সে অনেক বছর আগেকার কথা।
আমি তখন স্কুলে পড়ি, সামনে ম্যাট্রিক পরীক্ষা। সেই সময় কঠিন একটা প্রেমে পড়ে গেলাম। যে মেয়েটার প্রেমে পড়লাম, সেই মেয়েটা ক্লাস ফাইভে পড়ে, মেয়েটার নাম মলি। যাই হোক, খুবই অল্পদিনের প্রেম জমে ক্ষীর হয়ে গেল। ঠিক ম্যাট্রিক পরীক্ষার আগের দিন, যা হয় আর কি ...
গভীর শোক ও বেদনা নিয়ে পরীক্ষা দিলাম। অল্পের জন্য ফেল করলাম না। ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় আমার স্থান ছিল ২৬ তম। ৬ নাম্বারের জন্য প্রথম ২০- এ আসতে পারিনি।
পাটি গণিত পরীক্ষার দিন- পরসিংখ্যানের অংকের সমাধান করার সময় ঐ মেয়েটার কথা মনে পড়ে যায়, ফলশ্রুতি অংকটি ভুল হয়। ঐ অংকের মান ছিল-৬।
তবু আমার শিক্ষা হল না, পরীক্ষার পর আদাজল খেয়ে প্রেম পুনরুদ্ধারে নেমে পড়লাম।
ইতিমধ্যে মেয়েটি ক্লাস ফাইফ থেকে সিক্সে উঠেছে। বলাবাহুল্য, ঐ ম্যাচিরিটি যাকে বলে, সেটা বেড়েছে। ফলে প্রেম আরও দূরে চলে গেল।
মেয়েটাকে মুগ্ধ করার জন্য লিখলাম, একটা উপন্যাস। নাম একদিন জলসিড়ি।
বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধার করে বইটি প্রকাশও করা হল। প্রচ্ছদ শিল্পী বেসিক কোচিং সেন্টারের আরিফ ভাই। একটু হাই থটের ছবি, তবে প্রেসের লোকেরা প্রচ্ছদের মর্মার্থ বুঝতে ব্যর্থ হলেন। তারা প্রচ্ছদটা উল্টা করে প্লেট করে ফেললেন। নানা কাহিনী।
ঐ উপন্যাসের নায়কের নাম রবি এবং নায়িকার নাম মলি। বাস্তব-অবাস্তব মিলিয়ে গভীর প্রেমের ঘন উপন্যাস। তবে এই বই প্রকাশ করে কোন লাভ হলো, বরং মেয়েটাকে দেখা গেল রবি নামের আরেকটি জুনিয়ার ছেলের সাথে ঘোরাঘুরি করতে। মিস ফায়ার যাকে বলে।
বইমেলাতেও বইটি চলল না। কারণ ঐ বইমেলায় এসেছে হুমায়ূন আহমেদের কবি উপন্যাসটি। কবির কাছে রবি হেরে গেল।
উপন্যাসটি বই প্রকাশ করায় আমার নিট লাভ হল এই, আমার বাবা ভীষণ ক্ষেপে গেলেন। কারণ এই অশ্লীল বইটি তাকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। তাছাড়া আমার গোপন প্রেম কাহিনী বাজারে চলে আসায় খালাতো, ফুপাতো এবং চাচাতো বোনেরা দূরে চলে গেল।
এরপর আমি যখন পুরো দস্তর সাংবাদিক, তখন আবারও বই প্রকাশে নেশা পেয়ে বসলো। প্রকাশক আমার কথা শুনে রাজি হলে, কিন্তু আমার চেহারা দেখে বিশেষ ভরসা পেলেন না। আমার চেহারা নাকি লেখকদের মতো না।
অবশেষে ঐ প্রকাশকই বই বের করতে রাজি হলেন। ছোট গল্পের বই। একটা পুরো বই হতে দরকার, বেশ কয়েকটি গল্প। কিন্তু আমার গল্প আছে মাত্র চারটি। এটি দিয়ে তো বই হয় না।
অবশেষে আরও দুইজন লেখক জোগাড় করা হল । মানুষ সমবায় পদ্ধতিতে হাল চাষ করে, আমি বের করলাম বই। ধ্রুব এষ প্রচ্ছদ করে দিলেন। তিন তরুণের গল্প। ভাবলাম, তিন মিলে বই লিখেছি, নিশ্চয়ই বিক্রি ভাল হবে।
গোটা বই মেলায় বই বিক্রি হল চারটা। চারকে তিন দিয়ে ভাগ দেই আর বসে বসে ভাবি...এটা কি করে সম্ভব।
পরের বছর একই কান্ড। ঐ তিনজন মিলেই। নাম ত্রয়ী। এবার সর্বমোট বই বিক্রি হল, দুইটা। এর কারণ হচ্ছে, আমাদের একজন সহ লেখক প্রকাশকের সাথে সিস্টেম করে কিছু সৌজন্য কপি পেয়েছিল, সে আর বই কেনেনি।
অতএব সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, এবারের বইমেলায় আমার কোন বই প্রকাশিত হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


