ওয়ান ইলেভেনের আগে এক মহাপন্ডিত দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য , যোগ্য প্রার্থী আন্দোলন চাই- নামক এক উদ্ভট তত্ত্ব মার্কেটে এনেছিলেন, এবং সেটা নিয়ে গোটা বঙ্গীয় সুশীল সমাজ - তামাম দেশ জুড়ে তবলিগ শুরু করে দিয়েছিল। এই মহাপন্ডিতেরা সব বুঝেছিলেন কেবল এটা বোঝেন নাই যে, ভোটার নিজে যদি যোগ্য ( মানে সচেনতন, শিক্ষিত ) না হন, তাহলে তাদের তথাকথিত যোগ্য প্রার্থীর হোগার পেছনে এক দেবপ্রিয় বাবু ছাড়া আর কেউই থাকবেন না। বলাবাহুল্য, এই আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়েছে, ড. ইউনূসের মতো হেভিওয়েট প্রার্থী রাজনীতিতে নামার ঘোষনা দিয়ে শেষমেষ রাজপথে লুঙ্গি ফেলে দিয়ে আবার গিয়ে ব্যাংকের ক্যাশ বাক্স নিয়ে বসেছেন। পাবলিক তারে বোঝে নাই।
এস খালেকের কাছে ড. কামাল হেরে যান, কেননা ড. কামালে একটা ডিসপেনসারিও দেশে নাই।
কাজেই আন্দোলনটা হওয়া উচিত চিল, যোগ্য ভোটার চাই- আন্দোলন। উদ্যোগ ভালো ছিল, কিন্তু কনডোমটা সোনার মাথায় না লাগিয়ে বুড়ো আঙ্গুলে লাগালে, আসল উদ্দেশ্য লাট খেয়ে যাবে এমনভাবেই।
( যাক, সাম্প্রতিক সময়ের একমাত্র ভাল খবর হচ্ছে, ড. দেবপ্রিয় বাবু দেশে নাই। এমরকম আরও কিছু মাল চিহ্নিত করে বিদেশে পাঠাতে পারলে দেশের সংকট অনেকখানি ফিকে হতো বলে আমার ধারণা। )
এইরকম আরেকটি হুজুগ সম্প্রতি আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। হুজুর আর হুজুগের দেশ - বাংলাদেশে এই তত্ত্বটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেটি হচ্ছে, দুই নেত্রীকে এক টেবিলে আলোচনায় বসাতে হবে।
দুই নেত্রীর একসঙ্গে হাটা, চলা, বসা , শোয়া একটাও দেশের জন্য ভাল খবর না, হতে পারেনা।
খালেদার দল চুরি করলে, হাসিনার দল হাউকাউ করে- তাতে আর যাই ক্ষতি হোক না কেন আমরা জানতে পারি চুরি একটা হচ্ছে। আবার হাসিনার দল চুরি করলে- খালেদার দল হাহাকার করে- এটাও ভাল। আমরা আমজনতা তখন ঠিক ঠিক জানি, চুরি কেবল একা খালেদারা করে না, হাসিনারাও করে।
এখন তারা দুইজন যদি মিলে যায়- তাহলে সেটার ফলাফল হবে সুদুরপ্রসারী। একজন চুরি করলে আরকেজন চুপ করে থাকবে। একজন গোপনে অঁাতাত করলে আরেকদল সেটা গোপনই রাখবে।
দুই সাধুর প্রেম আমরা চাই, দুই চোরের প্রেম বড়ো ভয়াবহ জিনিস।
দয়া করে, দুই নেত্রীর এক টেবিলে বসলে. .. তাইলেই দেশ শান্তির সাদা কবুতরে ছেয়ে যাবে- এইসব বিভ্রান্তি থেকে নিজে দূরে থাকুন, অন্যকে দূরে রাখুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


