সমুদ্রে কয়ফোটা পানি আছে, সেটি হয়তো পরিমাপ করা সম্ভব। সুন্দরবনে কতগুলো গাছ আছে- সেটাও গুণে বের করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ কতখানি নষ্ঠ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে - সেটার কোন হিসাব, পরিসংখ্যান - কখনোই বের করা সম্ভব না।
তবু আজ চেষ্টা করতেই হবে। বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে- নিজেদের আত্মসমালোচনা এখন জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিপ্লব হয়ে উঠেছে অনিবার্য।
সেই প্রত্যয়ে আমি কিছু লিখছি- আপনাদেও মতামত পেলে বাধিত হবো।
গতকাল একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে ছিলেন, আবুল মাল । টিভিতে দেখলাম তিনি স্যুট পরিহিত। এই প্রচন্ড গরমে যখন প্রতি ঘন্টায় কারেন্ট যাচ্ছে, যখন খোদ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় পানি নেই- তখন এই মালকে স্যুট পরিহিত দেখে কয়েকটি প্রশ্ন জাগে। দেশের মন্ত্রি যদি এই গরমে স্যুট পরেন - তাহলে আমরা কি ধরে নিতে পারি- উনার শীত গ্রীষ্ম অনুভূতি লোপ পেয়েছে । কেবল এই মন্ত্রী নয়- সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীরই দেখি একই অবস্থা। স্যুট,. বুট পড়ে ঘোরাঘুরি করছেন। এমপিদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যারা জনগণের সেবক তাদের যদি শীত গ্রীষ্ম অনুভূতি না থাকে - তাহলে এই ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থার কথা তারা বুঝবেন কিভাবে ?
আসল কথা হচ্ছে- তার শীত গ্রীষ্ম অনুভুতি ঠিকই আছে- বলা যায় আমজনতার চেয়ে তাদেও অনুভূতি একটু বেশিই তাদের । তারা ২৪ ঘন্টা থাকেন এসির ভেতর। ভিআইপি হওয়ার কারণে তাদের বাসার কারেন্ট এমনিতেই কম যায়। আর যখন যায়- তখন সেটা তারা অধিকাংশ সময় টেরই পান না, কেননা অটোমেটিক জেনারেটর কারেন্ট যে গেছে সেটি বুঝে ওঠার আগেই সক্রিয় হয়ে যায়। স্যুট তারা বাধ্য হয়েই পড়েন- ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচার জন্য।
কাল কাজীপাড়া থেকে রিকশায় আসছিলাম। রিকশাওয়ালার খালি গা। ঘামে চকচক করছে। মনে হচ্ছিল, রিকশাওয়ালার পাছায় লাথি মারি। এই রিকশাওয়ালাই তো ভোট দিয়ে এইসব মালদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। আবার , মনে হচ্ছিল - রিকশাওয়ালাকে বলি আমার পাছায় একটা লাথি মার। কারণ আমিও তো ভোট দিয়ে দেশে গণতন্ত্র এনেছি এবং প্রতি পাঁচ বছর পর গণতন্ত্র আনছি এবং প্রতিবার একই দুর্ভোগ ধরেণের দুর্ভোগ করছি।
আইস্টাইন বলেছেন, একই কাজ বার বার করা এবং প্রতিবার ভিন্ন ভিন্ন ফল আশা করার নামই পাগলামি।
আসুন জোটবদ্ধ হই। চিৎকার করে বলি, এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। এটাকে জীবন বলে না, এটাকে রাষ্ট্র বলে না, এটাকে শাসন বলে না, এটাকে গণতন্ত্র বলে না।
আমাদের ঘুম কবে ভাঙবে ?
পুনশ্চ১ : আজ পেপারে পড়লাম - একটা বিশেষ কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেবার জন্য দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ স্থগিত করা হয়েছে। সাবাশ।
পুনশ্চ ২: আর কতখানি দুর্ভোগ পোহালে আমাদের মনে হবে যথেষ্ট হয়েছে ?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


