"মাসজিদ মে যাঁআআকে নামায পাড়ো,
হোটেল মে যাঁআআকে শারাব পিও।
-এই ধরণের মুসলিম এ দেশ ভরে গেছে ।"
ধড়মড় করে ঘু্ম ভেঙ্গে গেল, কে এই মাসে উর্দুতে মাইকে গান দিছে ??? আধো ঘুম আধো জাগরণ অবস্থায় শুনতে থাকলাম। এবার যখন শুনি ,
" বাংলা-----------দেশ জন্ম হইছেএ এ এ এ ১০০ বছর ও হয় নাই, কিন্তু সংবিধান কতবার বদলাইছে, কিন্তু আল্লাহর সংবিধান একবার ও ও ও বদলায় নাই, বলু উ উ উ ন আলহামদুলিল্লাহ ।"
বুঝলাম, আজ রাত হল ওয়াজ রাত। ওয়াজ শুনতে চাই কি না চাই, সেটা ব্যাপার না, আমি শুনতে বাধ্য। এক রাত ওয়াজ, পরের রাত এ অনেক দূরের থেকে আসা যাত্রা র শব্দ, অন্য রাতে পরের দিনের জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আগের রাত থেকে বিকট শব্দে চলা খুব বাজে রেকর্ডের গান, এবং যে রাতে মনে করি এসব কিছু ই নাই, সে রাতেই শুরু হয় পাশের বিয়ে বাড়ি থেকে আসা হিন্দী গানের অত্যাচার, হলুদ বলে কথা ! দাওয়াত দিতে না পারলেও গায়ে হলুদের গান দবাইকেই শুনাব ই শুনাব, এবং তা রাত ৩ টা পর্যন্ত !
গণতান্ত্রিক দেশ এবং স্বাধীন দেশ, কেউ কাউকে কিছু ই মানা করে না। সুতরাং আজ রাত হল ওয়াজ রাত। এখন যা বলছে , তা হলঃ
" ল্যাংটা আ আ আ থাকাই ই ই আজ সমাজের নিয়য়য়ম আর ল্যাংটা আ আ না থাকাই অপরাধ !
ভাই সব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখন অদ্ভুত পোশাক পড়তে উতসাহিত করা হয় য় য় য় আররর বোরকা দেখলেই তারা গালমন্দ করে এ এ এ।"
আবার শুনতে পাই,
কাফিরদের অপরাধ এবং ভুল, এবং ভাবতে থাকি, আমাদের তিন তলার হিন্দু পরিবারের বা পাশের খ্রিস্টান পরিবার গুলার সদস্যদের মনের অবস্থা কেমন !
চলছে ওয়াজ, মানুষকে ভাল কাজ করার কোন উপদেশ তো শুনতে পাই না। উর্দু গান, হুজুরের সুরালো বাক্য, মাঝে মাঝে সম্মিলিত কিছু অস্পষ্ট চিৎকার। শব্দ দূষণ বলে একটা কথা আছে, তা বোধ করি খালি গাড়ির জোরাল হর্ণ নিষেধ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ !
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



