somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শূন্য.

০৬ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক.

কপাল মুছে দিতে দিতে মা বলল, যদি ধইরা নিয়া যাইত?
মুহূর্তে কঠোর হয়ে ওঠে আফজালের ষোল বছর বয়েসি এখনো সেজে না ওঠা চেহারাটা, নিলে নিত।

-হায়রে আমার মরণ! নিলে তুই বাঁইচা ফিরতি?
-না ফিরলে নাই।
-আমার আর আছে কে রে বাবা? তুই কেন্ গেলি? কে লইয়া গেল তোরে?
-অগো কত্তবড় সাহস! নবীজীরে নিয়া কাঠুন করে।
-কারা করসে কাঠুন?
-অইযে, ঢাকার বলগারগুলা। শাহাবাগে নবীজীর কাঠুন দিয়া ফাঁসি দিসে। অরা ইন্টারনেটে ফেসবুক করে। আমিও দেখছি। হাজার হাজার কাঠুন করসে নবীজীরে নিয়া।

দুই.

-হুযুরের বাসা দি তুঁয়ার কি দরকার?
-আঁই যাইমদেরি।
-ইন কোনো খতা না অর। পুয়া, এইক্কায়। ন যাইস, এইক্কায়।
মাত্র পুরুষ্টু হতে থাকা শরীরটা নিয়ে জোর ছুট দিল রিদওয়ান। তীব্র চিৎকার করতে করতে পিছনে ছুটে এল কিছু মানুষ। জাপটে ধরল তাকে। রিদওয়ান কাঁপছে। কাঁপছে ওর সাড়ে চোদ্দ বছর বয়েসি লকলকে শরীরটা। ও সব বাদ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে রাখল পাঞ্জাবীর পকেটে।

ওকে এই পকেটটা আগলে রাখতে হবে। কেউ যেন নিতে না পারে এই পকেটে রাখা তালিকা। তাহলে আরো দশজন সাথীভাই ধরা পড়ে যাবে। সাঈদী সাহেবকে যারা ভুল তাফসিরকারক বলে, সেইসব ভন্ড আলেমদের শাস্তি দেয়া আর হবে না।

সব বাদ দিয়ে রিদওয়ান তীব্রমুষ্ঠিতে চেপে ধরে রাখে শুধু তালিকাটা।

তিন.

For Allah (SWT) I am, was and will be there.
শেষ টুইট করেই নির্ঝর লম্বা করে দম নিল। আজকাল চোখ বন্ধ করলেই একটা ১২৮০X৭৬০ ওয়ালপেপার ওর চোখজুড়ে ভেসে ওঠে। মিশকালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সোনালি ক্যালিগ্রাফিতে কালিমা আঁটা। একপাশে উড়ছে পতাকা। আর বড় বড় করে লেখা, খিলাফাত আলা মিনহাজুন নুবুয়্যাহ্ ।

আইপি হাইড সফটওয়্যার দিয়ে লগইন করল ফেসবুকে। ইনবক্স এসেছে। ইটস আ গো। ওরা হয়ত গণতন্ত্র করে, কুফরি। কিন্তু নির্দেশ এসেছে, একসাথে কাজ করতে হবে। আজকে গণতন্ত্রই ওদের ধ্বসিয়ে দিল। হায় গণতন্ত্র!

ওর ভাল লাগে না কুফরি মতবাদে বিশ্বাসীদের সাথে একত্রে কাজ করতে। কিন্তু উপায় নেই। আজ সব মুসলিমকে এক করে নিয়ে নামতে হবে।

তারপর নেমে গেল ও, ব্যাকপ্যাকে ভোঁতামতন কয়েকটা ধাতব অস্ত্র নিয়ে।

চার.



সৌদি আরবে সাত যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

« আগের সংবাদ পরের সংবাদ»

সৌদি আরবে গতকাল মঙ্গলবার সাত যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে দণ্ড বাতিলের আহ্বান জানানোর পর মৃত্যুদণ্ড গতকাল কার্যকর করা হয়নি। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকদের স্বজনেরা গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০০৬ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় আছির প্রদেশে ওই যুবকেরা একটি অলংকারের দোকানে সশস্ত্র ডাকাতি করে ধরা পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আরবের ইসলামি শরিয়া আইন অনুযায়ী এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ২০০৯ সালে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় তাঁরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন বলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড এত দিন কার্যকর করা হয়নি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাদশাহ আবদুল্লাহ তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি অনুমোদন করেন।
মানবাধিকার সংস্থা দুটি আলাদা দুটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই সাতজনের বিচার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়নি। তাঁদের আটক করে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়েছে। বেধড়ক মারপিট করে, দিনের পর দিন খেতে না দিয়ে, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। সংস্থা দুটির অভিযোগ, এ ধরনের নির্যাতন করে তাঁদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। এ ব্যাপারে তাঁদের কাছে যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ আছে বলেও দাবি করেছে সংস্থা দুটি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এইচআরডব্লিউর উপব্যবস্থাপক এরিক গোল্ডস্টেইন বলেন, ওই যুবকদের শাস্তি কার্যকর করা হলে সৌদি আরব চরম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দেবে। অপরদিকে অ্যামিনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ওই সাতজনকে নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবে চলতি বছরে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এএফপি

শূন্য.

মনে বাবলা পাতার কষ লেগেছে ... বাংলার একটি মরমি লোকগানে শুদ্ধতার জন্য আর্তনাদ


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৪১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আওয়ামী লীগের ফেরার জন্য কোনও পরাশক্তি নয় /।বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আর ইতিহাসের পাতাই যথেষ্ট॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৫ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৩৬



মাহফুজ, তুমি বাংলাদেশের তরুণদের কাছে একজন বেঈমান। যে যে কারণে আওয়ামী লীগ ব‍্যাক করেছে বলছো প্রায় সবগুলান কারনই সত‍্য। তবে সবচাইতে বড় কারণটা মিস করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলার সংগ্রামের ২০০ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও তুলনা।

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০৫ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রথম ১০০ বছর ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রাম মূলত বাংলাতেই হয়েছে। ১৮৩১ সালে তিতুমীরের 'বাঁশের কেল্লা' কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সকল মানুষই খোদার প্রতিনিধি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০

আল্লাহ মানুষকে প্রতিনিধি বানিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। প্রতিটি মানুষই যদি আল্লাহর 'প্রতিনিধি' হয়ে থাকে, তাহলে কাদের কাছে এই প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে? এই পৃথিবীতে প্রথম দুইজন প্রতিনিধি ছিলেন - হযরত আদম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব মাছে গু খায় দোষ হয় ঘাউড়্যা মাছের

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯


হাসনাত আবদুল্লাহ। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন। জেনারেশন জেড আর আলফার চোখে তিনি একজন সুপারহিরো। মার্ভেলের ছবিতে যেমন একজন সাধারণ মানুষ হঠাৎ পোশাক পরে আকাশে উড়তে থাকে, হাসনাতও যেন সেরকমই—ধুলোমাখা বাস্তবতার মাঝে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৬

ফারাজা, প্রিয় কন্যা আমার-
আজকে বাংলা ২০শে 'জ্যৈষ্ঠ' ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। আজকের দিনটি হলো বুধবার। 'জ্যৈষ্ঠ' মাসের আরেক নাম হলো মধুমাস। এই মাসে আম, জাম লিচু, কাঠাল পাওয়া যায়। ফাজ্জা আম,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×