টা সেক্টর ঃ অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সামরিক ক্ষেত্র কে অগ্রাধিকার দিতাম।
৪)এরপরে থাকত ঃ শিক্ষা , চিকিতসা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সত্যিকার জিহাদ।
৫) হাই স্পীড ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করে, এবং মোবাইল এর মাধ্যমে যাতে বিদ্যুত বিল, গ্যাস বিল, ফোন বিল, পানির বিল, ইঙ্কাম ট্যাক্স দেয়া যায় তা নিশ্চিত করতাম।
৬) ঘরে বসে যাতে অনেক কিছু ইন্টারনেট এ কিনে ফেলা যায় তার ব্যবস্থা করতাম।
৭) যেসমস্ত কোম্পানির গাড়ি, লঞ্চ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হবে বছরে ২বারের বেশি, তাদের লাইসেন্স স্থগিত করা ।
৮) যেসমস্ত রাস্তা ঘাটে দুর্ঘটনা বেশি হয় সেসব ক্ষেত্রে রাস্তা চওড়া করে রাস্তার পাশে ব্যারিকেড, এবং দুর্ঘটনা কবলিত জায়গায় যাতে আধাঘন্টার মাঝে পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড এবং মেডিকেল টিম পৌঁছাতে পারে, তার ব্যবস্থা করা ।
২০১৩ ঃ
প্রাথমিক স্ট্যাবিলাইজেশনের পর পর ঃ
১) পুরা বাংলাদেশ জুড়ে আন্ডার গ্রাউন্ড বা কখনো মাটির উপর দিয়ে চলাচলকারী রেল ব্যবস্থা র কাজ শুরু করতাম। ঢাকা, চট্টগ্রাম কে অগ্রাধিকার দিতাম। ২০২৩ সাল নাগাদ অন্তত বড় বড় শহরগুলার কাজ শেষ করার টার্গেট থাকত।
২) শুকনা মৌসুমে সারা দেশের ড্রেইনেজ সিস্টেম উন্নত করার টার্গেট নিতাম যাতে ২ বছরের মধ্যে টানা বৃষ্টির পরেও কোথাও পানি জমে না থাকে।
৩) জ্বালানী ছাড়া কিছুই সম্ভব না। সে ক্ষেত্রে জনসংখ্যা কম এমন ৩ জায়গায় পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান শুরু করতাম। একি সাথে পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রক্ষণা বেক্ষন করার কাজে আমরা নিজেদের ইঞ্জিনিয়ারদের , জনসংখ্যা কে কাজে লাগাতাম।
৪) বিকল্প জ্বালানীর র জন্য কিছু জেলায় পাম ট্রি লাগাতাম পরীক্ষামূলক ভাবে।
৫) ভূমিকম্প হলে কি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, এবং বিপর্যয় অবস্থা থেকে মানুষ কে কত তাড়া তাড়ি রক্ষা করা যায় সে ব্যাপারে ২০১৩ সাল থেকেই কাজ শুরু।
৬) কক্সবাজার, সুন্দরবন, কুয়াকাটা, নিঝুমদ্বীপ, সেন্টমার্টিন, নীলগিরি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ,পদ্মা রিসোর্ট আর যেসব জায়গা আছে টুরিস্টদের আকৃষ্ট করার মত, সেসব জায়গা কে পরিকল্পিত ভাবে সাজানোর কাজ শুরু করতাম।
৭) যেসব জায়গায় বন্যা হয় সেসব জায়গায় দীর্ঘমেয়াদী কি ব্যবস্থা নেয়া যাত তা চিন্তা করতাম।
সাল ২০১৪ ঃ
১) ২০১৮ সালের মাঝে আমরা শক্তিশালী ফুটবল দলে রুপান্তরিত হওয়ার জন্য বাফুফে কে স্বাধীন করে শক্তিশালী করে ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই করার চেষ্টার কাজ শুরু । এজন্য ব্যাপক ভাবে ফুটবল প্রতিভা অন্বেষন, এশিয়া মানের ক্লাব তৈরি র জন্য বিদেশিদের বিনিয়োগ উতসাহিত করতাম। ফুটবল মাঠ, কোচ, সম্পূর্ণ পেশাদার লীগ, ক্লাবগুলার বয়সভিত্তিক দলগঠন কে উতসাহিত করে পাতানো খেলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতাম।
২) ক্রিকেট, অলিম্পিক , সাঁতার, খেলাধুলাতে মেধাবী খেলোয়াড়দের বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতাম।
৩) হাস্পাতাল গুলোতে সিন্ডিকেট কে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করে, চিকিতসার মান বাড়াতাম, চিকিতসকদের বেতন আকর্ষনীয় করে, সমস্ত সরকারী হাসপাতালে ইনভেস্টিগেশনের মান বাড়ানোর পাশাপাশি, অত্যাধুনিক হাসপাতাল বানানোর কাজ শুরু। সারা দেশে বিশ্বমানের অন্তত ৫ টা হাস্পাতাল তৈরি, যা ৫ তারকা হোটেল হাস্পাতালের মত সবার টাকা শুষে নিবে না, বরং সেবার মানের কারণে অন্যান্য দেশের নাগরিক দের ও আকৃষ্ট করবে।
৪) আয় বাড়ানো ছাড়া কিছুই হবে না। কাজেই ট্যাক্সের পরিমান কমিয়ে দিতাম, কিন্তু সবার থেকে ট্যাক্স তোলা নিশ্চিত করতাম।
৫) সমস্ত শহরগুলোকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে আচ্ছাদিত করে যেকোন জায়গায় পুলিশবাহিনীর পৌঁছানো যাতে ১০ -১৫ মিনিটের মাঝে সম্পন্ন হয় তার ব্যবস্থা করতাম।
.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।.।
২০৩২ সাল ঃ
একনায়কতন্ত্র চালু র জন্য হয়ত আমার ফাঁসি হবে, কিন্তু আমি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, তা অবশ্য ই সম্ভব করে দিতামঃ
১) বাংলাদেশে এখন আর খুন, ধর্ষণ হয় না।
২) বাংলাদেশের বিদ্যুত সমস্যা আর নেই।
৩) উচ্চগতির ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ ব্যবহারের দেশ বাংলাদেশ।
৪) বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী এশিয়ার মাঝে একটা শক্তিশালী দেশ।
৫) সমুদ্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অন্যতম শক্তিশালী।
৬) বাংলাদেশে কোন যানজট নেই। মানুষ কুমিল্লা, ময়মনসিংহ থেকে এসে কাজ করে আবার ঐদিন ফিরে যাচ্ছে।
৭) বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল গুলা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত পরিচিত। এবং অনেক গুরূত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট, যেমন বিশ্বকাপ ক্রিকেট, কোপা আমেরিকা , অলিম্পিক এর স্বত্ব এখন বাংলাদেশ পায়।
৮) বাংলাদেশে সবাই আসতে চায়। কেননা , পর্যটনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ শ্রেষ্ঠ, এখান কার মানুষের আতিথেয়তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ভাড়ার কঠোর প্রয়োগ, যানজটবিহীন রাস্তা, বা দ্রুত গতির ট্রেন সবকিছুই বিদেশি এবং দেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
৯) সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশিদের সম্মানের চোখে দেখা হয়। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আলাদা সম্মান এর চোখে দেখা হয়।
শেষ কথা ঃ যদি পরিকল্পনা মত টার্গেট সামনে রেখে কাজ করা যায় তাহলে সব ই সম্ভব। কিন্তু যদি, শুধুমাত্র ৫ বছর পর পর নাম পরিবর্তন এবং দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়াতেই সমস্ত শক্তি ব্যয় হয়, তাহলে খালি পিছাতেই থাকব। উপরে যা বললাম, তা হয়ত আমি করব না।
কিন্তু সবসময় স্বপ্ন দেখি এমন একজন দেশপ্রেমিক নতুন রাষ্ট্রনায়ক আসবে, যে বাংলাদেশ কে বিশ্বের চোখে সত্যিকার উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরবে।
আমার নিজের ই এখন মনে হচ্ছে অর্থহীন কিছু জিনিস লিখলাম। যারা ধৈর্য নিয়ে এটা পড়বেন, তাদের কে ধন্যবাদ। একজন কল্পনাপ্রবণ মানুষের আকাশকুসুম কল্পনা মনে করলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেয।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

